জাতীয়

দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

 

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টু রোডের বাসভবনে ১১ দলের বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

 

বিএনপির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতার পালাবদলের সময় নিজেদের হাতে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা বিএনপি বিভিন্ন সময়ে করেছে। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।’

 

এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে এবং তাদের একজন অভিন্ন প্রার্থী থাকবেন। সেই প্রার্থী হিসেবে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।’

 

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দল প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু তাকে আরও ছয় মাস পদে রাখা হয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কোনো ধরনের বিচারের আওতায় না এনে ‘ফ্রি এক্সিট’ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ কেন তার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হলো এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি
আবেগ নয়, যুক্তি ও বাস্তবতায় পরিচালিত হয় রাষ্ট্র: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্র কখনো রাগ বা ক্ষোভের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে না, রাষ্ট্র পরিচালিত হয় যৌক্তিকতার ভিত্তিতে।   তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তা সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি বিনষ্ট করে নয়।   বুধবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংবিধান দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, এ দেশের জনগণ কখনোই বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। যারা বাড়াবাড়ি করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এ দেশের মানুষ কখনো ভুল করে না।   তিনি বলেন, যারা সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ছিল, জনগণ তাদের সমর্থন দিয়েছে এবং নির্বাচিত করেছে।   মন্ত্রী আরও বলেন, ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেশের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তারপরও শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সম্প্রীতি বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।   মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।   গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে সহজ অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তায় সরকারের গুরুত্বারোপ

ছবি: সংগৃহীত

পাতাল মেট্রোরেলের চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

ছবি: সংগৃহীতছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের জন্য নির্মিত হবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল : শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

পোশাক শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষের মধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে যেসব কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলো খুলে দিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মালিকদের প্রতিও আহ্বান জানান।   বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর প্রতিনিধি এবং শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন।   শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।মালিক ও শ্রমিক-উভয় পক্ষই বোর্ডের সুপারিশ মেনে নেবে বলে তাকে জানিয়েছে।   শ্রমিকদের আন্দোলনে নিহত ব্যক্তির পরিবারের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আপাতত এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।   তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   শ্রমিকদের জন্য গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, বুধবারই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।   শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তবে তা আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে। সরকার সাড়া না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই রাস্তায় নেমে আসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।   তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানা চালু থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে। তাই শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে মালিকদের উদ্দেশে শ্রমমন্ত্রী বলেন, সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাদেরও কারখানা খুলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।   শ্রম অসন্তোষের পেছনে শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস করতে চায় এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।   মজুরি বোর্ড গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর রবিবার দুপুর ১২টার আগেই নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপরও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে সরকার কাজ থামিয়ে রাখেনি। বোর্ড গঠনের তিন দিনের মাথায় বুধবার বৈঠক হয়েছে এবং চার দিনের মাথায় আবারও বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে দ্রুত সব কারখানায় উৎপাদন চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শ্রমমন্ত্রী।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তিন উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে : শ্রমমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
‘এত সুন্দর ও শৃঙ্খলভাবে আগে বিমানবন্দর দেখিনি’, যাত্রীদের সন্তুষ্টির কথা জানালেন বিমানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান ও সার্বিক শৃঙ্খলায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তাদের অনেকে জানিয়েছেন, আগে কখনো বিমানবন্দরকে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় দেখেননি।   বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার পর এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।   পরিদর্শন শেষে বিমানবন্দরের ভিআইপি ফটকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ওই সময় একসঙ্গে চারটি ফ্লাইট অবতরণ করায় যাত্রীদের চাপ ছিল। ছয়টি লাগেজ বেল্টই ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও যাত্রীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।   মন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তারা সন্তুষ্ট বলে জানতে পেরেছেন। দেড় মাস আগে বিমানবন্দর ব্যবহার করা কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। তারাও জানিয়েছেন, আগের মতো সমস্যা এখন আর হচ্ছে না।   বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, আগে বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে দুর্নাম ও নানা অভিযোগ ছিল, যা তারা স্বীকার করেন। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। লাগেজ ভাঙা বা কেটে যাওয়ার মতো অভিযোগও এখন আর আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।   তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর করার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে এই দূরত্বের মধ্যে বিমানবন্দর নির্মাণ বা পরিচালনার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।   তিনি বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সেটি পরিচালনা করা দুটি আলাদা বিষয়। একটি বিমানবন্দর নির্মাণে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশটির পঞ্চম টার্মিনাল নির্মাণে ১২ বছর ধরে কাজ চলছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানতে পেরেছেন।   এ ছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ ও ২ নির্দিষ্ট কিছু ফ্লাইটের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেট এয়ারলাইনস, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং হজযাত্রীদের ফ্লাইটের জন্য টার্মিনাল দুটি নির্দিষ্ট করে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে হজ ও চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা আরও নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গণপূর্তের প্রকৌশলীদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন: গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটকের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, বাড়ছে পরিবেশের ওপর চাপের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত কাভার্ডভ্যান, চালক নিহত

0 Comments