সারাদেশ

আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদী ফের কারাগারে

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ফজলুল করিম সাঈদী। সংগৃহীত ছবি
ফজলুল করিম সাঈদী। সংগৃহীত ছবি


চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল করিম সাঈদী একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ নিয়ে ’২৪-এর ৫ আগস্ট পরবর্তী দ্বিতীয়বার জেলবন্দি হলেন তিনি।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাঈদী কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তার বিরুদ্ধে হওয়া একটি জিআর মামলায়।


এ সময় আদালতের বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফজলুল করিম সাঈদীর আইনগত কৌঁসুলি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী গোলাম ফারুক খান কাইছার।

তিনি বলেন, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া একটি জিআর মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটার পর আদালত কর্তৃক জামিনে ছিলেন। তবে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি ওই মামলার পরবর্তী দুই ধার্য তারিখে অনুপস্থিত ছিলেন।


এই অবস্থায় আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে।
আইনগত কৌঁসুলি গোলাম ফারুক খান কাইছার জানান, সর্বশেষ রবিবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, ২০২৪-এর ২১ ডিসেম্বর প্রাইভেট কারে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ফেনীর মহিপাল এলাকায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন ফজলুল করিম সাঈদী।


পরে তাকে চকরিয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। সাঈদী আওয়ামী লীগের সময়ে পরপর দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
পাবনার হেমায়েতপুরের মন্ডলপাড়ার পদ্মকোল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফারজানা শারমিন পুতুল।
শিকড় ভুলে গেলে ৫ আগস্ট বারবার ফিরে আসবে : পুতুল

যারা শিকড় ভুলে যায়, তাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে বারবার ৫ আগস্ট ফিরে আসে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনার হেমায়েতপুরের মন্ডলপাড়ার পদ্মকোল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘যারা বলেন, আমরা কেন মাঠে-ঘাটে গিয়ে খাল খনন করছি? তাদের বলতে চাই, আমাদের শিকড় ভুল গেলে চলবে না। আমরা যারা শিকড় ভুলে যাই, তাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে ওই ৫ আগস্ট বারবার ফিরে আসে।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য আমাদের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। আমাদের চেয়েছি বলেই ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি বড় প্রকল্প সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই হাতে নিতে পেরেছি। আমরা চেয়েছি বলেই প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করতে পেরেছি।’ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে মন্ডলপাড়া থেকে নাজিরপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন করা হবে। এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে এই খালের পানি ব্যবহার, প্রাকৃতিকভাবে মৎস্য উৎপাদনসহ নানা কারণে খালটি খনন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যরাতে উত্তাল উত্তরা, শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর

শারমীন জাহানছবি : সংগৃহীত

সাভারে জাবি ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যরাতে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান, আটক ১৫

গাজীপুরের টঙ্গীতে আলোচিত হাজীর মাজার বস্তি এলাকায় মধ্যরাতে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   শনিবার (১৫ মার্চ) রাত পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারের নেতৃত্বে এ যৌথ অভিযান শুরু হয়।   অভিযানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বস্তির বিভিন্ন গলি, বাসাবাড়ি ও সন্দেহভাজন স্থানে তল্লাশি চালান। অভিযান চলাকালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ জনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।   স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হাজীর মাজার বস্তি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম বড় মাদক কেনাবেচার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এখানে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে রয়েছে হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য।   স্থানীয়দের দাবি, এই বস্তিকে ঘিরে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এখান থেকে গাজীপুর, টঙ্গীসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করা হয় বলে ধারণা করা হয়। ফলে এলাকাটিকে অনেকেই মাদকের ‘পাইকারি বাজার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এলাকায় মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।   এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযান শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল। ছবি : সংগৃহীত

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

সংগৃহীত ছবি

আসামি ধরতে গিয়ে ‘মবের’ শিকার ওসি!

কুড়িগ্রাম বিশেষ বিদ্যালয়ের বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈদের পোশাক বিতরণ।

সহস্রাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু বেছে নিল নিজ পছন্দের ঈদ জামা

মৃতের বাড়িতে স্বজনরা।ছবি: সংগৃহীত
শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

রংপুরে দেড় বছর বয়সী ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা।শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, সূচনা ঘোষ (৪০) ও তার ছেলে জয়দেব ঘোষ (১৬ মাস)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ মাস আগে ছেলে সন্তানের জন্মের পর থেকেই সূচনা ঘোষ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যেতেন। এ ছাড়া প্রায়ই শিশু সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করার কথা বলতেন। নিহতের শাশুড়ি গীতা রাণী ঘোষ জানান, ছেলের বউ সূচনা ঘোষের মানসিক সমস্যার থাকায় তিনি নাতি জয়দেবকে চোখে চোখে রাখতেন। শনিবার দুপুরে তার কোল থেকে নাতিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য নিয়ে যান ছেলের বউ। বাচ্চাকে তার কাছে দিয়ে তিনি সংসারের কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আধঘণ্টা পর তার বড় নাতনী এসে তার মাকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু সাড়াশব্দ না পেয়ে আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে। পরে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেখা যায়, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের উপর দিয়ে প্রবেশ করেন। তখন বিছানায় শিশুর লাশ আর ছেলের বউ সূচনা ঘোষের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। নিহত সূচনা ঘোষের ননদ সোমা ঘোষ বলেন, ভাবী সূচনা ও তার মেয়ে পূজা একইসাথে গর্ভবতী হন। মেয়ে এবং মা ১৫ দিন আগে ও পরে বাচ্চা প্রসব করেন। এ বিষয়টি সূচনা ঘোষ মানসিকভাবে মেনে নিতে পারতেন না। প্রায়ই তিনি বলতেন, ‘কেন বাচ্চা নিলাম, কেন এমন ভুল করলাম?’ এসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে করতেই তিনি ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। তিনি বলেন, তাকে ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ওষুধ খেতেন না। নিয়মমতো ঘুমাতেন না, ঠিকমতো খাবার খেতেন না এবং গোসলও করতেন না। এ নিয়ে পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন। প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগম বলেন, সূচনা ঘোষ খুব ভালো ছিল। কিন্ত বাচ্চা হওয়ার পর থেকে মাথায় সমস্যা হয়ে যায়। খালি বাচ্চাটাকে মেরে নিজে মরতে চাইতো। রোববার দুপুরে সাজাপুর এলাকায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকার্ত পরিবেশ। লাশ সৎকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। সেখানে তার বাবা নিখিল ঘোষের সঙ্গে কথা হয়।তিনি বলেন, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাদেরকে ফোন দিয়ে জানানো হয় তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তারা মেয়ের বাড়িতে চলে আসেন। নিখিল বলেন, 'মেয়েটার মাথায় সমস্যা ছিল। ও এর আগেও কয়েকদিন বলছে যে আমি বাচ্চাকে মারবো, নিজেও মরবো।' রংপুর মহানগর তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, মা ছেলের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও লাশের ময়না তদন্ত করে পরিবারের সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাজহাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে তিন প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ

সংগৃহীত ছবি

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ১২ নৌকা ভুট্টাখেতে, ১ জনের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

তেল পেতে এখনো দীর্ঘ অপেক্ষা

0 Comments