পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ ক্লাবের মাঠে গত কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ফুটবল অনুশীলন। কারণ, মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি। তবে বিষয়টি নতুন নয়—১৯৬৬ সাল থেকেই এই মাঠে কোরবানির গরুর হাট বসে আসছে, আর সেই আয়েই টিকে আছে দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগে খেলা ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
মইনুল ইসলাম নামের এক ক্রীড়ানুরাগীর উদ্যোগে তৈরি এই মাঠ ষাটের দশক থেকে রহমতগঞ্জ ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই সময় থেকেই মাঠে গরুর হাট বসার চল শুরু হয়, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। ক্লাবের মূল আয়ের বড় অংশই আসে এই হাট থেকে।
প্রতি মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে দল গড়তে রহমতগঞ্জের প্রয়োজন পড়ে দুই থেকে তিন কোটি টাকা। সেই অর্থের একটি বড় অংশ আসে গরুর হাটের ইজারা থেকে। পাশাপাশি মাঠের আশপাশের দোকান ও কারখানার ভাড়া এবং স্থানীয়দের অনুদানও ক্লাবের তহবিলে যুক্ত হয়।
ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ বলেন, “গরুর হাট ছাড়া রহমতগঞ্জ ক্লাবের অন্য কিছু ভাববার সুযোগ নেই। প্রতিবছর হাট ইজারা দিয়ে আমরা দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা আয় করি। খরচ বাদ দিয়ে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা ক্লাবের তহবিলে থাকে। এই টাকা দিয়েই আমরা প্রতি মৌসুমে দল গড়ে থাকি। জিমও হয়েছে।
এর আগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাঠে হাট বসতো। বসতো আরামবাগের বালুর মাঠেও। এখন রহমতগঞ্জ ক্লাবই হাটের ‘ঐতিহ্য’ ধরে রেখেছে।
ক্লাবটির বর্তমান সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, “গরুর হাট আছে বলেই ক্লাবটির ফুটবল কার্যক্রম নিয়মিত চলছে। হাটের আয় থেকে সবকিছু হচ্ছে। এজন্য দেখবেন আমাদের ফুটবল ক্লাব ঠিকমতো চলছে। খেলোয়াড়রা পারিশ্রমিক পাচ্ছে।
প্রতি বছর গরুর হাটের কারণে রহমতগঞ্জ মাঠ ক্ষতিগ্রস্তও হয়। ক্লাব ভবনও হাটের কাজে ব্যবহৃত হয়। তখন ফুটবল দলটি বাফুফের টার্ফ কিংবা কমলাপুর মাঠে অনুশীলন করে থাকে।
এ বিষয়ে ক্লাবের সদস্য ইকবাল উদ্দিন বলেন, “আমরা চেষ্টা করি হাটের কারণে যেন খেলোয়াড়দের কোনও সমস্যা না হয়। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য মাঠে অনুশীলন হয়ে থাকে। খেলোয়াড়রাও তা মেনে নিয়েছে।
ক্লাব সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাময়িক অসুবিধা থাকলেও বাস্তবতা হলো—এই হাটই রহমতগঞ্জের টিকে থাকার প্রধান ভরসা। তাই গরুর হাটের আয় থেকেই দেশের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের ফুটবল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন চার দিন ধরে জ্বলছে। এখনো গ্যাসের নির্গমন বন্ধ না হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিদিনই ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। এদিকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ও বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দলে ছিলেন বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির এবং পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের উৎস ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আগামী ১৫ দিন ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় আগুনের শিখার উচ্চতা, গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন বিশেষজ্ঞরা। পর্যবেক্ষণ শেষে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে প্রয়োজনে রিলিফ কূপ খননের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, ভূগর্ভের অগভীর কোনো গ্যাসের মজুত বা ‘শ্যালো রিজার্ভার’ থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। সাধারণত দেশে ভূগর্ভের দেড় থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে গ্যাসের মজুত পাওয়া যায়। তবে ইনানীর ঘটনায় গ্যাসের প্রকৃত উৎস, গভীরতা ও মজুতের পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব বিষয় নিরূপণ করতেই ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর পাশের বস্তি থেকে উদ্ধার হওয়া নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল, ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ এবং বাসার গ্যারেজের শেষ সিসিটিভি ফুটেজ—প্রতিটি তথ্যই নতুন প্রশ্ন সামনে আনছে। মৃত্যুর আগে সবশেষ যে ‘ছোট ভাই’-এর সঙ্গে তাহসিফকে দেখা গিয়েছিল তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর থেকেই এই ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে সেদিনের নানা তথ্য দিয়েছে সেই ব্যক্তি, শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। তুরাগ নদের যেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল তার কাছাকাছি এলাকা থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি। পুলিশ বলছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে শেষ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ওই ছোটভাইয়ের সঙ্গে তাহসিফ কোথায় গিয়েছিলেন, কী করেছেন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা। নৌ পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই এবং গোয়েন্দা পুলিশ। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। পরিবারকে তিনি বলেছিলেন, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি।’ এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তরখান থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ। তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে ওঠার ভিডিওটি তাহসিফ ধারণ বা প্রচার করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। যা তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি করে। অবশ্য গত তিন মাস আগে একটি সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তাহসিফ সাউরি। তদন্ত কোন পথে? মরদেহ উদ্ধারের পর তাহসিফ সাউরির বাবা জানিয়েছিলেন যে, দ্বীপের ডাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসার বাইরে বের হন তাহসিফ। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সেদিনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে এই দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার নয়—মূলত কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই হেফাজতে নেওয়া হয় তাকে। দ্বীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানানো হয়। শুক্রবার সকালে পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদ রহমান গণমাধ্যমকে জানান, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় আসার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে দ্বীপ। তিনি বলেন, ‘তারা কি জন্য এখানে এসেছিল সেটা আমাদেরকে এখনো বলে নাই। দ্বীপ বলেছে যে, তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। কেন এখানে তারা এসেছিল সেটি আমরা তদন্ত করছি।’ মূলত দ্বীপের বক্তব্যে অসংগতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই। কেন তিনি এতক্ষণ তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন, কখন, কিভাবে আলাদা হলেন এবং কেন তিনি পরিবারকে বা পুলিশকে দ্রুত জানাননি— এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা হচ্ছে। পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর পুলিশ সুপার বিবিসি বাংলাকে জানান, যেহেতু দ্বীপ নামের ছেলেটিকে তার (তাহসিফ সাউরি) সঙ্গে সবশেষ দেখা গেছে, এ কারণে তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে তাকে আনা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব ক্লু বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ নানা তথ্য পিবিআইকে দিয়েছে। সব তথ্য যাচাই করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে তারা। তাহসিফ ও দ্বীপের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, লোকেশন ডেটা এবং ওই এলাকার আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং দ্বীপের জবানবন্দি এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই তদন্ত চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মোটরসাইকেল উদ্ধার এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের দিকে একটি বাইক নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে আসেন দ্বীপ। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটের দিকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় দুজনকে। এর একদিন পর, অর্থাৎ বুধবার বিকেলে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিল তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দ্বীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর তার দেওয়া তথ্য যাচাইয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্য অনুসারেই, টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে, সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল, যা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদ রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, গাড়িটা আমরা রাতেই উদ্ধার করছি। দ্বীপের দেওয়া তথ্য অনুসারেই গাড়িটা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাহসিফের বলেও নিশ্চিত হয়েছে পিবিআই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মোটরসাইকেলটি যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকে তুরাগ নদে তাহসিফের মরদেহ পাওয়ার স্থানের দূরত্ব খুব বেশি নয়। প্রাথমিক আলাপে দ্বীপ এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছ বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি তারা। এদিকে, তুরাগ নদের যে এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, শুক্রবার দুপুরে সেখানে পরিদর্শন করেছেন পিবিআইয়ে তদন্তকারী দল। এছাড়া দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে বেশ কয়েকটি স্পটে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। মামলা হয়নি এখনো মরদেহ উদ্ধারের প্রায় একদিন পরও অর্থাৎ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশ বলছে, এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে নিচ্ছেন তারা। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়ায়ও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফ কোথায় গিয়েছিলেন, কী করেছিলেন এই বিষয়গুলো যাচাই করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর পুলিশ সুপার বিবিসি বাংলাকে জানান, নিহতের পরিবার শোকার্ত অবস্থায় থাকায় মামলা দায়েরে তাড়াহুড়া না করে বরং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ওনাদেরকে একটু সময় দিচ্ছি, মামলা হবে। যেহেতু নৌ পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে, তাদের তত্ত্ববধানেই মামলা কার্যক্রম চলবে। অন্য সব সংস্থা তাদেরকে সহায়তা করবে। উল্লেখ্য, তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্টে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ুকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে তার প্রাথমিক সদস্যপদ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে সতর্ক করা হলেও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন মহিউদ্দিন ঝাড়ু। এ কারণে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতার কোনও অপকর্মের দায়ভার সংগঠন বহন করবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে মহিউদ্দিন ঝাড়ুর সঙ্গে যাবতীয় সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।