শিক্ষা

এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা, সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষস্থান দখল করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বিপরীতে সবচেয়ে কম পাসের হার নিয়ে তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। প্রকাশিত ফলাফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।

 

পাসের হারে সবার ওপরে ঢাকা

সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ বোর্ডে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৬২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩০ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বোর্ড। এ বোর্ডে ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে এই চারটি বোর্ডে পাসের হার ৫০ শতাংশের বেশি।

 

সবচেয়ে কম পাস বরিশাল বোর্ডে

ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ৫৭ হাজার ৯১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৫ হাজার ৯৭০ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৩১ হাজার ৯৪২ জন। বোর্ডটিতে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, আর অকৃতকার্য হওয়ার হার ৫৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।

বরিশালের পর কম পাসের হারের তালিকায় রয়েছে যশোর ও রাজশাহী বোর্ড। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। সেখানে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন।

রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ বোর্ডে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১ হাজার ৮৭৪ জন এবং ফেল করেছে ৭৫ হাজার ৪৮২ জন।

 

দিনাজপুর ও কুমিল্লা বোর্ডেও পাসের হার কম

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ বোর্ডে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৬০ হাজার ৩৮৯ জন।

অন্যদিকে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। মোট ৯২ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৪ হাজার ২৭২ জন এবং ফেল করেছে ৪৭ হাজার ৯২০ জন।

 

৯টি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৬২ শতাংশ

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে ঢাকা এগিয়ে থাকলেও বরিশাল, যশোর, রাজশাহী ও দিনাজপুরে পাসের হার ৪৬ শতাংশের নিচে রয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল বোর্ডে ছেলেদের ফলাফল তুলনামূলকভাবে খারাপ ছিল। সেখানে ছাত্রদের অকৃতকার্য হওয়ার হার প্রায় ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসির ফলাফলে নিম্নমুখী ধারা, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।   শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।   প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ পয়েন্ট। এর আগে ২০২৪ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭.৭৮ শতাংশ। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৫.৬৬ শতাংশ পয়েন্ট।   জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ৯৭ জনে। আর চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। দুই বছরের ব্যবধানে কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন।   এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন ছাত্রী। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।   চলতি বছরের ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসিতে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ২৯৩

ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা, সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
১৯৯০ থেকে ২০২৫: তিন দশকে এইচএসসির পাশের হার কেমন ছিল

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশ করা হবে এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল। এই ফল প্রকাশের পর জানা যাবে এবারের পাশের হার কত। কিন্তু ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল অর্থাৎ গত ৩৬ বছরের ফলাফল কেমন ছিল? পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সময়ে পাশের হারে নানা সময়ে উত্থান-পতন দেখা গেছে। কোনো বছর পাশের হার ২৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, আবার কোনো বছর তা ছাড়িয়েছে ৭৫ শতাংশ। এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।   ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বনিম্ন পাশের হার ছিল ১৯৯৬ সালে, মাত্র ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর সর্বোচ্চ পাশের হার ছিল ২০২০ সালে, করোনাকালে ১০০ শতাংশ। তবে ওই বছরের ফল নিয়মিত পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। কারণ, সে বছর পরীক্ষা না নিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে ফল মূল্যায়ন করা হয়েছিল। এতে সব পরীক্ষার্থীই পাশ করেন।    সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে গত বছর পাশের হারে বড় ধরনের ধস নামে। ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাশের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাশের হার কমে যায় প্রায় ১৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০০৫ সালের পর গত বছরের পাশের হার ছিল সবচেয়ে কম।    ২০০৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে।   গত ৩৬ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯০ সালে পাশের হার ছিল ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। ১৯৯১ সালে পাশের হার প্রায় ৫১ শতাংশে এবং ১৯৯২ সালে ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। তবে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৯৩ সালে পাশের হার কমে ৪৬ শতাংশের কিছু বেশি হয়। ১৯৯৪ সালে তা ৪০ শতাংশ ছাড়ায় এবং ১৯৯৫ সালে আবার বেড়ে ৪৬ শতাংশের বেশি হয়।    এরপর ১৯৯৬ সালে পাশের হারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। ওই বছর মাত্র ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশে করেন, যা গত ৩৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরবর্তী বছরগুলোতে পাশের হার কিছুটা বাড়লেও ধারাবাহিকতা ছিল না। ১৯৯৭ সালে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশের বেশি। ২০০১ সালে তা কমে ২৮ শতাংশের বেশি এবং ২০০২ সালে প্রায় ২৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০৩ সালে পাশের হার বেড়ে ৩৮ শতাংশ ছাড়ায়। পরের বছর ২০০৪ সালে তা আরও বেড়ে প্রায় ৪৮ শতাংশ হয়।   ২০০৫ সাল থেকে পাশের হারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। ওই বছর পাশের হার ৫৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ২০০৬ সালে পাশের হার ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৬৪ শতাংশের বেশি এবং ২০০৮ সালে তা বেড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০০৯ সালে আবার কিছুটা কমে ৭০ শতাংশের সামান্য বেশি হয়। ২০১০ ও ২০১১ সালে পাশের হার ছিল প্রায় ৭২ শতাংশ। এরপর ২০১২ সালে তা বেড়ে ৭৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।    ২০১৩ সালে পাশের হার ছিল ৭১ শতাংশের বেশি। ২০১৪ সালে তা বেড়ে প্রায় ৭৬ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১৫ সালে এই হার কমে প্রায় ৬৬ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৬ সালে আবার বেড়ে পাশের হার ৭২ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর ২০১৭ সালে তা কমে প্রায় ৬৭ শতাংশ, ২০১৮ সালে প্রায় ৬৫ শতাংশ হয়। ২০১৯ সালে আবার বেড়ে ৭২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়।   এদিকে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই বছর সব পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করায় পাশের হার দাঁড়ায় ১০০ শতাংশে। পরের বছর ২০২১ সালে পাশের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৩ সালে পাশের হার ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫ শতাংশের বেশি। সর্বশেষ ২০২৫ সালে তা আরও কমে ৫৭ শতাংশে নেমে আসে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩০, ২০২৬

‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলন চলবে, ক্লাসও নেবেন চুয়েট শিক্ষকরা

৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। ফাইল ছবি

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশে নতুন নিয়ম, যেভাবে জানা যাবে রেজাল্ট

ছবি: সংগৃহীত
শনিবার প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসির ফল, জানা যাবে যেভাবে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী শনিবার। ওই দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে।   এরপর অনলাইন ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফল সংগ্রহের পদ্ধতি জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত ওয়েবসাইট [eduboardresults.gov.bd](https://eduboardresults.gov.bd) ও [educationboardresults.gov.bd](https://educationboardresults.gov.bd) থেকে ফল দেখতে পারবেন। পাশাপাশি নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল দেখা ও ডাউনলোড করা যাবে।   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট’ কর্নারে গিয়ে নিজস্ব ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।   এসএমএসে ফল জানবেন যেভাবে   মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘HSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> 2026’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংবাদপত্রের কার্যালয় থেকে সরাসরি ফলাফল বিতরণ করা হবে না।   এদিকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে। আবেদন করা যাবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের বিস্তারিত নিয়ম ও আবেদনপ্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ফি কমাল প্রশাসন

অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম

চূড়ান্ত অনুমোদন: চুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন শরীফুল আলম

এক বর্গকিলোমিটারের কম জায়গায় ৩০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চাপে আবাসিক জীবন

0 Comments