পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক তৎপরতা ও চাপ মোকাবিলায় শুধু ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ফিলিপাইনকে।
অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন, ফিলিপাইনের নৌযানের চলাচলে বাধা এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে ফিলিপাইন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও সক্রিয় হয়েছে। তবে শুধু এসব ঘটনা প্রকাশ করে চীনের আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও তথ্যগত কৌশলও শক্তিশালী করতে হবে।
বিতর্কিত এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন
ফিলিপাইনের পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পালাওয়ান প্রদেশের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের কাছে চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ৯৬২২ নম্বর জাহাজটি ২২টি ছোট নৌযান নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওই এলাকায় ফিরে আসে।
টাস্কফোর্সের অভিযোগ, এসব নৌযান সেখানে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা এবং সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার সঙ্গে জড়িত ছিল।
এর আগে ৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন শোল এলাকায় ফিলিপাইনের একটি চিকিৎসা ও উদ্ধার মিশনে জলকামান ব্যবহার করে চীনা কোস্টগার্ড। মিশনটির উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপাইনের সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হয়ে থাকা বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজ থেকে একজন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া।
স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের বিতর্কিত মিসচিফ রিফ এলাকায় চীনের সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে ফিলিপাইন ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজটি আয়ুঙ্গিন শোলে স্থাপন করে। এরপর থেকে জাহাজটি ওই এলাকায় ফিলিপাইনের উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সমঝোতার পরও কমেনি উত্তেজনা
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়। তবে ফিলিপাইনের অভিযোগ, সমঝোতার পরও বিতর্কিত এলাকায় তাদের সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজে সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে চীনের কোস্টগার্ড এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বাধা দেয় বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন। এর কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপিনো জেলেদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফিলিপাইনের মাছ ধরার সহায়ক নৌযান বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত।
এদিকে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের সামরিক ও কোস্টগার্ড জাহাজের উপস্থিতিও বেড়েছে। ফিলিপাইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পাক-আসা দ্বীপ, আয়ুঙ্গিন শোল, এসকোদা শোল ও স্কারবরো শোলের আশপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ১০১টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৫৬।
চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল
সামুদ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি তথ্য প্রচারের মাধ্যমেও চীন ফিলিপাইনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যা, ফিলিপাইনের স্বাধীনতার গুরুত্ব খাটো করে দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার মতো বিষয় রয়েছে।
এ ধরনের প্রচার ফিলিপাইনের প্রভাবশালী মহলে চীনের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারি বিবৃতি বা সামুদ্রিক ঘটনার ছবি প্রকাশ নয়, বরং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও জরুরি।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ফোর্বস গ্লোবাল সিইও সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বাস্তবতা তার দেশ উপলব্ধি করে। তবে এটিকে চীনের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফিলিপাইন এখন নীরব কূটনীতির পরিবর্তে সামুদ্রিক এলাকায় চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর লক্ষ্য জনসচেতনতা বাড়ানো, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিশি রায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা।
তবে এসব উদ্যোগ চীনের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশের কৌশলের পাশাপাশি চীনের আগ্রাসী তৎপরতার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র সরকারের ‘কমপ্রিহেনসিভ আর্কিপেলাজিক ডিফেন্স কনসেপ্ট’ বা সমন্বিত দ্বীপপুঞ্জ প্রতিরক্ষা ধারণায় সামরিক ঘাঁটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রবেশ-প্রতিরোধ ও নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি সামরিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ নির্ধারণ এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথায় ও কীভাবে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ফিলিপাইনের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংবাদ ও তথ্যের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানো ঠেকানো এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রসমর্থিত বা রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আসিয়ানের নেতৃত্ব কাজে লাগানোর সুযোগ
আঞ্চলিক কূটনীতিতেও ফিলিপাইনের সামনে সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে দেশটি।
মিয়ানমার সংকট, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা মোকাবিলায় আসিয়ান কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
১৯৬৭ সালে আসিয়ান প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক নীতিমালা হালনাগাদ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণেও নেতৃত্ব দিতে পারে ফিলিপাইন।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে তা যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং আসিয়ানভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর করার সমন্বিত পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে ফিলিপাইনের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার সময়ের তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন আরও শক্তিশালী ও অধিক উদ্দীপিত বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে তাদের মনোবল, অঙ্গীকার ও আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। আকরামিনিয়া দাবি করেন, সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও বাড়িয়েছে।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর অনুপাত গত এক শতকে ব্যাপকভাবে কমেছে। ১৯২২ সালে শহরটির মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ ছিলেন খ্রিস্টান। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশে। জেরুজালেম ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে অধিকৃত জেরুজালেমে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৩০০। তাদের মধ্যে আনুমানিক ১৩ হাজার ১০০ জন ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলের বিভিন্ন নীতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ, অব্যাহত দেশত্যাগ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিম্নহারকে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে গবেষণাটি। এতে বলা হয়, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের ওপর ইসরায়েলের বিভিন্ন বিধিনিষেধও শহরটিতে ফিলিস্তিনি উপস্থিতি কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ‘জীবনের কেন্দ্র’ (সেন্টার অব লাইফ) নীতির আওতায় বসবাসের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় গির্জার ওয়াক্ফ সম্পত্তি ও জমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওয়াক্ফভুক্ত জমির প্রায় ২৮ শতাংশ গির্জার সম্পত্তি। দীর্ঘমেয়াদি ইজারা এবং আর্থিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এসব সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া খ্রিস্টান ধর্মযাজক, সন্ন্যাসী ও উপাসকদের ওপর হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে গবেষণাটি। এসব হামলার মধ্যে শারীরিক ও মৌখিক নির্যাতন, থুতু নিক্ষেপ এবং গির্জার সম্পত্তি, কবরস্থান ও ধর্মীয় প্রতীকের ক্ষতিসাধনের ঘটনা রয়েছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, পবিত্র সমাধি গির্জায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ এবং পবিত্র শনিবার ও ইস্টার উদ্যাপনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা খ্রিস্টানদের ধর্মীয় চর্চাকে সীমিত করছে। এসব নীতির কারণে জেরুজালেমের আরব ও বহুত্ববাদী চরিত্র হুমকির মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে ফাউন্ডেশনটি। খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান, গির্জার সম্পত্তি এবং ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি রক্ষায় আরও জোরালো আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে এক হাজার ২২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, প্রায় ১৩ হাজার ৩৫০ জন আহত এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ইবেরিয়ার মূল কোম্পানি আইএজি (IAG)-এর নিট মুনাফা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার তাদের নিট মুনাফা কমেছে ১২ শতাংশের বেশি। আইএজি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তাদের কর-পরবর্তী মুনাফা কমে ১.২৩ বিলিয়ন ইউরোতে (প্রায় ১.৩৭ বিলিয়ন ডলারে) নেমে এসেছে। যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ১.৪০ বিলিয়ন ইউরো। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল্যস্তর ভালো থাকা সত্ত্বেও সক্ষমতা হ্রাস, আকস্মিক বিভিন্ন বিঘ্নিত ঘটনার প্রভাব এবং বিশেষ করে জেট জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সেই সুফল ম্লান হয়ে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে তাদের সামগ্রিক জ্বালানি খরচ বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। এছাড়া গ্রুপটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ফ্লাইট বাতিল, ইঞ্জিন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিমানের অপ্রাপ্যতা এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার বিঘ্নের মতো একাধিক সংকটের কারণে তাদের সার্বিক ফ্লাইট পরিচালনা সক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।