সারাদেশ

স্বচ্ছতার অনন্য নজির: গাবতলীতে খাল খননের উদ্বৃত্ত টাকা কোষাগারে ফেরত

মারিয়া রহমান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন উদ্বৃত্ত এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক বিরল ও ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

বৃহস্পতিবার বিকালে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

গাবতলী উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার নেপালতলী, নশিপুর, সোনারায় ও দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬শ মিটার দীর্ঘ চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়- চার কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

 

 

গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

 

 

গত ২০ এপ্রিল বাগবাড়ি-নশিপুর চৌকিরদহ খালের পুনঃখননের কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অন্য তিনটি খালের কাজও শুরু এবং ২৯ জুন পুনঃখননের কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দখলমুক্তকরণ, সরকারি নকশা অনুযায়ী খনন, দুই পাড় বাঁধাই, নিচু জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপন, চলাচলের সুবিধার্থে কালভার্ট নির্মাণ এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

 

 

স্থানীয় জনগণ আশা করেন, খালগুলো পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। এছাড়া কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে আসবে।

 

 

গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহণ ব্যয় ও অন্যান্য বৈধ বিল পরিশোধ করে প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ফলে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে সরকারি বিধি অনুসারে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

 

 

পিআইও মফিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিন হাজার ৬শ মিটার খাল নয় ফুট গভীর এবং ৩০ থেকে ৩৫ ফুট প্রস্থে পুনঃখনন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা পাড় মেরামতের প্রয়োজন হলেও নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ শেষ করা হয়েছে। খালের দুই পাশেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।

 

 

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন প্রকল্প পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

 

গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সব বৈধ ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 

 

তিনি আরও জানান, খালের কয়েকটি স্থানে প্রস্থ প্রাক্কলনের তুলনায় কম হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ও কম হয়েছে। ফলে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। সেই অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
উৎপাদন খরচও উঠছে না ধান বিক্রিতে, লোকসানের শঙ্কায় সাতক্ষীরার কৃষক

সারা বছরের শ্রম ও বিনিয়োগের পর আমন ধান ঘরে তুলছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। শ্রমিকের মজুরি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি খরচ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।   সাতক্ষীরার মাঠে এখন আমন ধান কাটার মৌসুম। কোথাও পাকা ধান কাটছেন কৃষক, আবার কোথাও চলছে মাড়াই ও ফসল ঘরে তোলার কাজ। তবে সোনালি ধান ঘরে তুলেও হাসি নেই চাষিদের মুখে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় এবার লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।   কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা। বিপরীতে এক বিঘা জমিতে গড়ে ১০ থেকে ১২ বস্তা ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ৬০ কেজির প্রতি বস্তা ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। সে হিসাবে এক বিঘার ধান বিক্রি করে সর্বোচ্চ আয় হচ্ছে ২১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে খড় বিক্রির অর্থ বাদ দিলে অনেক কৃষকের উৎপাদন খরচও উঠছে না।   সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নারানজোল গ্রামের কৃষক আজারুল ইসলাম জানান, এবার প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে তার প্রায় ২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত ধান বিক্রি করে সেই অর্থ ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।   ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারা বছর পরিশ্রম করে চাষাবাদ করেও যদি উৎপাদন খরচ তোলা না যায়, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে হবে।   ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিও কৃষকদের ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষক পলাশ হোসেন বলেন, এক বিঘা জমির ধান কাটা ও বেঁধে দিতে প্রায় ৩ হাজার টাকা শ্রমিক খরচ হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার কাজে একজন শ্রমিককে ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। বিকেলের একই সময়ের কাজের জন্য দিতে হচ্ছে ৩০০ টাকা।   তিনি আরও জানান, একজন পুরুষ শ্রমিকের সকাল-বিকেল মিলিয়ে আট ঘণ্টা কাজের মজুরি ৮০০ টাকা। অন্যদিকে একজন নারী শ্রমিকের সাত ঘণ্টার কাজের জন্য দিতে হচ্ছে ৭০০ টাকা। এতে ধান ঘরে তোলার ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে।   কলারোয়া উপজেলার কৃষক আতাউর রহমান বলেন, গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হলেও ধানের দাম বেড়েছে মাত্র ১০০ টাকা। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। ফসল কাটার পর ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে কম দামেই ধান বিক্রি করতে হয় তাদের।   ঝাউডাঙ্গা ধানবাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক রিপন হোসেন জানান, তিনি ৬০ কেজির এক বস্তা ধান ১ হাজার ৬৩০ টাকায় বিক্রি করেছেন। একই সঙ্গে সার সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, ডিলারের কাছে সার কিনতে গেলে অনেক সময় সার পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকদের সুবিধার্থে সরকারকে সার সরবরাহের বিষয়ে আরও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   এদিকে ধানের চাহিদা কম থাকায় বাজারে দাম বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী অশিষ ঘোষ বলেন, বাজারে ধান ও চালের বিক্রি কম। বর্তমানে প্রতি বস্তা ধান ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাতালে ধানের চাহিদা কম এবং ব্যবসায়ীদের গুদামেও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ কারণে নতুন করে ধান কেনার আগ্রহ কমেছে।   ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। তাদের মতে, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।   সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯৯ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি। অনুকূল বৃষ্টিপাতের কারণে এবার কৃষকদের সেচ ব্যয় কিছুটা কমেছে। তবে প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা।   তিনি জানান, এবার প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪ দশমিক ৪৭ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সে হিসাবে জেলায় মোট প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার টন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।   কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় প্রতি কেজি ধান অন্তত ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে তারা লাভবান হতে পারবেন। এর কম দামে বিক্রি করলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ধানের পাশাপাশি খড় বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   সব মিলিয়ে আমন ধান কাটার মৌসুমে সাতক্ষীরার কৃষকদের প্রধান উদ্বেগ এখন উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের ব্যবধান। শ্রমিকের মজুরি, সারসহ কৃষি উপকরণের ব্যয় এবং ধানের কম দাম মিলিয়ে সারা বছরের পরিশ্রমের পরও আর্থিক অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সড়ক নির্মাণ দ্রুত শেষের দাবিতে দিনাজপুরে মন্ত্রীর গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে ৫৯ বিজিবির পৃথক অভিযানে ৩৭০ বোতল ইস্কাফ সিরাপ হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

৬৫ বছর বয়সী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাজমার পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা

ছবি: সংগৃহীত
দেবিদ্বারে নাশকতা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইমন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নাশকতার মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়।   পুলিশ জানায়, দেবিদ্বারের বেস্টফুড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশের একটি দল ইমনকে গ্রেপ্তার করে।   ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্টের অভিযোগ   পুলিশের দাবি, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট ফেসবুকে প্রচার এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে ইমনের বিরুদ্ধে।   দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ভূইয়া জানান, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইমন   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি বাইরে ছিলেন। ওসি জানান, গ্রেপ্তার ইমনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।  

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬

‘বড় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হলাম’, রাকসু ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন আম্মার

ছবি: সংগৃহীত

কসবায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীতে জেলা ট্রাফিক অফিসের উদ্বোধন

সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা রিসোর্ট পরিদর্শন করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
সুন্দরবন সংলগ্ন রিসোর্ট পরিদর্শনে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা রিসোর্টে বনের প্রাণ-প্রকৃতির কোনো ক্ষতি হচ্ছে কিনা, তা যাচাইয়ে রিসোর্টগুলো পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।   বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের আওতায় বন ঘেঁষে গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্ট পরিদর্শন করেন।   এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর (খুলনা) ও বন বিভাগের (বাগেরহাট/মোংলা) কর্মকর্তারা।   পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মিডিয়াতে দেখেছি, বন বিভাগের ইসিএর ভেতরে অবৈধভাবে রিসোর্ট করা হয়েছে। এখানে অবৈধ কর্মকাণ্ড হচ্ছে কিনা, এছাড়া সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে কিনা এসব দেখতে এসেছি। শব্দদূষণ, হরিণ শিকারসহ ক্ষতির কোনো দিক এবং অবৈধ কিছু ধরা পড়লে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।   তিনি আরও বলেন, রিসোর্টগুলোতে সোলার এনার্জি করার সুযোগ আছে। জেনারেটর চালানো যাবে না, শব্দদূষণ করা যাবে না। যদিও এগুলো পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে হয়েছে। এটার বৈধতা যাচাই করতেই আমার আসা। বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কাজ। কেউ নিরাপত্তা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে বাকিদের সতর্ক করা হবে।   রিসোর্ট ঘুরে আপাতত ক্ষতির কোনো দিক চোখে পড়েনি জানিয়ে তিনি বলেন, ফিরে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর এ পরিদর্শন।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে উচ্ছেদ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের হেনস্তা, মারধরের চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

পিএসসি সংস্কার ও নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে ঢাবিতে শিবিরের ১৩ প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১১ বেদে পরিবারের ঘর পুড়ে ছাই

0 Comments