সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের নিজের ইকামার অধীনে নিবন্ধিত সিম কার্ডের সংখ্যা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। অনেক সময় প্রবাসীদের অজান্তেই তাদের ইকামায় অতিরিক্ত বা ভুয়া সিম নিবন্ধিত হয়ে থাকে, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে সৌদি আরবের ‘কমিউনিকেশনস, স্পেস অ্যান্ড টেকনোলজি কমিশন’ একটি সহজ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার ইকামায় কতটি এবং কোন কোন অপারেটরের সিম সক্রিয় আছে তা দেখে নিতে পারবেন।
নিবন্ধিত সিম যাচাই করার জন্য প্রবাসীদের প্রথমেই সিএসটি-র অফিসিয়াল ‘মুত্তাসিল ইন্ডিভিজুয়াল’ পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে ভাষার অপশন থেকে ইংরেজি নির্বাচন করে ইকামার নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রদান করতে হয়। আপনার কাছে যদি বর্তমানে একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকে, তবে ‘Yes’ অপশন সিলেক্ট করে সেই নম্বরটি দিতে হবে। এরপর মোবাইলে আসা ভেরিফিকেশন কোডটি প্রবেশ করালেই আপনার ইকামায় থাকা সবকটি পূর্ণ মোবাইল নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরদের একটি বিস্তারিত তালিকা দেখতে পাবেন।
যাদের কাছে কোনো সচল মোবাইল নম্বর নেই, তারাও একইভাবে পোর্টালে গিয়ে ইকামার তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে পূর্ণ মোবাইল নম্বর না দেখিয়ে শুধু আপনার ইকামায় মোট কয়টি সিম এবং কোন কোন কোম্পানির সিম রয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সিএসটি-র অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখানে ‘আরগামি’ ফিচারের মাধ্যমে একই তথ্য সহজেই স্মার্টফোনে দেখে নিতে পারেন।
যদি তালিকায় এমন কোনো নম্বর দেখা যায় যা আপনি নিজে কেনেননি বা ব্যবহার করছেন না, তবে দ্রুত সেই সিমটি বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা শাখায় যোগাযোগ করে সিমটি বাতিলের অনুরোধ জানানো উচিত। অপারেটর যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে গ্রাহকরা সরাসরি সিএসটি-র পোর্টালে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যে নির্মাণ খাতে কর্মরত ৪৪ অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। আটককৃতদের মধ্যে ৩৯ জন বাংলাদেশি, চারজন ইন্দোনেশীয় এবং একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। রোববার পরিচালিত 'অপ সাপু' নামের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে সোমবার কেদাহ রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। অভিযানে ধরা পড়া অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, পাসপোর্টের অপব্যবহার এবং বৈধ ভ্রমণ নথির অভাব। রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বান্দার দারুলামানে একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ১২ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানকালে মোট ৪৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়, যাদের মধ্যে তিনজন মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং ৪৪ জন বিদেশি ছিলেন। পরবর্তী তদন্তে ৪৪ বিদেশিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বয়স ২২ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় তদন্ত চলছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের বালিং এলাকায় সরকারি ভর্তুকিযুক্ত ‘বিইউডিআই৯৫’ (BUDI95) জ্বালানি কর্মসূচিতে প্রতারণার অভিযোগে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। অভিযুক্ত ৩৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি স্থানীয় একটি পেট্রোল স্টেশনে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় পুলিশ জানায়, সেলাঙ্গরভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের পর রোববার (১০ মে) সংশ্লিষ্ট পেট্রোল স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী লক্ষ্য করেন, নিজে জ্বালানি না নিলেও তাঁর সরকারি ভর্তুকির কোটা থেকে অস্বাভাবিকভাবে পেট্রোল কমে যাচ্ছে। পরে তিনি ‘বিইউডিআই৯৫’ অ্যাপে নিজের হিসাব যাচাই করে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১৮ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কুপিং এলাকার ওই পাম্পে ভুক্তভোগীর পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে অন্তত ছয়বার ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি উত্তোলন করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় মোট ৩০৯ দশমিক ০৩ লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে নেওয়া হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২৪২ দশমিক ৩৩ রিঙ্গিত। বালিং জেলা পুলিশ সুপার ব্র্যান্ডন রিচার্ড জো জানান, জালিয়াতির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা জানতে আটক বাংলাদেশিকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার অভিযোগে মামলার তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে এক মালয়েশীয় নাগরিকের সন্ধানেও কাজ করছে পুলিশ।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে পৃথক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন জমির শেখ, জাফর আলম ও মো. ফজলুর রহমান। তাদের মধ্যে জমির শেখের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এবং জাফর আলমের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার টাইংগাকাটা এলাকায়। জানা গেছে, জাফর আলম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। গত মঙ্গলবার ডিংকেল এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে সহকর্মীরা জানান। অন্যদিকে, শুক্রবার বিকেলে কেলাং এক্সপ্রেসওয়েতে একটি লরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সড়কের মাঝখানে থেমে যায়। সেটিকে সহায়তা করতে আরও একটি লরি ও একটি পিকআপ ভ্যান সেখানে দাঁড়ায়। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ভয়াবহ ওই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। তাদের একজন ছিলেন বাংলাদেশি শ্রমিক জমির শেখ এবং অপরজন স্থানীয় নাগরিক। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ধারণা করছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, সারাওয়াক রাজ্যের মেরাদং এলাকায় লরির ধাক্কায় নিহত হন সেতু নির্মাণ শ্রমিক মো. ফজলুর রহমান (৪০)। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেরাদং জেলা পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট তানস্লী মেরিং জানান, রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি লরি তাকে ধাক্কা দিলে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ফজলুর রহমান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, সেমপ থেকে সিবুর দিকে আসা লরিটির চালক দূরত্ব কম থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে পারেননি। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সারিকাই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি বাংলাদেশ দূতাবাসকেও জানানো হয়েছে।