রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সংঘটিত মারামারির ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সংঘটিত ঘটনার পর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম-২-কে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান।
কমিটির সদস্যরা
অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক (ফার্মেসি বিভাগ)
অধ্যাপক মো. আসাদুল হক (ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ)
অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম (দর্শন বিভাগ)
অধ্যাপক এ. নাঈম ফারুকী (ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগ)
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও অন্যান্য স্থাপনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, তদন্ত কমিটি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মূলত তিনটি স্থান পরিদর্শন করবে—
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার
রাকসু ভবন, যেখানে হামলার অভিযোগ উঠেছে
প্রক্টর দপ্তর, যেখান থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে
ড. মামুনুর রশীদ আরও বলেন, কমিটির প্রধান লক্ষ্য হলো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা যাচাই করা। মঙ্গলবার সকালে কমিটির সদস্যরা প্রাথমিক বৈঠক করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভিডিও ফুটেজ বা আলোকচিত্র পর্যালোচনা করা হয়নি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম-২ বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন শুরু করেছি। দ্রুত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। এজন্য আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি করে জানাবেন বলে তারেক রহমানকে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, আমরা আশা করছি দুই সপ্তাহ পর ত্রুটিপূণ ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) পুরোপুরি চালু করা যাবে। গ্যাস সংকটে সমস্যার গুরুত্ব অনুভব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৭ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেন। যা আজ আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হস্তান্তর করেছেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। দেশের চলমান এই গ্যাস সংকটে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীকে আস্বস্ত করেছেন তার এবং মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এই সংকট নিরসনে যা কিছু করার সুযোগ রয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার দল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করবেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এ মুহূর্তে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞদের নিয়ে গ্যাস সংকটের সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই অঞ্চলে এক্সিলারেট এনার্জির যারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের নিয়ে আজ সকালে আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজ কাশিমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। তাদের কর্মপরিকল্পনা শোনার পাশাপাশি আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সঠিকপথে এই সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। এই আলোচনায় আমরা কিছুটা হলেও আস্বস্ত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে যে গ্যাসের চাহিদা তা আমরা দুইভাবে পূরণ করে থাকি। একটি হচ্ছে আমাদের গ্যাস খনিগুলো থেকে উত্তোলনকৃত গ্যাস দিয়ে আর বাকি গ্যাস আমদানিকৃত এলএনজিকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের মাধ্যমে তা গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে থাকি। গত সপ্তাহ থেকে একটি এফএসআরইউতে ত্রুটি ধরার পড়ার পর বড় ধরনের দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমদানিকৃত গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করতে পারছি না। এজন্য গত কিছুদিন যাবৎ গ্যাস সরবরাহ কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে। এতে আবাসিক, শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎখাত ও যানবাহনের ক্ষেত্রে কষ্ট করতে হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল নিরবচ্ছিন্নভাবে এক্সিলারেট এনার্জির, যারা এফএসআরইউটি পরিচালনা করেন তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও এই ঘটনায় প্রতি মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি লোকালয় থেকে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের চর কৃষামত ফুলবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে লোকালয়ের পাশে বড় আকৃতির সাপটি দেখতে পান কয়েকজন বাসিন্দা। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। অনেকে সাপটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়রা সতর্কতার সঙ্গে অজগরটিকে আটকে রেখে বন বিভাগে খবর দেন। পরে বন বিভাগের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন মিয়া বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে কখনো এত বড় অজগর দেখা যায়নি। হঠাৎ দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।” কুড়িগ্রামের জেলা বন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান জানান, উদ্ধার করা অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। সাপটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরে এটি রংপুর চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হতে পারে। বন বিভাগ স্থানীয়দের বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু বা চালিয়ে নেওয়া যায় না। তবে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদে থাকা অবস্থায় তিনি বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা পান। কিন্তু পদ থেকে চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কোনও অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ আইনগতভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।” মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দায়মুক্তি স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নয়’ সাবেক বা বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে চলমান অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া সুরক্ষার ব্যাখ্যা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি তার পদে থাকা অবস্থায় কোনও ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন না। কিন্তু তিনি যখন আর রাষ্ট্রপতি থাকবেন না, তখন আগে বা পরে করা কোনও কাজ কিংবা অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।” এই বক্তব্য কোনও নির্দিষ্ট রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি যেকোনও রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য একটি সাধারণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা।” রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে ট্রায়াল কোর্ট, হাইকোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন আবেদন বা অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, “আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কোনও মামলা আদালতে গেলে তার বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, সেটি আদালতই নির্ধারণ করবেন।” তিনি বলেন, “সরকার কোনও কোনও মামলায় পক্ষ হয়। আবার অনেক মামলা সরকারের বিরুদ্ধেও হয়। উচ্চ আদালতে অসংখ্য রিটে সরকার পরাজিত হয়। সুতরাং সবকিছু সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে— এভাবে দেখা ঠিক হবে না।” পুলিশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটা সময় পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠে তারা এখন তুলনামূলকভাবে ভালো পারফর্ম করছে।” তিনি বলেন, “আমাদের জনগণেরও উচিত পুলিশের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সহযোগিতা করা। নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। শুধু পুলিশের ওপর সব দায়িত্ব দিয়ে দিলে হবে না। জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা থাকতে হবে।” আন্তর্জাতিক আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়নি একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কিনা— এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “এই বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী গেলে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ কিংবা সফরসঙ্গী কারা হবেন— সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।” এমনকি প্রাথমিক পর্যায়ের বিস্তারিত আলোচনাও শুরু হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “সময় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।” শিল্পের সংকটের কেন্দ্রে জ্বালানি নিরাপত্তা বাংলাদেশের রফতানি খাত এবং শিল্প উৎপাদনে ভিয়েতনামের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “সংকটটি শুধু রফতানির নয়। দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সক্ষমতাই দীর্ঘদিনের নানা সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে অর্থনীতিতে অকল্পনীয় লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে। এর সঙ্গে করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং ২০২১-২২ সাল থেকে তৈরি হওয়া ডলার সংকট যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” জ্বালানি নিরাপত্তাকে শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেই প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এই কারণে আপাতত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।” তিনি বলেন, “একজন উদ্যোক্তা বিনিয়োগের আগে চিন্তা করবেন, তিনি নিয়মিত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাবেন কি না। উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবেন কি না। পর্যাপ্ত জ্বালানি নিরাপত্তা না থাকলে দেশীয় ও বিদেশি— কোনও বিনিয়োগই প্রত্যাশিত মাত্রায় আসবে না। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের অবহেলা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির দিকে ঝোঁক তৈরি করা হয়েছিল।” এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে ওঠানামা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আগের নীতিগুলো করা হয়েছিল কিনা— সেটিও পর্যালোচনার বিষয়।” বর্তমান সরকার স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র দ্রুত সম্পন্ন হলেও সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনে কয়েক বছর সময় লাগবে। ফলে দীর্ঘদিনের সংকট রাতারাতি সমাধান হবে না বলেও সতর্ক করেন উপদেষ্টা। ‘সরকারের সব কাজ নিখুঁত হবে না, তবে আন্তরিকতা আছে’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদকদের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ওই বৈঠকে দেশের গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের অবস্থা নিয়ে কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখেছেন— বিগত সময়ে কোন খাতটি ধ্বংসের বাইরে ছিল?” উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের সব কাজ নিখুঁত হয়ে যাবে, এমন নয়। কিন্তু সরকার আন্তরিক। সরকার আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। জনগণ সরকারের এই আন্তরিকতা উপলব্ধি করবে বলে আমরা আশা করি।” ব্রিকসের সদস্যপদ এখনও পর্যালোচনায় ব্রিকসের সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদ্যোগ অব্যাহত আছে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “এই বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।” বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক বিভিন্ন সংস্থা ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়মিত পর্যালোচনা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ব্রিকসের সদস্যপদের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পক্ষে যায়— এমন সিদ্ধান্তই সরকার নেবে। ব্রিকসের সঙ্গে যুক্ত হওয়া লাভজনক মনে হলে সরকার সেটি বিবেচনা করবে।” টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: সমন্বিত পদক্ষেপের আশ্বাস দেশের বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে— এমন একটি গবেষণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে।” তিনি বলেন, “মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন শুধু টুথপেস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন উৎস থেকে এটি খাদ্য, পানি এবং পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে একটি পণ্য বা একটি খাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না।” এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, “জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে কারও নাম নয় একজন মডেলের দায়ের করা অভিযোগ এবং সেই অভিযোগে কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে বলার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে চার্জশিট অথবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমেই আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে।” তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে কারও নাম উচ্চারণ করা দায়িত্বশীল আচরণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, “তিনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সাধারণ নাগরিক— যেই হোন না কেন, প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে কারও নাম বলা উচিত নয়। কারণ এতে ওই ব্যক্তিকে সামাজিক ও প্রকাশ্য অপমানের মুখোমুখি হতে হয়।” অভিযোগকারী নিজের সমস্যার কথা সাংবাদিক ও জনগণের সামনে বলতে পারেন। এটি তার অধিকার। তবে নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে কিনা, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবসরে পাঠানো মানেই ‘রাতের ভোটে’ শাস্তি নয় ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন জেলা প্রশাসক ও যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তাদের নির্বাচনি অপরাধের কারণে অবসরে পাঠানো হয়েছে।” সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী, চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার কোনও কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো ছাড়াই অবসরে পাঠাতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও সেই বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা সাংবাদিক হিসেবে দেখেছেন যে তারা নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক ছিলেন। সেখান থেকে একটি সম্পর্ক খুঁজে বের করেছেন। কিন্তু সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে ২০১৮ সালের নির্বাচনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিচার না হলে খারাপ দৃষ্টান্ত হবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভরার তথ্য আসতে শুরু করেছিল। রাতের বেলায় ভোট শেষ করে দেওয়ার এমন ঘটনা বিশ্বের নির্বাচন জালিয়াতির ইতিহাসেও বিরল।” তার মতে, ওই নির্বাচনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি। সেখানে শুধু ডিসি ও এসপি নন; নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং অন্যান্য পর্যায়ে যারা নির্বাচনি অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাদের দায়ও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যদি ২০১৮ সালের নির্বাচনের ঘটনার বিচার না করে, তাহলে সেটি খুব খারাপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নির্বাচনি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।” ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। ২০০৮ সালের কয়েকটি কেন্দ্রে প্রতি বুথে অস্বাভাবিক দ্রুত ভোট পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শাপলা চত্বরের বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে করা মামলার বিচার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “ওই দিনের ঘটনায় কোনও আইন ভঙ্গ হয়ে থাকলে তার বিচার হতে হবে।” তিনি বলেন, “হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে দেওয়া, সমাবেশ এবং পরবর্তী অভিযানে হতাহতের অভিযোগসহ পুরো ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “ওই রাতে যে বিপর্যয় ঘটেছিল, সেটি যে কারণেই ঘটে থাকুক, আইন ভঙ্গের বিচার হতে হবে। এই সরকারের সময় সেই বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই।” ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার গুলি নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ জুলাই আন্দোলনে ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার গুলি ও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের হাতে দীর্ঘদিন ধরে টাইপ-৫৬ রাইফেল ছিল, যা সাধারণভাবে ‘চাইনিজ রাইফেল’ নামে পরিচিত। এই রাইফেলে ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহৃত হয়।” টাইপ-৫৬ মূলত সামরিক মানের অস্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর কার্যকর মারণসীমা অনেক দীর্ঘ। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিও কয়েকশ মিটার দূরের মানুষকে হত্যা করতে পারে। এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ পুলিশের হাতে দেওয়া উচিত ছিল না। পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের এই অস্ত্র থেকে গুলি করার ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফলে ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার গুলি শুধু অজ্ঞাত কোনও স্নাইপার ব্যবহার করেছে— এমন প্রচারণা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। তবে কার গুলিতে কে নিহত হয়েছেন, তা নির্ধারণে সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি। মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব গত ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলা থেকে মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছ থেকে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করে কোনও তথ্য তিনি পাননি। তবে ওই বাহিনী জড়িত না থাকলেও একজন নিখোঁজ নাগরিককে খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “পরিবার অভিযোগ করছে, একজন মানুষকে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা এবং পরিবারকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, তিনি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আবার কথা বলবেন। তবে তদন্তের আগে ঘটনাটিকে সরাসরি ‘গুম’ হিসেবে অভিহিত না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন। জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নির্মিত জাদুঘরের উদ্বোধন নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৫ আগস্ট এটি উদ্বোধন করা হবে। তিনি বলেন, জাদুঘরের কিছু কাজ অসম্পূর্ণ ছিল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি নিজেও কয়েক দিন ধরে কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, “কোনও সমস্যা হবে না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ৫ আগস্ট জাদুঘর উদ্বোধন হবে।” এই বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরু করা।” ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন একসঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নির্বাচন শুরু হওয়ার পর সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভোট শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন কমিশন সময়সূচি নির্ধারণ করবে। তবে এই বছরের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি এখনও বহাল রয়েছে।” সাগর-রুনি হত্যার সঠিক বিচার না হলে বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হবে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে বারবার সময় নেওয়ার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন প্রায় স্থবির হয়ে থাকা কয়েকটি হত্যা মামলায় নতুন করে গতি আনা হচ্ছে। কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তও নতুন করে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “অতীতে অমীমাংসিত থাকা সব হত্যাকাণ্ড নিয়েই সরকার কাজ করবে। প্রতিটি মানুষের জীবন সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনও সাংবাদিককে হত্যা করা হয়ে থাকলে সেটি রাষ্ট্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বিশেষভাবে গুরুতর ঘটনা।” তিনি বলেন, “সাগর-রুনি হত্যার একটি সুনির্দিষ্ট ও সঠিক বিচার না হলে দেশে বিচার বলে কিছু আছে কিনা— সেই প্রশ্ন থেকে যাবে।” তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে শতাধিকবার আদালতে সময় চাওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “সময় দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। কিন্তু যথাযথ তদন্ত না করে বারবার সময় চাওয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়ের মধ্যে পড়ে।” আগের সরকারের আন্তরিকতার অভাবের কারণে তদন্ত এগোয়নি— এমন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তে গতি আনার সুযোগ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মামলার রায় কী হবে, সেটি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিষয়।”