স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের যে বিরোধী দল আছে, তারা আগের মতো ভূমিকা পালন করে হাসিনার ভাষায় কথা বলছে— চলতে দেবো না, কাজ করতে দেবো না। দেশের অনেক সমস্যা আছে। তা চার-পাঁচ মাসে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।’
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডির ‘চা ঘর’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলকে গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ আমাদের দেশ পরিচালনার জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। তারা কথায় কথায় আন্দোলনের হুমকি দেন, রাস্তায় চলে আসেন। গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানাই।’
বিরোধীদল জামায়াত ও এনসিপির নাম উল্লেখ না করেই বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাদের ভাষা, এই মুহূর্তে সব সমস্যার সমাধান করে দিতে হবে।’ দেশে গ্যাসের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিল। তারা কোনো গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আমরা কাজ শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা তা চালু করেছি।
গ্যাসের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে তেল ও গ্যাস আমদানি করছি। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে আমাদের চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করে আমদানি করতে হয়েছে। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য। আমরা তো কাজ করছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা কালে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এখন দেখবেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসবের কান না দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই।’
তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের কাছে আমরা যেসব ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি।’
রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ বিদেশে যেতে চান না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘লন্ডনে ১২ হাজারেরও বেশি রেস্টুরেন্ট আছে। সেখানে সিলেট অঞ্চলের মানুষ কাজ করছেন। কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নোয়াখালী, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনীসহ দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ কাজ করছেন। তাই ওই এলাকার মানুষ আর্থিকভাবে অনেক সচ্ছল। আর আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ বিদেশে যেতেই চান না।’
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা আমাদের এলাকায় নিউ মার্কেট নির্মাণ করেছিলেন। এলাকার লোকজনকে বলেছেন, দোকান কিনে ব্যবসা করার জন্য। অথচ তারা বলেছিল, আমরা দোকানদারি কেন করব। অথচ ওই সময় নোয়াখালী ও মুন্সিগঞ্জের লোক সুপার মার্কেটে দোকান করে তারা এখন ঠাকুরগাঁওয়ে সবচেয়ে ধনী হয়ে গেছে। আর আমাদের এলাকার লোকজন জমি বিক্রি করে সর্বস্বান্ত।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তরাঞ্চলের মানুষ, তাঁর মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এ অঞ্চলের মানুষ, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি বগুড়ায়। আমাদের সকলকে এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।’
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তাঁর উদ্যোগে আজকের এই আয়োজন। তিনি সকলকে রংপুর বিভাগের উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার সবগুলো বাস্তবায়ন করা শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের কৃষিঋণ বাবদ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সীমাহীন নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা কালে আমাদের নেতা-কর্মীদের নামে ৬০ লাখ মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রেখেছে লাখ লাখ নেতা-কর্মীকে। ২ হাজার ৭০০ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে ৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরে বলেছিলেন, আমার একটা পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।’
চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডির ‘চা ঘর’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছেন। পরে তিনি ২৫ জনকে চায়ের দোকান হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনছারী, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান শামু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনসহ বিশিষ্ট নাগরিকেরা। সভাপতিত্ব করেন চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক সিএনজিচালক আহত হয়েছেন। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান যুগান্তরকে বলেন, দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছিল। তার মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়। ককটেলটি সিএনজির উপর পড়েছিল, এতে চালক আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ডিসি। রাত পৌনে ১১টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় এক সিএনজিচালক আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তবে কে বা কারা এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যারা ঘটাচ্ছেন, তারা মূলত জাদুঘরের কার্যক্রমকে ভয় পাচ্ছেন। এভাবে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জাদুঘরের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ সহজেই বুঝতে পারছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে কোনো গোষ্ঠী নাশকতা চালাতে পারে বা হামলা করতে পারে। গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আরও ঘৃণিত হবে। তবে এটাও আমরা বলতে চাই যে, জাদুঘরের বাইরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।’
কাস্টমাইজড পণ্য নিয়ে কাজ করা দেশীয় ব্র্যান্ড তাহামস আজ মিরপুরে তাদের চতুর্থ ডিসপ্লে সেন্টার চালু করেছে। নতুন এই সেন্টারের মাধ্যমে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকেরা এখন সরাসরি পণ্য নির্বাচন, ডিজাইন তৈরি এবং কাস্টমাইজেশন প্রক্রিয়া দেখার সুযোগ পাবেন। মিরপুর-১-এর আল-নাহিয়ান শপিং কমপ্লেক্সে চালু হওয়া এই ডিসপ্লে সেন্টারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কাস্টমাইজড পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সাইজের টি-শার্ট, কাস্টমাইজড পানির বোতল, মগ ও ফটো ফ্রেম। টি-শার্টের ক্ষেত্রে ০ থেকে ১০ এক্সএল পর্যন্ত সাইজের সুবিধা রাখা হয়েছে। তাহামস জানিয়েছে, নতুন আউটলেটে গ্রাহকেরা পছন্দের ডিজাইন নির্বাচন করার পাশাপাশি নিজেদের সামনে প্রিন্টিং ও কাস্টমাইজেশনের পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারবেন। ব্যক্তিগত ব্যবহার, উপহার কিংবা বিশেষ দিনের জন্য পছন্দ অনুযায়ী পণ্য তৈরির সুযোগ থাকছে এখানে। নতুন ডিসপ্লে সেন্টারে তাহামসের নিজস্ব পণ্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য উদ্যোগ লুমিনা বাই তাহামস, তাহামস লিটল স্টার, পারফিউম ডি তাহামস এবং আল জামেয়া-এর পণ্যও রাখা হয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে নির্বাচিত পণ্যে সপ্তাহব্যাপী সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাহামসের প্রতিষ্ঠাতা ইসরাত সুলতানা তোহফা বলেন, “গ্রাহকেরা এখানে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্য কাস্টমাইজ করার সুযোগ পাবেন। আমরা চাই, মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতা তাদের ব্যবহার করা পণ্যের মাধ্যমে প্রকাশ পাক।” ২০২০ সালে অনলাইনভিত্তিক টি-শার্ট ব্যবসা হিসেবে তাহামসের যাত্রা শুরু হয়। ইসরাত সুলতানা তোহফা, তাঁর স্বামী কম্পিউটার প্রকৌশলী ও আলোকচিত্রী আশিক আহমেদ এবং কয়েকজনবন্ধুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে কাস্টমাইজড ফ্যাশন ও গিফটিং পণ্যের পরিধি বাড়িয়েছে। বর্তমানে তাহামসের পণ্য তালিকায় টি-শার্টের পাশাপাশি পাঞ্জাবি, জিনসসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক রয়েছে। সব বয়সী ও বিভিন্ন আকারের গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মিরপুরে নতুন ডিসপ্লে সেন্টার চালুর মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর পাশাপাশি কাস্টমাইজড ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পণ্যের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাহামসের।
সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য নয়, বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপি। তিনি বলেছেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি সরকারি কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাঈদ আহমেদ। নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশনা বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে কমিটির সভাপতি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক কিংবা বাস্তবসম্মত বাধা থাকলে তা কমিটির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি গোপন না করে প্রকৃত পরিস্থিতি উপস্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির প্রতিনিধি নন। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং তাদের মূল দায়িত্ব দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করা। প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে পুরোনো কর্মপদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাঈদ আহমেদ। তার মতে, ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সংসদীয় কমিটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে দেশের মানুষের কল্যাণে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পরে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, বিআইএএম ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি বাজেট বরাদ্দের তুলনায় যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতিতে চলছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়া সরকারি কার্যক্রমে অবহেলা বা অসহযোগিতার অভিযোগ থাকলে তা শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। শোক প্রস্তাব গ্রহণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়। বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপিসহ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), শাহজাহান চৌধুরী, মো. আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু এবং মো. নূরুল ইসলাম এমপি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।