রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সেলিনা হোসেন কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। দিনভর অফিসে ব্যস্ত সময় পার করে ক্লান্ত শরীরে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের জন্য যান রান্না করতে। আর তখনই ঘটছে বিপত্তি। কারণ নিভুনিভু করে জ্বলতে থাকা চুলার আগুনের সেই তাপে তো আর রান্না করা যায় না। রাত ১২টার আগে চুলায় গ্যাসের চাপ না আসায় তাকে অপেক্ষা করতে হয় মধ্যরাত পর্যন্ত।
আবাসিকে গ্যাসের এ বিড়ম্বনা শুধু সেলিনা হোসেনের নয়। রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা বর্তমানে গ্যাস সংকটের মধ্যে রয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় পাইপলাইনের চুলায় গ্যাস থাকছে না, আসে গভীর রাতে। এতে করে গৃহিণী ও কর্মজীবী উভয়েই পড়ছেন বিপাকে।
সেলিনা হোসেন বলেন, সকাল-দুপুর বাইরেই খেতে হয়। সারাদিন অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে ইচ্ছা হয় দ্রুত সব কাজ শেষ করে বিশ্রাম নেওয়ার। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। গ্যাসের অপেক্ষায় বসে থাকা লাগে। এমনও অনেক দিন গেছে, ছুটির সময়ে দুপুরে রান্না করতে পারিনি, খাওয়াও হয়নি পরিবারের সদস্যদের।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশীয় গ্যাস খাতের উৎপাদন প্রতিনিয়তই কমছে। বুধবার দেশের ২২ গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অথচ গত বছর একই দিনে গ্যাস উৎপাদিত হয়েছ ১১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট
বিজ্ঞাপন
গ্যাসের এ বিড়ম্বনার কথা জানান মিরপুরে বসবাসকারী গৃহিণী হোসনে আরা। তিনি বলেন, সকাল থেকে চুলায় কোনো গ্যাস থাকে না, মিটিমিটি জ্বলে। তা দিয়ে রান্নাবান্না করা সম্ভব হয় না। সারাদিন শেষে রাত ১২-১টা নাগাদ গ্যাসের চাপ আসে। এ ভোগান্তির শেষ কবে, জানা নেই।
পাইপলাইন গ্যাসের এ দুর্ভোগ শুধু মোহাম্মদপুর বা মিরপুরেই নয়; বিরাজ করছে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাজুড়েই। রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা।
বাড্ডা নিবাসী মো. ফাহাদ বলেন, সারাদিন বা সন্ধ্যায়ও চুলায় গ্যাস থাকে না, একেবারে রাতে আসে। এতে করে রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়ার রুটিন ওলট-পালট হয়ে গেছে।
বেড়েছে খরচ
সরকারি পাইপলাইনের দুই চুলার গ্যাস বিল বর্তমানে ১০৮০ টাকা। যদিও, গ্যাস সংকটে এ বিল এখন গ্রাহকের বাড়তি বোঝা হয়েই দাঁড়িয়েছে। রাতজেগে অধিকাংশ গ্রাহকের পক্ষে রান্নাবান্নার কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের কিনতে হয় এলপি গ্যাস।
বর্তমানে বিদ্যুতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যদিও তাদের চাহিদা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। একইভাবে সারে এখন চাহিদা ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রধান খাতগুলো ঘাটতিতে থাকায় চাপ এসে পড়ছে আবাসিকে, ফলে গ্রাহকরা ভোগান্তির মধ্যেই রয়ে যাচ্ছেন
যদিও, এলপি গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। সর্বশেষ ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ‘বাজার অব্যবস্থাপনায়’ গ্রাহকদের তা কিনতে হয় ২১০০-২২০০ টাকায়। ফলে, শুধু গ্যাসের পেছনেই প্রতি মাসে গ্রাহকের খরচ হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।
মিরপুর নিবাসী জসীম উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে ঠিকই বিল দিই, অথচ গ্যাস আসে মাঝরাতে। সে সময় গ্যাস দিয়ে আমি কী করবো?
সংকটের কারণ কী?
গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে খাতসংশ্লিষ্টরা সরবরাহের পরিমাণ কমে যাওয়াকেই উল্লেখ করছেন। দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক মোট চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত মোট সরবরাহ করা হয়েছে ২৭২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস খাত থেকে এসেছে ১৬৭৩ মিলিয়ন ঘনফুট ও এলএনজি থেকে এসেছে ১০৫১ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশীয় গ্যাস খাতের উৎপাদন প্রতিনিয়তই কমছে। বুধবার দেশের ২২ গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অথচ গত বছর একই দিনে গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে ১১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদনকারী বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের উৎপাদন কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গতবছর একইদিনে (১৩ মে) ক্ষেত্রটি গ্যাস উৎপন্ন করেছিল ৯৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট, গতকাল যা উৎপাদন করেছে ৭৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলা বলছে, বিবিয়ানার উৎপাদন ২০২৯ সালের শুরুতে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে।
দেশে গ্যাসের যে সংকট রয়েছে, সেটি আরো প্রকট করে তুলেছে অবৈধ সংযোগ। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। এতে করে বৈধ গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন
এদিকে, গ্যাসের চাহিদা সামাল দিতে ২০১৮ সালে দেশে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়। ওই সময় দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক সরবরাহ হতো ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বাইরে তখন একটি এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। এরপর ক্রমান্বয়ে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়। দুটি টার্মিনাল দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে। এখন দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় অবকাঠামো না থাকায় এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি করাও সম্ভব নয়। নতুন টার্মিনাল স্থাপন করলেও ২০২৮ সালের আগে তা উৎপাদনে আসতে পারবে না।
গুরুত্বের তালিকায় নেই আবাসিক খাত!
তিতাস গ্যাসের আওতায় বর্তমানে পাইপলাইন গ্যাসের গ্রাহক রয়েছেন ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৪ জন। তবে সরকারি নীতির অধীনে, গ্যাস সরবরাহের তালিকায় আবাসিক খাত এখন গুরুত্বের তালিকায় নেই। সরকার প্রধানত এখন গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যুৎ, সার এবং ইন্ডাস্ট্রিতে।
বর্তমানে বিদ্যুতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যদিও তাদের চাহিদা ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। একইভাবে সারে এখন চাহিদা ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রধান খাতগুলো ঘাটতিতে থাকায় চাপ এসে পড়ছে আবাসিকে, ফলে গ্রাহকরা ভোগান্তির মধ্যেই রয়ে যাচ্ছেন।
তিতাস সূত্রে জানা যায়, সামগ্রিক গ্যাস সংকটের বিষয়টি উপলব্ধি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবাসিক খাতে গ্যাসের সংযোগ একেবারেই বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ছিল। তার বিপরীতে এলপিজি ব্যবহারের বিষয়টি বিকল্প সমাধান হিসেবে ভাবা হয়। তার ধারাবাহিকতায় শর্তসাপেক্ষে সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বিপিসিকে নীতিগত অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
গ্যাস সংকটের ফলে আবাসিকে পুরোপুরি গ্যাস দেওয়াও সম্ভব নয়। কারণ বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দিতে গিয়ে সেখানেও একটা ঘাটতি যাচ্ছে। আমার মতে, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং বিকল্প হিসেবে সেখানে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো উচিত
এদিকে, আবাসিকে গ্যাস সংকটের বিষয়টির সমাধানে প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয় তিতাস গ্যাস। বর্তমানে ৪ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের অধীনে রয়েছেন। তিতাস আরো ১৭ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনার খসড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। তবে, নতুন সরকার সে প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়নি।
কি বলছেন সংশ্লিষ্টরা?
গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি, অবৈধ সংযোগকেও বহুলাংশে দায়ী করছেন তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের যে সংকট রয়েছে, সেটি আরো প্রকট করে তুলেছে অবৈধ সংযোগ। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। এতে করে বৈধ গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে গ্যাসের উৎপাদন না বাড়লে সংকট কাটার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখন বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। আর সহসা এলএনজির সরবরাহ বাড়ানোও সম্ভব নয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, গ্যাস সংকটের ফলে আবাসিকে পুরোপুরি গ্যাস দেওয়াও সম্ভব নয়। কারণ বিদ্যুৎ, সারে গ্যাস দিতে গিয়ে সেখানেও একটা ঘাটতি যাচ্ছে। আমার মতে, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং বিকল্প হিসেবে সেখানে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। তবে অবশ্যই, সেজন্য এলপিজিতে সরকারের ভর্তুকি দিতে হবে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি ‘আলেয়া গার্ডেন’ এখন পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাগানবাড়িটি বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় এটি এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানা ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা সাত বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আজম। ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য, ১৯৯৬ সালে সরকার দলীয় সাংসদ এরপর ২০০১ সালে হন সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ এবং ২০০৮ সালে সরকারদলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। পরে ২০১৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তমবারের মতো একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে মির্জা আজম গড়ে তোলেন অর্থ-সম্পদ আর প্রাচুর্যের সাম্রাজ্য। জামালপুরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় একর জমির ওপর স্ত্রী আলেয়ার নামে আলেয়া গার্ডেন গড়ে তোলেন মির্জা আজম। স্থানীয়ভাবে এই রিসোর্ট ‘রং মহল’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাগানবাড়িটি নির্মাণের সময়ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জমি দখল করা হয়েছিল। আলেয়া গার্ডেনে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ, ওষধি এবং সৌন্দর্যবর্ধক প্রায় দুই শতাধিক প্রজাতির গাছ ছিল। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের জন্য এই বাগানের মালিক হিসেবে মির্জা আজমের স্ত্রী আলেয়া আজম ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় পদক পেয়েছিলেন। এই বাগানবাড়িতে একটি বিলাসবহুল আবাসিক ভবন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বা অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য সুপরিসর একাধিক ভবন ছিল। ছিল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত উন্নত জাতের গরু ও মুরগির খামার। বাগানবাড়িটি প্রথমে মির্জা আজমের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের অবসর কাটানোর জন্য ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে এটিকে পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এক সময় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং দর্শনার্থীরা একশ টাকা প্রবেশমূল্য দিয়ে আলেয়া গার্ডেনে প্রবেশ ও সময় কাটাতে পারতেন। এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণসহ তাদের নানা কর্মসূচি ও বনভোজন আয়োজন করা হতো। আলেয়া গার্ডেনে দর্শনার্থীদের জন্য বসার জায়গা, শিশুদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন রাইড স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আলেয়া গার্ডেনে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এরপর কয়েকদিন ধরে সেখানে লুটপাট চলেছে। আলেয়া গার্ডেন এখন যেন বিরাণভূমি। সরেজমিনে দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের দেউড়পাড় এলাকায় অবস্থিত আলেয়া গার্ডেনের আশপাশে তেমন জনবসতি নেই। নির্জন পরিবেশের কারণে স্থানটি এখন নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি দ্বিতল ভবনের বিভিন্নস্থানে মাদক সেবনের আলামত দেখা গেছে। ভবনের ভেতরে ও আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত মাদকের বিভিন্ন উপকরণ। দিনের বেলায় বাগানবাড়ির পুকুরে স্থানীয়দের গোসল, ঘোরাঘুরি এবং কৃষি জমিতে কাজ করা মানুষের যাতায়াত দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থীও সেখানে অবাধে সময় কাটাতে আসে। তবে সন্ধ্যা নামার পর পুরো এলাকার চিত্র বদলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্জনতার সুযোগ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা সেখানে জড়ো হয়। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত, কখনো কখনো ভোর পর্যন্ত চলে নেশার আসর। স্থানীয়দের দাবি, মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের পাশাপাশি সেখানে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডও ঘটে। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে স্থানীয় তরুণদের একটি অংশও বিপথগামী হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, চাষাবাদের সুবিধা, ফসল ও মাছ পাহারা দেওয়ার জন্য আমরা পালা করে কয়েকজন এখানে রাতে থাকি। দিনের বেলাতে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে না গিয়ে এখানে আসে। তাদের অনেকেই অসামাজিক কার্যকলাপ করে। সন্ধ্যার পরে এখানে মাদকাসক্তদের আড্ডা জমে উঠে। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা এখানে এসে নির্বিঘ্নে মাদক সেবন করে। আগে মাঝে মধ্যে পুলিশকে ফোন দিতাম। কিন্তু পুলিশ এসে উল্টো আমার কাছে তেল খরচের জন্য টাকা চায়। এজন্য এখন আর পুলিশকে ফোন দেই না। স্থানীয় তরুণ রায়হান (২৩) বলেন, এই বাগান বাড়িটি অপরাধ করার জন্য আদর্শ একটি জায়গা হয়ে গেছে। এখানে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। এজন্য এখানে নির্দ্বিধায় অপরাধ এবং অসামাজিক কাজ করা যাচ্ছে। প্রশাসন যদি নজরদারি করে তবে এখানে অপরাধ বা অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ হবে। তাই আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। চন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী (৪৫) বলেন, ৫ আগস্টের পর আলেয়া গার্ডেন মাদকাসক্তদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। শুধু আখড়া নয় এখন এখান থেকে মাদকসেবী তৈরি হচ্ছে। এলাকার যারা মাদক চিনত না তারাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। শহর থেকে যেসব মাদকসেবী এখানে আসে তারা এলাকার যুবকদের মাদক সেবনে উদ্বুদ্ধ করছে। নানা ধরনের মাদকের গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও উল্টো মাদকসেবীরা মব সৃষ্টি করে। ভয়ে-আতঙ্কে কেউ প্রতিবাদ করে না এবং এই জায়গাটিতে স্থানীয়রা খুব একটা যাওয়া-আসা করে না। জায়গাটি নিরিবিলি হওয়ায় মাদবসেবনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচার নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সার্বক্ষণিক চলমান রয়েছে। ওই স্থানটিতে গুরুত্ব সহকারে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২৪ জুন, ঢাকা: পেনশন আ: বেদন ও মঞ্জুরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সরকার ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ওপিটিএমএস) চালু করছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে পেনশনভোগীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন জমা, অগ্রগতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন। এতে সময় ও হয়রানি কমার পাশাপাশি সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা পেনশন সংক্রান্ত কাজে প্রায়ই বিলম্ব, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় অফিস যাতায়াতের মুখোমুখি হন। ওপিটিএমএস পুরোপুরি চালু হলে তাঁরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন ও তার অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন। এতে দ্রুততম সময়ে পেনশন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে সেবা পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি কমানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনভোগীদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মো. আব্দুল বারী বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ১৫ বছরের পুনঃস্থাপন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তাঁর পরিবার পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পায় না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এ নীতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী। সভাপতির বক্তব্যে মো. এহছানুল হক বলেন, আগে সরকারি কর্মচারীদের কোনো সমন্বিত ডেটাবেস ছিল না। ফলে পেনশন মঞ্জুরির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠত। হালনাগাদ কর্মচারী ডেটাবেস সংরক্ষণ করা গেলে পেনশন অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। তিনি পেনশনভোগীদের জন্য একটি পৃথক হেল্প ডেস্ক স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, যাতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরা সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অবসরের পর অনেক পেনশনভোগী নানা জটিলতার কারণে অসহায় অবস্থায় পড়েন। ওপিটিএমএস ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করে তাঁদের আস্থা বাড়াবে। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের নিয়মিত পেনশন মামলার ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা পাইলট আকারে চালু হবে। পরবর্তী সময়ে এটি অর্থ বিভাগ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, সব মন্ত্রণালয়, সংযুক্ত দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বৈষম্য কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী বলেন, পেনশন পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পেনশনভোগীরা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পেনশন ব্যবস্থাপনার মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, যা সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করছে। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসপিএফএমএস কর্মসূচির জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন। তিনি বলেন, জিপিএফ অটোমেশন, পেনশন–পরবর্তী সুবিধার অটোমেশন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মডিউল, টিএ/ডিএ মডিউল, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড ডেটাবেস এবং এলপিসি মডিউলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইবাস++ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ওপিটিএমএস চালু হলে অবসর–পূর্ব পেনশন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং অবসরপ্রত্যাশী কর্মচারীরা উন্নত সেবা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন অর্থ বিভাগের বাজেট ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসপিএফএমএসের পেনশন, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের মান ও সময়ানুবর্তিতা বিষয়ক স্কিমের প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ ও কো-অর্ডিনেটর ড. মাহফুজা বেগম। তিনি বলেন, ওপিটিএমএসের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীরা অনলাইনে পেনশন আবেদন জমা দিতে পারবেন, ফাইলের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে বারবার না গিয়ে অবসর-পূর্ব পেনশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এ ব্যবস্থায় আইবাস++ থেকে চাকরির রেকর্ড ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ফলে হাতে তথ্য প্রবেশের প্রয়োজন কমবে এবং প্রক্রিয়াগত ভুলও হ্রাস পাবে। কর্মকর্তারা জানান, অবসর পরবর্তী ধাপে ইএফটির মাধ্যমে পেনশন প্রদান, লাইফ ভেরিফিকেশন এবং পেনশন পেমেন্ট স্টেটমেন্ট ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। ওপিটিএমএসের মাধ্যমে এখন অপেক্ষাকৃত জটিল অবসর-পূর্ব ধাপকেও সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। নতুন এ ব্যবস্থায় কর্মচারীরা অবসরোত্তর ছুটির প্রায় ১১ মাস আগে এসএমএস নোটিফিকেশন পাবেন। তাঁরা অনলাইনে আবেদন জমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং আবেদন অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে কল্যাণ কর্মকর্তা ও মঞ্জুরিকারী কর্তৃপক্ষও একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফাইল প্রক্রিয়া করবেন। কর্মশালায় অফিস ম্যাপিং, অনাপত্তিপত্র, হাতে সংরক্ষিত রেকর্ড, অডিট আপত্তি এবং আইনি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, ওপিটিএমএস দ্রুত, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব পেনশন সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। -------------------------------- এ কে এম রহমত আলী কমিউনিকেশন কনসালট্যান্ট এসপিএফএমএস কর্মসূচি অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় সেল: ০১৭১৫০৯০৯৮৯
আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ‘ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক-কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গাজীপুর শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন থেকে কারখানাটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট এবং অন্যান্য আইনগত পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধের বিষয়ে সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের অবশিষ্ট ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন দেওয়া হবে। পাশাপাশি চাকরি হারানো শ্রমিকদের জন্য নোটিশ-পে, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির অর্থ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করা হবে। আগামী ২৭ জুলাই এসব অর্থ এককালীন পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শ্রমিক নেতাদের একটি অংশ এই চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব ধরনের ক্ষতিপূরণ ও সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক শ্রমিকের পরিবার সম্পূর্ণভাবে তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব পাওনা বুঝিয়ে দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।