জাতীয়

চাঙ্গা লেনদেনেও সংকটে দেশের চামড়া খাত

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। এই ঈদ ঘিরে এখন চাঙ্গা উৎসবের অর্থনীতি। ধারণা করা হচ্ছে, এই উৎসব ঘিরে লেনদেন হচ্ছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। কিন্তু ঈদ ঘিরে কমবেশি সব পণ্যের বেচাকেনায় বেশ সুবাতাস বয়ে গেলেও বরাবরের মতো ম্লান, বিপন্ন অবস্থার মুখে পড়ে চামড়া খাত। চামড়াজাত পণ্যের দামও বেড়েছে কয়েক গুণ; কিন্তু চামড়ার দাম বাড়ে না। এটিও একক খাত হিসেবে সম্ভাবনাময় থাকলেও প্রতিবছরই এ খাতে হাহাকার পড়ে যায়।

 

ফলে ঈদ উৎসব ঘিরে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হলেও শুধু চামড়া খাত সমানভাবে এগিয়ে যেতে না পারায় এই লেনদেন ও অর্থনৈতিক চাঙ্গাভাবের সুফল প্রতিফলিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

জানা যায়, বরাবরের মতো এবারও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতিতে শুরু হয়েছে বিশাল এক মৌসুমি অর্থচক্র। কোরবানির পশু পালন, হাট ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, পশুখাদ্য, চামড়াশিল্প, অনলাইন বেচাকেনা, মোবাইল ব্যাংকিং থেকে শুরু করে মসলা ও রান্নাবান্নার উপকরণ—সব মিলিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় এই উৎসব ঘিরে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, প্রতিবছর কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। পশু পালন, হাট ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, পশুখাদ্য, অনলাইন বেচাকেনা, মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), জবাইসেবা, হিমায়িত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, চামড়া সংগ্রহ ও গৃহস্থালি ভোগ—সব মিলিয়ে এটি দেশের অন্যতম বড় মৌসুমি অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী ও গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর এক কোটির বেশি গবাদি পশু কোরবানি করা হয়। এর বড় অংশই আসে দেশীয় খামারিদের কাছ থেকে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সরাসরি নগদ অর্থের প্রবাহ তৈরি হয়।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা সারা বছরের বিনিয়োগের বড় অংশের মুনাফা পান এই সময়ে।

খামারিরা জানান, কয়েক বছর আগেও কোরবানির পশুর বাজারে ভারতীয় গরুর প্রভাব ছিল বেশি। কিন্তু বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে স্থানীয় খামারিরা উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও এখন বাণিজ্যিকভাবে গরু ও ছাগল পালন করছেন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাট ঘিরে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই জমে ওঠে ব্যবসা। হাট ইজারা, পরিবহন, অস্থায়ী দোকান, খাবারের স্টল, শ্রমিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু পশুর হাট থেকেই সরকারের রাজস্ব আয় হয় কয়েক শ কোটি টাকা।

এই প্রসঙ্গে উৎসবের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ মামুন রশীদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঈদুল আজহা এখন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি বৃহৎ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চক্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর কোরবানি ঘিরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়। এই বিশাল অর্থপ্রবাহ পশু পালন, হাট ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, পশুখাদ্য, অনলাইন বেচাকেনা, মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস, জবাইসেবা, হিমায়িত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, চামড়া সংগ্রহ, গৃহস্থালি ভোগসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। সব মিলিয়ে এটি দেশের অন্যতম প্রধান মৌসুমি অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

চামড়াশিল্পে অপূর্ণ সম্ভাবনা

কোরবানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত খাতগুলোর একটি হচ্ছে চামড়াশিল্প। বছরের মোট কাঁচা চামড়ার বড় অংশ আসে ঈদুল আজহার সময়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ আরো বাড়তে পারে। তবে প্রতিবছরই চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সংরক্ষণ সংকট এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

চামড়াশিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চামড়াশিল্পে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) একাধিক নেতা জানান, দেশে প্রতিবছর এক কোটি থেকে এক কোটি ২০ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। ঈদুল আজহায় দেশের মোট কাঁচা চামড়ার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়।

বিটিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্ল্যাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উল্লেখযোগ্য চাহিদা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে খাতটি এখনো তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।

তিনি বলেন, ‘চামড়া খাত এখনো অপূর্ণ সম্ভাবনার একটি বড় ক্ষেত্র। একসময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আয় এক বিলিয়ন ডলার ছাড়ালেও বর্তমানে তা কমে ৮০ থেকে ৯০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। দুর্বল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, অকার্যকর সাপ্লাই চেইন এবং পরিবেশসম্মত ট্যানারি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এ খাতের প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করে রেখেছে।’

তাঁর মতে, সংরক্ষণ সংকট, অকার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ট্যানারি খাতে পরিবেশগত ঘাটতি—সব মিলিয়ে এই শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক চামড়া বাজারে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির প্রসার

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশু বিক্রিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহুরে ক্রেতাদের মধ্যে অনলাইনে পশু কেনাবেচা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অনলাইনে প্রায় ৮৫ হাজার ৬২৬টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে, যার মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। মোট কোরবানির পশুর বাজারের প্রায় ০.৯৪ শতাংশ এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

বিক্রয় ডটকম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী এখন অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি করছেন। এর মধ্যে অন্যতম অ্যাশিউর্যান্স ফার্মস। প্রতিষ্ঠানটির খামার ময়মনসিংহের ভালুকায় হলেও তারা ঢাকায় ডেইরি পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি অনলাইনে কোরবানির পশুও বিক্রি করছে।

প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অপারেশন) রাকিবুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সাল থেকে তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু বিক্রি শুরু করেন। এ বছর তাঁদের স্টকে ২৫০টি গরু রয়েছে, এরই মধ্যে ১০০টির বেশি বিক্রিও হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্রেতা আগে গরু কিনতে চান না, কারণ তখন লালন-পালনের ঝামেলা থাকে। তাই আমরা অনলাইনে বুকিং নিয়ে ঈদ পর্যন্ত গরুগুলো নিজেদের তত্ত্বাবধানে পালন করি। পরে ঈদের দিন বা আগের দিন ঢাকায় বিনামূল্যে ডেলিভারি দিই। এতে ক্রেতাদের হাটে যাওয়ার ঝামেলাও থাকে না। বিশেষ করে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

ঢাকার বিভিন্ন খামারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় অনলাইন পশু বিক্রির চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। এই পরিবর্তন বাজার ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ক্রেতাদের জন্য হাটে গিয়ে পশু কেনার ঝামেলা কমিয়েছে।

ঈদে বাড়ে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিংয়েও ব্যাপক লেনদেন বৃদ্ধি পায়। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পশু কেনাবেচা, অগ্রিম বুকিং, পরিবহনভাড়া ও শ্রমিক মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে দেশে মাসিক মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৭১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। ঈদ মৌসুমে এই লেনদেন আরো কয়েক হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পায় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের ফলে কোরবানির পশু কেনাবেচায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বেড়েছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকিও কমেছে।

পশু পরিবহনে বাড়তি ব্যয়

বাংলাদেশে কোরবানির পশু পরিবহন খরচ প্রতিবছরই বড় একটি অর্থনৈতিক খাত তৈরি করে। খামার থেকে হাট এবং হাট থেকে শহরে পশু আনতে ট্রাক, পিকআপ, ট্রেন ও নৌপথ ব্যবহার করা হয়। ২০২৬ সালে জ্বালানি ও ভাড়া বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় আরো বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

সাধারণভাবে জেলা থেকে ঢাকায় একটি গরু আনতে পরিবহন খরচ পড়ে তিন হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। দূরত্ব, ট্রাকের আকার এবং পশুর সংখ্যার ওপর এই ব্যয় নির্ভর করে। ছোট পিকআপের ভাড়া ঢাকার মধ্যে দু-এক হাজার টাকার মধ্যে হলেও দূরপাল্লায় বড় ট্রাকের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির মৌসুমে পশু পরিবহন খাতেই কয়েক শ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এতে ট্রাকচালক, হেল্পার, লোড-আনলোড শ্রমিক এবং অস্থায়ী পরিবহনকর্মীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

মৌসুমি কর্মসংস্থানে লাখো মানুষের আয়

এই পুরো অর্থনৈতিক চক্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান। বিভিন্ন গবেষণা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ৫০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষের জন্য মৌসুমি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে রয়েছেন পশু পরিবহন শ্রমিক, হাট ব্যবস্থাপক, নিরাপত্তাকর্মী, জবাইসেবাকর্মী, চামড়া সংগ্রহকারী এবং অস্থায়ী দোকানকর্মী।

এই কর্মসংস্থানগুলো অনেক ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এটি নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ায়, যা স্থানীয় বাজার ও ভোগব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে।

শ্রমিক অধিকার বিশেষজ্ঞ, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোরবানির সময় দেশে বিশাল একটি মৌসুমি শ্রমবাজার তৈরি হয়। এ সময়ে হাজার কোটি টাকার মজুরি শ্রমিকদের মধ্যে লেনদেন হয়।

তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি গরু কোরবানি করা হয়। প্রতিটি গরু জবাই, পরিষ্কার ও মাংস সংরক্ষণের কাজে গড়ে তিনজন শ্রমিক অংশ নেন। এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু জবাই ও পরিষ্কার করতে কসাই বা মৌসুমি শ্রমিকদের প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হয়। সেই হিসাবে কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন কোটি শ্রমঘণ্টার সমপরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং কোরবানিদাতাদের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা শ্রমিক মজুরি বাবদ ব্যয় করতে হয়।

তবে তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় অনেক পরিবার নিজেরাই কোরবানির কাজ সম্পন্ন করে থাকে, ফলে বাস্তব পরিসংখ্যানে কিছুটা তারতম্য থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, কোরবানিকেন্দ্রিক এই মৌসুমি শ্রমবাজার দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ খাতে সুরক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিয়ে করার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে ডিজিটাল জন্মসনদ : প্রতিমন্ত্রী

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে সরকার ‘বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন- ২০১৭’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল বা কাগজের জন্মসনদ গ্রহণ করা হবে না।   সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।   তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিসেফ এবং ইউএনএফপিএ-এর কারিগরি সহায়তায় বর্তমানে এই নতুন আইনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে।   প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এ সংশোধনীর মাধ্যমে আইনের বিশেষ সুযোগ নিয়ে ফাঁকফোকর দিয়ে বাল্যবিবাহ দেয়ার নিয়মগুলো বন্ধ করা জন্য এই আইনি প্রণয়ন করা হবে। এ সংশোধনীর মূল বৈশিষ্ট্য হবে, বিয়ের নিবন্ধনের জন্য সনাতন পদ্ধতির কাগজের সনদের বদলে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার করা। মূলত জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মসনদ তৈরি করে অপ্রাপ্তবয়স্ক বরকনের আসল বয়স লুকানোর প্রবণতা বন্ধ করতে সরকারের এ পদক্ষেপ।   প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় আবুল হাসনাত জানান, ইউনিসেফের গ্লোবাল চাইল্ড ম্যারেজ ইনডেক্স ২০২৬ এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহেরর হার অনেক বেশি। আইনি ফাঁকফোকর এবং জন্মনিবন্ধন রেকর্ডের জালিয়াতির সুযোগ নিয়ে দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে।   এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে এর সঠিক নজরদারি ছাড়া, ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়া অনেক বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় আইন প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাল্যবিবাহের পুরোপুরি নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৫, ২০২৬

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

হাম ও উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, একদিনে শনাক্ত ৬৪

গত ১৫ বছর ব্যাংকগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল: রুমিন ফারহানা

ড. জাহেদকে দিল্লীতে প্রবেশে বাধা দেয়ায় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লীতে প্রবেশে বাধা দেয়ার ঘটনায় জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম।   সোমবার ( ১৫ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি জানান।   জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেন, গতকাল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এবং আমি যতটুকু জেনেছি যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি দেওয়ার পরও দুই ঘণ্টা তাকে দিল্লী ইন্দিরাগান্ধী এয়ারপোর্টে বসিয়ে রাখা হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি ফিরে এসেছেন। এ ব্যাপারে আসলে আমাদের কূটনীতিক ব্যর্থতা কী এবং এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ৩০০ বিধিতে মন্ত্রীর বিবৃতি আমি দাবি করছি।   পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটা পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। নোটিশ দিলে বিবেচনা করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক: বিআরটিএ

ছবি: সংগৃহীত

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ : অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সড়ক-মহাসড়কে হতাহত কমাতে কাজ করছে সরকার: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
দিল্লির বিমানবন্দরে উপদেষ্টার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ: ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

​ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লির বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ​আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে ঘটনার আনুষ্ঠানিক ও কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। ​পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, রোববার দিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের কাছে ঢাকা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ​এদিকে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দিল্লির ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ​পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও অবস্থান কী হবে, তা আজ বিকেলে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৫, ২০২৬

অতিরিক্ত ঋণ নির্ভর বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য না: জিএম কাদের

ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ফের গ্রেপ্তার

ঢাকা বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর: বিমান প্রতিমন্ত্রী

0 Comments