প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বাংলাদেশের মানুষ একই সাথে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এখন দেশ গঠনের সময় এসেছে। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে, পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
নিজের ঘোষিত পরিকল্পনার প্রতি জনসমর্থন প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনসমর্থন থাকলে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, প্রত্যেকটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই আমরা, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে যে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে, এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে তারপরে আমরা ১০০ গরিব পরিবারকে আজকে ঘরের চাবি হাতে উঠিয়ে দিতে পেরেছি। এছাড়াও আপনাদের সামনেই আপনারা দেখলেন, আরও অনেক মানুষকে সহযোগিতার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আর্থিক সহায়তা করেছি। কিছু মহিলাকে আমরা চাল দিয়েও সহযোগিতা করেছি।
তিনি বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষকে দেখে রাখা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মা-বোনদের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের মানুষ যারা অসুস্থ হবে তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের তরুণ সমাজ, যুবসমাজ—নারী হোক, পুরুষ হোক— তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল— এই দেশের মায়েদের সহযোগিতা করার জন্য। এই দেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে জন্য আমরা বলেছিলাম আমরা ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাবো। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম এবং ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। এবং ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশে এই ২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবো। তিনি আরও বলেন, আপনাদের এই এলাকায়, এই উপজেলার মধ্যে ইনশাআল্লাহ ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এই আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে, আরও অনেক মা-বোন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। কেন আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছিলাম— আমাদের লক্ষ্য ছিল যাতে ভাইদের পাশাপাশি বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে, একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া দেখতে পারে, সন্তানদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। সেই জন্য মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি।
লবণচাষিদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শুধু যারা ধান-পাট বা অন্যান্য শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষবাস করে তারাই যে শুধু কৃষক কার্ড পাবে তা নয়। এমনকি লবণচাষি ভাই যারা আছেন, ইনশাআল্লাহ তাদেরও আমরা ফ্যামিলি কার্ড তাদের হাতে পৌঁছে দেব। লবণের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার আলোচনা করে আমরা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি, যে মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইয়েরা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হবেন। আস্তে আস্তে ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব, যার ফলে লবণচাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম, মাতারবাড়ি পুরো দেখে এলাম। শুধু মাতারবাড়ি নয়, চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চলকে আজকে আমি দেখেছি হেলিকপ্টারে। কেন দেখেছি— কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে এই বাংলাদেশের সম্পদ, এই দেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক হচ্ছে এই বাংলাদেশের জনগণ এবং সেজন্যই এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবনব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কীভাবে আমরা এখান থেকে শুরু করে মিরসরাই পর্যন্ত, মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তার জন্য আজকে আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম।
চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন চট্টগ্রামের আমীর খসরু সাহেব এবং সালাহউদ্দিন সাহেব দুজনে গিয়েছিলেন চীনে। আমরা একটি বিরাট বড় জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে এবং এই মিল-কারখানাগুলোতে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে আমাদের যেমন একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একই সঙ্গে আমরা ইনশাআল্লাহ বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব, এই দেশের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবো, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে গড়ে তুলবো।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩০ বেড করে গিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করেছেন বাকি ২০ বেড যোগ করেছিলেন। আজকে এই সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যাতে প্রত্যেক উপজেলার মানুষ ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে আমরা ১০১ শয্যায় উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কাজগুলো যদি করতে হয়, এই দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে হয়, তাহলে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।
তিনি বলেন, দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগ করবেন, তারা তো চাইবেন যাতে তাদের মিল-কারখানার উৎপাদিত পণ্য ঠিকভাবে বন্দর দিয়ে যেতে পারে বা কাঁচামাল সঠিকভাবে আসতে পারে, রাস্তাঘাটে যাতে শান্তি থাকে। যদি মিল-কারখানা সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সম্ভব? সম্ভব না। সেই জন্য আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রক্টরের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও উদযাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে কোনো আয়োজনের কারণে অন্য কারও কর্মসূচি বা উদযাপন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিলে দায়িত্ব পালনরত প্রক্টর ঘটনাস্থলে উদ্যোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান করেন। পরদিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা ও বিবৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রক্টরের আহ্বান ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, সাম্প্রতিক ঘটনার পর নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রক্টর পশু জবাইয়ের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজন ও উদযাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শোকজ নিয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা এদিকে, ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ ছড়ানোর পর জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক পক্ষের আয়োজন যেন অন্য পক্ষের অধিকার বা কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে সেতুর পাটাতন দৃশ্যমান হওয়ায় প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে পর্যটকদের চলাচলের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা। তিনি জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে সেতুটি তলিয়ে গেলে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ১২ অক্টোবর থেকে হ্রদের পানি কমতে শুরু করলে সেতুর পাটাতন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সেতুটি পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর দ্বিতীয়বার পানিতে তলিয়ে যায় সেতু এর আগে গত ২৯ আগস্ট টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে সেতুটি ডুবে যায়। পরবর্তী সময়ে পানি কমতে থাকায় ৪ সেপ্টেম্বর সেতুর অধিকাংশ অংশ দৃশ্যমান হয়। সংস্কার শেষে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যটকদের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১১ সেপ্টেম্বর আবারও পানির নিচে চলে যায় সেতুটি। ফলে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পর্যটন কার্যক্রমে স্বস্তি ফেরার আশা রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ এই ঝুলন্ত সেতু। বর্ষাকালে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে সেতুর পাটাতন তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের অনেক সময় সেতু না দেখেই ফিরে যেতে হয়। দীর্ঘদিন সেতু বন্ধ থাকায় পর্যটনকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের আনাগোনা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ে স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে। সেতুটি পুনরায় চালু হওয়ায় পর্যটকদের চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন কার্যক্রমে গতি ফেরার আশা তৈরি হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের দাবি পর্যটনসংশ্লিষ্টদের ১৯৮৬ সালে নির্মিত ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি রাঙামাটির অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থান। কাপ্তাই হ্রদের ওপর দুই পাহাড়ের সংযোগস্থলে নির্মিত সেতুটি দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। তবে বর্ষা মৌসুমে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই সেতুটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। এতে পর্যটন কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ অবস্থায় কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে সেতুটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলে পর্যটকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি রাঙামাটির পর্যটনশিল্প আরও উপকৃত হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তত্ত্বাবধানে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর ইনুকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ সময় সিআইডিকে সহযোগিতা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। স্বাস্থ্য পরীক্ষার কারণ জানা যায়নি কী কারণে হাসানুল হক ইনুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, একটি মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ইনু এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন হাসানুল হক ইনু। তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ জানিয়েছেন, ২৩টি যুক্তি তুলে ধরে সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে আপিল করা হয়েছে। আপিলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নিজের আইনি অবস্থান তুলে ধরেছেন ইনু। তবে আপিলের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।