প্রবাসী

মালয়েশিয়ায় ৫ বাংলাদেশিকে পাচারের সময় গ্রেপ্তার, ১৫ ট্রিপের তথ্য দিলেন চালক

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় পাঁচ বাংলাদেশি কাগজপত্রহীন অভিবাসীকে পরিবহনের অভিযোগে ফাকরি নামে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গত জুন থেকে এ ধরনের প্রায় ১৫টি ট্রিপে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে দেশটির কোটা বারুর পেন্ডেকে একটি প্রোটন উইরা গাড়িতে পাঁচ বাংলাদেশিকে পরিবহনের সময় তাকে আটক করা হয়।

 

মালয়েশিয়ার জেনারেল অপারেশনস ফোর্স (জিওএফ) জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি দূরত্ব ও গন্তব্য অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ নিতেন। কেলান্তানের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জনপ্রতি প্রায় ৩০০ রিঙ্গিত এবং রাজ্যের বাইরে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় জনপ্রতি ৬০০ রিঙ্গিত বা তার বেশি নেওয়া হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

 

ফাকরি জিওএফ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, জুনে এ কাজে যুক্ত হওয়ার পর তিনি প্রায় ১৫টি অভিবাসী পরিবহনের ট্রিপ সম্পন্ন করেছেন। তার যাতায়াতের গন্তব্যের মধ্যে কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর, জোহর ও কেলান্তান ছিল।

 

গ্রেপ্তারের পর তার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ থেকে ৪৭ বছর বয়সী পাঁচ বাংলাদেশি পুরুষকে পাওয়া যায়। তাদের কারও কাছে বৈধ পরিচয়পত্র বা ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ছিল না বলে জানিয়েছে জিওএফ।

 

জিওএফ দক্ষিণ-পূর্ব ব্রিগেডের কমান্ডার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আহমদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিবাসীদের গন্তব্য অনুযায়ী জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

জিজ্ঞাসাবাদে ফাকরি আরও জানান, প্রতিটি যাত্রা শেষে তিনি নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। থাইল্যান্ডভিত্তিক এক পুরুষ ও এক নারী এজেন্ট কোটা বারুতে তাকে এই অর্থ সরবরাহ করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

 

কমিশনার আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাংলাদেশি অভিবাসীরা থাইল্যান্ডে এক নারী দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রত্যেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত দেওয়ার পর কেলান্তান নদী দিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন।

 

এদিকে গ্রেপ্তার ফাকরির মাদক পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। তার বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের বিপজ্জনক মাদকদ্রব্য আইনে আগের একটি মামলার রেকর্ডও রয়েছে বলে জানিয়েছে জিওএফ।

 

পরবর্তী তদন্তের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পাঁচ বাংলাদেশিকে কোটা বারু জেলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা না করার আহ্বান রাষ্ট্রদূতের

অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। বিশেষ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   সম্প্রতি লিবিয়ার মিসরাতা শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   দূতাবাস জানায়, মিসরাতায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত তিন শতাধিক বাংলাদেশি সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রবাসীদের সতর্ক করেন এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।   রাষ্ট্রদূত বলেন, মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। তাই কোনো অবস্থাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় যাওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।   মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ বলেন, লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছেন। এই সুনাম ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।   স্থানীয় জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের একজন প্রতিনিধি ও অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেন।   প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দেন রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় কোনো বিষয়ে আবেগতাড়িত হয়ে মন্তব্য বা তথ্য শেয়ার করার কারণে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি বা জটিলতার মধ্যে না পড়েন।   তিনি জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।   রাষ্ট্রদূত নিয়মিত বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখার জন্য প্রবাসীদের উৎসাহিত করেন।   সভায় প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রশ্ন ও পরামর্শ রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।   তিনি বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কনস্যুলার ও কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করে যাচ্ছে। এসব সেবা প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।   মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসীরা দূতাবাসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং তাদের কল্যাণে চলমান কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ৫ বাংলাদেশিকে পাচারের সময় গ্রেপ্তার, ১৫ ট্রিপের তথ্য দিলেন চালক

ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে শানডং, বিদেশি গণমাধ্যমের চোখে নতুন চীন

ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির দোয়া ও আলোচনা সভা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মালদ্বীপে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দেশটিতে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মীরা।   শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে মালদ্বীপের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।   পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আলোচনায় বক্তারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার ভূমিকা ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।   সভাপতির বক্তব্যে মো. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও অবদান দেশের মানুষ স্মরণ করবে। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও সংকটের মধ্যেও তিনি দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে কারাবরণসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি। দেশের মানুষের সঙ্গে তার রাজনৈতিক ও আবেগের সম্পর্ক ছিল গভীর। তার দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।   অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন নেতাকর্মীরা। তার নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।   পরে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং তার পরিবার, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। বাংলাদেশ থেকে আগত হজরত মাওলানা অধ্যক্ষ মোশতাক ফয়েজী দোয়া পরিচালনা করেন।   অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।   এ সময় মালদ্বীপ বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নেহের মিয়া রানা, সহ-সভাপতি বাবুল হোসেন, শাহ আলম, এমরান হোসেন তালুকদার, মো. ফারুক, মুক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক রবিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৭, ২০২৬
নিহত রাফাত।

সৌদিতে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত

আরব আমিরাতে লটারির টিকিট কিনে লাখ দিরহাম জিতলেন দুই বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত

বৈরুতে জুয়া নিয়ে বিরোধ, ১০ বাংলাদেশি আটক; আইন মানার আহ্বান দূতাবাসের

দুই বছর চেষ্টার পর বাংলাদেশি প্রবাসী লটারিতে জিতলেন ১ লাখ দিরহাম

সংযুক্ত আরব আমিরাতে টানা দুই বছর লটারির টিকিট কিনে অবশেষে ভাগ্যের দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী আরিফুজ্জামান শুভ। ‘বিগ টিকেট’-এর সিরিজ ২৮৯-এর সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে তিনি জিতেছেন ১ লাখ দিরহাম।   ৩৮ বছর বয়সী আরিফুজ্জামান গত ১৭ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও চাকরি করছেন। আজমানকে তিনি নিজের আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুললেও তাঁর পরিবার বাংলাদেশে থাকে।   প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত ‘বিগ টিকেট’ কিনছিলেন আরিফুজ্জামান। প্রতি মাসে ১০ বন্ধুর একটি দলের সঙ্গে তিনি টিকিট কিনতেন। দীর্ঘদিনের সেই চেষ্টার পর সিরিজ ২৮৯-এ এসে মিলেছে সাফল্য।   বিজয়ের খবর পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিজয়ী হওয়ার খবরটি পাওয়ার পর আমি এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম যে কোনো কথাই বলতে পারছিলাম না। বিষয়টি এখনও আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তবে জিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’   পুরস্কারের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে কীভাবে খরচ করবেন, সে বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা করেননি আরিফুজ্জামান। ভবিষ্যতের জন্য অর্থটি জমিয়ে রাখতে চান তিনি। পাশাপাশি নিজের আরও স্বপ্ন পূরণের আশায় ‘বিগ টিকেট’-এ অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।   অন্য প্রতিযোগীদের উদ্দেশে আরিফুজ্জামান বলেন, ‘সবারই বিগ টিকেট কেনা উচিত, কারণ এটি ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগায়। বিগ টিকেট টিমকে ধন্যবাদ।’   সিরিজ ২৮৯-এ মোট পাঁচজন সান্ত্বনা পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকে ১ লাখ দিরহাম করে জিতেছেন। বিজয়ীদের মধ্যে আরিফুজ্জামানের পাশাপাশি ভারতের কেরালার অখিল চন্দ্রন আর পি, সাইদালাভি কারিওদান ভারিচালিল ও শরৎ শশিধরণ রয়েছেন। অন্য বিজয়ীও একজন বাংলাদেশি নাগরিক—সবুজ মো. দেলোয়ার মুন্সি।   সিরিজটিতে পাঁচ বিজয়ীর মধ্যে মোট ৫ লাখ দিরহাম পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।   সূত্র: গলফ নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে বাংলাদেশি চালকের মৃত্যু, ভারতীয় চালক আটক

ছবি: সংগৃহীত

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে মালয়েশিয়ায় বিএনপির আলোচনা ও দোয়া

ছবি: সংগৃহীত

কেমব্রিজে গোয়াইনঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সামার ট্রিপ

0 Comments