মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন, অননুমোদিত কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।
সর্বশেষ পৃথক তিনটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতা ও নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদেশিকর্মী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, অবৈধ শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মালয়েশিয়া সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এসব অভিযান তারই ধারাবাহিকতা।
সবচেয়ে বড় অভিযানটি পরিচালিত হয় সেলাঙ্গরের ক্লাংয়ের পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র প্লাজা জিএমে। ‘অপস মেগা’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ৩২৭ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চীন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ৮৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলেও ড্রোন নজরদারি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তদন্তে সহায়তার জন্য ১১ জন মালয়েশীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও সমন জারি করা হয়েছে।
দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এতে মোট ১২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন।
একই সময়ে কেলান্তান সীমান্তে পৃথক বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশের আটজনসহ মোট ১৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ইন্দোনেশীয় পুরুষ, একজন ইন্দোনেশীয় নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন।
ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন মালয়েশিয়ায় প্রবেশে কালোতালিকাভুক্ত ছিলেন। তারা সীমান্তের অননুমোদিত পথ বা ‘ইঁদুরপথ’ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এড়িয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।
অভিযানে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মোট আটটি পাসপোর্ট এবং একটি প্রোটন প্রেভে গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে পাহাংয়ের ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে একটি নির্মাণ প্রকল্পে পরিচালিত অভিযানে আরও ৪৭ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মোট ৫৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ৪৭ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। পরে তাদের কেমায়ান ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পাহাং ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, একক সমন্বয় ব্যবস্থার আওতায় আনা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অবৈধ কর্মসংস্থান দমনে একাধিক পদক্ষেপ এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভিযানের লক্ষ্য শুধু অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার নয়; বরং বিদেশি কর্মী নিয়োগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, মানবপাচার চক্রের তৎপরতা এবং অবৈধ শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে আনা। একই সঙ্গে বৈধভাবে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি অধিক সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এসব অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মীদের অবশ্যই বৈধ ভিসা, কার্যকর ওয়ার্ক পারমিট এবং অনুমোদিত নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শুধু কর্মী নয়, নিয়োগদাতা এবং আশ্রয়দাতার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং অননুমোদিত বিদেশি কর্মসংস্থান দমনে দেশজুড়ে সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মালয়েশিয়ার কাজাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি প্রবাসী মো. হারুন অর রশিদকে দেখতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমান। বুধবার (২২ জুলাই) হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদলটি হারুনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয় এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে তার চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হারুন কাজাং হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তী পরীক্ষায় তার কিডনির জটিল সমস্যাও শনাক্ত হয়। বর্তমানে হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ‘ফিট টু ফ্লাই’ সনদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার স্বাস্থ্যগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। হারুনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার পূর্ব তল্লা এলাকায়। তিনি ২০১৩ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় যান। পরে তার ছোট ভাইকেও সেখানে নিয়ে যান। কয়েক বছর আগে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ওই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। বর্তমানে হারুনের অসুস্থতার খবরে দেশে থাকা তার বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা পরিবারটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। হাইকমিশন জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গুগল লোকাল গাইডসের আন্তর্জাতিক আয়োজন ‘কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬’-এ অংশ নিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি দম্পতি পাভেল সারওয়ার ও সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী। আগামী ২৯ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত ৬৫ জন গুগল ম্যাপস কন্ট্রিবিউটর ও গুগল কর্মী অংশ নেবেন। পাভেল ও সুমাইয়া পৃথকভাবে এ আয়োজনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তাদের যাতায়াত, আবাসন, খাবার, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যয় বহন করছে গুগল। ‘কানেক্ট লাইভ’ গুগল ম্যাপস ও লোকাল গাইডস কমিউনিটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন। এতে অংশগ্রহণকারীরা গুগল ম্যাপসের নতুন ফিচার, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কন্ট্রিবিউটর এবং গুগল টিমের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। দীর্ঘদিন ধরে গুগল লোকাল গাইডস কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত পাভেল সারওয়ার ও সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরীর রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ২০১৭ সালে পাভেল যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘লোকাল গাইডস সামিট’-এ অংশ নেন এবং পরে ‘গাইডিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ২০২৫ সালের ‘কানেক্ট লাইভ টোকিও’তেও অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, সুমাইয়া ২০২০ সালে ‘হেল্পফুল হিরো’ ক্যাটাগরিতে ‘গাইডিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। তিনি গুগল লোকাল গাইডস কানেক্টের মডারেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত পাভেল একজন তথ্যপ্রযুক্তি ও ফিনটেক পেশাজীবী, গুগল সার্টিফায়েড এডুকেটর ও প্রশিক্ষক। সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বিষয়ক একজন কর্মী এবং মালয়েশিয়ায় লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি বিষয়ে গবেষণা করছেন। গুগল ম্যাপস কমিউনিটিতে অবদানের পাশাপাশি তারা মালয়েশিয়ায় গুগল এডুকেটর গ্রুপ, সেরেম্বানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় প্রযুক্তি, শিক্ষা, তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত। আয়োজকরা মনে করছেন, ‘কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬’-এ এই বাংলাদেশি দম্পতির অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক গুগল ম্যাপস ও লোকাল গাইডস কমিউনিটিতে বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। চেন্নাইয়ের পর বেঙ্গালুরু, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুফু (চীন), মদিনাসহ একাধিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে ফ্লাইট চালুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভোগান্তি কমানো। আগে অনেক যাত্রীকে ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চেন্নাই যেতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে সেই দুর্ভোগ কমেছে। একই কারণে আগামীতে বেঙ্গালুরুতেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানান ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, শিশুদের চিকিৎসা, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বেঙ্গালুরু যান। তাদের যাতায়াত সহজ করতেই এই রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মালদ্বীপে ফ্লাইট চালুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা এই রুট চালুর সিদ্ধান্ত নেই। আগে উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক শ্রমিক দুই থেকে তিন বছরেও দেশে ফিরতে পারতেন না। ইউএস-বাংলা তুলনামূলক কম ভাড়ায় ফ্লাইট চালু করার পর তারা প্রায় প্রতি বছর দেশে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আগামী বছর এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও ব্রুনাইয়ে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্ব এশিয়ার বাজার নিয়েও আগ্রহের কথা জানান ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় উড়োজাহাজ চুক্তি হলে আগামী বছরই দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে ফ্লাইট চালুর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রবাসীদের দীর্ঘ ট্রানজিটের ভোগান্তি কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। বর্তমানে কাতার, ওমান, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আগামী বছর কুফু (চীন) এবং সৌদি আরবের মদিনায় ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, নতুন রুট চালুর ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী মানুষের প্রয়োজনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএস-বাংলা। এসময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।