একদিকে রাতে আঁধারে হামলা চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে আটক, অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ' বলে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে, ট্রাম্পের এমন হুমকিরর পর মুখ খুললেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড দখল করার বিষয়ে 'হুমকি বন্ধ করতে' বলেছেন তিনি।
মেটে ফ্রেডারিকসেন বলেন, 'আমি মনে করি না যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রয়োজন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অধিকার নেই ডেনিশ রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা।'
তার মন্তব্য এসেছে ট্রাম্পের এক সহকারীর স্ত্রী কেটি মিলারের এক্সে পোস্টের পর, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্রে আমেরিকার পতাকার রঙ ব্যবহার করে 'সুন' বা 'শীঘ্রই' লিখেছেন।
ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে অধিগ্রহণের সম্ভাবনার কথা মিডিয়ার সামনে উত্থাপন করেছেন। মূলত, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কারণে ট্রাম্প বারবার অঞ্চলটি নেয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের লাগবেই বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লক্ষ্য পূরণে ডেনমার্কের মালিকানাধীন আর্কটিক দ্বীপটিতে বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, চীন ও রাশিয়ার জাহাজ হুমকি তৈরি করছে অঞ্চলটিতে। তাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষায় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়া 'খুবই' প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ নয়, কূটনৈতিক পথেই সমঝোতার চেষ্টা করছেন তিনি। আর সেজন্য গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই দায়িত্ব পাচ্ছেন লুইজিয়ানার গভর্নর লন্ড্রি।
কিন্তু গতকাল মাদুরোকে কূটনৈতিক পথে সমঝোতার চেষ্টা না করে আটক করার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে বিশ্বনেতারা। একজন প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে কাপুরুষের মতো আটক করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের সরকারপ্রধানরা।
ট্রাম্পের এমন আচরণ যে শান্তি কিংবা সমঝোতা নয়, সেটি খুব ভালভাবেই অনুধাবন করেছে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তাইতো, মাদুরোকে আটকের একদিনের মধ্যেই ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি-ধমকি বন্ধ করতে বলেছেন তিনি।
গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জানিনা কেন এটা ডেনমার্কের অংশ বলা হয়। ডেনমার্ক সেখানে কোনো ব্যয়ই করেনা। সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। খনিজ সম্পদ নয়, আমাদের জাতীয় সুরক্ষার জন্যই গ্রিনল্যান্ড দরকার। সেদিকে তাকালে দেখবেন, রাশিয়া আর চীনের জাহাজ চারপাশে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি দরকার। আর তা পেতেই হবে।
ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ নতুন করে উস্কে দিয়েছে উত্তেজনা। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্বায়ত্ত্বশাসিত গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসন। নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অন্য কারও নেই বলে জানিয়েছে তারা। ক্ষোভ জানিয়ে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানালে তা মেনে নেয়া হবে না। কোপেনহেগেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, এটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা আমাদের ওপর নির্ভর করছে। কেউ আমাদের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করলে তা মেনে নেবো না। সীমা অতিক্রম করছে তারা। ডেনমার্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে। এমন পদক্ষেপের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আনৌয়ার এল আনৌনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা। তবে ডেনমার্ক ইস্যুতে ইইউ'র অবস্থান স্পষ্ট করতে চাই। যা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের নীতি। ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের সুরক্ষা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
উল্লেখ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে অবস্থান গ্রিনল্যান্ডের। ১৯৭৯ সাল থেকেই পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসিত আর্কটিক দ্বীপটি। ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ডের আছে বিপুল খনিজের ভাণ্ডার। যা ব্যবহার করতে পারলে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে যুক্তরাষ্ট্রের। এছাড়া ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানোর ক্ষেত্রেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে দ্বীপটি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মধ্য এশিয়ার বাজারে তেল রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ইরানের সামনে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তেল বিক্রিতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে থাকা তেহরান এরই মধ্যে এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশেও। বিশেষ করে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান ঐতিহাসিকভাবে জ্বালানির বড় একটি অংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে। রাশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট দেখা দেওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে এসব দেশ। এরই মধ্যে তাজিকিস্তান ইরান থেকে তেল ও বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি শুরু করেছে। পাশাপাশি কিরগিজস্তানে একটি যৌথ তেল শোধনাগার স্থাপনের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। তবে মধ্য এশিয়ার বাজারে ইরানের এই উদ্যোগ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। কারণ ইরান থেকে মধ্য এশিয়ায় তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে হবে। রেলপথে এই পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনা করা বেশ জটিল এবং ব্যয়বহুল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান হলে কিংবা রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলো পুনরায় চালু হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে তুলনামূলক কম দামে রাশিয়ার জ্বালানি আবারও মধ্য এশিয়ার বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানের জন্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। এর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে মধ্য এশিয়ায় ইরানের তেল বাণিজ্যের বর্তমান সুযোগ ভবিষ্যতে কতটা স্থায়ী রূপ নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি শ্রীলংকান তরুণ অনুজান শিবারাসের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। ইসলামের পবিত্রতা রক্ষা এবং যেকোনো অবমাননার বিরুদ্ধে সৌদি বিচারব্যবস্থার কঠোর আইনের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ছেলের জীবন রক্ষায় তার পরিবার ক্ষমা চেয়ে বিশ্ববাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে। গত জুনে শ্রীলংকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে অনুজান মহানবী (সা.)-কে নিয়ে একটি অসম্মানজনক মন্তব্য পোস্ট করে বসেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে কমেন্টটি ডিলিট করেন এবং ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন, তবুও ততক্ষণে কেউ ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে সৌদি আরবে তার কর্মস্থলে পৌঁছে দেয়। এর জেরে গত জুলাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইসলাম ধর্ম ও মহানবীর অবমাননার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সৌদি আইন অত্যন্ত কঠোর। আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট শুরুতে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করলেও, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে আদালত সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়া আইনের আওতায় বিচার করে তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে। ইসলামে নবীজির সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে অনুজানের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবে এ ধরনের সাজা কার্যকরের নির্দিষ্ট কোনো পূর্বঘোষণা দেওয়া হয় না। এদিকে অনুজানের পরিবার ও শ্রীলংকা সরকার সাধারণ ক্ষমার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়াক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছেন। দেশটির একটি আইনি দল সৌদি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে গিয়েছে। ইসলাম ধর্ম যেমন অপরাধের উপযুক্ত শাস্তির বিধান রাখে, তেমনি অনুতপ্ত ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও সেখানে বিশেষ গুরুত্ব পায়। ফলে পরিবারটি এখন সাধারণ ক্ষমার শেষ আশার ওপর নির্ভর করে আছে। সূত্র: বিবিসি।
বৈশ্বিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ভার্জিনিয়া-ক্লাস’ পারমাণবিক সাবমেরিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য ২৯০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি পেয়েছে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে ‘আর্সেনাল-২’ নামে নতুন একটি শিপইয়ার্ড নির্মাণে ৩৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার বিকেলে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে এই বড় প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ড সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সম্প্রতি অ্যান্ডুরিলের সহপ্রতিষ্ঠাতা পামার লাকি এবং প্রযুক্তি ধনকুবের ও ট্রাম্পের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা ইলন মাস্ককে প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি নতুন উদ্যোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ নামের এই উদ্যোগে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামুদ্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ভার্জিনিয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে প্রথমবারের মতো উদ্যোগটির কথা প্রকাশ্যে আসে। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করতে এটি ১২০ দিনের গবেষণার অংশ। ইরান যুদ্ধ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল পরিবহন ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাহাজ ও অস্ত্র উৎপাদন দ্রুততর করতে পেন্টাগন যে বিস্তৃত পদক্ষেপ নিয়েছে, অ্যান্ডুরিলের এই চুক্তি তারই অংশ। প্রায় ১১৭ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের অ্যান্ডুরিল ২০১৭ সালে পামার লাকির হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বায়ত্তশাসিত সামরিক ব্যবস্থা, ড্রোন ও সফটওয়্যার তৈরির জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোনের পাশাপাশি সমুদ্রগামী চালকহীন যান, নৌ-ড্রোন এবং সামরিক সেন্সর ও অস্ত্র সমন্বয়ের জন্য কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সফটওয়্যার তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। মেরিল্যান্ডে নির্মাণাধীন নতুন শিল্পকেন্দ্রে মার্কিন নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন করা ‘ভার্জিনিয়া-ক্লাস’ ফাস্ট-অ্যাটাক সাবমেরিনের টর্পেডো টিউব এবং মূল হালের বড় অংশ তৈরি করা হবে। সংস্কারের পর এই শ্রেণির প্রতিটি সাবমেরিন সর্বোচ্চ ৪০টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম হবে। পারমাণবিক শক্তিচালিত হলেও এসব সাবমেরিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ নয়। অ্যান্ডুরিল জানিয়েছে, নতুন কারখানায় সরাসরি ৩ হাজার ১০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে পরোক্ষভাবে আরও ১১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীতে ২৬টি ভার্জিনিয়া-ক্লাস সাবমেরিন চালু রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ বহরে আরও দুটি সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার কথা। তবে পেন্টাগন ও নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং দক্ষ শ্রমিকের সংকটের কারণে দেশটির বিদ্যমান শিপইয়ার্ডগুলো বছরে অন্তত দুটি সাবমেরিন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না। বর্তমানে এই উৎপাদন হার কমে বছরে মাত্র ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ২টিতে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের অ্যান্ডুরিলের প্রেসিডেন্ট ক্রিস ব্রোস বলেন, মেরিল্যান্ডের নতুন শিপইয়ার্ডের প্রধান লক্ষ্য নতুন কোনো ড্রোন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা নয়; বরং ভার্জিনিয়া-ক্লাস সাবমেরিনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তাঁর ভাষায়, প্রতিষ্ঠানটি যে অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করেছে, সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্যই মূলত সরকার কিনছে। সূত্র : আল-জাজিরা