এশিয়ান গেমসে জাপানি প্রতিনিধি দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ইউকি কুরিহারা ই-স্পোর্টসে স্বর্ণপদক জয় করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পুয়ো পুয়ো চ্যাম্পিয়নস এর ফাইনালে ১১ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় দক্ষিণ কোরিয়ার কাং দং-শিনকে ১০-২ ব্যবধানে পরাজিত করে রেকর্ড করেছেন।
‘ইউকি’ ছদ্মনামে খেলা কুরিহারা গত বৃহস্পতিবার ‘গ্রুপ এ’-তে টানা চারটি ম্যাচ জিতে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। ‘পুয়ো পুয়ো চ্যাম্পিয়নস’ হলো একটি পাজল গেম, যেখানে খেলোয়াড়রা রঙিন ‘ব্লব’ বা গোলকগুলোকে সারিবদ্ধ করে ও ফাটিয়ে স্ক্রিন পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন।
পুরো সময়জুড়ে অবিচল থেকে কুরিয়হারা একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয়। সেমিফাইনালে এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাইল্যান্ডের তানারাক ওংকিটকুনকে (যিনি ২৮ বছর বয়সী এবং এ খেলায় তুলনামূলক অভিজ্ঞ) ১০-১ ব্যবধানে হারিয়ে অন্তত একটি রৌপ্যপদক নিশ্চিত করে।
ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার ২৪ বছর বয়সী কাং দং-শিনকে হারানোর পরেও তার মুখে হাসি ফোটেনি, যদিও ম্যাচের শুরুতে সে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তিনি। স্বর্ণপদক জয়ের পর এই খেলোয়াড় বলেন, সত্যি বলতে, আমার কিছুটা লজ্জা লাগছিল; তাই আমি খুব একটা আবেগ প্রকাশ করতে পারিনি বা মুখের ভাবও বদলাতে পারিনি।
পদক মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বর্ণপদক গ্রহণের সময় সে সামান্য মাথা নত করে অভিবাদন জানায় এবং গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ে। ইউকি কুরিহারা বলেন, আমি সত্যিই খুব খুশি। স্বর্ণপদকটি সত্যিই সুন্দর, চকচকে এবং বেশ ভারী। তাছাড়া, সাথে পাওয়া প্লাশ খেলনাটিও দারুণ সুন্দর; আর এটি যে সোনালি রঙের, সেটাও বেশ চমৎকার।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার প্রথম বছরেই কুরিয়হারা ‘পুয়ো পুয়ো’ খেলা শুরু করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে জয়লাভ করতে থাকে। চলতি বছরের এপ্রিলে ১১ বছর বয়সী ইউকি কুরিহারা পেশাদার খেলোয়াড়ের লাইসেন্স পায় এবং নিয়মিতভাবে প্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়দের পরাজিত করে।
গেমস শুরুর আগে সে বলেছিল, স্কুল এবং কোচিং ক্লাসের পাশাপাশি এর ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন, তবে এটি সত্যিই খুব উপভোগ্য। ১৯৫১ সালে শুরু হওয়া এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ পদকজয়ীদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা সর্বজনীন তালিকা নেই। তবে ২০১৮ সালে জাকার্তায় অনুষ্ঠিত গেমসে মাত্র ১২ বছর বয়সে ইন্দোনেশিয়ার বুঙ্গা নিয়মাস নারীদের স্কেটবোর্ডিং ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
এরপর ১৩ বছর বয়সী সুই চেনশি হ্যাংঝুতে নারীদের স্ট্রিট স্কেটবোর্ডিং ইভেন্টে জয়ী হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।টোকিও-র বাসিন্দা কুরিহারা গত ফেব্রুয়ারিতে ‘গিগাক্রিস্টা পুয়ো পুয়ো গ্র্যান্ড প্রিক্স’ জয় করেছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে ইসরায়েলের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় উয়েফা নেশনস লিগ ম্যাচটি যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে আয়ারল্যান্ড। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে এই ম্যাচটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ম্যানেজার হেইমির হালগ্রিমসন এবং একজন ফুটবলারের অংশগ্রহণে একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে স্থগিত করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের জানানো হয়, দলের অনুশীলন সেশনের পরেই এটি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় নির্ধারিত অনুশীলন সেশনের সময়ও পেরিয়ে যায়, অথচ দল তখনো হোটেলেই অবস্থান করছিল; এ বিষয়ে বিবৃতির আশায় সাংবাদিকরাও হোটেলের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। খেলোয়াড়রা তখন একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় নিশ্চিত না হওয়া কিছু খবরে জানা যায়, গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনুসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফলে ম্যাচটি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এরপর দুপুরে খেলোয়াড়রা বৈঠক কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। এরপর নিশ্চিত করা হয়, সংবাদ সম্মেলনটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জানানো হয়,নাগিয়েরদেই স্টেডিয়ামে অনুশীলন সেশনটি হবে। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অফ আয়ারল্যান্ড (এফএআই)-এর প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল জানান, খেলোয়াড়দের ভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে আয়ারল্যান্ডের মিডফিল্ডার জেসন নাইট সরাসরিই বলেছিলেন, ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচটি হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেছিলেন, ম্যাচটি অবশ্যই হওয়া উচিত নয়। কিন্তু এটি হচ্ছে। এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করে দল হিসেবে আমাদের মতামত ঠিক করব।
বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন মিচেল অলিসে। নতুন মৌসুমেও তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ক্লাব কর্তারা। তাই ফরাসি এই ফরোয়ার্ডকে আরও দীর্ঘ সময় দলে রাখতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জার্মান ক্লাবটি। অলিসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত। তবে এর মধ্যেই নতুন চুক্তির বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় বায়ার্ন। ক্লাবটির সুপারভাইজরি বোর্ডের সদস্য কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমকে রুমেনিগে জানান, অলিসের সঙ্গে এখনো তিন বছরের চুক্তি রয়েছে। তবে উপযুক্ত সময়ে তার সঙ্গে আলোচনা করে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অলিসের প্রশংসা করে তাকে নিজের পজিশনে ‘অসাধারণ’ খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেন। চলতি মৌসুমের শুরুতে অলিসের পারফরম্যান্সও বায়ার্নের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে তিনি করেছেন আট গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন চারটি গোল। অর্থাৎ মাত্র সাত ম্যাচেই সরাসরি ১২টি গোলে অবদান রেখেছেন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে বায়ার্নে যোগ দেন অলিসে। এরপর দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। এখন পর্যন্ত বাভারিয়ানদের হয়ে ১১৪ ম্যাচে তার গোল ৫০টি এবং অ্যাসিস্ট ৫৮টি। এই সময়ে দলটির হয়ে দুটি বুন্দেসলিগা, দুটি জার্মান সুপার কাপ ও একটি ডিএফবি-পোকাল শিরোপা জিতেছেন তিনি। অলিসেকে ঘিরে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আগ্রহের খবরও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে। তবে বায়ার্নের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অলিসেকে নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি ক্লাবটি। বায়ার্নের প্রধান নির্বাহী ইয়ান-ক্রিশ্চিয়ান ড্রেসেনও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক গ্রীষ্মকালীন দলবদলে অলিসেকে নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। এর আগে ক্লাবটির স্পোর্টিং বোর্ডের সদস্য ম্যাক্স এবরলও জানিয়েছিলেন, উপযুক্ত সময়ে অলিসের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা করা হবে। তার মতে, অলিসের বর্তমান চুক্তিতে কোনো রিলিজ ক্লজ নেই। আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ফরাসি তারকা নতুন চুক্তিতে আগ্রহী কি না, সেটিও বুঝতে চায় বায়ার্ন।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১০০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই অভিযোগ আনা হয়। এক স্বাধীন কমিশনের শুনানি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। এখন খবর আসছে, বেশিরভাগ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলাটি এখন আপিল পর্যায়ে যাচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা নয় বছর ধরে আর্থিক ন্যায্যতার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করারও অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে যখন প্রিমিয়ার লিগ সিটিকে অভিযুক্ত করে, তখন তাদের বিবৃতিতে ১১৫টি অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল। তবে ধারণা করা হয়, আসল সংখ্যা ১৩০টি। এই সময়ের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি তিনবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতে। যদিও ক্লাবটি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক ন্যায্যতার নিয়ম তৈরি করা হয়েছে, যাতে ক্লাবগুলো নিজেদের আয়ের মধ্যেই খরচ করে। আয় বাড়িয়ে দেখিয়ে বা খরচ লুকিয়ে এই নিয়ম এড়ানো সম্ভব। এভাবে একটা ক্লাব বেশি টাকা খরচ করে খেলোয়াড় কেনা বা বেতন দিতে পারে। প্রিমিয়ার লিগের দাবি, সিটি নয় মৌসুম ধরে সঠিক আর্থিক তথ্য না দিয়ে নিয়ম ভেঙেছে। অভিযোগগুলোর একটি হলো, সিটি চার বছর ধরে তাদের এক কোচকে দেওয়া অর্থের পুরো তথ্য জানায়নি। ধারণা করা হয়, একটা গোপন চুক্তি ছিল, যাতে ওই কোচকে আনুষ্ঠানিক হিসাবের চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া হতো। প্রিমিয়ার লিগ আরও বলছে, সিটি পাঁচ বছর ধরে উয়েফার আর্থিক ন্যায্যতার নিয়মও মানেনি। এই অভিযোগগুলো প্রথম প্রকাশ পায় ২০১৮ সালে জার্মানির ডার স্পিগেল পত্রিকার কিছু প্রতিবেদনে। এসব প্রতিবেদন তৈরি হয়েছিল পর্তুগিজ হ্যাকার রুই পিন্টোর সংগ্রহ করা ইমেইলের ভিত্তিতে। এই ইমেইলগুলো ফুটবল লিকস ওয়েবসাইটেও প্রকাশ পায়। এই খবরের পরই ২০১৯ সালে উয়েফা সিটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগও তদন্ত শুরু করে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উয়েফার আর্থিক ন্যায্যতার নিয়ম ভাঙার দায়ে সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের দুই বছরের ইউরোপিয়ান নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়। তবে পাঁচ মাস পর কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (ক্যাস) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং জরিমানা কমিয়ে ১০ মিলিয়ন ইউরো করে। ক্যাস জানায়, সিটি ‘উয়েফার তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্পষ্টভাবে অবহেলা করেছে’। তবে তারা সিটিকে ‘স্পনসরশিপ হিসেবে দেখিয়ে গোপন মূলধন লুকানোর’ অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। রায়ে বলা হয়, বেশিরভাগ অভিযোগ ‘হয় প্রমাণিত হয়নি, নয়তো সময়সীমা পার হয়ে গেছে’। কারণ উয়েফার নিয়মে মামলা করার জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা আছে। সিটি বলেছিল, ক্যাসের এই রায় ‘ক্লাবের অবস্থান এবং তারা যে প্রমাণ দিয়েছিল, তার সত্যতার প্রমাণ’। তবে প্রিমিয়ার লিগের ক্ষেত্রে অভিযোগ তদন্তের কোনো সময়সীমা নেই। এ কারণেই তারা ২০০৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গিয়ে অভিযোগ এনেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন প্রিমিয়ার লিগ সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, তখন ক্লাবটি জানায়, তারা এই ঘটনায় ‘বিস্মিত’। তারা আরও বলে, তাদের অবস্থানের পক্ষে ‘অকাট্য প্রমাণের একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ’ আছে। প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে সিটির এই মামলার শুনানি ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ডিসপিউট রেজোলিউশন সেন্টারে তিন সদস্যের একটি স্বাধীন কমিশনের সামনে ১২ সপ্তাহ ধরে এই শুনানি হয়। শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় আসতে কয়েক মাস সময় লাগবে বলে আগে থেকেই ধারণা করা হয়েছিল। কারণ অভিযোগের সংখ্যা অনেক এবং পর্যালোচনার জন্য তথ্যের পরিমাণও অনেক বেশি।