প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন। সফরে তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালে একটি খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন এবং ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে সড়ক পথে ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর ১২টায় ত্রিশালে একটি খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। পরে বিকেল ৩টায় ত্রিশালের ঐতিহ্যবাহী নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন।
বিকেলে তিনি ত্রিশালের নজরুল অডিটরিয়ামে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ও উত্তর জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। প্রধানমন্ত্রী আগমন ঘিরে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন।
জানা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে অনেক বছর পর এবার জাতীয় পর্যায়ে জন্মজয়ন্তী পালন করা হবে।
এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তিন দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালের নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠে বসে মেলা। পাশাপাশি একই মাঠে নজরুল মঞ্চে দিনব্যাপী চলে আলোচনাসভা ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কিউজাই, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও বারি-৪। এগুলো দেশি-বিদেশি আমের জাত। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিকারপুর গ্রামে ধানি জমিতে প্রথমবারের মতো এই আমের চাষ করে বাজিমাত করেছেন কৃষক সুরুজ মিয়া। তার বাগানে বসেছে রঙিন সব আমের মেলা। ১১০ শতক মিশ্র ফল বাগানে আম ছাড়াও রয়েছে চায়না কমলা, কুল, মাল্টা, পেয়ারাসহ নানা জাতের ফল। এছাড়া তার বাড়ির উঠানের নার্সারিতে এসব ফলের চারা উৎপাদনের পর বিক্রি করছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শিকারপুর গ্রামের ধানের জমির মাঠ। জমির কোণে ডোবার পাড়ে অল্প উচ্চতার আমের বাগান। দখিনা বাতাসে দুলছে থোকায় থোকায় রঙিন আম। কোনো কোনো আমের ওজন কেজি ছাড়িয়েছে। সুরুজ মিয়া বাগান পরিষ্কার করছেন, এছাড়া পরিপক্ক ফল সংগ্রহ করছেন। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কৃষকরা বিস্ময় চোখে দেখছেন রঙিন আমের পসরা। এদিকে আম চাষে আগ্রহীরা তার বাড়ি থেকে চারা কিনে নিয়ে যান। প্রতিবেশী কৃষক সফিউল্লাহ ও মো. খোকন বলেন, এমন জাতের আমের নাম আগে শুনিনি। ধানের জমিতে তিনি ফলের চাষ করেন। জমির কোণায় ডোবা করে তার পাড়ে আম চাষ করেছেন। প্রথমে এটা দেখে আমরা হাসাহাসি করেছি। এখন দেখলাম ভালো ফলন হয়েছে। আমরাও আগামীতে এই আমের চাষ করবো। আম চাষি সুরুজ মিয়া বলেন, ইউটিবে ভিডিও দেখে আমের চাষ শুরু করি। ধানের জমিতে ডোবার পাড়ে আমের চারা লাগিয়েছি। প্রথমে অনেকে পাগলামি বললেও ভালো ফলন দেখে তারাও এখন চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা আমার নার্সারিতে উৎপাদিত চারা নিয়ে লাগাচ্ছেন। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, সুরুজ মিয়া প্রবাসে ছিলেন। তিনি একজন উদ্যমী কৃষক। তাকে আমরা ফল চাষে আগ্রহী করে তুলি। অন্য কৃষকদের ফল চাষের কথা বললে অনেকে বিরুপ মন্তব্য করেছেন। আমরা তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে গেছি। তিনি কুলসহ বিভিন্ন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তার হাত ধরে শিকারপুর ফলের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আশা করছি এই গ্রামে কুলের সাথে আমসহ বিভিন্ন ফল চাষ আরও বাড়বে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করে স্বস্তিতে নেই নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগম। সরকারি টাকা লুটপাটের ক্ষেত্র বন্ধ করে এখন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের টার্গেট হয়েছেন তিনি। ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফোন করে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ স্থগিত করেন। কিন্তু এরপর তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র তাকে সরিয়ে দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের এই খাত থেকে বড় অঙ্কের টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পিত কমিশন লুটপাটের মিশনে বাধা দেওয়ায় এডিসিকে সরিয়ে দেওয়ার মিশনে নেমেছে প্রভাবশালী চক্রটি। এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার রাতে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘এমন তো হওয়ার কথা না। এই সাহসী অফিসারকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে কিছু নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন। এছাড়া বিষয়টি জানার পর খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেওয়াসহ মনিটরিং করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ হবে। এজন্য ব্যস্ত থাকবেন। রোববার তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। জানা যায়, গত ২৫ দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাহমুদা বেগমকে ৩ বার বদলি করেছে। বারবার তাকে বদলির পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ার। তিনি বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে কর্মরত। ৩০ বিসিএসের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ২১ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসাবে নরসিংদীতে দায়িত্ব পালন করেন। এডিসি হিসাবে আড়াই মাস দায়িত্বে থেকে এই কর্মকর্তা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ৩৫৯ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিশন নিয়ে গেছেন। এ সংক্রান্ত কিছু অডিও-ভিডিও যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত। গুরুত্বপূর্ণ ৩টি এলএ কেসের অ্যাওয়ার্ড বই (ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত) মো. মোস্তফা মনোয়ার প্রস্তুত করেন। এরমধ্যে ১৫নং এলএ কেসের ২৪০ কোটি, ১৪নং এলএ কেসের ৪৮ কোটি এবং ১০নং এলএ কেসে ৭১ কোটিসহ মোট ৩৫৯ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন। এসব এলএ কেসে জমি অধিগ্রহণ আইন ও নিয়মনীতি কোনোটাই অনুসরণ করা হয়নি। ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে তদন্ত করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র (ফিল্ডবই ও জমির আগের অবস্থানসংক্রান্ত ভিডিও) সরিয়ে ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সঠিক নয়। সব সময় নিয়ম মেনে কাজ করেছি। কেউ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবে না।’ অধিগ্রহণের বিল পরিশোধের বিপরীতে কমিশন নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যুগান্তরের কাছে রয়েছে-এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’ প্রসঙ্গত, গত ২৮ এপ্রিল ‘জমি অধিগ্রহণে ডিসির নেতৃত্বে বিস্ময়কর কাণ্ড, স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ঘুস ভাগাভাগি শিরোনামে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরের পলিটিক্যাল প্রভাবশালী একজন কর্মকর্তা বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণের বিল পরিশোধের জোরালো তদবির করেন। তার তদবিরটি ছিল নীতিমালাবহির্ভূত। নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে আরও দিতে হবে বিবেচনায় নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে সরাসরি ‘না’ বলে দেন মাহমুদা বেগম। এরপর প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনার ক্ষমতা বেশি না আমার ক্ষমতা বেশি দেখতে পাবেন।’ পরদিন ২৭ এপ্রিল তাকে পরিকল্পনা বিভাগে সিনিয়র সহকারী প্রধান হিসাবে বদলি করা হয়। ২৮ এপ্রিল প্রতিবেদন দেখে ওইদিনই ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফোন করে এডিসি মাহমুদার বদলি স্থগিত করতে বলেন। একই সঙ্গে মাহমুদা বেগমকে ফোন করে সরকারের অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করায় ধন্যবাদ জানান এবং নির্ভয়ে কাজ করতে উৎসাহ দেন। এর ১৫ দিনের মাথায় ১৩ মে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে ১৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে বদলি করা হয় মাহমুদাকে। নরসিংদী জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মাহমুদা বেগম নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পদে যোগ দেন। এই পদে যোগ দিতে অন্য সহকর্মীদের রীতিমতো প্রতিযোগিতা ছিল। কারণ চলমান জমি অধিগ্রহণের দালাল সিন্ডিকেট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এই টেবিল থেকেই করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক রাশেদ হোসেন চৌধুরী নরসিংদীতে তার শেষ কর্মদিবসের দিন মাহমুদা বেগমকে এডিসি (রাজস্ব) পদে নিয়োজিত করে যান। এরপর চলমান জমি অধিগ্রহণে দালাল সিন্ডিকেটের দুর্গ ভেঙে নীতিমালার বাইরে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন। এরপর একে একে বিভিন্ন এলএ কেসের শুনানি নিয়ে অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেন। এছাড়া নীতিবহির্ভূত আবেদন বাতিল করে দেন। জেলার সাবেক ডিসি-এডিসি এবং অধিগ্রহণ কর্মকর্তারা আইন-নীতিমালা লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণের তালিকা করে রেখেছিলেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে গড়ে ওঠা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প এখন দেশের রেলওয়ে যন্ত্রপাতি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। একসময় বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো, এমন প্রায় ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতির বড় একটি অংশ এখন তৈরি হচ্ছে স্থানীয় কারিগরদের হাতেই। অবসরপ্রাপ্ত রেলশ্রমিকদের দক্ষতা, দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায় এই খাত ধীরে ধীরে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, এক সময় রেলওয়ে কোচের ফ্যান, জানালা, রেলক্রসিংয়ের সিগন্যাল বাতিসহ প্রায় ১৬০ ধরনের পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এখন এসব যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে সৈয়দপুরে গড়ে ওঠা ওয়ার্কশপগুলোতে। পাশাপাশি স্থানীয় বেকারি, সাবান ফ্যাক্টরি, ইটভাটাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানেও এখানকার তৈরি মেশিন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশও এখন আর ভারত বা চীন থেকে আমদানি না করে স্থানীয় কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে। এসব কারখানায় কাজ করছেন রেলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা। তাদের হাতেই তৈরি হচ্ছে রেলকোচের ১৬০ প্রকারের যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে খড়কাটা মেশিনসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মেশিন ও যন্ত্রাংশও তৈরি করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ মেরামতের জন্য এতদিন জার্মানি থেকে আমদানি করা হতো স্ক্রু লিফটিং জ্যাক। যার দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। অথচ সৈয়দপুরে এটি তৈরি হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ টাকায়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে এখান থেকে পণ্যটি কেনা শুরু করেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পাশাপাশি চিলাহাটি, ঈশ্বরদী ও ঢাকার জন্যও এটি কেনা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সিলেটের জন্য একটি স্ক্রু লিফটিং জ্যাকের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইমার্জেন্সি ব্রেক ভালভ এখানে তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়, যা আমদানি করতে খরচ হতো ৪৫ হাজার টাকা। রেলওয়ে ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র সেন্ড বক্সও তৈরি হচ্ছে এখানে। রেললাইন পিচ্ছিল হলে বা উঁচু স্থানে উঠার সময় ব্রেক কাজ না করলে চাকায় শুকনা বালু স্প্রে করতে এই সেন্ড বক্স ব্যবহৃত হয়। এটি মাত্র ২৫ হাজার টাকায় তৈরি করছে সৈয়দপুরের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানাগুলো। সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন ওয়ার্কশপে প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন, যাদের বেশিরভাগই রেলের অবসরপ্রাপ্ত। তারা বিদেশি পণ্যের হুবহু তৈরি করছেন, যা মানের দিক থেকেও ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রফতানির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই শিল্প সরকারি কোনো উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পাচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের মতে, ব্যাংকঋণ ও সরকারি প্রণোদনা পেলে এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগামী দিনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খাত দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের কারিগর ও উদ্যোক্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হলে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারবে।’ পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দাবি জানান তিনি। জেলা সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, সৈয়দপুরের প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প খাতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে বিষয়টি এসেছে। তিনি এই শিল্পের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।