পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি, বাড়ছে উৎপাদনশীলতা। তারপরও বিশ্বের বহু মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পান না। কারও ঘরে খাবারের অভাব, আবার কোথাও অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ খাদ্য। ক্ষুধা, অপুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তার এই বৈপরীত্যের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব খাদ্য দিবস।
দিবসটির মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধার সমস্যা তুলে ধরা নয়; বরং সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করা। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বণ্টনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করতে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে উদ্যোগী করাও দিবসটি পালনের অন্যতম লক্ষ্য।
এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজ উদ্ভাবন, আগামীকাল পুষ্টি’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, নতুন প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রচলিত জ্ঞান ও সম্মিলিত উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা।
যেভাবে শুরু বিশ্ব খাদ্য দিবসের
১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।
১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ওই বছর এফএওর সম্মেলনে ১৬ অক্টোবর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
এর মধ্য দিয়ে খাদ্যকে কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা দেওয়া হয়।
কেন পালন করা হয় দিবসটি?
বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের অন্যতম প্রধান কারণ ক্ষুধা ও অপুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও পৃথিবীর সব মানুষ সমানভাবে খাবার পান না। দারিদ্র্য, সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক মানুষের জন্য নিয়মিত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এফএওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ এখনও ক্ষুধার মুখে রয়েছেন এবং ২.৬৯ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখেন না। অর্থাৎ, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে খাদ্যের সহজলভ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা এবং খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দিবসটি। পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শুধু খাবার নয়, পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ
ক্ষুধা দূর করার অর্থ শুধু মানুষের পেটে খাবার পৌঁছে দেওয়া নয়। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসহ নানা পুষ্টি উপাদান। খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব এবং পুষ্টিকর খাবারের উচ্চমূল্য মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্টি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্যালরি ও ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস থেকেও স্থূলতা এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
এ কারণে বিশ্ব খাদ্য দিবস স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিরাপদ খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।
খাদ্য থাকলেই সবার পাতে পৌঁছায় না
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন নয়; বরং প্রত্যেক মানুষের জন্য সব সময় প্রয়োজনীয় ও পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কোনও পরিবার বাজারে খাবার পেলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বা মানের খাবার কিনতে না-ও পারে।
আবার সংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোথাও খাদ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হলে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
তাই খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে উৎপাদন, সরবরাহ, ক্রয়ক্ষমতা ও পুষ্টির বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্ব খাদ্য দিবস এসব চ্যালেঞ্জ সামনে এনে সবার জন্য খাদ্যের ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
খাদ্য অপচয় রোধ করাও কেন জরুরি
খাদ্য উৎপাদনের পেছনে জমি, পানি, জ্বালানি, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। উৎপাদিত খাবার সংরক্ষণ, পরিবহন কিংবা পরিবেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট হলে এসব সম্পদেরও অপচয় ঘটে। অন্যদিকে, পচে যাওয়া খাবার পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে খাদ্য অপচয় কমানো বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, নিরাপদ ও উপযুক্ত খাবার ভাগ করে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনে অপচয় কমানোর মতো উদ্যোগ খাদ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে।
একইসঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্য সরবরাহের দুর্বলতা দূর করাও প্রয়োজন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব
বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, বাজারে খাদ্যের দাম, কৃষকের জীবনমান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি সম্পর্কিত। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি কমানো, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা, বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশু ও মায়েদের পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্য অপচয় রোধেও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি, বাড়ছে উৎপাদনশীলতা। তারপরও বিশ্বের বহু মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পান না। কারও ঘরে খাবারের অভাব, আবার কোথাও অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ খাদ্য। ক্ষুধা, অপুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তার এই বৈপরীত্যের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব খাদ্য দিবস। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধার সমস্যা তুলে ধরা নয়; বরং সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করা। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বণ্টনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করতে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে উদ্যোগী করাও দিবসটি পালনের অন্যতম লক্ষ্য। এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজ উদ্ভাবন, আগামীকাল পুষ্টি’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, নতুন প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রচলিত জ্ঞান ও সম্মিলিত উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা। যেভাবে শুরু বিশ্ব খাদ্য দিবসের ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ওই বছর এফএওর সম্মেলনে ১৬ অক্টোবর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যকে কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা দেওয়া হয়। কেন পালন করা হয় দিবসটি? বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের অন্যতম প্রধান কারণ ক্ষুধা ও অপুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও পৃথিবীর সব মানুষ সমানভাবে খাবার পান না। দারিদ্র্য, সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক মানুষের জন্য নিয়মিত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এফএওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ এখনও ক্ষুধার মুখে রয়েছেন এবং ২.৬৯ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখেন না। অর্থাৎ, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যের সহজলভ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা এবং খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দিবসটি। পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু খাবার নয়, পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুধা দূর করার অর্থ শুধু মানুষের পেটে খাবার পৌঁছে দেওয়া নয়। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসহ নানা পুষ্টি উপাদান। খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব এবং পুষ্টিকর খাবারের উচ্চমূল্য মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্টি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্যালরি ও ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস থেকেও স্থূলতা এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে বিশ্ব খাদ্য দিবস স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিরাপদ খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। খাদ্য থাকলেই সবার পাতে পৌঁছায় না খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন নয়; বরং প্রত্যেক মানুষের জন্য সব সময় প্রয়োজনীয় ও পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কোনও পরিবার বাজারে খাবার পেলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বা মানের খাবার কিনতে না-ও পারে। আবার সংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোথাও খাদ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হলে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে উৎপাদন, সরবরাহ, ক্রয়ক্ষমতা ও পুষ্টির বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্ব খাদ্য দিবস এসব চ্যালেঞ্জ সামনে এনে সবার জন্য খাদ্যের ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। খাদ্য অপচয় রোধ করাও কেন জরুরি খাদ্য উৎপাদনের পেছনে জমি, পানি, জ্বালানি, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। উৎপাদিত খাবার সংরক্ষণ, পরিবহন কিংবা পরিবেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট হলে এসব সম্পদেরও অপচয় ঘটে। অন্যদিকে, পচে যাওয়া খাবার পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে খাদ্য অপচয় কমানো বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, নিরাপদ ও উপযুক্ত খাবার ভাগ করে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনে অপচয় কমানোর মতো উদ্যোগ খাদ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে। একইসঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্য সরবরাহের দুর্বলতা দূর করাও প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, বাজারে খাদ্যের দাম, কৃষকের জীবনমান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি সম্পর্কিত। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি কমানো, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা, বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশু ও মায়েদের পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্য অপচয় রোধেও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে প্রতিদিন দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ টাকা এবং বছরে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করতেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার সারেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিছুদিন আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের একটি পয়সাও নষ্ট হতে দেবেন না। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় এসে সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কেয়ামতের ময়দানে মহান আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক রূপ—কে মোটা, শুকনা, কালো, ফর্সা, লম্বা নাকি খাটো ছিলেন, তা দেখে বিচার করবেন না; দেখবেন অন্তরের অবস্থা ও ইমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। গত পরশু দুপুরেও তার সঙ্গে ঢ্যাঁড়শ ভাজি, মিষ্টি কুমড়া ভর্তা আর ডাল দিয়ে খাবার খেয়ে এসেছি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের বড় প্রাপ্তি যে তারেক রহমানের মতো একজন মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন সুযোগ হেলায় নষ্ট করা ঠিক হবে না। সংসদীয় দলের সভার প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্লামেন্টের বিশেষ একটি সভায় সংসদ সদস্যদের স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন—আপনারা এমপি হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন; কিন্তু আপনারা যদি কর্মীবান্ধব না হন, কর্মীদের মূল্যায়ন না করেন, তবে দল চলবে কিভাবে? তৃণমূলের কর্মীরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে আমাদের আজকের এই অবস্থানে এনেছেন। এখন তাদের দেখভালের দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। তিনি আরও জানান, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, দল থেকে মিষ্টির বহিষ্কার হওয়াই শেষ কথা নয়; পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সমাজের জনপ্রিয় ব্যক্তিরাই অংশ নেবেন। সেখানে দলীয় প্রতীকের লড়াই থাকবে না; ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মূলত দলীয় প্রতীকের কারণে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হয়। তাই উৎসবমুখর পরিবেশে সর্বস্তরের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক সম্পর্ক অটুট রাখতেই প্রতীক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে কোনো ব্যক্তি বিএনপি না করেও যদি জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নির্বাচিত হতে চান, তবে কোনো বাধা থাকবে না। এটিই একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা। চিফ হুইপ আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন দেশে দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক চিত্র আমরা দেখেছি। সেই পরিস্থিতি থেকে মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে সেনেগালেও খাদ্য ও চাল রপ্তানি করার নজির তৈরি করেছিলেন তিনি। আর বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই দায়িত্ব নিয়ে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য ‘প্লাস্টিক দানব’। সমুদ্র দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ৫টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। সোমবার রাত ৭টায় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী ৪ মাস ধরে চলবে। এ সময়ের মধ্যে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের কাছে সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল আচরণ উৎসাহিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশেষ থিয়েটার। যেখানে দায়িত্বশীল পর্যটন বিষয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। চলচ্চিত্রটি দেখার প্রবেশ মূল্য হিসেবে দর্শনার্থীদের সঙ্গে আনতে হবে দু’টি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল। এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘সমুদ্র আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মানুষের সামনে দূষণের ভয়াবহতা দৃশ্যমান করে তুলবে এবং নিজেদের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে। কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বাসস’কে বলেন, ‘আমরা প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করি, কিন্তু সেই সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে আমাদের নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যাই। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই দানব আসলে আমাদের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই, মানুষ এই ভাস্কর্য দেখে শুধু ছবি তুলে চলে যাবে না; বরং নিজের ব্যবহৃত প্লাস্টিক কোথায় ফেলছে, সেটি সমুদ্রের জন্য কী ক্ষতি তৈরি করছে-সে প্রশ্নটিও নিজের কাছে করবে। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা জানান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সারা বছর প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোরের মাধ্যমে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে এবং এর বিনিময়ে মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গ্রহণের সুযোগ দেয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আবর্জনা হিসেবে ফেলে না রেখে সংগ্রহ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে কার্যক্রমে সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্যটি। ভাস্কর্যটি দর্শনার্থীদের কাছে প্লাস্টিক দূষণের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে কাজ করবে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা ও দায়িত্বশীল পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেবে। ৪ মাসব্যাপী এই প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন কার্যক্রমের মাধ্যমে কক্সবাজারে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।