শুধু আরামের জন্য নয়, ভালো ঘুম শরীর ও মনের সুস্থতার ভিত্তি। অথচ আমরা অনেকেই না বুঝেই এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি, যা ধীরে ধীরে ঘুমের মান নষ্ট করে দেয়। দৈনন্দিন জীবনের এসব ভুল একদিনে সমস্যা তৈরি না করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিদ্রা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিদিনের কোন অভ্যাস আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে।
নির্দিষ্ট সময়ে না ঘুমানো
কখনো রাত ১০টায়, কখনো রাত ১টায়—এই অনিয়ম শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদমকে বিগড়ে দেয়। ফলে শরীর বুঝে উঠতে পারে না, কখন বিশ্রাম নেওয়ার সময়। এর ফল হয় দেরিতে ঘুম আসা, ঘুম ভালো না হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে সকালে উঠে ক্লান্ত লাগে, সারা দিন ঝিমুনি হয়।
কাজেও অমনোযোগী হয়ে পড়েন।
ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুম পেতে সাহায্য করে। ঘুমের আগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
ঘুমের মান খারাপ হয়।
বিছানায় কাজ করা
বিছানায় শুয়ে কাজ করা, ফোন ঘাঁটা বা সিরিজ দেখার অভ্যাস থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে আর ঘুমের সংকেত হিসেবে নেয় না। ধীরে ধীরে বিছানায় শুলেই ঘুম আসার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
রাতে ভারী খাবার খাওয়া
রাতে দেরি করে খাওয়া, তেল-মসলাদার বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে বুক জ্বালা, অস্বস্তি ও বার বার ঘুম ভাঙার প্রবণতা বাড়ে।
ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা। তা সেরে ফেলতে হবে ঘুমের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে।
অতিরিক্ত চা-কফি
বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তার প্রভাব রাত পর্যন্ত থাকে। অনেকেই ভাবেন এক কাপ কফিতে কিছু হবে না, কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়।
ছুটির দিনে দেরি করে ওঠা
ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে নেওয়াকে অনেকেই ঘুম পুষিয়ে নেওয়া ভাবেন। আসলে এতে সপ্তাহের বাকি দিনের ঘুমের ছন্দ আরো এলোমেলো হয়ে যায়, যাকে বলা হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ। তাই ছুটি পেলেই বেলা অবধি ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন।
মানসিক চাপ
চিন্তা, দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস নিয়ে সরাসরি বিছানায় গেলে মন শান্ত হয় না। মন শান্ত না হলে সেই ভাবনা অবচেতন মনে চলতে থাকে, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায় অনেক সময়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ধ্যান, হালকা বই পড়ার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
সঠিক ঘুমের জন্য দরকার নিয়মিত রুটিন, সচেতন অভ্যাস এবং নিজের শরীরের সংকেত বোঝা। ছোট ছোট এই ভুলগুলো ঠিক করতে পারলেই ধীরে ধীরে আপনার ঘুমের মান উন্নত হবে, যা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।
সূত্র : এই সময়
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। রয়টার্স লিখেছে, বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথমবারের মত কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিলেও সাক্ষাৎকার দেননি। এর আগে ইমেইলে এনডিটিভিকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে এ বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে এবারই তিনি সুনির্দিষ্ট সময়ের আভাস দিলেন। বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও ফাঁসির আসামি। এক প্রশ্নের জবাবে রয়টার্সকে তিনি বলেন, "দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।" তার ভাষ্য, "আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। যদি মৃত্যু আসে, আমি চাই তা আমার নিজের দেশের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।" ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, "তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়, আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে। তবে আমি নিজেই যাব।" রয়টার্স লিখেছে, শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিভক্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন বর্তমান বিএনপি সরকার দুই বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আবার শেখ হাসিনা ফিরলে তা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ গলাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছে, শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।” তবে কবে দেশে ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ সাক্ষাৎকারে বলেননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, "আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।" সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি কোনো আলোচনা করেননি। "গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় নয়।" কারাগারে যেতে হলে তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই দাবি করে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগেও তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফেরার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর কেন দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তার বাসভবনের দিকে যখন জনতা এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন জীবন শঙ্কা থেকেই তিনি দেশ ছাড়েন। তিনি বলেন, "যখন কোনো সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন ভুল হতেই পারে, কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দ বা ঠিক-বেঠিক বিচার করার অধিকার জনগণের। আমি সেই বিচারের ভার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।" দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, "তারা হয়ত আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি হয়ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে জনগণকে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে দিন। শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। তবে তার বা দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের বাক্স্বাধীনতার অবারিত সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এই একই সুযোগ জন্ম দিয়েছে এক ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতির, যাকে বলা যায় ‘স্ক্রিনশট সংস্কৃতি’। কারও ব্যক্তিগত চ্যাটের কথোপকথন, বহু বছর আগের কোনো ভুল মন্তব্য, বা অসতর্ক মুহূর্তের কোনো বার্তার ছবি তুলে অনলাইনে ভাইরাল করে দেওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। মজার বিষয় হলো, একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করার এই একটামাত্র ক্লিকে আসলে একসঙ্গে চারটি আলাদা পাপ ঘটে যায়। কোরআন-হাদিসে প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। ৪টি স্তর ভেঙে ভেঙে দেখানো হলো। ১. গোপনীয়তা লঙ্ঘন: অপরাধের শুরু স্ক্রিনশট সংস্কৃতি শুরু হয় আসলে স্ক্রিনশট নেওয়ার অনেক আগে থেকে। পুরোনো চ্যাট ঘেঁটে দেখা, কারও অতীতের ভুল খুঁজে বের করার চেষ্টা থেকে। এই ‘গোয়েন্দাগিরি’ নিয়ে কোরআনের নির্দেশ স্পষ্ট, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের গোপন অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২) লক্ষণীয়, এই আয়াতে গোপন অনুসন্ধান আর গিবত দুটিকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। কারণ, একটা ছাড়া আরেকটা ঘটে না। কেউ আগে খুঁজে বের করে, তারপর প্রচার করে। স্ক্রিনশট সংস্কৃতিতে এই দুটি ধাপই আছে, শুধু মাধ্যম বদলেছে—চোখ-কান দিয়ে গোয়েন্দাগিরির জায়গায় এসেছে স্ক্রল করে পুরোনো মেসেজ খোঁজা। ২. বিশ্বাসের খেয়ানত দুজন মানুষ যখন পারস্পরিক আস্থায় কোনো কথা বলে, সেই কথোপকথন একটি আমানত। রাসুল (সা.) এই নীতি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে অতঃপর এদিক-ওদিক তাকায় (অর্থাৎ গোপন রাখার ইঙ্গিত দেয়), তবে সেই কথা একটি আমানত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৬৮) লক্ষণীয়, এই হাদিসে শর্ত হিসেবে সুস্পষ্ট মৌখিক প্রতিশ্রুতিও চাওয়া হয়নি, বরং বলা হয়ছে যে শুধু ইঙ্গিতই যথেষ্ট। কারণ, ব্যক্তিগত পরিসরে কথা বলার মধ্যেই আস্থার ইঙ্গিত নিহিত থাকে। আর আমানতের খেয়ানত মোনাফেকির অন্যতম প্রধান চিহ্ন। মহানবী (সা.) বলেছেন, মোনাফেকের বৈশিষ্ট্য হলো, কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, আমানতের খেয়ানত করে, আর বিবাদে অশালীন আচরণ করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪) কারও সঙ্গে সামান্য দ্বিমত হলেই তার পুরোনো গোপন মেসেজ ফাঁস করে দেওয়ার প্রবণতা—এই মোনাফেকি বৈশিষ্ট্যেরই হুবহু ডিজিটাল রূপ। ৩. দোষ প্রচার: পুরস্কারের বদলে শাস্তি মানুষমাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। ইসলাম এখানে দুটো বিপরীতমুখী পথ দেখিয়ে দিয়েছে—একদিকে বিশাল পুরস্কার, অন্যদিকে ভয়াবহ শাস্তি। পুরস্কারের ঘোষণা হলো, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ–তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯) আর শাস্তির সতর্কবার্তা হলো, ‘হে সেই সকল লোক, যারা মুখে ইমান এনেছ, কিন্তু অন্তরে ইমান প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলিমদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করো না। কেননা যে ব্যক্তি তাদের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন। আর আল্লাহ যার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন, তাকে তার ঘরের অভ্যন্তরে হলেও লাঞ্ছিত করবেন।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০) অর্থাৎ একই কাজের দুটি সম্ভাব্য ফলাফল—গোপন রাখলে আল্লাহর সুরক্ষা, প্রচার করলে আল্লাহর কাছ থেকে একই আচরণ ফিরে আসা। স্ক্রিনশট শেয়ার করা মানে সরাসরি দ্বিতীয় পথটা বেছে নেওয়া। ৪. যাচাই ছাড়া শেয়ার: অপবাদের অংশীদারত্ব আজকাল একটি স্ক্রিনশট আসামাত্র মানুষ সত্যতা যাচাই না করেই লাইক-কমেন্ট-শেয়ারে ভাসিয়ে দেয়। এডিটিং বা ফেক চ্যাট জেনারেটরের যুগে এই স্ক্রিনশট আসল নাকি বানানো, তা যাচাই না করেই ছড়িয়ে দেওয়া সরাসরি অপবাদ বা ‘ইফক’-এর শামিল। কোরআন বলে, ‘নিশ্চয়ই যারা চায় যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ও কুৎসা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৯) এখানে একটা সাধারণ ভুল ধারণা ভাঙা দরকার। অনেকে ভাবেন, ‘আমি তো শুধু শেয়ার করেছি, মূল অপরাধ তো অন্য কেউ করেছে।’ কিন্তু নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে (বা দেখে), তা-ই যাচাই না করে বর্ণনা করে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫) অর্থাৎ যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়ার মুহূর্তেই আপনি মিথ্যাবাদীর কাতারে চলে যান, স্রষ্টার বানানো হোক বা না হোক। চারটি কাজ একসঙ্গে রাখলে দেখা যায়, একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করার সিদ্ধান্তে আসলে চারটে পৃথক নৈতিক ব্যর্থতা ঘটে যায়—গোপনীয়তা ভাঙা, আস্থার আমানত নষ্ট করা, দোষ গোপন করার বদলে প্রচার করা, আর যাচাই ছাড়া তা ছড়িয়ে দেওয়া। এর প্রতিটির জন্য পরকালীন হিসাব আলাদা, কিন্তু ঘটনা ঘটে একই মুহূর্তে, একটাই ক্লিকে। ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী হাততালি বা ট্রলিংয়ের আনন্দের বিনিময়ে আমরা যেন নিজের আমলনামা এভাবে নষ্ট করে না ফেলি।
ঢাকার সড়ক ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই যানজট, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে চলছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হচ্ছে নগর পরিবহনে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। একসময় অলিগলি ও আবাসিক এলাকার পরিবহন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক, এমনকি বিভিন্ন ভিআইপি সড়কেও এসব যানবাহনের উপস্থিতি এখন নিয়মিত দৃশ্য। কাগজে-কলমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নতুন কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। ২০১৫ সালে সরকারের এক সিদ্ধান্তে ঢাকার প্রধান সড়ক এবং দেশের ২৩টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টও এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর সড়ক এবং বিভিন্ন মহাসড়কে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—যে আইন বাস্তবে প্রয়োগই করা যায় না, সেই আইন থাকার অর্থ কী? ব্যাটারিচালিত রিকশা নিঃসন্দেহে নগরবাসীর জন্য একটি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। কিন্তু একটি পরিবহন ব্যবস্থা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা জননিরাপত্তা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা এবং নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। দুঃখজনকভাবে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সেই সামঞ্জস্য আজ অনুপস্থিত। কিন্তু এই সমস্যার মূল জায়গা হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা। বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন নেই, চালকদের অধিকাংশের নেই প্রশিক্ষণ, আর যানবাহনের নিরাপত্তা মান নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। এসব রিকশা সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না। ব্রেকিং সিস্টেম দুর্বল, কাঠামোগত স্থায়িত্ব সীমিত এবং গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা অনুপস্থিত। অথচ অনেক চালক এসব যানবাহন উচ্চগতিতে চালান, যা যাত্রী ও পথচারী উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহত হওয়ার সংখ্যা। আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। শুধু অলিগলি নয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাজার এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সামনেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এসব যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার একটি বড় অংশ কার্যত দখল করে রাখায় সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায় এবং যান চলাচলের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার জন্য হঠাৎ থেমে যাওয়া, মোড়ের কাছে যত্রতত্র অবস্থান নেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। ফলে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। প্রতিদিন কোটি মানুষের চলাচলের এ নগরীতে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অকার্যকর ও বিশৃঙ্খল করে তুলছে। বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার। বিভিন্ন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার কাজে। উদ্বেগজনক হলো, এই চার্জিংয়ের বড় একটি অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বিশেষ করে যখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত নীতি। প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করতে হবে এবং নিবন্ধন ও ফিটনেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সেটা হিতে বিপরীত হচ্ছে । সম্প্রতি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়। সম্প্রতি রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একার পক্ষে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিএমপি কমিশনার জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে কেবল পুলিশের একক প্রচেষ্টায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাত ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকের মধ্যে আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ছে এবং তাদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। কার্যকর ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগের অভাবে সড়কে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়। ঢাকার ক্ষেত্রেও সময় এসেছে বাস্তবসম্মত, কিন্তু দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নগরবাসীর নিরাপত্তা, সড়কের শৃঙ্খলা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। ঢাকার সড়ক কারও একক সম্পত্তি নয়; এটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাই নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে হলে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। ঢাকাকে যদি সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও গতিশীল নগরীতে পরিণত করতে হয়, তাহলে এখনই সাহসী ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং নগর শৃঙ্খলার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল বন্ধ করা আজ আর কোনো বিকল্প নয়; এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি।