রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সেলিনা হোসেন কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। দিনভর অফিসে ব্যস্ত সময় পার করে ক্লান্ত শরীরে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের জন্য যান রান্না করতে। আর তখনই ঘটছে বিপত্তি। কারণ নিভুনিভু করে জ্বলতে থাকা চুলার আগুনের সেই তাপে তো আর রান্না করা যায় না। রাত ১২টার আগে চুলায় গ্যাসের চাপ না আসায় তাকে অপেক্ষা করতে হয় মধ্যরাত পর্যন্ত।
আবাসিকে গ্যাসের এ বিড়ম্বনা শুধু সেলিনা হোসেনের নয়। রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা বর্তমানে গ্যাস সংকটের মধ্যে রয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় পাইপলাইনের চুলায় গ্যাস থাকছে না, আসে গভীর রাতে। এতে করে গৃহিণী ও কর্মজীবী উভয়েই পড়ছেন বিপাকে।
সেলিনা হোসেন বলেন, সকাল-দুপুর বাইরেই খেতে হয়। সারাদিন অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে ইচ্ছা হয় দ্রুত সব কাজ শেষ করে বিশ্রাম নেওয়ার। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। গ্যাসের অপেক্ষায় বসে থাকা লাগে। এমনও অনেক দিন গেছে, ছুটির সময়ে দুপুরে রান্না করতে পারিনি, খাওয়াও হয়নি পরিবারের সদস্যদের।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশীয় গ্যাস খাতের উৎপাদন প্রতিনিয়তই কমছে। বুধবার দেশের ২২ গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অথচ গত বছর একই দিনে গ্যাস উৎপাদিত হয়েছ ১১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট
বিজ্ঞাপন
গ্যাসের এ বিড়ম্বনার কথা জানান মিরপুরে বসবাসকারী গৃহিণী হোসনে আরা। তিনি বলেন, সকাল থেকে চুলায় কোনো গ্যাস থাকে না, মিটিমিটি জ্বলে। তা দিয়ে রান্নাবান্না করা সম্ভব হয় না। সারাদিন শেষে রাত ১২-১টা নাগাদ গ্যাসের চাপ আসে। এ ভোগান্তির শেষ কবে, জানা নেই।
পাইপলাইন গ্যাসের এ দুর্ভোগ শুধু মোহাম্মদপুর বা মিরপুরেই নয়; বিরাজ করছে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাজুড়েই। রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা।
বাড্ডা নিবাসী মো. ফাহাদ বলেন, সারাদিন বা সন্ধ্যায়ও চুলায় গ্যাস থাকে না, একেবারে রাতে আসে। এতে করে রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়ার রুটিন ওলট-পালট হয়ে গেছে।
বেড়েছে খরচ
সরকারি পাইপলাইনের দুই চুলার গ্যাস বিল বর্তমানে ১০৮০ টাকা। যদিও, গ্যাস সংকটে এ বিল এখন গ্রাহকের বাড়তি বোঝা হয়েই দাঁড়িয়েছে। রাতজেগে অধিকাংশ গ্রাহকের পক্ষে রান্নাবান্নার কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের কিনতে হয় এলপি গ্যাস।
বর্তমানে বিদ্যুতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যদিও তাদের চাহিদা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। একইভাবে সারে এখন চাহিদা ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রধান খাতগুলো ঘাটতিতে থাকায় চাপ এসে পড়ছে আবাসিকে, ফলে গ্রাহকরা ভোগান্তির মধ্যেই রয়ে যাচ্ছেন
যদিও, এলপি গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। সর্বশেষ ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ‘বাজার অব্যবস্থাপনায়’ গ্রাহকদের তা কিনতে হয় ২১০০-২২০০ টাকায়। ফলে, শুধু গ্যাসের পেছনেই প্রতি মাসে গ্রাহকের খরচ হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।
মিরপুর নিবাসী জসীম উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে ঠিকই বিল দিই, অথচ গ্যাস আসে মাঝরাতে। সে সময় গ্যাস দিয়ে আমি কী করবো?
সংকটের কারণ কী?
গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে খাতসংশ্লিষ্টরা সরবরাহের পরিমাণ কমে যাওয়াকেই উল্লেখ করছেন। দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক মোট চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত মোট সরবরাহ করা হয়েছে ২৭২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস খাত থেকে এসেছে ১৬৭৩ মিলিয়ন ঘনফুট ও এলএনজি থেকে এসেছে ১০৫১ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশীয় গ্যাস খাতের উৎপাদন প্রতিনিয়তই কমছে। বুধবার দেশের ২২ গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অথচ গত বছর একই দিনে গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ১১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদনকারী বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের উৎপাদন কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গতবছর একইদিনে (১৩ মে) ক্ষেত্রটি গ্যাস উৎপন্ন করেছিল ৯৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট, গতকাল যা উৎপাদন করেছে ৭৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলা বলছে, বিবিয়ানার উৎপাদন ২০২৯ সালের শুরুতে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে।
দেশে গ্যাসের যে সংকট রয়েছে, সেটি আরো প্রকট করে তুলেছে অবৈধ সংযোগ। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। এতে করে বৈধ গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন
এদিকে, গ্যাসের চাহিদা সামাল দিতে ২০১৮ সালে দেশে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়। ওই সময় দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক সরবরাহ হতো ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বাইরে তখন একটি এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। এরপর ক্রমান্বয়ে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়। দুটি টার্মিনাল দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে। এখন দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় অবকাঠামো না থাকায় এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি করাও সম্ভব নয়। নতুন টার্মিনাল স্থাপন করলেও ২০২৮ সালের আগে তা উৎপাদনে আসতে পারবে না।
গুরুত্বের তালিকায় নেই আবাসিক খাত!
তিতাস গ্যাসের আওতায় বর্তমানে পাইপলাইন গ্যাসের গ্রাহক রয়েছেন ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৪ জন। তবে সরকারি নীতির অধীনে, গ্যাস সরবরাহের তালিকায় আবাসিক খাত এখন গুরুত্বের তালিকায় নেই। সরকার প্রধানত এখন গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যুৎ, সার এবং ইন্ডাস্ট্রিতে।
বর্তমানে বিদ্যুতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যদিও তাদের চাহিদা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। একইভাবে সারে এখন চাহিদা ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রধান খাতগুলো ঘাটতিতে থাকায় চাপ এসে পড়ছে আবাসিকে, ফলে গ্রাহকরা ভোগান্তির মধ্যেই রয়ে যাচ্ছেন।
তিতাস সূত্রে জানা যায়, সামগ্রিক গ্যাস সংকটের বিষয়টি উপলব্ধি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবাসিক খাতে গ্যাসের সংযোগ একেবারেই বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ছিল। তার বিপরীতে এলপিজি ব্যবহারের বিষয়টি বিকল্প সমাধান হিসেবে ভাবা হয়। তার ধারাবাহিকতায় শর্তসাপেক্ষে সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বিপিসিকে নীতিগত অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
গ্যাস সংকটের ফলে আবাসিকে পুরোপুরি গ্যাস দেওয়াও সম্ভব নয়। কারণ বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দিতে গিয়ে সেখানেও একটা ঘাটতি যাচ্ছে। আমার মতে, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং বিকল্প হিসেবে সেখানে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো উচিত
এদিকে, আবাসিকে গ্যাস সংকটের বিষয়টির সমাধানে প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয় তিতাস গ্যাস। বর্তমানে ৪ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের অধীনে রয়েছেন। তিতাস আরো ১৭ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনার খসড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। তবে, নতুন সরকার সে প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়নি।
কি বলছেন সংশ্লিষ্টরা?
গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি, অবৈধ সংযোগকেও বহুলাংশে দায়ী করছেন তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের যে সংকট রয়েছে, সেটি আরো প্রকট করে তুলেছে অবৈধ সংযোগ। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। এতে করে বৈধ গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে গ্যাসের উৎপাদন না বাড়লে সংকট কাটার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখন বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। আর সহসা এলএনজির সরবরাহ বাড়ানোও সম্ভব নয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, গ্যাস সংকটের ফলে আবাসিকে পুরোপুরি গ্যাস দেওয়াও সম্ভব নয়। কারণ বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দিতে গিয়ে সেখানেও একটা ঘাটতি যাচ্ছে। আমার মতে, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং বিকল্প হিসেবে সেখানে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। তবে অবশ্যই, সেজন্য এলপিজিতে সরকারের ভর্তুকি দিতে হবে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে হাম উপসর্গ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৫৬ জন। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৯৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই সংখ্যা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬০ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগী ২১ হাজার ৮০৮ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৩৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ১ হাজার ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিপজ্জনক শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়েও দুই দেশ আলোচনা করেছে। আজ সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিজ সেনের সঙ্গে বৈঠককালে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরুর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আসন্ন তুরস্ক সফরে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এসময় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ফল আমদানিতে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে তুরস্কের ফলমূল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য চায় বাংলাদেশ। এসব তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে ইলেকট্রনিকস ও জাহাজ ভাঙা শিল্পের বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও গুরুত্ব পায়। এ ধরনের বর্জ্য পরিশোধন, সংরক্ষণ ও নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য তুরস্কে বিশেষায়িত ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) রয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়। চামড়া শিল্প প্রসঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত জানান, পরিবেশগত কারণে তার দেশে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ট্যানারি কার্যক্রম কমেছে। একই সঙ্গে সিন্থেটিক চামড়ার ব্যবহার এবং কাঁচামাল আমদানির প্রবণতা বেড়েছে। রাষ্ট্রদূত কমসেকের অধীনে অনুষ্ঠেয় আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন এবং ওয়ার্ল্ড হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সামিট ও হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমসেকের মূল সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী অংশ নেবেন। পরবর্তী সম্মেলনগুলোতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বৈঠকে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, তুরস্ক দূতাবাসের ইকনমিক কাউন্সিলর এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসি) বদলি করে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রোববার (৪ অক্টোবর) ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি ও পদায়নের তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, ট্রাফিক-রমনা বিভাগের ট্রাফিক-নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার তোয়াহা ইয়াসীন হোসেনকে গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগে বদলি করা হয়েছে। সেখানে তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে মতিঝিল বিভাগের পেট্রোল-খিলগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মালিক নাজমুল হায়দারকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগের ট্রাফিক-নিউমার্কেট জোনে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়ারী বিভাগের পেট্রোল-ওয়ারীর সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল আলম খানকে ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে বদলি করা হয়েছে। নতুন কর্মস্থলে তিনি ট্রাফিক-লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। আদেশটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।