কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি বিনিময় ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বুধবার নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে মিনিস্ট্রি ফর প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজের (এমপিআই) সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নেয়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে এমপিআইয়ের দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান ডায়না রেইচ প্রতিনিধিত্ব করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তি, দুগ্ধ শিল্প, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের উন্নত বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারের বিষয়টি তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, তাজা ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আমদানি স্বাস্থ্যমান (আইএইচএস), স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা, পণ্যের মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে উন্নত খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং ইলেকট্রনিক ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেশন (ই-ফাইটো) ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সুসংগঠিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে উত্তরণ-পরবর্তী ট্রানজিশন সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরাম প্রতিষ্ঠা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয় শিশুরা, অথচ এর সবচেয়ে কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে তাদেরই। তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে বিপর্যস্ত হচ্ছে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা। গত দুই বছরে বাংলাদেশের ৩৮ জেলার ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি দুর্যোগের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। দুর্যোগ বা তাপপ্রবাহের পর অসুস্থ হয়েছে ৮০ শতাংশ শিশু। আবহাওয়াজনিত কারণে গত এক বছরে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৪৯ শতাংশ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল। শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের এমন উদ্বেগজনক প্রভাব উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের এক জরিপে। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (কপ৩১)। এ সম্মেলন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের তথ্য তুলে ধরে সেভ দ্য চিলড্রেন। একই সঙ্গে জলবায়ু আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাদের কাছে পৌঁছায় এমন অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জরিপটি পরিচালিত হয় গত ৯ থেকে ১৭ অক্টোবর। এতে ৩৮টি জেলার জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৩৭৫ শিশুর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। জরিপ পরিচালনায় অংশ নেয় ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) ১৭২ জন শিশু গবেষক। জরিপের আওতায় ছিল উপকূলীয় গ্রাম, নদীবেষ্টিত চর, হাওর, পার্বত্য অঞ্চল, চা-বাগান ও শহরের বস্তি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে অংশগ্রহণকারী ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি শিশুর অভিজ্ঞতায় এসেছে তীব্র তাপপ্রবাহ, যার হার ৫৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে বন্যা, ৪২ শতাংশ। জলবায়ু দুর্যোগের প্রভাব পড়ছে শিশুদের শিক্ষাজীবনেও। গত এক বছরে দুর্যোগ বা আবহাওয়াজনিত কারণে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৪৯ শতাংশ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল। অনুপস্থিতির হিসাব দেওয়া ৬১৭ শিশু মোট ৭ হাজার ৫৬৭ শিক্ষাদিবস হারিয়েছে। অর্থাৎ দুর্যোগের কারণে শুধু বিদ্যালয় বন্ধ থাকছে না, দীর্ঘ হচ্ছে শিশুদের শিক্ষার ক্ষতিও। অথচ মাত্র ৩৫ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, তাদের বিদ্যালয়ে দুর্যোগের সময় কী করণীয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা শিক্ষা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগ বা তাপপ্রবাহের পর তারা অসুস্থ হয়েছে। এ ছাড়া ৫৩ শতাংশ শিশু নিরাপদ পানীয় জল পেতে সমস্যার মুখে পড়েছে। অর্থাৎ দুর্যোগের অভিঘাত কাটার পরও বিশুদ্ধ পানির অভাব ও অসুস্থতা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সতর্কবার্তা পৌঁছায় না শিশুদের কাছে দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অধিকাংশ শিশুর কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না। জরিপে দেখা গেছে, সর্বশেষ দুর্যোগের আগে মাত্র ২৫ শতাংশ শিশু আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছে এবং তা বুঝতে পেরেছে। বিপরীতে ৪৮ শতাংশ শিশু কোনো সতর্কবার্তাই পায়নি। ফলে দুর্যোগের আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু। দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগের পর তাদের এলাকায় বাল্যবিবাহ বেড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় এ হার ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করা ৫৬১ শিশুর মধ্যে ৬৩ শতাংশ জানিয়েছে, সেখানে মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচাগার বা নিরাপদ স্থান ছিল না। জলবায়ু পরিবর্তনের মানসিক প্রভাবও উঠে এসেছে জরিপে। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা ভাবলে তারা ভয় পায়। বিপরীতে মাত্র ৪ শতাংশ শিশু আশাবাদী বোধ করে। অথচ বিদ্যালয় বা স্থানীয় সরকার কখনো দুর্যোগ পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত জানতে চায়নি, এমন শিশুর হার ৮১ শতাংশ। একই সঙ্গে ৮১ শতাংশ শিশু জলবায়ু কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজেদের কাছে অর্থায়ন পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে। ঝুঁকিতে পিছিয়ে থাকা শিশুরা জরিপে দেখা গেছে, জলবায়ু সংকটের প্রভাব সব শিশুর ওপর সমানভাবে পড়ছে না। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় ৮৩ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগের পর তাদের পরিবারের আয় কমে গেছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাজীবন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও অন্য শিশুদের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। জরিপে প্রতিবন্ধী শিশুদের ৫৪ শতাংশের শিক্ষা বন্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সব শিশুর ক্ষেত্রে এ হার ২৫ শতাংশ। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, শিশুরা জলবায়ু সংকট তৈরি করেনি, কিন্তু এর প্রভাব মোকাবেলার জন্য তাদেরই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। নিরাপদ বিদ্যালয়, বিশুদ্ধ পানি, শিশুদের বোধগম্য আগাম সতর্কবার্তা, অসুস্থ হলে চিকিৎসা এবং নিজেদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার সুযোগ তাদের প্রধান চাহিদা। কপ৩১-এ পাঁচ দফা দাবি আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ৩১ সম্মেলনে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ফলাফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ুবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশুদের অধিকার, চাহিদা ও মতামত অন্তর্ভুক্ত করে স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ; স্বাস্থ্য, পানি, পুষ্টি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় শিশু-কেন্দ্রিক অভিযোজন কার্যক্রম; জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা; দুর্যোগে শিশুদের শিক্ষাজীবন, বাস্তুচ্যুতি, বাল্যবিবাহ ও মানসিক ক্ষতিকে লস অ্যান্ড ড্যামেজের আওতায় স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিশুদের কাছে পৌঁছানো জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানো। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রধান বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিলগুলোর মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থায়ন শিশু-সংবেদনশীল উদ্যোগে সহায়তা করেছে। এ অর্থায়ন অন্তত দ্বিগুণ করা এবং শিশু ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের জন্য বিশেষ অর্থায়নের সুযোগ তৈরির আহ্বানও জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ৫ প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দাবির পাশাপাশি দেশের ভেতরেও পাঁচটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এগুলো হলো তীব্র তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু-সহনশীল বিদ্যালয় গড়ে তোলা, দুর্যোগের পর শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দুর্যোগের আগে ও পরে শিশুদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং জলবায়ুবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশুদের অংশগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের সতর্কতা ও বিদ্যালয়ের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি শিশুদের বোধগম্য ভাষায় আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে হবে। দুর্যোগে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিক্ষার ক্ষতি পূরণে অর্থায়ন করতে হবে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগার ও নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আগাম সতর্কবার্তার সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম যুক্ত করে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুসন্তান রয়েছে এমন পরিবারকে সাত দিনের মধ্যে নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের শিশুরা এই সংকট সৃষ্টির জন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়, অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি ভুগছে। জরিপে তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো উঠে এসেছে; এসব চাহিদা ও সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।’ তিনি বলেন, গত দুই বছরে ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি দুর্যোগের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। শুধু এই পরিসংখ্যানই পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরি আহ্বান জানায়। কপ৩১ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে জাতীয় প্রেক্ষাপটগুলো বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো কীভাবে বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হতে পারে, তা দেখতে হবে। যাতে জলবায়ু ও অর্থায়নবিষয়ক সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে শিশুদের কাছে পৌঁছায়। সুমন সেনগুপ্ত আরো বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি দায়িত্ব।
পোশাক কারখানাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কোন এলাকায় কত প্লাটুন বিজিবি বিজিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে মিরপুরে তিন প্লাটুন, সাভার ও আশুলিয়ায় ১১ প্লাটুন, গাজীপুরে ১২ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জে সাত প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) ও রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকল (আরসিভি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ড্রোনে নজরদারি, ব্যবহার হচ্ছে বডি ক্যামেরা শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে বিজিবি। ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনকালে সদস্যরা বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ইম্প্রোভাইজড বডি ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করছেন। বিজিবি সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল থেকে এসব কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবির এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেন বাংলাদেশের বেকারত্ব পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে না তোলে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়। এ কারণে প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে দেশের প্রথম এই এআই বিজনেস সামিটের আয়োজন করে। রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান বিশ্বের একটি বড় পরিবর্তনের অনুঘটক। আগামী এক দশকে বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থানসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে এআই গভীর প্রভাব ফেলবে। তাই এই সম্মেলন নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের একটি পথরেখা তৈরির মঞ্চ। বাংলাদেশে বিপুল তরুণসমাজকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে। যেভাবে তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম বাড়িয়েছে, ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতে এআই খাতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশ নতুন পরিচয় পেতে পারে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর তদারকি না থাকলে এআই মানবসভ্যতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে মানবাধিকার, নৈতিকতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে মানবকেন্দ্রিক ‘জাতীয় এআই নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগও এতে রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এআইকে শুধু খরচ কমানোর মাধ্যম হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য, সেবা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, গবেষক ও তরুণদের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং অংশ নেওয়া গবেষক, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন জানান।