সারাদেশ

সোনারগাঁয়ের সাবেক ইউএনও এবার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

নিজের সততা, মেধা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে একের পর এক ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা রহমান। তার নতুন কর্মস্থল ঢাকা জেলা।

 

গত রোববার (১০ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ফারজানা রহমানের পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ফারজানা রহমান নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার সন্তান। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি প্রকৌশলে লেখাপড়া করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি ৩৪তম বিসিএস ক্যাডারের একজন চৌকস কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস ৩৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা ফারজানা রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি কক্সবাজার সদরে সততার সঙ্গে নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সোনারগাঁয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দেওয়া হয়। সোনারগাঁয়ে ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর তিনি প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি মানুষের জন্য মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

এছাড়া বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন তিনি। এ কারণে অল্প সময়েই সর্বমহলে প্রশংসিত হন ফারজানা রহমান।

সোনারগাঁয়ে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলার মানুষের কল্যাণে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

ফারজানা রহমান বলেন, “পদোন্নতি হলো কাজ করার আরও বড় সুযোগ। তবে সোনারগাঁয়ে দায়িত্ব পালনকালে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থেকে সোনারগাঁবাসীর জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। যেখানেই দায়িত্ব পালন করি না কেন, সোনারগাঁবাসীর কথা চিরকাল মনে থাকবে আমার।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ৩ নারীকে পুশইন করল বিএসএফ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জোরপূর্বক পুশইন করা দুই নারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।   শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন বাহিনীর সদস্যরা।   আটকরা হলেন নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গা শোলপুর গ্রামের রানা মোল্লা (২৪), তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার লিমা (২২) এবং খুলনা জেলার বেজেরডাঙ্গা গ্রামের ময়না খাতুন (২০)।   স্থানীয় ও আনসার সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর দেবলছড়া বিওপির বকসিটিলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিএসএফ ওই ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে রাখে।   খবর পেয়ে উপজেলা আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেন। পরে পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সকাল সোয়া ৯টায় তাদের কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।   প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, জীবিকার সন্ধানে প্রায় দুই মাস আগে সিলেট সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার ভোরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের চোখ বেঁধে বকসিটিলা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়। পরে সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাদের কমলগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।   কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন, আটকদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা বাংলাদেশি। কাজের তাগিদে কয়েক মাস আগে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। ইতোমধ্যেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২ ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

ছবি: সংগৃহীত

কওমি ছাত্ররা সরে দাঁড়ালেও শিল্পকলায় অনুষ্ঠান করতে পারছে না এনসিপি

ছবি: সংগৃহীত

পৌনে ৯ কোটি টাকায় সংস্কার, এক মাসেই ধসে গেল সড়ক

ছবি: সংগৃহীত
সড়কে দোকান বসাতে নিষেধ করায় ‘বিএনপি নেতার মারধর’, যুবদল নেতার মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে রিকশাভ্যানে করে দোকান বসাতে নিষেধ করায় মারধরে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।   শুক্রবার দুপুরে ওমর আলী মাতবর এলাকার ওই ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় মামলা হওয়ার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।   মৃত ওই ব্যক্তি হলেন ফজল আমিন। তিনি নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।   আর মামলায় মো. শাহজাহান নামে যাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দেন। তার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।   শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ফজল আমিনের ময়নাতদন্ত চলাকালে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মূলত রাস্তায় রিকশাভ্যানে দোকান বসতে দিয়ে চাঁদাবাজি করেন শাহজাজান নামের ওই ব্যক্তি।   কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী বৈঠক করে স্থানীয় একটি স্কুলের সামনে এরকম দোকান না বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়।   কিন্তু শুক্রবার আবার স্কুলের সামনে রিকশাভ্যান নিয়ে দোকান বসানো হয়।   মৃত ফজল আমিনের ছেলে জোবায়ের হক ইনান সাংবাদিকদের বলেন, “সেখানে ভ্যান বসালে ছাত্রছাত্রীদের হাঁটাচলায় ও গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল।   “গতকাল আবার ভ্যান বসানোয় বাবা জানতে চায় কেন আবার ভ্যান বসানো হয়েছে? এটা শুনে, শাহজাহান ও তার ছেলে বাবার বুকে ধাক্কা দেয়। মারধর করে।”   ইনান বলেন, “আমার বাবার ওপেন হার্ট সার্জারি করা। বুকে ধাক্কা দেওয়ার ১০ মিনিট পর বাবা পড়ে যান।”   তার অভিযোগ, “শাহজাহান এলাকায় চাঁদাবাজি করেন। উনিও বিএনপির রাজনীতি করেন। হাইব্রিড বিএনপি। ৫ অগাস্টের পর বিএনপি হয়েছে। ১৭ বছর তাদের কোনো দেখা ছিল না।”   জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ) কাজী মো. বিধান আবিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওমর আলী মাতবর সড়কে ফজল আমিনকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। হয়ত আগে থেকে ওনার শারীরিক দুর্বলতা বা কোন অসুস্থতা ছিল।   “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে, কী কারণে ওনার মৃত্যু হয়েছে।” সড়কে রিকশা ভ্যান বসিয়ে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা কাজী মো. বিধান আবিদ বলেন, “রাস্তায় রিকশা ভ্যান না বসাতে ফজল আমিন নিষেধ করেছিলেন বলে জেনেছি। তবে সেখানে চাঁদাবাজি হত কিনা সেটা আমরা এখনো জানি না।   “পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আটক করতে আমাদের চেষ্টা চলছে।”   চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ জানান, “ফজল আমিন আমাদের সংগঠনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। ওমর আলী মাতবর রোডে স্থানীয় সমাজের মধ্যে রাস্তায় রিকশা ভ্যান বসানো নিয়ে বিরোধ হয় বলে শুনেছি।”   যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই মো. শাহজাহানের কোন রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে যুবদলের এ নেতা বলে, “রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য না। অপরাধ হলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হচ্ছে কিনা সেটা জরুরি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে জামায়াত: রাশেদ খান

ছবি: সংগৃহীত

মক্কা চুক্তি নিয়ে সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত : আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা

সহপাঠীদের সঙ্গে তোলা ইসরাত জাহান রিমার ছবি: সংগৃহীত
ভাড়া বাসা থেকে নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

জামালপুর পৌর শহরে একটি বাসা থেকে ইসরাত জাহান রিমা (২৫) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) রাতে শহরের কাচারিপাড়ার স্বপ্নপূরী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নিহত ইসরাত জাহান জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুরি গ্রামের রাশিদুল্লাহ মন্ডলের মেয়ে। তিনি জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।   জানা গেছে, বদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশকে খবর দেন পাশের রুমের ভাড়াটিয়া। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।   সানজিদা আফরিন নামে তার এক সহপাঠী বলেন,রিমার একটি ছেলে সন্তান আছে। ওই সন্তান তার প্রথম স্বামীর কাছে থাকে। মাদারগঞ্জের তালুকদারবাড়ির শুভর সঙ্গে রিমার দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় বলে জানা যায়।   বাড়ির মালিক মোবারক হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চার মাস আগে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন ইসরাত জাহান। আশেক মাহমুদ কলেজে ইংরেজিতে পড়তেন তিনি, তার স্বামীর নাম শুভ।   জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, জরুরি সেবা নম্বরে কল পেয়ে ভিতর থেকে বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত রিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ফায়ারসার্ভিস। মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ২ হাজার ব্লক লুট, আতঙ্কে কৃষক

ছবি: সংগৃহীত

কারওয়ান বাজারে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

ফারুকী হত্যার এক যুগ, এখনো শুরু হয়নি বিচার

0 Comments