জাতীয়

ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আলোচনায় মাদক ও সন্ত্রাস দমন

মারিয়া রহমান মে ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি দুই দিনের সফরে আজ (শুক্রবার) ঢাকা আসছেন। নির্বাচনের পর দেশটির কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। 

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শুক্রবার (৮ মে) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪২ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সফর শেষে তিনি ৯ মে রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিজি-৩৪১ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ৫ মে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক নোট ভারবালে পাকিস্তান হাইকমিশন মন্ত্রীর নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক প্রটোকল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।

পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রীরও এই সফরে আসার কথা রয়েছে। এই দম্পতিকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য উপহার হিসেবে দেশীয় তাঁতের শাড়ি ও পাঞ্জাবি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই সফরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে মহসিন নাকভির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মাদক চোরাচালান রোধ এবং সন্ত্রাস দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সাইবার নিরাপত্তা এবং ক্রিকেটে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে বলে জানা গেছে

সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সন্ত্রাস দমন ও মাদকবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবেন। এরপর দুই দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল একই হোটেলে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। পরবর্তীতে মহসিন রেজা নাকভি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে দুই দেশের ক্রিকেটের আন্তঃসহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

'বাংলাদেশ গত এক দশকে জঙ্গিবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানেরও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যদি বাস্তবভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান, সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং এবং আর্থিক গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ে, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে'- নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত আন্তর্দেশীয় মাদক চোরাচালান চক্র, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, সাইবারভিত্তিক উগ্রবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন। বিশেষ করে আফগানিস্তান-পাকিস্তান হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া মাদক রুট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়াবা, হেরোইন, আইসসহ বিভিন্ন মাদকের নতুন রুট ও নেটওয়ার্কের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সন্দেহভাজন অপরাধীদের তথ্য আদান-প্রদান, পাচার রুট শনাক্তকরণ এবং যৌথ নজরদারি ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে এবং এই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু মাদক নয়, অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদী প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক পরিচালনা, অর্থপাচার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ শনাক্ত করাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রিক্রুটমেন্ট, অর্থ সংগ্রহ ও যোগাযোগের বিষয়গুলো এখন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া মানবপাচার, ভুয়া পাসপোর্ট ও ট্রাভেল ডকুমেন্ট ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের চলাচল ও দমনে যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থাও আলোচনায় আসতে পারে।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় মাদক ও সন্ত্রাসবাদ আর শুধু কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এটি এখন আন্তর্দেশীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।


তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মাদক পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন, অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ এখন একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব মোকাবিলায় শুধু সীমান্ত পাহারা দিয়ে হবে না, প্রয়োজন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ।’


কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশকে জঙ্গিবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানেরও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যদি বাস্তবভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান, সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং এবং আর্থিক গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ে, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি দুই দিনের সফরে আজ ঢাকা আসছেন। পাকিস্তান হাইকমিশন তার নিরাপত্তা ও প্রটোকলের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে
তিনি মনে করেন, এই সমঝোতা শুধু আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন কাঠামো কার্যকর করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, নিয়মিত তথ্য বিনিময় এবং ফলোআপ মেকানিজম নিশ্চিত করতে পারলে এই উদ্যোগ কার্যকর ফল দিতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই বৈঠকে পুলিশ প্রশিক্ষণে দুই দেশের পুলিশ একাডেমির পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসা, রোহিঙ্গা ইস্যু, সাইবার ক্রাইম দমন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি টানা নয় দিনের জন্য পাকিস্তান সফর করেন। ওই সফরে কূটনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা সহজীকরণ, সরকারি সফর সহজতর করা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিনিময় বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছিল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চোখে আগের চেয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জন্য ভ্রমণ পরামর্শ হালনাগাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) বাংলাদেশকে ভ্রমণ পরামর্শের লেভেল ৩ (ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন) থেকে লেভেল ২ (অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন) এ নামিয়ে এনেছে। এর অর্থ হচ্ছে, যুক্তরা‌ষ্ট্রের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ আগের চেয়ে নিরাপদ মনে করছে দেশ‌টি। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এ হালনাগাদ ভ্রমণ পরামর্শ প্রকাশ করা হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় এখনো অতিরিক্ত বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে এবং সেসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিন ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠকের পর এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়। বৈঠকের পরপরই সার্জিও গোর একটি খুদে বার্তায় মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সার্জিও গর জানান, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘দারুণ খবর’ জানিয়েছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির জন্য সামগ্রিক ভ্রমণ পরামর্শ লেভেল ৩ থেকে লেভেল ২ এ নামিয়েছে। তবে কয়েকটি এলাকায় এখনো অতিরিক্ত সতর্কতা ও বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আস্থার প্রতিফলন। সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। সরকার আরও মনে করে, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নগর উন্নয়ন আইনে পরিবর্তনে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিন মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চীন-ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার যৌথ অঙ্গীকার

ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়া-কানাডায় চাকরির নামে প্রতারণা: ভুয়া ওয়েবসাইটসহ ডিবি’র হাতে গ্রেপ্তার ২

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, সাতটি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড ও নয়টি বাংলাদেশি ভুয়া পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।   গ্রেপ্তাররা হলেন মারিফুল ইসলাম (২১) এবং বাচ্চা বাউ ওরফে হাসিনুর (২৮)।   ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।     ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এডিসি মো. ওয়ালিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।   পরে বিদেশে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে মেডিক্যাল ফি, ভিসা প্রসেসিং, ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, টিকিটসহ বিভিন্ন খাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করতেন।   তিনি জানান, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তারা ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা অ্যাপ্রুভাল লেটার এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ভুয়া এলএমআইএ (লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) ও ভিসা ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট ব্যবহার করতেন। ওই ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট নম্বর দিলে ভিসা অনুমোদনের ভুয়া বার্তা দেখানো হতো, ফলে অনেক ভুক্তভোগী সহজেই প্রতারণার শিকার হন।     মামলার বাদী অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির আশায় অভিযুক্তদের বিশ্বাস করে বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল, ভিসা প্রসেসিং ও ডকুমেন্ট চার্জ বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।     পরে আরো অর্থ দাবি করা হলে এবং বিদেশে পাঠানোর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্তে ডিবি জানতে পেরেছে, চক্রটি অন্তত ৭২ জনের বেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছে। জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে ভুক্তভোগীদের তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের আলামত এবং ভুয়া ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি পাওয়া গেছে।     ডিবি জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে আরো কয়েকজন সদস্য জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।     গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।   বিদেশে চাকরির আবেদন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। ডিবি বলছে, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে অর্থ লেনদেন করবেন না। ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট বা অন্যান্য কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট বা দূতাবাসের মাধ্যমে যাচাই করুন। প্রতারণার শিকার হলে বা এ ধরনের তথ্য জানলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এনআইডি সংশোধন ও হারানো কার্ডে নতুন ফি নির্ধারণ ইসির

প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

আগস্টের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর তাগিদ, বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষাশিক্ষা ও মূল্যায়ন সেবা সম্প্রসারণে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং এডুক্যান ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি ভাষা মূল্যায়ন সেবার পরিধি সম্প্রসারণে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং এডুক্যান ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। দেশের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।   চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস; ব্রিটিশ কাউন্সিল সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জুনায়েদ আহমেদ; এডুক্যান ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহিন রেজা; এবং এডুক্যান ইন্টারন্যাশনালের ভারপ্রাপ্ত সিওও ফারজানা মাহতাব।   চুক্তির আওতায় ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং এডুক্যান ইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Primary English Test, Secondary English Test, Aptis এবং EnglishScore পরীক্ষা পরিচালনা ও সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করবে।   এই আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন বয়সী পরীক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক মান অনুযায়ী তাদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই ও উন্নয়নের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিশ্বমানের ইংরেজি ভাষা মূল্যায়ন সেবা আরো প্রসারিত হবে যা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   এডুক্যান ইন্টারন্যাশনাল সম্পর্কে: এডুক্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতে একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান, যা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মূল্যায়ন সেবায় বিশেষভাবে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের কে-১২ স্কুল, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য মানসম্মত সমাধান ও সেবা প্রদান করে আসছে।   ব্রিটিশ কাউন্সিল সম্পর্কে: বিশ্বজুড়েই সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও শিক্ষার সুযোগ নিয়ে কাজ করে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্রিটিশ কাউন্সিল। শিল্প, সংস্কৃতি, ইংরেজি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যুক্তরাজ্যের জনগণের সাথে অন্যান্য দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ, বোঝাপড়া ও আস্থা স্থাপনে কাজ করি। অনলাইনে, ব্রডকাস্ট ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে ২০২৪ সাল অব্দি আমরা সরাসরি ৮০ মিলিয়ন এবং সর্বোপরি ৭শ' ৯১ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছেছি। ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ কাউন্সিল রয়‍্যাল চার্টার ইউকে পাবলিক বডি দ্বারা পরিচালিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা। আমরা ১৫ শতাংশ অনুদান সহায়তা পাই যুক্তরাজ্য সরকার থেকে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি আমদানি করবে সরকার, ব্যয় প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

0 Comments