সারাদেশ

স্টেশনে ট্রেন রেখে চালক উধাও, ফিরলেন এক ঘণ্টা পর

মারিয়া রহমান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (আপ) ট্রেন দাঁড় করিয়ে চালক এক ঘণ্টারও বেশি সময় অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পরে ১ ঘণ্টা ৭ মিনিট পর চালক ফিরলে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস বিকেল ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছায়। নির্ধারিত দুই মিনিট বিরতির পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও ট্রেনটি আর ছেড়ে যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, চালক ইঞ্জিনে নেই এবং ইঞ্জিনের দরজাও বন্ধ।

 

 

প্রায় ১ ঘণ্টা ৭ মিনিট পর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চালক মাহবুবুর রহমান ফিরে এসে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। এ সময় দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশনে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারীরা সাময়িকভাবে সরে যান।

 

 

ট্রেনের যাত্রী বাপ্পি নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি শুক্রবার রাজশাহীতে বিএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। খুলনা থেকে এই ট্রেনে উঠেছি। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

 

 

চালক মাহবুবুর রহমান ফিরে এলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি কোথায় ছিলেন বা কেন ট্রেন রেখে চলে গিয়েছিলেন—এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই ট্রেন চালু করেন।

 

 

সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, খুলনা থেকে ট্রেনটি যথাসময়ে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। স্টেশন থেকে ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার পরও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালক ইঞ্জিন ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তিনি কী কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, তা তিনি জানেন না।

 

 

মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী বলেন, সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে স্টেশনে আসে। নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিট পর ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলেও ট্রেন ছাড়েনি। পরে দেখা যায় চালক ইঞ্জিনে নেই। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় পর তিনি ফিরে এসে ট্রেনটি নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

 

 

এদিকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেনও পোড়াদহ জংশনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেখানেও চালক কিছু সময় অনুপস্থিত থাকার পর ট্রেনটি পুনরায় চলাচল শুরু করে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
স্বচ্ছতার অনন্য নজির: গাবতলীতে খাল খননের উদ্বৃত্ত টাকা কোষাগারে ফেরত

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন উদ্বৃত্ত এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক বিরল ও ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।     বৃহস্পতিবার বিকালে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।     গাবতলী উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার নেপালতলী, নশিপুর, সোনারায় ও দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬শ মিটার দীর্ঘ চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়- চার কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।     গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।     গত ২০ এপ্রিল বাগবাড়ি-নশিপুর চৌকিরদহ খালের পুনঃখননের কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অন্য তিনটি খালের কাজও শুরু এবং ২৯ জুন পুনঃখননের কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দখলমুক্তকরণ, সরকারি নকশা অনুযায়ী খনন, দুই পাড় বাঁধাই, নিচু জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপন, চলাচলের সুবিধার্থে কালভার্ট নির্মাণ এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।     স্থানীয় জনগণ আশা করেন, খালগুলো পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। এছাড়া কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে আসবে।     গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহণ ব্যয় ও অন্যান্য বৈধ বিল পরিশোধ করে প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ফলে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে সরকারি বিধি অনুসারে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।     পিআইও মফিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিন হাজার ৬শ মিটার খাল নয় ফুট গভীর এবং ৩০ থেকে ৩৫ ফুট প্রস্থে পুনঃখনন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা পাড় মেরামতের প্রয়োজন হলেও নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ শেষ করা হয়েছে। খালের দুই পাশেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।     বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন প্রকল্প পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।     গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সব বৈধ ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।     তিনি আরও জানান, খালের কয়েকটি স্থানে প্রস্থ প্রাক্কলনের তুলনায় কম হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ও কম হয়েছে। ফলে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। সেই অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।  

মারিয়া রহমান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্টেশনে ট্রেন রেখে চালক উধাও, ফিরলেন এক ঘণ্টা পর

হত্যার শিকার সোহাগ মুন্সী। ফাইল ছবি

৬০ লাখ টাকা নিয়েও মেলেনি মুক্তি, বাকি ২৭ লাখ না পেয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভা: গবেষণায় সিবিআরটি গঠনের অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শ্রমিকদের অবরোধ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৭ দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা।    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে মহাসড়কের নোয়াপাড়া রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।    এর আগে সকাল ৯টা থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় একাধিকবার ফ্যাক্টরির মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে শ্রমিকরা। ইট পাটকেল মেরে ফ্যাক্টরির কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। তবে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে তারা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। টানা ৩ ঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থানের পর আড়াইটার দিকে ইউএনওর আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা।   আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানায়, ৭ দফা দাবিতে ২০২৪ সালে শ্রমিকরা আন্দোলন করলে কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেয়। তারা আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দিলেও দাবিগুলোর অধিকাংশই মানা হয়নি।    এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই সোমবার কাজ বন্ধ করে বেতন ভাতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করাসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকরা।   ফ্যাক্টরির মালিক গোলাম মোস্তফা বলেন, ২০২৪ সালে শ্রমিকদের অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত সোমবার থেকে তারা আবার আন্দোলন শুরু করে। শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি ও বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে দাবি মানার আশ্বাসে শ্রমিক প্রতিনিধিরা মিটিং ত্যাগ করে এবং কাজে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শ্রমিকদের ছোট্ট একটা অংশ আবারও বিশৃঙ্খলা শুরু করে।    তিনি বলেন, বর্তমানে বেতন বাড়ানোর দাবি মানা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে আমি ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেব।   চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, বিভিন্ন দাবিতে জেএমআই ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আশ্বস্ত করলে মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেয়। শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

ঢাকায় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য আটক

ছবি: সংগৃহীত

শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

ছবি: সংগৃহীত
পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ: শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল

শাড়ি পরে গানের তালে হাঁটার ভিডিও নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর পাশে থেকে সমর্থন দেওয়ায় দেশবাসী, পরিবার এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।   ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ফেইসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখার পর তিনি প্রথমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে পরিবার ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা তাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।   সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল একটি গানের সঙ্গে মিলিয়ে রিল ভিডিও পোস্ট করেন।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেখা যায়, তিনি শাড়ি পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত ছিল নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ডিফারেন্ট টাচের’ মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের একটি অংশ—‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিউটি রানী পালকে নিয়ে সমালোচনা ও ট্রলের ঝড় ওঠে।   তবে এর প্রতিবাদে অনেক নারী এগিয়ে এসে বিউটি রাণীর পক্ষে সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে একই ধরনের ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিউটি রাণীর পক্ষে পোস্ট দিয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন অনেকে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেইসবুক ভিডিও বার্তায় বিউটি রাণী পাল বলেন, “দেশবাসী সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ আসলে। তারা আমার প্রতি যে অসীম ভালোবাসা দেখিয়েছে... এক-দুজন মানুষ সব সমাজেই থাকে। আমি সবার প্রতি আসলেই কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে, আমার এক সাংবাদিক ভাই আমাকে ভাইরাল করেছিল, কিন্তু বাকি সাংবাদিক ভাইয়েরা যে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি আসলেই সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।   “আমাদের মন্ত্রী মহোদয়, প্রধানমন্ত্রী-সবার প্রতি আমি আসলেই কৃতজ্ঞ। কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক এবং সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষ—আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”   এদিকে একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন আসিফ ইকবাল ইরন নামে এক প্রবাসী তরুণ। ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।   ওই পেইজটিতে ‘ফেঞ্চুগঞ্জে স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রধান শিক্ষিকার টিকটক নাচ! অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ’ শিরোনামে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শিক্ষিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে 'অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি' করেছেন—যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কটু মন্তব্য ও ট্রল শুরু হয়।   সমালোচনার জবাবে এর আগে শিক্ষিকা বিউটি রাণী সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মন-মানসিকতা যদি ডিজিটাল, স্মার্ট ও উন্নত করতে না পারি, তাহলে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না। আমাদের সব দিক থেকেই সমানতালে এগিয়ে যেতে হবে।”   এই ঘটনায় প্রবাসী ওই তরুণসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল। তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।   বিউটি পালের ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি ঘটনাটিকে কোনো অন্যায় বা অপরাধ হিসেবে দেখছেন না।   ফেইসবুকে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও পরিবারের সদস্যরা শুরু থেকে তার পাশে ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিউটি রাণী পাল।   তিনি বলেন, “আমি প্রথমেই অনলাইনে ভিডিওটা দেখে নিজেই আপসেট হয়ে গেছি। আমার পরিবারের যে পাঁচজন—আমার আরো বোন আছে, ওরাও শিক্ষক—ওরাও আমাকে বলছিল, তুমি থানায় জিডি করো। তুমি কেন বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছ? তুমি রাইট পয়েন্টে আছো, তুমি কোনো ভুল করো নাই। আমরা তোমাকে জানি।   জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ আয়োজনে সিলেট জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিউটি রানী পাল।   তার ফেইসবুক আইডিতে বিদ্যালয়ে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা করানো, নাচ-গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্ন ও পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু শেখানো, শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ এবং গাছের চারা বিতরণের বিভিন্ন ভিডিও দেখা যায়।   বিউট রাণী বলেন, “আমার পরিবারের সকল বোন, ভাই-বোন প্লাস আমার স্বামী আমাকে যে পরিমাণ সাপোর্ট করছে... বিশেষ করে আমার ছোট মেয়েটা সবসময় আমাকে বলে, 'মা, তুমি রাইট। সবসময় তুমি রাইট। আমি তোমাকে অনুসরণ করি, আমি তোমার মতো হতে চাই। তো আমি আসলে ওই জায়গা থেকে, আমার পরিবার থেকে কোনো ধরনের অসহযোগিতা পাই নাই। উনারা আমারে সবসময় সাপোর্ট করেছেন, এখনো সাপোর্ট করতেছেন।   আমি কম্পিউটারের বিষয়ে অত বেশি পারদর্শীনা, কিন্তু আমি কোন ধরনের অ্যানালিটিকস ব্যবহার করলে বা কোথায় কী ভুল করছি, সে বিষয়ে তারা বারবার আমাকে নক করে সাহায্য করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছোট খাবারের দোকানও আসবে নিবন্ধনের আওতায়, কার্যকর হবে কীভাবে?

সংগৃহীত ছবি

ভারত থেকে আনা নিম্নমানের চালের খালাসে ব্রেক

ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটে মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0 Comments