অর্থনীতি

বৈদেশিক শ্রমবাজারে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হোক

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জনশক্তি রফতানি ঘিরে বিদেশে এক ধরনের নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। এর মূলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নথি জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশগমন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে শুরু করে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ইত্যাদির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেলে একের পর এক দেশ বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান স্থগিত, এমনকি বন্ধ ঘোষণা করার নজিরও রয়েছে। অর্থাৎ বৈদেশিক শ্রমবাজার বেদখল হওয়ার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার যে নির্দেশ দিয়েছে, তা ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি বৈদেশিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের উপস্থিতি বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ এনে প্রায়ই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলো। বিগত সময়ে ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট বাণিজ্যের কারণে বাংলাদেশী কর্মী নেয়া বন্ধ করেছে প্রায় দুই বছর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও ২০২৪-এর জুলাই থেকেই ভিসা ইস্যু বন্ধ করেছে দেশটি। গত বছর কাতারও একই পথে হেঁটেছে।

এর পেছনে নানা কারণ থাকলেও জাল নথিপত্রের ব্যাপক ব্যবহার যে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ কম। এটাও অবৈধ অভিবাসনেরই একটা প্রক্রিয়া। আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ স্পষ্টই জানিয়েছে জাল নথিপত্র দিয়ে ভিসা নেয়ার পথ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রক্রিয়া সহজ করবে না। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধের পেছনেও নানা রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে নানা সময়ে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের মিশন যৌথভাবে আহ্বান জানিয়েছিল যে জাল নথি ব্যবহারে শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা ও সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও রয়েছে, যা এরই মধ্যে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। একটি দূতাবাস একাই প্রায় ৩০০টি পর্যটন ভিসা আবেদনে একই ব্যাংকের জাল স্টেটমেন্ট শনাক্ত করেছে বলে জানা যায়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ প্রতারণা একটি সংগঠিত রূপ নিয়েছে। দালাল চক্র ও অননুমোদিত ভিসা এজেন্সির একটি বড় অংশ ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্য পরিবর্তন করে, সাময়িকভাবে টাকা জমা দেখিয়ে কিংবা সম্পূর্ণ ভুয়া স্টেটমেন্ট তৈরি করে ভিসাপ্রত্যাশীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এ চক্র ভাঙতে না পারলে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিকের বাজার টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে সময়োচিত। এ উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু বাস্তবায়নের পথে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কাজ করা প্রয়োজন। প্রথমত, দেশের ব্যাংক খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। বড় বেসরকারি ব্যাংকগুলো যেখানে এরই মধ্যে উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামোয় কাজ করছে, সেখানে অনেক সরকারি ও ক্ষুদ্র ব্যাংক এখনো মৌলিক ডিজিটাইজেশনের প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে আছে। ৯০ দিনের মধ্যে সবার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য কিউআর কোড চালুর যে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে তা বিদ্যমান বাস্তবতায় বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তাছাড়া কিউআর কোডের মাধ্যমে ব্যাংকিং ডেটাবেজে প্রবেশাধিকার তৈরি হলে সেখানে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও সংগত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে সাইবার নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হলেও সেটি কতটা এনক্রিপ্টেড ও সুরক্ষিত হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশিকা দেয়া হয়নি। অন্যদিকে প্রতিটি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে। সুতরাং ভুয়া নথির মাধ্যমে ভিসা আবেদনের পথ বন্ধ করতে হলে পূর্বশর্ত হিসেবে এসব সমস্যার সমাধান অপরিহার্য। আবার কেবল কিউআর কোড থাকলে প্রতারণা বন্ধ হবে—এটা নিশ্চিত ধরে নেয়া যায় না। কারণ যে চক্র বর্তমানে জাল স্টেটমেন্ট তৈরি করছে, তারা ভবিষ্যতে ভিন্ন কোনো পন্থাও অবলম্বন করতে পারে। তাই কেবল প্রযুক্তিগত সমাধান যথেষ্ট নয়, আইনি প্রতিকারও জরুরি।

এসব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে একটি কেন্দ্রীয় যাচাই-বাছাই সার্ভার (সেন্ট্রালাইজড ভেরিফিকেশন পোর্টাল) তৈরি করা, যেখানে সব ব্যাংক তাদের নথির তথ্য একীভূত করবে। এতে প্রতিটি ব্যাংকের আলাদা সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে না এবং বিনিয়োগও সাশ্রয়ী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বাংলা কিউআর কোড নিয়ে কাজ করছে এবং জুলাই থেকে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে—এ অবকাঠামো কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারে যুক্ত দালাল ও এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ কঠোর করতে হবে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি না হলে প্রযুক্তিগত সমাধান কেবল সাময়িক সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধার একদিনে সম্ভব নয়, কিন্তু এ পথে ধীরে ধীরে এগোনো প্রয়োজন। কিউআর কোডের নির্দেশনা সেই পথে একটি ধাপ হতে পারে, যদি বাস্তবায়ন করা যায়। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো তৎপর হতে হবে এবং সরকারকেও এদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
বিল-রিচার্জে টাকার টান পড়লে মিলবে ডিজিটাল ঋণ, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা

  সংসারের ছোটখাটো জরুরি খরচ মেটাতে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলেও অনেকের হাতে তখন পর্যাপ্ত নগদ থাকে না। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ অথবা প্রয়োজনীয় রিচার্জ করতে গিয়ে অনেককে পরিচিতজনের কাছ থেকে ধার করতে হয়। কেউ কেউ আবার ক্ষুদ্র ঋণের জন্য ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হন। এবার এই ধরনের ছোট অঙ্কের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণের সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   নতুন এই ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। ঋণ নেওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঋণের ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। তবে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে সেবামূল্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে ব্যাংকগুলোর।   বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নীতিমালায় ক্ষুদ্র অঙ্কের এই ডিজিটাল ঋণ চালুর কথা বলা হয়েছে। জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।   কেন এই ক্ষুদ্র ঋণের উদ্যোগ   বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন দ্রুত বাড়লেও এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে হাতে নগদ টাকা না থাকলে বিদ্যুৎ বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ কিংবা মোবাইল ফোনে রিচার্জ করা অনেকের জন্য সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পিত এই ব্যবস্থা মূলত সেই জায়গাটিই পূরণ করতে চায়। অর্থাৎ গ্রাহকের হাতে তাৎক্ষণিক নগদ টাকা না থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে অল্প পরিমাণ অর্থ ধার নিয়ে প্রয়োজনীয় বিল বা রিচার্জ করা যাবে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।   এটি বড় অঙ্কের ভোগ্যঋণ নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের খুব ছোট ও তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি ঋণব্যবস্থা। ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা ব্যাংক থেকে প্রচলিত ঋণ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়া অনেক মানুষও এর আওতায় আসতে পারেন।   ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ   খসড়া নীতিমালায় ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণের অঙ্ক যত বাড়বে, নির্ধারিত সেবামূল্যও তত বাড়বে।   প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫ টাকা সেবামূল্য; ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ১০ টাকা; ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ১৫ টাকা; ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫ টাকা; ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ৩৫ টাকা; ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সেবামূল্য নেওয়া যাবে।   অর্থাৎ কেউ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ঋণ নিলে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে কোনো সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।   সুদ নেই, তবে সেবামূল্য থাকবে   প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ঋণের ওপর কোনো সুদ নেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সেবামূল্য নেওয়া যাবে।   তবে ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। অনুমোদিত সেবামূল্যের বাইরে সুদ, জরিমানা, প্রক্রিয়াকরণ ফি কিংবা অন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে।   এমনকি কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ৩০ দিনের আগেই ঋণ পরিশোধ করে দিলে তার কাছ থেকে বাড়তি কোনো আগাম পরিশোধ ফি নেওয়া যাবে না।   এর ফলে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত খরচের চাপ কম থাকবে। একই সঙ্গে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সেবাটি পরিচালনার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।   পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল   নতুন ব্যবস্থায় ঋণ নিতে গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   কাগজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে গ্রাহকের জীবমিতিক পরিচয় যাচাই এবং ডিজিটাল সম্মতি নেওয়া হবে। অর্থাৎ গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।   এতে একদিকে যেমন সময় ও কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে, অন্যদিকে ছোট অঙ্কের ঋণ দেওয়ার পরিচালন ব্যয়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।   জরুরি সময়ে বড় সুবিধা হতে পারে   ধরা যাক, মাসের শেষ দিকে একজন গ্রাহকের হাতে নগদ অর্থ নেই। অথচ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ সময় চলে এসেছে। আবার কারও মোবাইল ফোনে জরুরি রিচার্জ প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে পরিচিতজনের কাছ থেকে টাকা ধার করা কিংবা কোনো অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার বদলে ডিজিটাল মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই সুবিধা তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ সামলানোর একটি বিকল্প তৈরি করতে পারে।   এ ছাড়া ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস তৈরি হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে গ্রাহকের আর্থিক আচরণ মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ঋণ নিয়ে সময়মতো পরিশোধ করলে একজন গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধের অভ্যাস সম্পর্কে ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য জমা হতে পারে।   নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর সুযোগ   বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও দৈনন্দিন ছোটখাটো লেনদেনে নগদের ব্যবহার এখনো উল্লেখযোগ্য। বিল পরিশোধ ও মোবাইল রিচার্জের মতো প্রয়োজনীয় খরচও যদি ডিজিটাল ঋণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়, তাহলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা আরও কমতে পারে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও হচ্ছে একটি আধুনিক ও কম নগদনির্ভর অর্থনীতি তৈরি করা। সেই বিবেচনায় ক্ষুদ্র ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে নতুন একটি স্তর যোগ করতে পারে।   এতে শুধু ঋণ নেওয়াই নয়, ঋণ পরিশোধও হবে ডিজিটাল মাধ্যমে। ফলে একজন গ্রাহকের পুরো লেনদেন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে চলে আসবে।   তবে ঝুঁকিও রয়েছে   ক্ষুদ্র ঋণ সহজলভ্য হলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে একজন গ্রাহক যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা বারবার ঋণ নিতে থাকেন, তাহলে অল্প অঙ্কের ঋণও একসময় বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত হতে পারে।   কারণ ৫ হাজার টাকা খুব বড় ঋণ না হলেও একই ব্যক্তি যদি নিয়মিত একাধিকবার এই সুবিধা ব্যবহার করেন, তাহলে তার মোট দায় উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।   এ কারণে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিশোধ সক্ষমতা, আগের ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং একই সময়ে অন্য কোনো ডিজিটাল ঋণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।   একই সঙ্গে গ্রাহক যেন সেবামূল্য, পরিশোধের সময়সীমা এবং ঋণ খেলাপি হলে কী হবে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় বুঝতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।   আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা   বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহার করেন। কিন্তু তাদের অনেকেরই প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে খুব ছোট অঙ্কের প্রয়োজনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল।   সেই জায়গায় ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার এই ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।   কারণ এখানে ঋণের অঙ্ক ছোট, সময়সীমা মাত্র ৩০ দিন এবং আবেদন থেকে অর্থ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটাল। ফলে ব্যাংক ও গ্রাহক—উভয়ের জন্যই এটি তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।   খসড়া থেকে চূড়ান্ত নীতিমালার অপেক্ষা   তবে এখনই এই সুবিধা চালু হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে খসড়া নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।   চূড়ান্ত নীতিমালায় ঋণ দেওয়ার যোগ্যতা, গ্রাহকের সীমা, ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং ঋণ খেলাপি হলে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্ট হতে পারে।   সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ক্ষুদ্র অঙ্কের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিজিটাল সেবা হয়ে উঠতে পারে।   বড় ঋণ নয়, ছোট প্রয়োজনেই নজর   সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণের নতুন কোনো কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট কিন্তু জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানো।   হাতে টাকা না থাকলেও যাতে বিদ্যুৎ বিল, অন্যান্য ইউটিলিটি বিল কিংবা মোবাইল রিচার্জ আটকে না থাকে—সেই প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের পরিকল্পনা। সুদবিহীন এবং নির্ধারিত সেবামূল্যের এই ঋণব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি ছোট অঙ্কের জরুরি অর্থের জন্য অনানুষ্ঠানিক ধারদেনার ওপর মানুষের নির্ভরতাও কমতে পারে।   তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সহজলভ্যতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা এবং অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থার ওপর। কারণ ডিজিটাল ঋণের আসল সাফল্য শুধু কত টাকা বিতরণ হলো, তা দিয়ে নয়; বরং কত মানুষ নিরাপদে, স্বচ্ছভাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারলেন—তার ওপরই নির্ভর করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৯, ২০২৬

বেনাপোল হয়ে এলো ৮০ টন কাঁচা মরিচ, দাম নামলো অর্ধেকে

ছবি: সংগৃহীত

এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে আনারস আমদানির অনুমতি দিল পাকিস্তান

ফাইল ছবি
দেশের বাজারে কমল সোনার দাম

​দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। গতকাল একদিনে ভরিতে বাড়িয়েছিল ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা। ​শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। ​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা। ​সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল সচল, গ্যাস সরবরাহে স্বস্তির আভাস

ছবি: সংগৃহীত

৩৩ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলারে

রুপার অলংকার। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বজুড়ে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে। খবর রয়টার্সের।     বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।     এদিকে, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ৫৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।   অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৮০ দশমিক ৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।     বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় রয়েছে।     এদিকে মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৪,০৫২ দশমিক ৮৬ ডলারে লেনদেন হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,১১১ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

১৮ আগস্ট এনবিআরের দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে দিল্লির প্রতি ঢাকার অনুরোধ

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস-কাঁচামালের অভাবে কমছে সার উৎপাদন, আমন মৌসুমে অনিশ্চয়তা

0 Comments