সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের নিজের ইকামার অধীনে নিবন্ধিত সিম কার্ডের সংখ্যা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। অনেক সময় প্রবাসীদের অজান্তেই তাদের ইকামায় অতিরিক্ত বা ভুয়া সিম নিবন্ধিত হয়ে থাকে, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে সৌদি আরবের ‘কমিউনিকেশনস, স্পেস অ্যান্ড টেকনোলজি কমিশন’ একটি সহজ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার ইকামায় কতটি এবং কোন কোন অপারেটরের সিম সক্রিয় আছে তা দেখে নিতে পারবেন।
নিবন্ধিত সিম যাচাই করার জন্য প্রবাসীদের প্রথমেই সিএসটি-র অফিসিয়াল ‘মুত্তাসিল ইন্ডিভিজুয়াল’ পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে ভাষার অপশন থেকে ইংরেজি নির্বাচন করে ইকামার নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রদান করতে হয়। আপনার কাছে যদি বর্তমানে একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকে, তবে ‘Yes’ অপশন সিলেক্ট করে সেই নম্বরটি দিতে হবে। এরপর মোবাইলে আসা ভেরিফিকেশন কোডটি প্রবেশ করালেই আপনার ইকামায় থাকা সবকটি পূর্ণ মোবাইল নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরদের একটি বিস্তারিত তালিকা দেখতে পাবেন।
যাদের কাছে কোনো সচল মোবাইল নম্বর নেই, তারাও একইভাবে পোর্টালে গিয়ে ইকামার তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে পূর্ণ মোবাইল নম্বর না দেখিয়ে শুধু আপনার ইকামায় মোট কয়টি সিম এবং কোন কোন কোম্পানির সিম রয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সিএসটি-র অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখানে ‘আরগামি’ ফিচারের মাধ্যমে একই তথ্য সহজেই স্মার্টফোনে দেখে নিতে পারেন।
যদি তালিকায় এমন কোনো নম্বর দেখা যায় যা আপনি নিজে কেনেননি বা ব্যবহার করছেন না, তবে দ্রুত সেই সিমটি বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা শাখায় যোগাযোগ করে সিমটি বাতিলের অনুরোধ জানানো উচিত। অপারেটর যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে গ্রাহকরা সরাসরি সিএসটি-র পোর্টালে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। সোমবার (১৫ জুন) সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের সদস্যরা বাতু কেভস এলাকার একটি নাইট মার্কেট (পাসার মালাম) এবং সেলায়াং বারুর একটি আবাসিক বাসস্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিভিন্ন দেশের মোট ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদেশি নাগরিকদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অবৈধভাবে অবস্থান এবং অন্যান্য অভিবাসন আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আইন প্রয়োগ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ায় বৈধ কর্মসংস্থান ও বসবাসের জন্য বিদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ও বৈধ ভ্রমণ নথি সঙ্গে রাখার বিষয়ে নিয়মিত সতর্ক করে আসছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের জেদ্দায় একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন এক প্রবাসী শ্রমিক। প্রায় ১২ মিটার উচ্চতা থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার পর তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় সড়কে তীব্র যানজট থাকায় সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আহত কর্মীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা হেলিকপ্টার সেবা ব্যবহার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আহত শ্রমিককে উদ্ধারে জরুরি চিকিৎসা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ভিডিওটি ধারণকারী এক সহকর্মী এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একজন সাধারণ শ্রমিকের জীবন রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত মানবিক ও প্রশংসনীয়। ঘটনার পর আহত কর্মীকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিতভাবে আধুনিক উদ্ধার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে গুরুতর আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেছেন।
সৌদি আরবে ‘প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি’ বা বিশেষায়িত আকামাধারীদের জন্য নতুন শ্রম আইন কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’ থেকে নির্ধারিত ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর জন্য ১০০ সৌদি রিয়াল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট সিস্টেম অথবা কিওয়া ওয়ালেটের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এদিকে, কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘তামহির’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতাধীন চুক্তিগুলো এখন আরও সহজে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। তবে এসব প্রশিক্ষণ চুক্তি সৌদিকরণ (Saudization) কর্মসূচি বা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত স্থানীয় কর্মসংস্থান কোটার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। নতুন শ্রমনীতিতে কর্মীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়াতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন, যদি এর মধ্যে নিয়োগকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ গ্রহণ না করে থাকেন। এছাড়া চাকরি ছাড়ার নোটিশের সময়সীমা কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ভিসা ব্যবস্থাপনায়ও নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একবার ভিসা ইস্যু হওয়ার পর তাতে কোনো ধরনের তথ্য সংশোধন করা যাবে না। যদি কোনো তথ্য ভুল থাকে, তাহলে বিদ্যমান ভিসা বাতিল করে নতুন করে আবেদন করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো সৌদির শ্রমবাজারকে আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ এবং সুশৃঙ্খল করার প্রচেষ্টার অংশ। এর ফলে দেশটিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও সচেতন থাকতে হবে এবং নতুন নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহ করতে হবে।