সারাদেশ

রাঙামাটিতে পাহাড় ধস, প্রস্তুত ২১২ আশ্রয়কেন্দ্র

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাঙামাটিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ভাঙন ও পাহাড় ধসের দেখা দিয়েছে।

 

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনের সড়কে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ভেদভেদী, মুসলিম পাড়া, চেঙ্গীমুখ, পাবলিক হেল্থ এলাকায় পাহাড়ের ছোট ছোট অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আতঙ্কে আছে লোকজন।

 

এছাড়াও কাপ্তাই বালুচর এলাকায় সড়কে মাটি পড়ে ৩ ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ ছিল। খাগড়াছড়ির মহলছড়িতে সড়কে পানি উঠে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

জানা যায়, রাঙামাটির শিমুলতলী, রুপনগরসহ আশপাশের এলাকায় বার বার মাইকিং করে ঝুঁকিতে বসবাস করা লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসার আহ্বান করছে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত জেলায় ২১২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলার ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২১০ জন আশ্রয় নিয়েছে। এরমধ্যে সদরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয় কেন্দ্র ও যুব উন্নয়ন আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০জন, কাউখালিতে ৬০ ও কাপ্তাইয়ে ৭০ জন আশ্রয় নিয়েছে।

 

রাঙামাটিতে কতজন পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে তার কোনো সঠিক তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জেলা শহরে ১৫-২০ হাজারসহ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় ঢালে, নিচে ও চূড়ায় বসবাস করছে।

 

বৃষ্টির কারণে রাঙামাটি সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

 

রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার জানান, আমরা শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাচ্ছি। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু লোক এসেছে, তবে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে লোকজনের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।

 

রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, আমরা দুটি টিমে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও জেলার অন্যান্য সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি। গতকাল ৪টি পয়েন্ট পাহাড়ের মাটি নেমে যানচলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। আমাদের টিম সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক রেখেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বৃষ্টি হলেই কেন ডুবে যায় চট্টগ্রাম?

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগর চট্টগ্রাম। পাহাড়, নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলিত ভূপ্রকৃতির কারণে এটি দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পকারখানা, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার এই নগরী। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, ভারী বর্ষণ হলেই নগরীর বহু এলাকা কোমর কিংবা বুক সমান পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও ফ্ল্যাশ ফ্লাড, কোথাও জলাবদ্ধতা, আবার কোথাও জোয়ারের পানিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলেই কেন ডুবে যায় চট্টগ্রাম? পাহাড়, নদী, সাগর ও নগর ব্যবস্থাপনার জটিল বাস্তবতা। একইভাবে টানা বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়, পাহাড়ি ঢলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সমুদ্রের এত কাছে থাকা চট্টগ্রাম কেন পানিতে ডুবে? বৃষ্টির পানি সাগরে যেতে বাধা কোথায়? আর এই সংকট থেকে মুক্তির উপায় কী? এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের প্রকৃতি, ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে কর্ণফুলী নদী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। স্বাভাবিকভাবে পাহাড়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচের সমতলে নেমে আসে। একই সময়ে নগরীর নিজস্ব বৃষ্টির পানি, পাহাড়ি ঢল এবং জোয়ারের প্রভাব একত্রে কাজ করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়। অনেকে মনে করেন, সমুদ্রের পাশে শহর হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সাগরে চলে যাওয়ার কথা। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। বৃষ্টির পানি সাগরে যেতে হলে খাল, নালা, ড্রেন ও নদীপথের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত থাকতে হয়। কিন্তু নগরীর বহু প্রাকৃতিক খাল দখল, ভরাট এবং সংকুচিত হয়ে গেছে। কোথাও অপরিকল্পিত সড়ক, কোথাও আবাসন, কোথাও বাজার কিংবা শিল্প স্থাপনা পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত করেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো জোয়ার। যখন বঙ্গোপসাগরে উচ্চ জোয়ার থাকে, তখন কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর বেড়ে যায়। ফলে শহরের ড্রেন ও খাল দিয়ে বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে নদীর পানি উল্টো শহরের দিকে চাপ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে শহরের ভেতরেই আটকে যায়। এ অবস্থাকে প্রকৌশল ভাষায় ‘ব্যাকওয়াটার ইফেক্ট’ বলা হয়। অর্থাৎ নদী বা সাগরের পানির উচ্চতা এত বেশি থাকে যে শহরের পানি বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বর্তমানে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি আগের তুলনায় অনেক বেশি হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকশ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে শতবর্ষ আগের নকশায় নির্মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সেই পানি বহন করতে পারে না। চট্টগ্রামে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা হলো, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা এই মৌসুমে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর ফলে পানির নিচে রেললাইন চলে গিয়েছে, আটকা পড়েছে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের আউটার রিং রোডের একাংশ ধসে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের প্রবেশপথে ও পার্কি জোনে পানি জমে গেছে। অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জোয়ারের উচ্চতাও বাড়ছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রামের আরেকটি বড় সমস্যা হলো পাহাড় কাটা। প্রাকৃতিক পাহাড় বৃষ্টির পানি কিছুটা ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে নিচে নামতে দেয়। কিন্তু পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণের ফলে পানি দ্রুত নিচে নেমে আসে। একই সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। নগরায়ণের ফলে মাটির প্রাকৃতিক পানি শোষণ ক্ষমতাও কমে গেছে। আগে খোলা মাঠ, জলাভূমি ও কৃষিজমি বৃষ্টির পানি শোষণ করত। এখন সেগুলোর জায়গায় কংক্রিটের ভবন, রাস্তা ও পার্কিং এলাকা তৈরি হয়েছে। ফলে অধিকাংশ পানি সরাসরি ড্রেনে চলে আসে এবং অল্প সময়েই ড্রেনের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করে। খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির সমস্যার প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে পাহাড়ি ঢল খুব দ্রুত নিচু এলাকায় নেমে আসে। ছোট নদী ও ছড়াগুলো অল্প সময়ে পূর্ণ হয়ে যায়। কোথাও সেতু, কালভার্ট বা ড্রেন সংকীর্ণ হওয়ায় পানি আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। কক্সবাজারেও একই ধরনের বহুমাত্রিক সমস্যা কাজ করে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, নিম্নভূমি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাভূমি ভরাট এবং জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাবে নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হয়। পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় দ্রুত নগর সম্প্রসারণ অনেক প্রাকৃতিক পানি ধারণ এলাকা নষ্ট করেছে। তাহলে মুক্তির পথ কী? প্রথমত, প্রাকৃতিক খাল, জলাধার ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার করতে হবে। এগুলো শহরের কিডনির মতো কাজ করে। পানি জমা রাখে এবং ধীরে ধীরে নদীতে পাঠায়। দ্বিতীয়ত, পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিক হাইড্রোলজিক্যাল মডেলের ভিত্তিতে পুনঃনকশা করতে হবে। আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বিবেচনায় রেখে অবকাঠামো নির্মাণ করা জরুরি। তৃতীয়ত, কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সব খালকে কার্যকর রাখতে হবে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে জোয়ার নিয়ন্ত্রণকারী স্বয়ংক্রিয় স্লুইসগেট ও শক্তিশালী পাম্পিং স্টেশন স্থাপন করতে হবে, যাতে উচ্চ জোয়ারের সময়ও শহরের পানি বাইরে পাঠানো যায়। চতুর্থত, খাল, নালা ও ড্রেনে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য ড্রেনের ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। পঞ্চমত, নগর পরিকল্পনায় ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা গ্রহণ করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে পার্ক, উন্মুক্ত সবুজ এলাকা, রেইন গার্ডেন, পারমিয়েবল পেভমেন্ট এবং কৃত্রিম জলাধারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সাময়িকভাবে ধরে রাখা হয়, যাতে তা একসঙ্গে ড্রেনে চাপ সৃষ্টি না করে। ষষ্ঠত, পাহাড় কাটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ে দ্রুত বনায়ন করতে হবে। এতে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ভূমিধসের ঝুঁকিও কমবে। সপ্তমত, আবহাওয়া পূর্বাভাস, ডপলার রাডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিয়েল-টাইম বৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগাম সতর্কতা মানুষের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। অষ্টমত, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিকে পৃথক জলাধারা বা ক্যাচমেন্টভিত্তিক সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। কারণ প্রতিটি এলাকার ভূপ্রকৃতি ভিন্ন; তাই এক এলাকার সমাধান অন্য এলাকায় কার্যকর নাও হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি শুধু প্রকৃতির সমস্যা নয়, এটি পরিকল্পনারও সমস্যা। অতিবৃষ্টি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু সেই বৃষ্টির পানি কীভাবে নিরাপদে নদী ও সাগরে পৌঁছাবে, সেই ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই করতে পারি। চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে খণ্ডিত নয়, সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, জলবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ, স্থানীয় সরকার, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ নাগরিক—সবার একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে নগর ব্যবস্থাপনার পুরোনো ধারণা আর কার্যকর নয়। ভবিষ্যতের চট্টগ্রামকে নিরাপদ রাখতে হলে আজই বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক জলপথ সংরক্ষণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়নের পথে এগোতে হবে। অন্যথায় প্রতিটি বর্ষাই আমাদের মনে করিয়ে দেবে, প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে কোনো নগরকে টেকসই রাখা যায় না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

রাঙামাটিতে পাহাড় ধস, প্রস্তুত ২১২ আশ্রয়কেন্দ্র

ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও গান পাউডার উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ছয় মাসে গ্রেফতার ৩২১৭ আসামি

ছবি: সংগৃহীত
তীব্র গরমে কুড়িগ্রামের হাসপাতালে রোগীর ভিড়

তীব্র গরমে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের ঘরে ঘরে বাড়ছে নানা রোগব্যাধি। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক ও চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।   নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রতনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, গরমে মাঠে কাজ করার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান রাজারহাটের দিনেশ চন্দ্র বর্মন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে হঠাৎ তার ডায়রিয়া শুরু হয়। বাড়িতে স্যালাইন খেয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।   কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত ঘাম, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং খাদ্য দূষণের কারণে বিভিন্ন রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ অবস্থায় শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। এছাড়া গরমে বেশকিছু নিয়ম মেনে সবার চলা উচিত।   তিনি গরমে অনেক ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হিট স্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর ভর্তিসহ চিকিৎসা নিতে আসার ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য সবাইকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের চেষ্টা করছি।’   জেলা সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের শরীরে খুব দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দেয়। ফলে ডায়রিয়া, জ্বর, হিট র‌্যাশ, শ্বাসকষ্ট এবং ঘামাচির ঝুঁকি তাদের মধ্যে বেশি থাকে। স্কুলগামী শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা দীর্ঘ সময় বাইরে খেলাধুলা বা যাতায়াতের কারণে হিট স্ট্রোক, হিট এক্সহশন ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হতে পারে। তাই শিশুদের পর্যাপ্ত পানি পান করানো এবং রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।    তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাই শুধু চিকিৎসা সেবার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৮, ২০২৬
মীরসরাই-সীতাকুণ্ডের ঝর্ণায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

ভারি বৃষ্টিতে মীরসরাই-সীতাকুণ্ডের ঝর্ণায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৪৩ জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

ছবি : সংগৃহীত
পদ্মা সেতু রেলপথে বাড়ছে চুরি ও দুর্ঘটনা, আড়াই বছরে মৃত ২৫

যন্ত্রাংশ চুরিতে ঝুঁকিতে রেলপথ আড়াই বছরে প্রাণ গেছে ২৫ জনের   স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে যোগ হয় রেলপথ। এটি শিবচরসহ এই এলাকার মানুষজনের অনেক কাঙ্ক্ষিত। অথচ চালুর পর থেকে কিছুতেই থামছে না রেলপথের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা। রেলপথের সিগন্যাল ব্যবস্থার মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির ফলে বাড়ছে ঝুঁকি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে রেলপথ অনেকটাই আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।   শিবচর রেলওয়ে স্টেশনসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণ। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলে এ অঞ্চলের মানুষজনের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। এরপর ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চালু হয় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত রেল। এরপর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে রেলগাড়িতে। এতে করে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হয়ে যায়।   তবে এই সহজ যাত্রার সঙ্গে যোগ হয় কিছু ভোগান্তি ও দুর্ভোগ। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে রেলপথের বিভিন্ন এলাকায় সিগন্যালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও ক্যাবল চুরি। আরেকটি হচ্ছে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু।   সিগন্যালের যন্ত্রাংশ-ক্যাবল চুরি শিবচর রেলওয়ে স্টেশনসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন রাতে মাদারীপুর শিবচরের অংশের পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্টের কয়েকটি ট্র্যাক পট (ট্র্যাক সার্কিটের যন্ত্রাংশ) খুলে নিয়ে যায় চোরচক্র।   এর আগে ৯ জুন একই স্টেশনের শিবচর প্রান্তের সিগন্যাল পয়েন্টের সবগুলো ট্র্যাক পট চুরি হয়ে যায়। এছাড়াও গত ১৮ মার্চ শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের ট্র্যাক পট খুলে নিয়ে যায় চোরচক্র। এভাবেই মাঝে মধ্যেই চোরচক্র রেললাইনের বিভিন্ন স্থানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকবার চোরদের আটক করলেও কোনোভাবেই এই চুরির ঘটনা থামছে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চলাচল করছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ছয় মাসে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ট্র্যাক পটসহ সিগন্যাল ব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা অনেক বেড়েছে। এসব যন্ত্রাংশ চুরির ফলে ট্রেন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে। এছাড়াও ট্রেন চলাচলেও অতিরিক্ত সময় লাগছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ের কর্মীদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ‘লুক স্টিক’ ব্যবহার করে পেপার লাইন ক্লিয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তাই এই চুরি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।   শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, এই রুটের ট্র্যাক পট চুরির কারণে ট্রেন চালাতে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেইসঙ্গে সময়ও বেশি লাগছে। এই চুরি জরুরিভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে।   শিবচরের পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, শিবচরের এই রুটে সিগন্যালের ট্র্যাক পটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। তাই এই রুটে ট্রেন চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।   ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. শাহ-জালাল বলেন, ভাঙ্গা জংশন থেকে শিবচর ও পদ্মা স্টেশনের দূরত্ব বেশি। তাই নিয়মিত টহলে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তাই এই রুটে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা খুব বেড়েছে। এরই মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। এতে করে ট্রেন চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে এসব চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকজন চোরকে গ্রেফতার করাও হয়েছে। তবুও চুরির ঘটনা কমছে না। তাই এই চুরি প্রতিরোধ করার জন্য টহল আরও জোরদার করা হবে। যাতে করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা পায় আর ট্রেন চলাচল নিরাপদ হয়।   নতুন সমস্যা ট্রেনে কেটে মৃত্যু গত আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে মাদারীপুর জেলার শিবচরে ট্রেনে কাটা পড়ে কমপক্ষে ২৫ জন মারা গেছে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা সন্ধ্যার পর ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে পদ্মা সেতু হয়ে আংশিক ট্রেন চলাচল শুরু করে। এরপর ডিসেম্বরে পুরোপুরিভাবে এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্ট থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে শিবচরে পদ্মা ও শিবচর স্টেশন আছে। ঢাকার কমলাপুর থেকে রাজশাহী, খুলনা পর্যন্ত ট্রেন চলে এই রুটে।   মাদারীপুরের শিবচরে প্রথমবারের মতো রেললাইন চালু হওয়ায় এই এলাকার মানুষজনের মধ্যে কৌতুল ও আগ্রহ বেশি ছিল। তাই রেললাইন ও রেলগাড়িকে কেন্দ্র করে এই এলাকার মানুষজনের মধ্যে একটি উৎসব ও আনন্দ দেখা যায়। অনেক স্থানে রেললাইনের কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় অনেকেই বিকেল হলে ঘুরতে আসেন। তাছাড়া অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষজন ঘুরতে আসেন। সন্ধ্যার পর ভিড় আরও বাড়ে। তাই অসাধনতাবশত দুর্ঘটনাও অনেকে বেড়েছে।   স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ২০ জুন সকালে শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর এলাকার তেলের পাম্প সংলগ্ন স্থানে রেলে কাটা পড়ে একই উপজেলার বাচামারা গ্রামের মোকশেদ হাওলাদারের স্ত্রী শুকরণ বেগম মারা যান। এই বছর কমপক্ষে আরও ৩ জন মারা গেছেন।   ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় মাদারীপুরের শিবচরে উপজেলার মোল্লা বাজার এলাকায় পদ্মা রেলস্টেশনের কাছাকাছি ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি মারা যান। ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কেশবপুর এলাকার রেলসড়কের ৫ নম্বর সেতুতে ট্রেনের ধাক্কায় শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কেশবপুরের বেপারীর কান্দি গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার ছেলে ও একই এলাকার স্থানীয় ইক্বরা রওজাতুল উলুম মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুল ইসলাম (১০) মারা যান। একই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শিবচরের পাঁচ্চরবাজার সংলগ্ন মাদবরেরচর এলাকায় এক নারী (৩০) মারা যান।   ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর ঘুরতে গিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেললাইনের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর এলাকায় একই উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের আবু খলিফা ওরফে মিজান সরদারের মেয়ে মিথিলা আক্তার (১৭) মারা যান। এসময় ওই কিশোরীর সঙ্গে থাকা তার ১১ মাস বয়সি ভাগনি আয়শার দুই হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   এছাড়াও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর গোল চত্বরের পাশে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবক মারা যান। একই বছর শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সীমানা এলাকায় রেলে কাটা পড়ে একই উপজেলার চরকেশবপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মোড়ল ছেলে ও স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রাকিব (১২) মারা যায়।   তারও আগে ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর শিবচর উপজেলার পাঁচ্চরের লাইফ কেয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন রেললাইনে ছবি তোলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একই উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের লপ্তীকান্দি এলাকার হিরু খানের ছেলে এবং একই ইউনিয়নের মাদবরেরচর রহিমুদ্দিন মাদবর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি ছাত্র মো. ইব্রাহিম খান (১৪) মারা যান।   পাঁচ্চর এলাকার স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে এখানে এসে আত্মহত্যা করার ঘটনাও আছে। তা না হলে ট্রেনে কদিন পরপরই এত মারা যাবে কেন। তাছাড়া ট্রেনের নিচে ফেলে হত্যার ঘটনাও থাকতে পারে। তাই এসব ব্যাপারে আইনশৃংখলা বাহিনীর আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।   পাঁচ্চর এলাকার রেল সড়কে ঘুরতে আসা স্থানীয় জয়নাল হোসেন বলেন, বিকেল হলেই রেললাইনে মানুষের আড্ডা জমে ওঠে। এছাড়া সকাল-দুপুরেও রেললাইন ধরে অনেককেই হাঁটতে দেখা যায়। আসলে স্থানীয়রা ছাড়া অনেকেই ট্রেন চলাচলের সময় জানে না। দূর থেকে ট্রেন দেখে সরতে গিয়েও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক সময় দেখলে মনে হয় ট্রেন ধীরে আসছে আসলে ট্রেন প্রচণ্ড গতিতে চলে এখানে। তাই অনেক সময় অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সকলের সচেতন হতে হবে।   শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, মাঝে মধ্যে রেলে কাটা পড়ে মারা যাবার ঘটনা ঘটে থাকে। সম্প্রতি শুকরণ বেগম নামের এক নারী মারা গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।   শিবচর স্টেশনের মাস্টার মো. সেলিম হোসেন বলেন, এই লাইনটি খুবই গতিশীল। এখানে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইনে হাঁটাহাঁটি বন্ধ করতে হবে। মানুষকে সচেতন হতে হবে। রেললাইন ঘোরার জায়গা না। তাই এই ব্যাপারে সবার সচেতন হলে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটে বাধা পেয়ে খালের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করল প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন স্পট বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুর ১৪ তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

0 Comments