প্রবাসী

এক সপ্তাহে ১২ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো সৌদি আরব

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত


অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান জোরদার করে গত এক সপ্তাহে ১২ হাজার ২৯২ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৭ হাজারের বেশি অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। খবর গালফ নিউজের

 

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ২৭ হাজার ৪৪৫ জন অভিবাসী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ হাজার ৪১২ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৩ জন নারী।

বহিষ্কারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৬ হাজার ৯১২ জনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনে ট্রাভেল পারমিট (আউটপাস) সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ১৭৪ জনকে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

গত ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৫ হাজার ৫৯১ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ৭৫৯ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৪ হাজার ৪৮৮ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৩৪৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৬২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময় আরও ৫৮ জনকে আটক করা হয়।

সৌদি পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, পরিবহন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তা করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
সব হারিয়ে কম্বোডিয়ায় প্রবাসীর মৃত্যু, এক বছর পর ফিরল লাশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মিন্টু মিয়া (৫১) জমি বিক্রি ও ঋণ করে কম্বোডিয়া গিয়েছিলেন গত বছরের জানুয়ারিতে। প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে তিনি রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই সড়কের জায়গায় হওয়ায় রেস্টুরেন্টটি ভাঙা পড়ে। এরপর তড়িঘড়ি করে তিনি এক কম্বোডিয়ান নাগরিকের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। তবে এবারও তিনি প্রতারণার শিকার হন। এর ১৫ দিন পর গত বছরের ২৬ আগস্ট মানসিক যন্ত্রণায় কাতর মিন্টু স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মত্যুর পর অবশিষ্ট সবকিছুই লুটে নেয় অজ্ঞাতরা। এরপর শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের সীমাহীন ভোগান্তি। লাশ পেতে সময় লেগে যায় প্রায় এক বছর। নানা জটিলতার পর রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার লাশ দেশে এসেছে।      জানা গেছে, কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন স্ট্রোকে আক্রান্ত মিন্টু মিয়া। তার লাশ দেশে আনতে পরিবারের সদস্যরা চার মাস চেষ্টা করেও সফল হয়নি। কারণ তিনি ভ্রমণ ভিসায় ভিয়েতনাম যাওয়ার পর বিজনেস ভিসা নেন। ফলে বাংলাদেশের ওয়ার্কপারমিট না থাকায় তিনি দেশে নথিভুক্ত ছিলেন না। এই জটিলতা মোকাবিলা করে লাশ পাঠানোর জন্য বিভিন্ন পক্ষ ৭ থেকে ৮ হাজার মার্কিন ডলার (৯ লাখ টাকার বেশি) দাবি করে। ঋণে জর্জরিত পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা ছিল প্রায় অসম্ভব। কারণ মিন্টু মিয়াই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর মিন্টু মিয়ার স্ত্রী তোফা খানম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উইটনেস ফাউন্ডেশনে আবেদন করেন। ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেয়। এরপর সংশিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বয় ও ধারাবাহিক অনুসরণের মাধ্যমে সরকারি তহবিলের সহায়তায় লাশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।      স্ত্রী তোফা খানম জানান, মিন্টু প্রায় ২১ বছর আমেরিকার অধীনস্ত দ্বীপ সাইপেনে ছিলেন এবং সেখানে তার সাজানো সংসার ও ব্যবসা ছিল। কিন্তু তার স্ত্রী পরকিয়ায় জড়িয়ে তাকে ডিভোর্স দেন। এতে তিনি ক্ষোভ ও অভিমানে সবকিছু ফেলে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চলে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি আবারও বিদেশে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন এবং প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মাইক্রোনেশিয়া যান। সেখানে প্রায় দুই-আড়াই বছর অবস্থান করে ব্যবসার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি। এরপর ফের দেশে ফিরে আসেন। ২০২১ সালে তিনি তোফা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে কম্বোডিয়ায় নতুন করে ব্যবসা শুরু করার জন্য তিনি জমিজমা বিক্রি করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জোগাড় করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে অন্তত ২২ লাখ টাকা ঋণও নিয়েছিলেন। কিন্তু কম্বোডিয়ার ব্যর্থতা তাকে ঘিরে ফেলে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মিন্টু মিয়া অবশেষে স্ট্রোক করে মারা যান।      উইটনেস ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন কো-অর্ডিনেটর রাগীব হাসান যুগান্তরকে বলেন, অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন এবং সংকটে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা সংগঠনটি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে। এরপর সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ, সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মিন্টু মিয়ার লাশ দেশে আনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে ভিসা বাতিল নিয়ে উদ্বেগ, বৈধ বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অসুস্থ বাংলাদেশি প্রবাসীকে আর্থিক সহায়তা দিল হাইকমিশন

ছবি: সংগৃহীত

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে পুনরায় চালু টোকেনভিত্তিক সেবা, কমবে প্রবাসীদের ভোগান্তি

ছবি : সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিদের জন্য ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর থাইল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে ঢাকা ও ব্যাংকক।   শুক্রবার (২৪ জুলাই) ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং থাইল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজাবাত ইসারাভাকদির মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা সফর শেষে ব্যাংককে যাত্রাবিরতিকালে হুমায়ুন কবির এ বৈঠক করেন।   বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।   তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, পর্যটন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।   বিশেষ করে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর থাইল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করেন।   প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থনও কামনা করেন।   জবাবে থাইল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে দেশটির গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারের মর্যাদা অর্জে কাজ করে যাচ্ছে।   বৈঠকে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অসুস্থ বাংলাদেশি প্রবাসীকে দেখতে হাসপাতালে হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মায়ের সঙ্গে দুই সন্তান। ছবি: সংগৃহীত

ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানের টিকিটে ছাড় ও বিমানবন্দরে বিশেষ সেবার সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ৩২ বাংলাদেশিসহ ১০৮ প্রবাসী আটক

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে পরিচালিত অভিবাসনবিরোধী এক যৌথ অভিযানে ৩২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১০৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান এবং অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।   স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) রাতে জোহরের তামান শ্রী বাহাগিয়া এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের পাসপোর্ট, ভিসা ও কাজের অনুমতিপত্র যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, নথিপত্র যাচাইয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ১০৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।   আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৩২ জন বাংলাদেশি, ২২ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ১৬ জন পাকিস্তানি, ১৫ জন নেপালি, ১২ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৪ জন ভারতীয় পুরুষ। এছাড়া মিয়ানমারের তিনজন, ইন্দোনেশিয়ার দুজন এবং নেপালের দুজন নারীও রয়েছেন।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জোহরের সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।   এদিকে, অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গুগলের ‘কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬’-এ আমন্ত্রিত বাংলাদেশি দম্পতি পাভেল-সুমাইয়া

ছবি: সংগৃহীত

ষাটের পরও শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত, লন্ডনে সংবর্ধিত সৈয়দ জহুরুল হক

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় জুলাই বিপ্লব নিয়ে আলোচনা সভা

0 Comments