জাতীয়

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে দিনভর মহাসড়কে যানজট দেখা যায়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্তও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে জানা গেছে।

 

দুই লেনেই ধীরগতির যান চলাচল: সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। একইভাবে চট্টগ্রামমুখী লেনে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আলেখারচর বিশ্বরোড পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

 

মাঝেমধ্যে কিছু যানবাহন চলাচল করলেও অল্প সময় পর আবার দীর্ঘক্ষণ থেমে থাকতে দেখা গেছে।

 

গর্ত মেরামতের কারণে যানজট: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের একটি অংশে গর্ত তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর মেরামতকাজ চালানোর কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

 

যাত্রীদের ক্ষোভ, যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। যাত্রী মো. শোয়েব বলেন,

 

“মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এমন ভোগান্তি সত্যিই কষ্টদায়ক।”

 

আরেক যাত্রী আফসার হোসেন বলেন, “সংস্কারকাজের আগে মানুষকে আগাম জানানো উচিত ছিল। অনেক প্রবাসী ও জরুরি কাজে যাওয়া মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।”

 

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এ বিষয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, “বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের কিছু স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। আমরা ছোট পরিসরে সেগুলো মেরামতের কাজ করছি। যানজট সৃষ্টি হওয়ার মতো বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে না।”

 

তবে বাস্তবে দীর্ঘ যানজটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নতুন পে স্কেলে কার কত বেতন, জেনে নিন হিসাবের পদ্ধতি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে ২০টি গ্রেডের নতুন বেতনক্রমের পাশাপাশি পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’-এর নিয়মও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।   নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভেদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার এবং গ্রেড-১ এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে কোনো গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন বাড়ানো হয়েছে বলেই ওই গ্রেডে থাকা সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন মূল বেতন একই হবে—বিষয়টি এমন নয়। নতুন স্কেলে কার বেতন কত হবে, তা নির্ধারণ হবে ‘পে ফিক্সেশন’ বিধান অনুযায়ী।   নতুন বেতন জানতে যে হিসাব লাগবে একজন চাকরিজীবীর নতুন মূল বেতন নির্ধারণে প্রথমে জানতে হবে ৩০ জুন পর্যন্ত তার মূল বেতন কত ছিল। এরপর তিনি কোন গ্রেডে ছিলেন এবং নতুন বেতন স্কেলে ওই গ্রেডের সংশ্লিষ্ট বেতনক্রম কী—তা দেখতে হবে।   কারণ একই গ্রেডে থাকা দুই কর্মকর্তার বেতন এক নাও হতে পারে। একজন যদি ওই গ্রেডে কয়েক বছর ধরে থেকে একাধিক বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন এবং অন্যজন যদি সম্প্রতি ওই গ্রেডে যোগ দেন, তাহলে ৩০ জুন তাঁদের মূল বেতন ভিন্ন হবে। ফলে নতুন স্কেলেও তাঁদের বেতন ভিন্ন ধাপে নির্ধারিত হতে পারে।   দুই পদ্ধতিতে হবে বেতন নির্ধারণ নতুন প্রজ্ঞাপনে মূলত দুটি পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।   প্রথম পদ্ধতিতে, কোনো কর্মচারী যদি বর্তমান বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পান, তাহলে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই তার নতুন মূল বেতন নির্ধারণ হবে।   যেমন, ৩০ জুন একজন কর্মচারী ১৬তম গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতনক্রমের প্রারম্ভিক ধাপে অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন। নতুন স্কেলে ১৬তম গ্রেডের বেতনক্রম ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা হওয়ায় তার নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।   অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন থাকলে নতুন স্কেলেরও প্রারম্ভিক ধাপেই বেতন নির্ধারিত হবে।   দ্বিতীয় পদ্ধতিতে, কোনো কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন যদি সংশ্লিষ্ট পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রথমে বর্তমান বেতন ও প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য বের করতে হবে। এরপর ওই পার্থক্য নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে।   যোগফল নতুন বেতনক্রমের কোনো ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপেই বেতন নির্ধারণ হবে। আর যোগফল যদি কোনো ধাপের সঙ্গে না মেলে, তাহলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।   উদাহরণে বুঝুন পে ফিক্সেশন ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার পুরোনো বেতনক্রমের প্রারম্ভিক ধাপ ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা।   তাহলে পুরোনো মূল বেতন ও প্রারম্ভিক বেতনের পার্থক্য— ১৩,৭৯০ - ১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা। এখন নতুন বেতনক্রমের প্রারম্ভিক ধাপ যদি হয় ২৫ হাজার টাকা, তাহলে এর সঙ্গে ১ হাজার ২৯০ টাকা যোগ করতে হবে। ২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা। কিন্তু নতুন বেতনক্রমে ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো ধাপ নেই। তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অর্থাৎ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা নতুন মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে।   যাদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিবের ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে। এসব নির্ধারিত মূল বেতনের ক্ষেত্রে ওপরের দুই পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণ প্রযোজ্য হবে না।   তিন ধাপে কার্যকর হচ্ছে বেতন বৃদ্ধি নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।   ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় প্রাপ্য বকেয়া বেতনও পাওয়ার বিধান রয়েছে।   প্রেষণ, ছুটি ও অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্রে নিয়ম প্রেষণে থাকা কোনো কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ করা হবে তিনি নিজ দপ্তরে কর্মরত থাকলে যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই ভিত্তিতে। ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত ও অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞাপনে পৃথক নিয়ম রাখা হয়েছে।   তবে কোনো কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি ৩০ জুন শেষ হয়ে ১ জুলাই তিনি অবসরে গেলে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নতুন করে বেতন নির্ধারণের সুবিধা তিনি পাবেন না।   আট বছর পর উচ্চতর গ্রেড কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং তার চাকরি সন্তোষজনক হলে নবম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। তবে এভাবে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না।   নতুন প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট, প্রেষণ, ছুটি ও উচ্চতর গ্রেডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস উৎপাদনে বড় লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ, শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর

ছবি: সংগৃহীত

অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তিতে আদালতকে সহযোগিতা করব : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
হজ নিবন্ধনে কত টাকা লাগবে, হাতে আর ৪ দিন

২০২৭ সালের হজের নিবন্ধনের সময় শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের শেষ দিন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর আর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হবে না। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। গত ২৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রম ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৩১১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৩ হাজার ৯৮৩ জন হজযাত্রী চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশের জন্য এবার হজের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। ফলে এখনো বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন বাকি রয়েছে। প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের বাকি কর্মদিবসের মধ্যে প্যাকেজের সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। তা না হলে তাদের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।   সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির মালিকরা বলছেন, অনেক হজযাত্রী এত আগে হজের টাকা জমা দিতে আগ্রহী নন। এ কারণে চূড়ান্ত নিবন্ধনের গতি বাড়ছে না। শেষ সময়ে বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হজের ব্যয় বৃদ্ধি, মানুষের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ এবং সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহণসহ বিভিন্ন সেবার খরচ বাড়ায় বাংলাদেশের হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না। এর মধ্যে সৌদি আরব এবার বাংলাদেশের হজ কোটা প্রায় ৫০ হাজার কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। অন্য প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। সাধারণ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।   ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। তবে ওই প্যাকেজে খাবারের খরচ ছিল না। এবার খাবারের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা যোগ হয়েছে। এছাড়া মিনা ও আরাফাতে সৌদি সরকারের সর্বনিম্ন ডি ক্যাটাগরি প্রত্যাহার, ৭০০ রিয়াল এবং বিনিময় হারজনিত ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে।   এ কারণে বিমান ভাড়া প্রায় ২৫ হাজার টাকা কমলেও এবার হজের মোট ব্যয় কমেনি। বরং সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজের দাম গত বছরের তুলনায় ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা বেড়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেও হজের খরচ বেড়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জাতিসংঘে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিশ্ব শুনবে নতুন বাংলাদেশের গল্প

শাহজালাল মাজারে এবার মিলল ৮৯ লাখ টাকা ও স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা

২০২৯ সালের জুনে শেষ হবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬ লেনের কাজ: সেতুমন্ত্রী

২০২৯ সাল নাগাদ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন উন্নীতকরণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় মহাসড়কের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।   সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ছয় লেন প্রকল্পটি অনেক আগে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাড়ে ৪ বছর হয়ে গেলেও অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ৬ মাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ এখন প্রায় ৫৬ শতাংশের কাছাকাছি। আশা করছি দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ হয়ে যাবে। ভৌত কাজের অগ্রগতিও প্রায় ২৭ শতাংশ।’   তিনি আরও জানান, ‘এ প্রকল্পের কাজে যেখানে বিচ্যুতি আছে, সেগুলো অতিক্রম করে আমরা এই সড়কটি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। সড়কের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে ৫টি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি অসন্তোষজনক। বাকি ৮টি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনক। আমরা ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কটি দরপত্র অনুসারে নির্মাণ কাজ শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চাই।’   শেখ রবিউল আলম জানান, ‘বর্তামানে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে কিছুটা জনদুর্ভোগ হচ্ছে, যেহেতু ৪ বছর কাজের তেমন অগ্রগতি ছিল না। বিগত সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি মনযোগী ছিল না এই প্রকল্প নিয়ে। ভূমি অধিগ্রহণ বড় সমস্যা ছিল, সেটা থেকে উত্তরণ হতে চলেছি আমরা। ভৌত কাজ যেখানে সন্তোষজনক নয়, সেটা কীভাবে আরও জোরালো করা যায় সেই চেষ্টা করছি আমরা।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

অপ্রতিমের মায়ের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার

দিল্লির কাছে মাথানত করে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা থেকে সরেছে: নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রথমবার ‘ইমোশনাল ডোনার’-এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন

0 Comments