পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি দুই দিনের সফরে আজ (শুক্রবার) ঢাকা আসছেন। নির্বাচনের পর দেশটির কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শুক্রবার (৮ মে) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪২ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সফর শেষে তিনি ৯ মে রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিজি-৩৪১ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ৫ মে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক নোট ভারবালে পাকিস্তান হাইকমিশন মন্ত্রীর নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক প্রটোকল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।
পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রীরও এই সফরে আসার কথা রয়েছে। এই দম্পতিকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য উপহার হিসেবে দেশীয় তাঁতের শাড়ি ও পাঞ্জাবি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই সফরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে মহসিন নাকভির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মাদক চোরাচালান রোধ এবং সন্ত্রাস দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সাইবার নিরাপত্তা এবং ক্রিকেটে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে বলে জানা গেছে
সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সন্ত্রাস দমন ও মাদকবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবেন। এরপর দুই দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল একই হোটেলে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। পরবর্তীতে মহসিন রেজা নাকভি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে দুই দেশের ক্রিকেটের আন্তঃসহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
'বাংলাদেশ গত এক দশকে জঙ্গিবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানেরও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যদি বাস্তবভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান, সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং এবং আর্থিক গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ে, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে'- নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত আন্তর্দেশীয় মাদক চোরাচালান চক্র, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, সাইবারভিত্তিক উগ্রবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন। বিশেষ করে আফগানিস্তান-পাকিস্তান হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া মাদক রুট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়াবা, হেরোইন, আইসসহ বিভিন্ন মাদকের নতুন রুট ও নেটওয়ার্কের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সন্দেহভাজন অপরাধীদের তথ্য আদান-প্রদান, পাচার রুট শনাক্তকরণ এবং যৌথ নজরদারি ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে এবং এই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু মাদক নয়, অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদী প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক পরিচালনা, অর্থপাচার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ শনাক্ত করাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রিক্রুটমেন্ট, অর্থ সংগ্রহ ও যোগাযোগের বিষয়গুলো এখন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া মানবপাচার, ভুয়া পাসপোর্ট ও ট্রাভেল ডকুমেন্ট ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের চলাচল ও দমনে যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থাও আলোচনায় আসতে পারে।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় মাদক ও সন্ত্রাসবাদ আর শুধু কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এটি এখন আন্তর্দেশীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মাদক পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন, অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ এখন একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব মোকাবিলায় শুধু সীমান্ত পাহারা দিয়ে হবে না, প্রয়োজন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ।’
কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশকে জঙ্গিবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানেরও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যদি বাস্তবভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান, সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং এবং আর্থিক গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ে, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি দুই দিনের সফরে আজ ঢাকা আসছেন। পাকিস্তান হাইকমিশন তার নিরাপত্তা ও প্রটোকলের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে
তিনি মনে করেন, এই সমঝোতা শুধু আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন কাঠামো কার্যকর করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, নিয়মিত তথ্য বিনিময় এবং ফলোআপ মেকানিজম নিশ্চিত করতে পারলে এই উদ্যোগ কার্যকর ফল দিতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই বৈঠকে পুলিশ প্রশিক্ষণে দুই দেশের পুলিশ একাডেমির পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসা, রোহিঙ্গা ইস্যু, সাইবার ক্রাইম দমন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি টানা নয় দিনের জন্য পাকিস্তান সফর করেন। ওই সফরে কূটনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা সহজীকরণ, সরকারি সফর সহজতর করা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিনিময় বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবে বলে সোমবার (২২ জুন) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে। মোতায়েনকৃত জেলাগুলো হলো—ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর। এদিকে আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্র জানায়, দিনটিকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে ২০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হবে। মহানগরের সব প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রমও আরও কঠোর করা হবে। পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট—ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) এবং সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম)—সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থাকবে। এছাড়া সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আইএডি) গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ থাকবে। সব মিলিয়ে ডিএমপির ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক কেন্দ্র পুত্রজায়ায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। পরে দুই নেতা একান্ত আলোচনায় অংশ নেন। একান্ত বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল নিয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, জনশক্তি রপ্তানি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা। এ উপলক্ষে মালয়েশিয়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় মালয় ও বাংলা ভাষার গানসহ একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে।
নিজের জন্য না ভেবে দেশের কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রাখতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সামনে একটি অত্যন্ত সুন্দর এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তবে এখানে একটি বিরাট তবে আছে। তবে হচ্ছে যে, আমাদেরকে এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’ রবিবার (২১ জুন) মালয়েশিয়ায় পৌঁছে রাত ৯টায় হোটেল ‘শাংগ্রি লাতে’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে গত দেড় দশকে দেশের অবস্থা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে নিতে নিতে একদম শেষ করে দিয়েছে। একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। তখন আমাদের কিছু করার ছিল না। দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে হটিয়েছে।’ দেশ গঠনে বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিগুলো নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এগুলো বাস্তবায়নের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কুয়ালালামপুর থেকে রাস্তাগুলো অনেক পরিষ্কার লেগেছে। এ কাজটি কিন্তু আমার দেশের ভাইরাই করছেন। তাই দেশের ব্যাপারেও নিজেদের আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে হবে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনারা যদি বিদেশে এতো কষ্ট করতে পারেন, তাহলে দেশে করতে অসুবিধা কোথায়?’ সভা শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএনপি মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। পরে নিজ নিজ দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন দুই নেতা।