নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের মাত্র ৪৫ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জয়ন্তীপুর এলাকার চা-দোকানি শামিম হোসেনের কাছে মুদি দোকানি মোস্তফার ৪৫ টাকা পাওনা ছিল। সন্ধ্যায় শামিম ওই টাকা চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের স্বজন ও সহযোগীরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েই রয়েছেন।
পরবর্তীতে আহতদের চিকিৎসার জন্য বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নিলে পরে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়ি ফিরে গেছেন।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর ওপর গত অগাস্ট মাসজুড়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জরিপকৃত পরিবারের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আছেন এদের মাত্র ৭.৫ শতাংশ পরিবার। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১ গ্রহণের পাঁচ বছর পরও এর অঙ্গীকারগুলো এই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জীবনে পৌঁছায়নি। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশ, খানি সদস্য স্বদেশ সাতক্ষীরা এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক -প্রান সাতক্ষীরায় আয়োজিত এক বহুপাক্ষিক সংলাপে খানি বাংলাদেশ ও প্রান এর গবেষণা ‘ডিসপ্লেসড, ডিনায়েড’-এর এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ বছর দিবসটির দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সহিষ্ণুতার শুরু নিজ ঘর থেকেই’ সংলাপে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রানের প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর উম্মে সালমা। গবেষণায় সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩৫টি বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ১,৩৪১ জন সদস্যের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে এমন প্রায় ৭,৫৭৩টি পরিবার বাস করছে, যাদের বড় অংশ শ্যামনগর ও আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এসেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জরিপকৃত ৯৫.৫ শতাংশ পরিবারে কোনো না কোনো সদস্য বেলা বাদ দিয়েছেন, আর ৫২.২ শতাংশ পরিবারে কেউ পুরো একদিন না খেয়ে থেকেছেন। খাবার জোগাড় করতে ৫৭.৩ শতাংশ পরিবার উৎপাদনশীল সম্পদ বা প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করেছে। ৯৬.৯ শতাংশ পরিবার আংশিক বা পুরোপুরি লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। গত এক মাসে অর্ধেক পরিবারে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। সরকারি জমিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে বসবাসকারী পরিবারের ৫৯ শতাংশ উচ্ছেদ বা উচ্ছেদের হুমকির মুখে পড়েছে। গত ১২ মাসে ৭৯.১ শতাংশ পরিবার কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পায়নি, আর সহায়তা না পেলে বা প্রয়োজন হলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হয় তা জানে না ৯২.৭ শতাংশ পরিবার। ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ৩৩.২ শতাংশ স্কুলে নথিভুক্ত নয়; এদের ৩০ শতাংশ শিশুশ্রমে নিয়োজিত। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মইনুল ইসলাম মইন, সভাপতিত্ব করেন স্বদেশ সাতক্ষীরা এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মাধব চন্দ্র দত্ত। খিলনায় উন্নয়ন সংগঠন সিইপিআর-এর নির্বাহী পরিচালক গৌরাঙ্গ নন্দী এর সঞ্চালনায় সাতক্ষীরা পৌরসভার বস্তিতে বসবাসরত জলবায়ু বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ ৮১ জন সংলাপে অংশ নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা নির্বাচন অফিসার মো. হযরত আলী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. জাহিদ পারভেজসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। স্বাগত বক্তব্যে স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত বলেন, জলবায়ু বাস্তুচ্যুতরা তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুপেয় পানির প্রবেশগম্যতা মিলিয়ে সার্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তায় কী অবস্থায় আছে এবং এই সংকট প্রশমনে স্থানীয়ভাবে কী সামর্থ্য রয়েছে, তা খুঁজে বের করতেই এই সমীক্ষা। বাস্তুচ্যুতদের পক্ষে নিজেদের সংকটের কথা তুলে ধরেন ফাতেমা বেগম, সোনিয়া বেগম, সালমা, রিজিয়া বেগম, তন্বী খাতুন, পারুল পারভিন। তারা বলেন, পরিবারের পুরুষেরা মূলত ভ্যান চালান, যাতে আয় খুবই সামান্য। দিনে দুশো টাকার মজুরিতে সংসার চলে না, তাই অনেক পরিবার অল্প টাকার বিনিময়ে শিশুদের গ্যারেজে কাজে পাঠাচ্ছে; এসব শিশুর কেউ কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। আয় অনিয়মিত হওয়ায় শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দিতে পারেন না তারা। বিধবা বা বয়স্ক ভাতাসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা। তারা জানান, ছোট্ট এক টুকরো জায়গায় গাদাগাদি করে ঘর, তার ভেতরেই রান্নাঘর ও শৌচাগার। কোনোমতে ঘর তুলতে ঋণ নিতে হয়, কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় অনেকে ঋণ দিতেও ভরসা পান না। আবার কেউ একবার ঋণ নিলে নিয়মিত আয় না থাকায় ঋণের চক্রে জড়িয়ে পড়েন এবং শোধ দিতে না পেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন এমন নজিরও আছে। উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাস্তুচ্যুতির পরবর্তী খাদ্য অনিরাপত্তা কোনো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি প্রকৃতপক্ষে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনের একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যর্থতা। বস্তিতে কতজন মানুষ বাস করেন এবং বসতিভেদে তাদের সংকট আর চাহিদা কী, সে তথ্যগুলো জড়ো করা গেলে তাদেরকে বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এই জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা নিয়ে এখনকার যে পরিসংখ্যানের উপর সবাই কথা বলছে, সেটা নতুন করে জরিপ করলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি পাওয়া যাবে। মানুষ একেকবারেই এলাকা ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে এখানে চলে আসছে তা বুঝতে তাদের আদি এলাকাতেও গবেষণা দরকার। এ গবেষণা ভবিষ্যৎ কাজের জন্য তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে।অনেকেই এদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করা শোষণ করে। সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে, এবং কার্ড পেতে কাউকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন বক্তারা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত বলেন, বস্তিবাসীদের মধ্যে যারা বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন না, তাদের তালিকা পাঠালে ভাতার আওতায় আনা হবে। পৌর এলাকার বাইরের ভূমিহীনরা আবেদন করলে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী ২ একর পর্যন্ত জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। শিশুদের জন্য স্কুলভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি এবং তরুণদের কাজে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘দলগতভাবে কাজ করলে ফল ভালো হয়।’ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা মো. জাহিদ আরজু রিপন বলেন, বাস্তুচ্যুতদের বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধানে পৌর এলাকায় অধিদপ্তরের সরাসরি কাজের সুযোগ নেই। তবে কোনো নাগরিক সংগঠন দায়িত্ব নিলে বস্তিতে যৌথ কল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়ে জানান, বস্তিবাসীদের মধ্যে যারা এখনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতার আওতায় আসেননি, তাদের তালিকা প্রদান করা হলে দ্রুত ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পৌরসভার বাইরের ভূমিহীনরা আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি পরিবারকে ২ একর পর্যন্ত কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। জলবায়ু বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। যেসকল বস্তিবাসী বয়স্ক বা বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাদের তালিকা পাওয়া মাত্রই ভাতার আওতায় আনা হবে। পৌর এলাকার বাইরের প্রকৃত ভূমিহীনরা আবেদন করলে নীতিমালা অনুসরণ করে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বক্তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এই জনগোষ্টীর সংযোগ ঘটাতে হবে। দুর্যোগকবলিত মানুষকে নিজ এলাকায় রাখতে খাদ্য, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেন তারা। বক্তারা হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরির তাগিদ দিয়ে বলেন, এর ভিত্তিতে তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিলে পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবা সমন্বিত না হলে পাঁচ বছর পর এ সংকট দ্বিগুণ হবে। সেবা পেতে বিদ্যুৎ বিল, ভোটার আইডি ও জমির পরচা বাধ্যতামূলক হওয়ায় বাস্তুচ্যুতরা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মোঃ মইনুল ইসলাম মইন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অভিবাসন একটি সাধারণ বিষয়, কিন্তু এখানে বাস্তুচ্যুতি শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ বাস্তুচ্যুত মানে মানুষ ইচ্ছে করা স্থানবদল করেনি বরং বাধ্য হয়েছে। বস্তিতে সবজি চাষের জায়গা নেই, পানি নেই, শোভন জীবনযাপনের কোনো সুবিধা নেই। তিনি বলেন, পৌরসভাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্স ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে কোন বস্তিতে কী সহায়তা দরকার, তা ঠিক করা গেলে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারে। বস্তি নিয়ে পৌরসভা এখনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পায়নি, তাই তাদের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র গ্রহণ করে। এতে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর খাদ্য, পানি, আবাসন, জীবিকা ও দলিলপত্রের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে এবং নিজ এলাকায় ফিরতে অক্ষম মানুষদের বর্তমান আবাসস্থলে স্থানীয়ভাবে একীভূত করার কথা বলা হয়েছে। আইওএম ও বাংলাদেশ সরকারের ২০২৫ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দুর্যোগের কারণে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। গবেষণায় পরিবার নির্বাচনে স্নোবল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তাই তথ্যগুলো জরিপকৃত পরিবারের অবস্থা নির্দেশ করে, সাতক্ষীরার সকল বাস্তুচ্যুত পরিবারের পরিসংখ্যানগত প্রাক্কলন নয়।
ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের বিষয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশাচালকেরা। এতে মোহাম্মদপুর, বসিলা ও গাবতলীমুখী সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন চালকেরা। চালকদের এই কর্মসূচির কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ওই পথে চলাচলকারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। এর আগে, তিন দিনের মধ্যে ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী। এর প্রতিবাদেই চালকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। অবরোধের কারণে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড় ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। সড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তি এড়াতে এই এলাকায় চলাচলকারীদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সময়মতো অস্ত্রোপচার না হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমা নামের ওই কিশোরীকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাম করানো হলে অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই শনিবার সকালে মাহিমার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং সেখানেই রাতে দাফন করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ নামে একজন হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য, হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়, চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। তবে এভাবে আর্থিক সমঝোতা করা হবে না। পরদিন দুপুরে এ বিষয়ে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও স্বজনদের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত হননি বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বিকেলে প্রায় ১০০ জন হাসপাতালে এসে জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নেন এবং সেখানে থাকা রোগীদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। তাদের অন্যত্র অবস্থান করতে বললে তাকে মারধর করা হয়। পরে দ্বিতীয় তলার লেবার রুমে গিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রায় ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ১০ লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তার দাবি, মাহিমা তার চাচাতো বোন। অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পর প্রথমে তাকে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শাহরিয়ার সবুজ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিলেও রাতে অপারেশন না হওয়ায় পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাওয়ার জন্য তারা হাসপাতালে গেলে উল্টো তাদের ওপর হামলা করা হয়। ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার সবুজ বলেন, তিনি কোনো অর্থ দাবি করেননি। বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বিষয়টি আর্থিকভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তারা কোনো ধরনের আর্থিক সমঝোতায় রাজি হননি এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, তিনি গত শুক্রবার থেকে তার বোনকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার পাশেই ওই ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানান তিনি। তৌফিকের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর তার বাবা-মা মরদেহ নিয়ে চলে যান। পরে রাতে একদল লোক হাসপাতালে এসে অর্থ দাবি করে। পরদিন সন্ধ্যার পর আবারও কয়েকজন হাসপাতালে এসে কয়েকজনকে মারধর করেন এবং ভাঙচুর চালান বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের কর্মীরা হামলাকারীদের ধাওয়া দেন বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উঠেছে। রোগীর মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার বিষয়।