জাতীয়

জাহাজ ও শিক্ষকতায় আয়ের বড় ব্যবধান, সংকটে মেরিন একাডেমি

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রে জাহাজের চাকরিতে মাসে আয় ১৫ লাখ টাকার ওপরে। অথচ ডাঙায় মেরিন একাডেমিতে শিক্ষকতা করলে বেতন জোটে ১ লাখ টাকারও কম! আকাশ-পাতাল এই ব্যবধানের কারণেই দেশের প্রথম সারির মেরিটাইম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে শিক্ষক মিলছে না।

 

 

বারবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না যোগ্য শিক্ষক। আর অভিজ্ঞ শিক্ষকরাও একে একে একাডেমি ছেড়েছেন। এতে মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশে সাধারণ চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে লাখো তরুণের ভিড় থাকলেও মেরিন একাডেমির চিত্রটা ঠিক এর উল্টো।

 

 

এর প্রধান কারণ, সাধারণ কোনো ডিগ্রিতে এই একাডেমির শিক্ষক হওয়া যায় না। এখানে পড়াতে হলে মাস্টার মেরিনার বা চিফ ইঞ্জিনিয়ারের মতো প্রফেশনাল ডিগ্রি লাগে, দরকার হয় সমুদ্রগামী জাহাজে কাজের অভিজ্ঞতা। যারা এই ডিগ্রি অর্জন করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ব্যাপক চাহিদা। ডলারে বেতন পান তারা।

 

 

তাই উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ এই মেরিনাররা ছাড়ছেন মেরিন একাডেমির চাকরি। সম্প্রতি আগামীর খবরের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
 

 

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী জানান, একজন মেরিন ক্যাডেটের পড়ালেখার পেছনে সরকার তিন বছরে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। চাকরির শুরুতেই তাদের মাসিক বেতন হয় ৫ লাখ টাকার বেশি।

 

 

আনাম চৌধুরীর শঙ্কা, দ্রুত এই শিক্ষক সংকটের সমাধান না হলে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি বড় ঝুঁকিতে পড়বে।

 

প্রথমত, শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) ‘হোয়াইটলিস্ট’ বা বৈশ্বিক স্বীকৃতি থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা তৈরি হবে।
তিনি জানান, ২০১২ সালে ফিলিপাইন এমন বিপদে পড়েছিল। কাটিয়ে উঠতে তাদের ৯ বছর লেগেছিল। আর হোয়াইটলিস্ট থেকে বাদ পড়লে এই একাডেমি থেকে পাস করা ক্যাডেটদের কোনো বিদেশি জাহাজে চাকরির সুযোগ থাকবে না।

 

 
চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির জনবল কাঠামোয় শুধু প্রফেশনাল শিক্ষক পদ আছে ২০টি। বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র অর্ধেক। শূন্য পদে বারবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তিতেও কোনো সাড়া মেলেনি। হাতেগোনা যে কয়েকজন আছেন, তাদের ওপরই সব ক্লাসের চাপ পড়ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ক্যাডেটদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ।

 

 

মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই সদস্যরা বলছেন, সামনে আইএমও অডিট টিম আসার আগে যদি শিক্ষক সংকটের সুরাহা না হয়, তাহলে বড় বিপদে পড়বে বাংলাদেশ।

 

 

শিক্ষক না পাওয়ার মূল কারণ একেবারেই সরল। একজন মাস্টার মেরিনার বা চিফ ইঞ্জিনিয়ার যখন কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে চাকরি করেন, তার মাসিক বেতন ১৫ লাখ টাকার বেশি (১২ থেকে ১৫ হাজার ডলার)। অথচ মেরিন একাডেমিতে যোগ দিলে সরকারি স্কেলে তার বেতন লাখ টাকার অনেক নিচে। মাসে ১৫ লাখ টাকার সমুদ্রে জাহাজের বিলাসবহুল চাকরি ছেড়ে দেশের একাডেমিতে পড়াতে আসতে চান না মেরিনাররা।

 

 

এমনিতেই নতুনরা আসছেন না, তার ওপর যারা আগে যোগ দিয়েছিলেন, তারাও টিকছেন না। একটি পরিসংখ্যান বলছে, ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক একাডেমি ছেড়ে চলে গেছেন। বিশাল বেতন নিয়ে তারা হয় আবার জাহাজে ফিরে গেছেন, নয়তো বিদেশি নামিদামি প্রতিষ্ঠানে বিপুল বেতনে যোগ দিয়েছেন।

 

 

তাদের একজন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুল মান্নান। যিনি ২০২২ সালে টিউটর হিসেবে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে চাকরি শুরু করেছিলেন। এক বছর চাকরির পর কাঙ্ক্ষিত বেতন-ভাতা না পেয়ে চাকরি ছেড়ে লন্ডন চলে যান। তিনি জানালেন, চট্টগ্রামের ছেলে হিসেবে শিক্ষকতায় থাকতে চেয়েছিলাম। নির্ধারিত বেতন-ভাতা না পেয়ে এক বছর নিজের সঞ্চয় ভেঙে শিক্ষকতা করেছি। আশাহত হয়ে দেশ ছেড়েছি। আবেগ দিয়ে তো পেট চলে না। এখন লন্ডনের ল্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির ফ্লিটউড নটিক্যাল কলেজে সিনিয়র টিউটর হিসেবে শিক্ষকতা করছি। শুধু বেতন মাসে ৪ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা)। এর বাইরে অন্য সুযোগ-সুবিধা। থাকছি পরিবারসহ।

 

 

তাহলে প্রশ্ন— ২০০২ সালের আগপর্যন্ত শিক্ষকরা কীভাবে কাজ করতেন? তখন একাডেমির শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতা বা আকর্ষণীয় ‘মেরিন অ্যালাউন্স’ চালু ছিল। ব্রিটিশ বা আইএমওর বিভিন্ন প্রজেক্টের অধীনে তারা আন্তর্জাতিক স্কেলে বা তার কাছাকাছি সম্মানজনক বেতন পেতেন। বেতনের পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অন্যান্য সুবিধা এতই চমৎকার ছিল যে, জাহাজের বেতনের কিছুটা কম হলেও অভিজ্ঞ মেরিনাররা হাসিমুখেই শিক্ষকতা পেশায় আসতেন।

 

কিন্তু জটিলতা শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস এক চিঠির মাধ্যমে এই বিশেষ ভাতা দেওয়া বন্ধ করে দিলে সংকট শুরু হয়। একে একে শিক্ষকরা একাডেমি ছাড়তে থাকেন। মেরিন একাডেমি ও অ্যালামনাইরা অনেক চেষ্টা করেও বিশেষ ভাতা আর চালু করতে পারেননি। এরপর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। সেই মামলা এখনো ঝুলে আছে।

 

 

মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ বি এম শামীম বললেন, ‘ইনস্ট্রাকটর নিয়োগের একাধিক বোর্ডে আমি দেখেছি, চার পদের বিপরীতে মাত্র একজন ইন্টারভিউ দিয়েছেন। সেই একমাত্র প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করলেও বেতন কাঠামো বাড়ার আশা না পেয়ে যোগ দেননি। এভাবে চলতে থাকলে তো একাডেমির আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখা যাবে না। সবাই মিলে বিপদে পড়ব।’

 

 

আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার (আইএমও) বাধ্যবাধকতা এবং দেশীয় আইন অনুযায়ী মেরিন ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ শুধু দক্ষ ও সনদপ্রাপ্ত মেরিন পেশাদারদের দ্বারাই পরিচালনা করা আবশ্যক। আইএমও নিয়মিতভাবে একাডেমিগুলোর মান নিরীক্ষা করে থাকে। ফলে যোগ্য শিক্ষক না থাকলে একাডেমি ও মেরিনাররা ঝুঁকিতে পড়বেন। মেরিন একাডেমির শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষ বেতন কাঠামো (স্পেশাল পে স্কেল) তৈরির পরামর্শ মেরিনারদের।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে সরকার। অবকাঠামো, পরিবহন, লজিস্টিকস, শিল্প, জ্বালানি, পরিবেশ ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চীনের চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়।   ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের পক্ষে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।   অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন উপস্থিত ছিলেন।   যেসব খাতে বাড়বে সহযোগিতার সুযোগ   সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা, লজিস্টিকস, শিল্প, জ্বালানি এবং পরিবেশ খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।   সমঝোতা স্বাক্ষরের পর চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।   মোংলা বন্দরের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি   এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে।   বন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের এ উদ্যোগ দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাহাজ ও শিক্ষকতায় আয়ের বড় ব্যবধান, সংকটে মেরিন একাডেমি

সংগৃহীত ছবি

মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
মোংলার পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে বাগেরহাটের মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।   আজ সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তিনি রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।   তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে মোংলা যাচ্ছেন। সেখানে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে তিনি সড়কপথে খুলনা যাবেন এবং জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। বিকেলে হেলিকপ্টারে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।’   প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় তিনি মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।    সাড়ে ১০টায় বন্দরে দুটি কনটেইনার জেটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।   এরপর বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে মোংলা বন্দর থেকে সড়কপথে বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে রওনা হবেন। বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে তিনি মাজার জিয়ারত করবেন। বেলা ১টা ১৫ মিনিটে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়ে ২টা ১৫ মিনিটে খুলনা সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি করবেন।   বিকেল ৩টায় তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ৫টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।   প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম অরিকুল আলম, প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এডিসি স্কোয়াড্রন লিডার সৈয়দ নাজমুল হোসেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৫, ২০২৬

অবৈধ অভিবাসন রোধে ১৪ জেলা চিহ্নিত: শামা ওবায়েদ

শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা হত‍্যা মামলায় গ্রেফতার

ফাইল ছবি

আবেগ নয়, যুক্তি ও বাস্তবতায় পরিচালিত হয় রাষ্ট্র: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে সহজ অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তায় সরকারের গুরুত্বারোপ

সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার পাশাপাশি সহজ শর্তে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।    বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের এক সেমিনারে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এ কথা বলেন।   ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যে গতকাল শুরু হয় এই সোলার এক্সপো। দু’দিনব্যাপী প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার আন্তরিক। এ খাতের উন্নয়নে সেমিনারগুলোতে উঠে আসা সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   সোলার এক্সপোতে ব্যাপক সাড়া দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে এ শুভ সূচনাকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।   ‘বাংলাদেশের সোলার বিপ্লবের জন্য নীতি, জনশক্তি ও মূলধন’ প্রতিপাদ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে এ এক্সপোর আয়োজন করে।   এক্সপোর অংশ হিসেবে আয়োজিত চারটি বিশেষায়িত সেমিনারে সৌরবিদ্যুৎ খাতের নীতিগত পরিবেশ, সরকারি ভবনে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, আবাসিক ও শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং বিনিয়োগে অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।   সেমিনারগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর ও শুল্ক-সুবিধা অব্যাহত রাখা, স্বল্প সুদের ঋণ ও বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বেসরকারি মূলধন আকৃষ্ট করা এবং কার্বন ক্রেডিট থেকে আয় করার সুযোগ তৈরির সুপারিশ করা হয়।   এছাড়া সরকারি ভবনে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে ভবনগুলোর তালিকা তৈরি ও কাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিল্প ও আবাসিক খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে উন্নতমানের সরঞ্জাম আমদানি, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের ব্যবহার, নেট মিটারিং সহজ করা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা জোরদারের সুপারিশও উঠে আসে।   সেমিনারগুলোতে আলোচকরা বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি গ্রিডে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি এবং সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   এক্সপোতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, সোলার মডিউল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। এতে সরকারি সংস্থা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।   আয়োজকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এক্সপোতে ৮০টির বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন ও স্টল, ৫ শতাধিক প্রতিনিধি এবং ৫ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশ নেয়।   সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   সমাপনী দিনে এক্সপোর স্পনসর ও স্টলে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের পরিবেশবান্ধব গাছ সম্মাননা স্মারক হিসেবে দেওয়া হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাতাল মেট্রোরেলের চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

ছবি: সংগৃহীতছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের জন্য নির্মিত হবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল : শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

0 Comments