বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগর চট্টগ্রাম। পাহাড়, নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলিত ভূপ্রকৃতির কারণে এটি দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পকারখানা, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার এই নগরী। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, ভারী বর্ষণ হলেই নগরীর বহু এলাকা কোমর কিংবা বুক সমান পানিতে তলিয়ে যায়।
কোথাও ফ্ল্যাশ ফ্লাড, কোথাও জলাবদ্ধতা, আবার কোথাও জোয়ারের পানিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলেই কেন ডুবে যায় চট্টগ্রাম? পাহাড়, নদী, সাগর ও নগর ব্যবস্থাপনার জটিল বাস্তবতা।
একইভাবে টানা বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়, পাহাড়ি ঢলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সমুদ্রের এত কাছে থাকা চট্টগ্রাম কেন পানিতে ডুবে?
বৃষ্টির পানি সাগরে যেতে বাধা কোথায়? আর এই সংকট থেকে মুক্তির উপায় কী? এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের প্রকৃতি, ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে কর্ণফুলী নদী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। স্বাভাবিকভাবে পাহাড়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচের সমতলে নেমে আসে। একই সময়ে নগরীর নিজস্ব বৃষ্টির পানি, পাহাড়ি ঢল এবং জোয়ারের প্রভাব একত্রে কাজ করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়।
অনেকে মনে করেন, সমুদ্রের পাশে শহর হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সাগরে চলে যাওয়ার কথা। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। বৃষ্টির পানি সাগরে যেতে হলে খাল, নালা, ড্রেন ও নদীপথের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত থাকতে হয়। কিন্তু নগরীর বহু প্রাকৃতিক খাল দখল, ভরাট এবং সংকুচিত হয়ে গেছে। কোথাও অপরিকল্পিত সড়ক, কোথাও আবাসন, কোথাও বাজার কিংবা শিল্প স্থাপনা পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত করেছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো জোয়ার। যখন বঙ্গোপসাগরে উচ্চ জোয়ার থাকে, তখন কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর বেড়ে যায়। ফলে শহরের ড্রেন ও খাল দিয়ে বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে নদীর পানি উল্টো শহরের দিকে চাপ সৃষ্টি করে।
অর্থাৎ বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে শহরের ভেতরেই আটকে যায়। এ অবস্থাকে প্রকৌশল ভাষায় ‘ব্যাকওয়াটার ইফেক্ট’ বলা হয়। অর্থাৎ নদী বা সাগরের পানির উচ্চতা এত বেশি থাকে যে শহরের পানি বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বর্তমানে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি আগের তুলনায় অনেক বেশি হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকশ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে শতবর্ষ আগের নকশায় নির্মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সেই পানি বহন করতে পারে না।
চট্টগ্রামে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা হলো, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা এই মৌসুমে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর ফলে পানির নিচে রেললাইন চলে গিয়েছে, আটকা পড়েছে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের আউটার রিং রোডের একাংশ ধসে পড়েছে।
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের প্রবেশপথে ও পার্কি জোনে পানি জমে গেছে।
অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জোয়ারের উচ্চতাও বাড়ছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রামের আরেকটি বড় সমস্যা হলো পাহাড় কাটা। প্রাকৃতিক পাহাড় বৃষ্টির পানি কিছুটা ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে নিচে নামতে দেয়। কিন্তু পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণের ফলে পানি দ্রুত নিচে নেমে আসে। একই সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
নগরায়ণের ফলে মাটির প্রাকৃতিক পানি শোষণ ক্ষমতাও কমে গেছে। আগে খোলা মাঠ, জলাভূমি ও কৃষিজমি বৃষ্টির পানি শোষণ করত। এখন সেগুলোর জায়গায় কংক্রিটের ভবন, রাস্তা ও পার্কিং এলাকা তৈরি হয়েছে। ফলে অধিকাংশ পানি সরাসরি ড্রেনে চলে আসে এবং অল্প সময়েই ড্রেনের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করে।
খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির সমস্যার প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে পাহাড়ি ঢল খুব দ্রুত নিচু এলাকায় নেমে আসে। ছোট নদী ও ছড়াগুলো অল্প সময়ে পূর্ণ হয়ে যায়। কোথাও সেতু, কালভার্ট বা ড্রেন সংকীর্ণ হওয়ায় পানি আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
কক্সবাজারেও একই ধরনের বহুমাত্রিক সমস্যা কাজ করে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, নিম্নভূমি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাভূমি ভরাট এবং জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাবে নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হয়। পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় দ্রুত নগর সম্প্রসারণ অনেক প্রাকৃতিক পানি ধারণ এলাকা নষ্ট করেছে।
তাহলে মুক্তির পথ কী?
প্রথমত, প্রাকৃতিক খাল, জলাধার ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার করতে হবে। এগুলো শহরের কিডনির মতো কাজ করে। পানি জমা রাখে এবং ধীরে ধীরে নদীতে পাঠায়।
দ্বিতীয়ত, পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিক হাইড্রোলজিক্যাল মডেলের ভিত্তিতে পুনঃনকশা করতে হবে। আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বিবেচনায় রেখে অবকাঠামো নির্মাণ করা জরুরি।
তৃতীয়ত, কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সব খালকে কার্যকর রাখতে হবে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে জোয়ার নিয়ন্ত্রণকারী স্বয়ংক্রিয় স্লুইসগেট ও শক্তিশালী পাম্পিং স্টেশন স্থাপন করতে হবে, যাতে উচ্চ জোয়ারের সময়ও শহরের পানি বাইরে পাঠানো যায়।
চতুর্থত, খাল, নালা ও ড্রেনে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য ড্রেনের ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
পঞ্চমত, নগর পরিকল্পনায় ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা গ্রহণ করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে পার্ক, উন্মুক্ত সবুজ এলাকা, রেইন গার্ডেন, পারমিয়েবল পেভমেন্ট এবং কৃত্রিম জলাধারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সাময়িকভাবে ধরে রাখা হয়, যাতে তা একসঙ্গে ড্রেনে চাপ সৃষ্টি না করে।
ষষ্ঠত, পাহাড় কাটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ে দ্রুত বনায়ন করতে হবে। এতে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ভূমিধসের ঝুঁকিও কমবে।
সপ্তমত, আবহাওয়া পূর্বাভাস, ডপলার রাডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিয়েল-টাইম বৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগাম সতর্কতা মানুষের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
অষ্টমত, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিকে পৃথক জলাধারা বা ক্যাচমেন্টভিত্তিক সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। কারণ প্রতিটি এলাকার ভূপ্রকৃতি ভিন্ন; তাই এক এলাকার সমাধান অন্য এলাকায় কার্যকর নাও হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি শুধু প্রকৃতির সমস্যা নয়, এটি পরিকল্পনারও সমস্যা। অতিবৃষ্টি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু সেই বৃষ্টির পানি কীভাবে নিরাপদে নদী ও সাগরে পৌঁছাবে, সেই ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই করতে পারি। চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে খণ্ডিত নয়, সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, জলবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ, স্থানীয় সরকার, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ নাগরিক—সবার একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে নগর ব্যবস্থাপনার পুরোনো ধারণা আর কার্যকর নয়। ভবিষ্যতের চট্টগ্রামকে নিরাপদ রাখতে হলে আজই বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক জলপথ সংরক্ষণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়নের পথে এগোতে হবে। অন্যথায় প্রতিটি বর্ষাই আমাদের মনে করিয়ে দেবে, প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে কোনো নগরকে টেকসই রাখা যায় না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন। তিনি কিডনিসংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রকাশক কাদের বাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আমীরুল ইসলামের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। আমীরুল ইসলামের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। তার প্রকাশিত সব বইই শিশুসাহিত্যের। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আমীরুল ইসলাম। সবশেষ তিনি চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরানকে (৪৫) আটক করে গণধোলাই দেয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আটক এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা তাকে বকাঝকা করেন। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে শিশুটি জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন এমরান গত ৫-৬ মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক মোবারক হোসেনকে আটক করে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং রাত সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ওই শিক্ষক নিজের বাসায় ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মিয়ানমার সীমান্তে বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার ছত্রচ্ছায়ায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীপ্রধান নবী হোসেনের বাহিনীকে একটি শক্তিশালী ‘প্রক্সি’ গ্রুপ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এতোদিন মাদক ও অস্ত্রের কারবারকে কেন্দ্র করে সক্রিয় থাকা নবী নেটওয়ার্ককে এখন সীমান্তের নিরাপত্তা, ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম একটি সশস্ত্র শক্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে নবী হোসেনের যোগাযোগ তৈরি করা হয়েছে এবং আরসাসহ ক্যাম্পে সক্রিয় একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একই বলয়ে আনার উদ্যোগ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নবী হোসেন ঘনিষ্ট কয়েকটি সূত্র দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নবী নেটওয়ার্কে আধুনিক ও ভারি অস্ত্রের সরবরাহ বাড়ানো, রকেটসহ ভারি অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মাদক ব্যবসা থেকে আসা অর্থ এই নেটওয়ার্কের অস্ত্র, লোকবল ও যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। তাদের মতে, ইরানকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর আদলে নবী বাহিনীকে এমন একটি সশস্ত্র নেটওয়ার্কে পরিণত করার চেষ্টা চলছে, যার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ দৃশ্যমান না থাকলেও আড়াল থেকে নির্দিষ্ট স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আরসার আমির আতা উল্লাহ জুনুনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কারাগারে থাকায় বর্তমানে সংগঠনটির কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা রোহিঙ্গা আবদুল খালেকসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একই কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও সূত্রগুলোর দাবি। তাদের অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, সীমান্ত নিরাপত্তায় চাপ তৈরি এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করতেই এ ধরনের সশস্ত্র ‘প্রক্সি’ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের সঙ্গে থানা লুটের অস্ত্র নবী নেটওয়ার্কে পৌঁছানো এবং সীমান্তের ওপারে বিপুল অস্ত্র মজুতের তথ্য যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। থানা লুটের ১৭ পিস্তল এখন নবীর হাতে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ পৌঁছে গেছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীপ্রধান নবী হোসেনের নেটওয়ার্কে। মাঠপর্যায়ে কাজ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্য ও নবী হোসেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ১৭টি পিস্তল ওই নেটওয়ার্কে পৌঁছেছে। আরও ১০টি লুট হওয়া পিস্তলের একটি চালানও যেকোনো সময় তার বাহিনীর হাতে পৌঁছাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র একের পর এক নবী হোসেনের হাতে পৌঁছানোর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশে পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অভিযোগে আলোচিত এ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, থানা লুটের এসব অস্ত্র কয়েক হাত ঘুরে নবী হোসেনের নেটওয়ার্কে পৌঁছাচ্ছে। অস্ত্র সংগ্রহে জড়িত কয়েকজনের নামও পেয়েছে এক জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু বশর, যিনি নবী হোসেনের ইয়াবা ব্যবসার ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত। রামুর গর্জনিয়া এলাকার যুবলীগ নেতা গোলাম মওলা, ধুমধুমের ইলিয়াস মাঝিসহ আরও কয়েকজন অস্ত্র সংগ্রহ করে তার নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এক জাতীয় দৈনিক পত্রিকার অনুসন্ধান, গোয়েন্দা সংস্থা ও একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নবী হোসেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ভারি ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এসব অস্ত্রের প্রায় সবই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে সূত্রগুলোর দাবি। এর মধ্যে জি-৩, এম-১৬, একে-৪৭-এর মতো সামরিক রাইফেল, বিদেশি পিস্তলসহ নানা ধরনের অস্ত্র রয়েছে। তার বাহিনীর কাছে ভারি গ্রেনেড ও রকেটের মতো বিধ্বংসী অস্ত্রও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, অস্ত্রভান্ডারের বড় একটি অংশ মিয়ানমারের তোতার দ্বীপসংলগ্ন সীমান্তের ওপারে মজুত করা হয়েছে। ২০২২ সালে নবী হোসেনকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার ভাই মো. কামাল গুলিতে নিহত হওয়ার পর ক্যাম্পের ভেতরে নবী গ্রুপ কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০২২ সালেই হাজার কোটি টাকার অস্ত্র আনার তথ্য ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল এক জাতীয় দৈনিক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘রোহিঙ্গা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা! হাজার কোটি টাকার অস্ত্র আনছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে নবী হোসেনের নেটওয়ার্কের বিপুল অস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ‘স্বাধীন রোহিঙ্গা রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। এ বিষয়ে নজর রাখা গোয়েন্দা সংস্থার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নবী হোসেনের ঘনিষ্ঠদের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সহযোগিতায় হাজার কোটি টাকার ওই অস্ত্রের চালান কয়েক দফায় সফলভাবে নবী হোসেনের হাতে পৌঁছায়। পরবর্তীকালে নবী হোসেনের ডেরায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এম-১৬, একে-৪৭, বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গ্রেনেড উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ইলিয়াসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার মতে, নবী হোসেনের হাতে তিন হাজার নয়, এর কয়েক গুণ বেশি অস্ত্র থাকতে পারে। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের প্রায় সবাই নবী হোসেন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত বলে আমরা জানি। তার বাহিনীতে ১০ থেকে ১৫ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে বলেও আমরা শুনেছি।’ কে এই নবী হোসেন: ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া আট লাখের বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন নবী হোসেন। তার বাড়ি রাখাইনের মংডু শহরের ঢেকুবনিয়ায়। উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ পশ্চিমের বি-ব্লকের ৪১ নম্বর শেডে আশ্রয় নেন তিনি। ২০১৮ সালের শুরুতে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবার বড় চালান আনা শুরু করেন নবী। পরে ক্যাম্পে গড়ে তোলেন ‘নবী হোসেন বাহিনী’। পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, এ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ১০ হাজারের বেশি। বালুখালীর ক্যাম্প-৮ পশ্চিম, ৯, ১০ ও ১৪ তার নেটওয়ার্কের প্রভাবাধীন বলে বিভিন্ন সময়ে তথ্য পাওয়া গেছে। মাদক ব্যবসায় নবীকে কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী অর্থ ও কমিশনের বিনিময়ে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে মাস্টার মুন্না, ইসলাম, আবদুল হাকিম, আসাদ, জুবাইর, জাবু, মুমিন, জাকির ও শফিউল্লাহ বাহিনীর নাম রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মাদক ব্যবসার অর্থের একটি অংশ অবৈধ পথে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। দেশে-বিদেশে তার সম্পদের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা বিজিবির বিজিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, নবী হোসেনকে জীবিত অথবা মৃত ধরতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় তার গতিবিধি ও নেটওয়ার্কের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তারা। ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উখিয়া, কক্সবাজারের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্যাম্পে নবী হোসেন গ্রুপসহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। নবী হোসেনকে গ্রেফতারেও বিশেষ নজর রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, নবী হোসেনের কাছে বিপুল অস্ত্র থাকার তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব অস্ত্র নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকা বা দেশের অভ্যন্তরে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালাতে পারলে তাকে রাষ্ট্রের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শুধু তাকে গ্রেফতার নয়, অস্ত্রের উৎস, মজুতস্থল ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করাও জরুরি।