বিশ্ব

মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী নন, বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল

মারিয়া রহমান মে ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এর মাধ্যমে রাজ্যে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটলো। ফলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে পদত্যাগ না করার বিষয়ে অনড় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারালেন।

ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ (২)(বি) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারি নোটিশে আর এন রবি জানিয়েছেন, আমি এতদ্বারা ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।


নির্বাচনে বিজেপির জয়কে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে কয়েক দিন ধরেই পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, ইভিএম কারচুপি এবং ভোট লুটের মাধ্যমে বিজেপি এই জয় পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্তত ১০০টি আসনে ভোট লুট করা হয়েছে, যেখানে তাদের প্রার্থীরা গণনার শুরু থেকে এগিয়ে ছিলেন।


ভারত সরকারের সাবেক সচিব জহর সরকার জানিয়েছেন, গতকালই রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত রাজ্যপাল অন্তর্বর্তীকালীনভাবে রাজ্যের দায়িত্ব সামলাবেন।

এদিকে বিজেপি এখনও তাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। শুক্রবার দুপুর ২টায় দলটির নবনির্বাচিত বিধায়করা বৈঠকে বসে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন।

ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে উত্তেজনা ও নাটকীয়তা চলছে। শান্তি বজায় রাখতে প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বিভিন্ন জেলায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্যম গ্রামে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে।

কী এই ১৭৪ (২)(বি) অনুচ্ছেদ?

ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ক্লজ অনুযায়ী রাজ্যপালকে বিধানসভা বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর উপধারা (এ) অনুযায়ী রাজ্যপাল বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত করতে পারেন এবং উপধারা (বি) অনুযায়ী তিনি পুরো বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ারে থাকা অসাংবিধানিক। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি কোনও সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

কিমের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করতে চান ট্রাম্প, মিলবেন বৈঠকে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৯ আগস্ট) বলেছেন, তিনি এ বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।   প্রথম মেয়াদে পরমাণু শক্তিধর দেশটির নেতার সঙ্গে গড়ে তোলা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক রাখা’ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে এখন ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।   তবে, কিমকে নিয়ে ট্রাম্পের হঠাৎ আগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত এশিয়ার মিত্রদের উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে একটি সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।   হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি করব।’   ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দেন ট্রাম্প। ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা ঠেকানোর কারণেই তিনি এ যুদ্ধ চালাচ্ছেন বলে দাবি করে আসছেন।   কিমের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তার কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কখনোই এমনটা হতে দেয়া উচিত ছিল না। আমি প্রেসিডেন্ট হলে তা হতে দিতাম না।’   তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তার কাছে এগুলো আছে। তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। আমি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারি না। আর আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি এবং সে ভালোই থাকবে।’   ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নভেম্বরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের শেনঝেনে যাওয়ার সময় তিনি কিমের সঙ্গে বৈঠকের কথা ভাবছেন।   এর কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে আনুমানিক ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।   আন গিউ-ব্যাক আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘আমরা সাধারণত এর সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি বলে ধারণা করি।’ তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানান।   তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরোধিতা করে যাচ্ছে সিউল।   ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্য থেকে ‘সরে গেছে’ কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আন বলেন, তিনি তা মনে করেন না।   দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।   বুধবার রাতে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন ও এতে অবদান রাখতে তিনি ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন’।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

ময়নাতদন্ত শেষে দেশে ফিরবে নয় মরদেহ, অপেক্ষায় স্বজনেরা

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন মোহেবি।

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করবে ইরান: আইআরজিসি

ছবি: এএফপি

নয় মাস পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা ইমরান খানের

ধ্বংসস্তূপ সরানোর মাঝেই ইন্দোনেশিয়ায় ফের ৫.৯ মাত্রার কম্পন

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে আবারও ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি)। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। এটি ফ্লোরেস অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা দ্বিতীয় ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প। এর আগে সোমবার, ১৭ আগস্ট জার্মানির জিএফজেড রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, একই মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেটিও ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। সোমবারের ভূমিকম্পটি এমন এক সময়ে আঘাত হানে, যখন মাত্র দুই দিন আগে আঘাত হানা আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন উদ্ধারকর্মীরা। শনিবারের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ফ্লোরেসে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ধারাবাহিক ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে ৯০০টির বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং আরও ৪৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৩৫ জন আহত হয়েছেন। শুধু ফ্লোরেস অঞ্চলেই অন্তত ২৪১টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি হলে আতঙ্কে বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ত্রাণকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, প্রস্তুত খাবার, পানীয় জল, কম্বল ও ওষুধ বিতরণ করছেন। বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রও।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২০, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অর্থনীতি ধ্বংসে ট্রাম্পের নতুন চাল, ঘোষণা করলেন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’

ছবি: সংগৃহীত

ঝুকু-৩ রকেটের প্রথম ধাপ স্থলভাগে সফলভাবে ফিরিয়ে আনল চীন

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত
বার কাউন্সিল ভোটে বিরোধীদের বড় ধাক্কা, ১৫টি আসনে জিতল তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বার কাউন্সিল নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা। বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম।     মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদধন্য প্রার্থীদের ওপর ভরসা রাখায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস আইনজীবী সেলের সদস্য সঞ্জয় বর্ধন। রাজ্য বার কাউন্সিলের প্রতিনিধির পদের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণনার শেষে এসে দেখা গেল আইনজীবীদের সর্বোচ্চ সংস্থার ভোটে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারল না বিরোধীরা। রাজ্য বার কাউন্সিলের ২৫টি আসনের নির্বাচনে ১৫টিই জিতে নিয়েছে তৃণমূল।       এর মধ্যে চারজন নারী ও ১১ জন পুরুষ প্রতিনিধি রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে বিজেপির আইনজীবীরা এগিয়ে থাকবেন বলেই আশা করেছিলেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু মানুষের আস্থা রইল সেই তৃণমূলেই। আইনজীবীদের দলে টানতে প্রচার ও প্রচারণা করেও শেষরক্ষা হলো না।     আইনজীবীদের এই রায় প্রমাণ করে দিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনি নীতি এবং উন্নয়নের ওপর রাজ্যের আইনজীবী সমাজ গভীর আস্থা রেখেছে। জুনিয়র উকিলদের স্টাইপেন্ড দেওয়া এবং প্রবীণ আইনজীবীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় জোর দিয়েছে পূর্বতন সরকার। রাজ্যের আদালতগুলোর আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে তৃণমূল সরকারের বড় ভূমিকা ছিল।       এই জয়ের পর তৃণমূলের আইনজীবী সেলের সদস্য সঞ্জয় বর্ধন বলেন, ‘এই জয় আসলে সাধারণ মানুষের জয়। এই রায় প্রমাণ করে যে বাংলার মানুষ এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতিকেই সমর্থন করছেন।     এই ঐতিহাসিক জয় আগামী দিনে রাজ্যের আইনি ব্যবস্থার উন্নতিতে আরো বেশি শক্তি জোগাবে।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক সমীকরণ রক্ষায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি এড়িয়ে চলছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন পাকিস্তান সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে এশিয়ার

0 Comments