পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। রোববার (১৫ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রতিমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি এবং দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষ অভিবাসন এবং জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ বৃদ্ধিতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। রুশ রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে রাশিয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (২০২৬–২০২৭ মেয়াদ) সভাপতিত্ব। এ পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে রাশিয়ার সমর্থন কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয় কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান প্রয়োজন হলেও বারবার মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের কারণে সেই জ্ঞান গড়ে ওঠে না। আজ একটি মন্ত্রণালয়, কাল আরেকটি মন্ত্রণালয়-এভাবে দায়িত্ব বদল হওয়ায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘কিছু মন্ত্রণালয়ে জনসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অপরিহার্য, যা আলাদাভাবে অর্জন করতে হয় এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চর্চা করা দরকার। কিন্তু বাস্তবে এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে নেওয়া হয় না, ফলে নানা ধরনের ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।’ রবিবার (১৫ মার্চ) ডিআরইউ শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে’ প্রধান অতিথির বক্ত্যবে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়কে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী মানুষের অবাধ তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান যুগে শুধু অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা নয়, তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধাও মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেও যদি মানুষ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে নতুন প্রজন্ম তা মেনে নেবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের মধ্যে ঘুণে ধরা রোগ আমরা বুঝতে চাচ্ছি। তথ্য মন্ত্রণালয়কে প্রতিনিয়ত সেবা দিতে হলে সরকারের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবেলা করে নিরাপদভাবে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে হবে।’ এ জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে এবং বড় সংখ্যক প্রযুক্তিবিদকে জনবল কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তিনি শুনছেন এবং সেগুলো লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। শিগগিরই সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ বিশেষ করে ওয়েজ বোর্ড নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি জটিলতার মুখে পড়েছেন। এটি তথ্য মন্ত্রণালয় নাকি শ্রম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার-তা স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি এলোমেলো হয়ে আছে।সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়কে যুগোপযোগীভাবে সংস্কার করতে হবে। সংস্কার ছাড়া সাংবাদিকদের কল্যাণে কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। ক্রাইম বিটের সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো তালিকাবদ্ধ করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ডিআরইউয়ের সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন সোহেল, ভারতীয় হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক ও তথ্য) পূজা কুমারী ঝাঁ, সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (ভিসা ও কনস্যুলার) হিউ কং সিয়াং, ক্রাবের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
ঢাকার সাভারে আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রবিবার (১৫ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ এক সংক্ষিপ্ত সফরে সাভার সেনানিবাসে গমন করেন। সেখানে সেনাবাহিনী প্রধান সেনানিবাস সংলগ্ন আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উল্লেখ্য, ২০০ শয্যাবিশিষ্ট এই প্রতিষ্ঠানে স্নায়ুরোগ ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু, অভিযানিক দায়িত্বে ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিবর্গের প্রচলিত ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ থেরাপির পাশাপাশি আধুনিক রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন চিকিৎসা প্রদান করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনী প্রধান কুমিল্লা সেনানিবাস যান। সেখানে সেনানিবাস সংলগ্ন আর্মি মেডিক্যাল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কেনাকাটার পর কাগজের শপিং ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে জনপ্রিয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি এ নোটিশ পাঠান। এর আগে একই কারণ দেখিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিশাত ফারজানা আড়ংকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বাণিজ্য সচিব, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক ও আড়ং ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ নোটিশ পাঠানো হয়।নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট করতে বাধ্য হবেন বলে উল্লেখ করা হয়। নোটিশে আইনজীবী অভি বলেন, ‘২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কেনাকাটার পর বিনামূল্যে শপিং ব্যাগ না দিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে আড়ং, যা বাংলাদেশ আইনের পরিপন্থী। দেশের কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই এ ধরনের কার্যক্রম করছে না। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আড়ংয়ের বিভিন্ন শো-রুমে পণ্য কেনার পর ব্যাগের জন্য বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। ফলে অনেক ক্রেতাই হাতে করে কাপড় বহন করছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।’ ‘আড়ং–এর এ কাজটি ভোক্তাদের আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একইসঙ্গে লঙ্ঘন করছে ব্যবসায়িক নৈতিকতার মান। তাদের দেখাদেখি বাংলাদেশে অন্যান্য ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানও ক্রেতাদের কাছ থেকে শপিং ব্যাগের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য উৎসাহিত হতে পারে। তাই অবিলম্বে আড়ংকে শপিং ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকেও নির্দেশ দেওয়া হোক যেন বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে সব ক্রেতাকে বিনামূল্যে পণ্য বহনের ব্যাগ প্রদান নিশ্চিত করতে আইনি নোটিশে বলা হয়।
দেশের ৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিল সরকার। আজ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তাদের পাঁচ জেলায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে বদলি বা পদায়ন করা হলো। তারা হলেন— স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তাকে গাজীপুর জেলার প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরিচালক (উপসচিব) আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শুকরিয়া পারভীনকে পঞ্চগড়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. তৌহিদ বিন-হাসানকে কুষ্টিয়া ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খন্দকার মুশফিকুর রহমানকে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, ইভটিজিং প্রতিরোধ, ‘র্যাগ ডের’ নামে বিশৃঙ্খলা বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের রাতে পড়াশোনায় মনোযোগী করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত ইমেইলে এসব তথ্য পাঠাতে হবে। রোববার (১৫ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি মাউশির আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নির্মিত মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি ও থিম সং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইভটিজিং প্রতিরোধ, ‘র্যাগ ডের’ নামে বিশৃঙ্খলা বন্ধে গৃহীত পদক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের রাতে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের অগ্রগতির তথ্য ৩০ মার্চের মধ্যে ইমেইল (director.mew@gmail.com) ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের নিজ নিজ অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন সংগ্রহ করে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী একত্রে কম্পাইল করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে—অঞ্চলের নাম, অঞ্চলের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের শতকরা হার, বাস্তবায়ন করতে না পারা প্রতিষ্ঠানের শতকরা হার (যদি থাকে), না পারার কারণ এবং প্রয়োজনীয় মন্তব্য।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সংসদ ভবনের গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের অনুরোধ অনুযায়ী তারা নিয়ম মেনে নোটিশ দেবেন এবং সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান চান। তবে সংসদে সমাধান না হলে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং স্পিকার নোটিশ দিতে বলেছেন, তাই সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি এগিয়ে নেওয়া উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন— এ প্রসঙ্গে তিনি ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, এটি কার্যউপদেষ্টা কমিটির বিষয় নয়; বরং সংসদেই এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিধান নেই— এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, সংবিধানে ২০২৬ সালে কোনো ভোটের উল্লেখ না থাকলেও রাষ্ট্রপতির আদেশে তা বাস্তবায়ন হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতির আদেশের একাংশ মানা আর অন্য অংশ না মানা যৌক্তিক নয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ সংবিধান। গণভোটে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়েই সম্মত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত গণভোটে সংস্কারের পক্ষের প্রস্তাবই জয়ী হয়েছে। তাই এখন পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল না পাওয়ার অভিযোগে আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় সুবিধাভোগীরা। এতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ঢোলভাঙ্গা এলাকায় গাইবান্ধা–পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে শনিবার চাল বিতরণের সময় অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, তাদের ১০ কেজির পরিবর্তে মাত্র ৬ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনেকের কাছে সরকারি স্লিপ থাকা সত্ত্বেও চাল না দিয়ে বিতরণ কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, যাদের স্লিপ রয়েছে কিন্তু চাল পাননি তাদের রোববার চাল দেওয়া হবে। তবে রোববার সকালে চাল নিতে গেলে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে টালবাহানা করা হয় এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে মহাসড়ক অবরোধ করেন। অবরোধকারীদের দাবি, বরাদ্দকৃত চাল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। তাদের কাছে সরকারি স্লিপ থাকা সত্ত্বেও চাল দেওয়া হয়নি এবং প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নে ৫ হাজার ২০০টি স্লিপের বরাদ্দ থাকলেও ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৯৭৪টি স্লিপের বিপরীতে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ফলে পরে আর চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। অবরোধকারীদের অনেকেই ভুয়া স্লিপ নিয়ে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের সরকার বলেন, অভিযোগের বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সাধারণত জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সরকার। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে। প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা: পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ.কে.এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে মো. এরশাদ আলী, নাটোরে মো. রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুরে মো. জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়ায় সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহে মো. আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরায় আলী আহমেদ, বাগেরহাটে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। খুলনায় এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালীতে স্নেহাংশু সরকার, ভোলায় গোলাম নবী আলমগীর, বরিশালে আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠিতে মো. শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলে এস এম ওবায়দুল হক, শেরপুরে এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ, ময়মনসিংহে সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনায় মো. নূরুজ্জামান (অ্যাড.), কিশোরগঞ্জে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জে এ. কে. এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জে মো. মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ীতে আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জে শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুরে খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুরে সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটে আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজারে মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লায় মো. মোশতাক মিয়া, নোয়াখালীতে মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) থাকা এই উপদেষ্টা এখন থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরে রোববার (১৫ মার্চ) ডা. জাহেদ উর রহমান নিজেই প্রজ্ঞাপনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দায়িত্ব ও দফতর বণ্টন এবং পুনর্বণ্টন করা হয়েছিল। এর পর প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী ডা. জাহেদ উর রহমানের দায়িত্ব পুনরায় বণ্টন করা হয়েছে। তবে আগের দুটি প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় মোট ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে ডা. জাহেদ উর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কৌশলগত বিষয়ে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাগজ দেখে পড়ে শোনানো অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছেন সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি সংসদ সদস্যদের শুধু নোট বা মূল পয়েন্ট দেখে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে স্পিকার এই নির্দেশনা দেন। অধিবেশন চলাকালে বরগুনা-১ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ বক্তব্য দেওয়ার সময় কাগজ দেখে পড়ছিলেন। এ সময় স্পিকার তাকে লক্ষ্য করে বলেন, “আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—সংসদে দেখে দেখে পড়া এলাউড নয়। আপনি নোট রাখতে পারেন। একবার নোটে তাকিয়ে তারপর হাউসের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেবেন। ভবিষ্যতে আমরা সেটাই আশা করি। এটাই সংসদের নিয়ম।” তিনি আরও বলেন, অধিবেশনে শুধু একজন নয়, আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে কাগজ দেখে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। এর আগে যিনি বক্তব্য দিয়েছেন তাকেও একইভাবে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, “আপনিও আপনার পূর্ববর্তী বক্তার মতো দেখে দেখে বক্তব্য দিয়েছেন। এটি সংসদের রেওয়াজ নয়। ভবিষ্যতে আপনারা না দেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস করবেন।” স্পিকারের এমন নির্দেশনার পর বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। কারণ অনেকেই দীর্ঘ বক্তব্য লিখে কাগজ দেখে পড়ে থাকেন। ফলে এখন থেকে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী নোট দেখে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কোনো লিখিত বক্তব্য পাঠ করার আগে স্পিকারের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না। সবাই চাহিদামতো তেল কিনতে পারবে সেচে ডিজেল চাহিদা পূরণ ও ঈদ যাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং প্রত্যাহার তুলে নিল সরকার। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ এ ঘোষণা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না। সবাই চাহিদামতো তেল কিনতে পারবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির সংকট যাতে না হয়, তাই আমদানি বাড়াতে ভারত থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ লাইনে সৃষ্ট সমস্যার ফলে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে কয়েকটি আমদানীকৃত জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। আরো বলা হয়, জনগণের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধি নিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৫ মার্চ থেকে সব বিতরণ পয়েন্ট থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিতরণ অব্যাহত থাকবে। এর আগে অস্বাভাবিক বিক্রি ঠেকাতে গত ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে সীমা বেঁধে দেয় সরকার।এর পর ১০ মার্চ রাইড শেয়ার করা মোটরসাইকেলের জন্য সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়। শুরুতে ২ লিটারের সীমা থাকলেও এটি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ লিটার করা হয়। এছাড়া ৭ মার্চ থেকে ফিলিং স্টেশনে চাহিদার চেয়ে ২৫ শতাংশ হারে কম সরবরাহ করা হচ্ছিল।১১ মার্চ থেকে বিভাগীয় শহরের ফিলিং স্টেশনে ১০ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানো হয়।এর পরও চাহিদামতো সরবরাহ পেতে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানান স্টেশন মালিকরা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের সময় যাদের আত্মীয়-স্বজন নেই এবং বাসায় মূল্যবান জিনিস রেখে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা চাইলে থানায় স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিরাপদে রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির (ভারপ্রাপ্ত) কমিশনার মো. সরওয়ার। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে অপরাধীরা যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেজন্য টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে। আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। মো. সরওয়ার বলেন, যাদের আত্মীয়-স্বজন নেই তারা প্রয়োজনে তাদের স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র থানায় নিরাপদে রাখতে পারবেন। প্রয়োজন হলে পুলিশের সহায়তা নিতে কোনো দ্বিধা করার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, ঈদে বাড়ি ছাড়ার আগে বাসাবাড়ির দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ করা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা এবং আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে। ডিএমপির এই ভারপ্রাপ্ত কমিশনার নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিজ হেফাজতে রাখার জন্য যাত্রীদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পারে। এ সময় তিনি বলেন, ঈদের আগে ও পরে তিনদিন বিশেষ পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানিয়েছেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর তালিকা পুনর্বিন্যাস ও পুনরায় যাচাই করার প্রক্রিয়া সরকার শুরু করেছে, যাতে অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, 'তালিকায় প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। যোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য তালিকাগুলো সংশোধন, পুনর্বিন্যাস এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উপকারভোগীদের পুনরায় যাচাই করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি।' প্রতিমন্ত্রী আজ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর (চট্টগ্রাম-১৫) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী’র ওই সংসদ সদস্য জানতে চান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো চালু করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে উপকারভোগীর তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের স্বজনপ্রীতি দেখা দেয়। তিনি জানান, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকা পর্যালোচনা ও যাচাই করতে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, 'বিভিন্ন উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তালিকাগুলো সঠিকভাবে পুনরায় যাচাই করা যায় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা কার্ড ও সুবিধা পেতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। এজন্য আমাদের আন্তরিক থাকতে হবে, যাতে প্রকৃত মানুষই ভাতা পান।' সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান উপকারভোগীর তালিকা পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃতভাবে কারা এসব কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য তা নির্ধারণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে প্রস্তুত করা বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর তালিকাও অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এভাবে সমস্যার সমাধানের দিকে এগোনো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, 'বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ক্ষেত্রে যে অনিয়ম রয়েছে, তা দূর করে সমাধানের পথে এগোতে আমরা বিভিন্ন মহল থেকে মতামত নিচ্ছি।' সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো খাত এখনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় না এলে এবং সেটি উপযুক্ত মনে হলে তা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছানো যায়। ফারজানা শারমীন আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বজনপ্রীতি পরিহার করে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এর একটি বড় উদাহরণ হলো সম্প্রতি চালু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আজ রোববার জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। এরপর অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় জারি করা কোনো অধ্যাদেশ পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সে অনুযায়ী গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। সাধারণত কোনো বিল যাচাই-বাছাই করে সংসদে প্রতিবেদন দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তবে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়নি। অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি অধ্যাদেশগুলো বাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেবে।
ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশনের (ইন্টারপোল) যৌথ আয়োজনে দুই দিনব্যাপী (১৬-১৭ মার্চ) গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬-এ অংশ নিতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠেয় এ সামিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামিটের উদ্বোধনী ও প্লেনারি সেশনসহ মন্ত্রী ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের রাউন্ডটেবিল বৈঠক ও ‘ন্যাশনাল কমিটমেন্টস/প্লেজেস অন কমব্যাটিং ফ্রড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া মন্ত্রী সাইডলাইন ইভেন্টের অংশ হিসেবে ইউএনওডিসি’র নির্বাহী পরিচালক জন ব্র্যান্ডোলিনো এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী আরটি হন লর্ড হ্যানসন এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। উল্লেখ্য, মন্ত্রী সামিটে অংশ নিতে আজ রোববার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ইটি-৬৭৯ ফ্লাইট যোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। সামিট শেষে তিনি আগামী ২০ মার্চ ভোর ৫টা ৩৫মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে-৭১২ নং ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরবেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের সময় যারা ঢাকায় আত্মীয়-স্বজনবিহীন অবস্থায় থাকেন বা বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার কারণে মূল্যবান জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকেন, তারা চাইলে থানায় স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিরাপদে রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মো. সরওয়ার বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি রোধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ঈদের সময় রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এ সুযোগে যাতে অপরাধীরা কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে। আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। মো. সরওয়ার আরও বলেন, যাদের ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন নেই তারা প্রয়োজনে তাদের স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র থানায় নিরাপদে রাখতে পারবেন। কোনো প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিতে নাগরিকদের দ্বিধা না করারও আহ্বান জানান তিনি। ঈদে বাড়ি ছাড়ার আগে বাসাবাড়ির দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা এবং আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তিনি যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিজ হেফাজতে রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান। ডিএমপি জানায়, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পারেন। এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে তিন দিন বিশেষ পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলোতেও অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা সুন্দরবন এবং সংলগ্ন এলাকার সব নদ-নদীর জীবন্ত সত্তা ফিরিয়ে আনা হবে। সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীর কয়লা দূষণ, প্লাস্টিক-পলিথিন ও শিল্প দূষণ রোধ করে এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হবে। শনিবার দুপুরে বাগেরহাটের মোংলার কানাইনগরে পশুর নদীর পাড়ে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, নদী একটি জীবন্ত সত্তা। সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীর প্লাবনভূমিতে সরকারি রেকর্ডভুক্ত শতাধিক নদী-খালের ওপর দেওয়া অবৈধ বাঁধ দ্রুত অপসারণ করা হবে। সরকারের খাল খননের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মাধ্যমে এসব নদী-খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক ও অবাধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নদী ও খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী, মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আফরিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি এবং সুন্দরবন রক্ষায় আমরা সংগঠনের সমন্বয়কারী পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ। এর আগে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র রমজান মাসের মহিমান্বিত ও বরকতময় রাতে মুসলিম উম্মাহ ইবাদত-বন্দেগি, তওবা এবং আত্মিক শুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। সেই রাতেই ‘সেহরি পার্টি’র নামে হিন্দি গানের তালে নাচ-গান ও অশ্লীলতার আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে জেসিআই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সেহরি পার্টির নামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে হিন্দি গান ও নৃত্য চলছে। এমনকি সেখানে মাদক সেবনেরও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। ধর্মীয় পর্যবেক্ষক ও সাধারণ মানুষ বলছেন, এই ধরনের আয়োজন লাইলাতুল কদরের মর্যাদা ও রমজানের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। সংগঠনটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সেহরিতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমরা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি। হিন্দি গানের তালে ভাড়া করা টিকটকারদের দিয়ে নাচের আসর বসানো হয়েছিল। শোনা যাচ্ছে, দেশের কিছু নামি-দামি করপোরেট প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।’ সংগঠনটির ভেতরে অস্থিরতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে অন্য এক সদস্য জানান, জেসিআই বাংলাদেশের বর্তমান ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদের নেতৃত্বে এ ধরনের বিতর্কিত কার্যক্রম নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংগঠনের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি নারী সদস্যদের লাঞ্ছিত করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রভাব ও ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এদিকে, ধর্মীয় আবহে এমন কুরুচিপূর্ণ আয়োজনের খবর ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতির তোয়াক্কা না করে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের ধৃষ্টতা তারা কোথায় পায়? সাধারণ মানুষের দাবি, এটি সুপরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানার একটি চেষ্টা। তারা অবিলম্বে এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের অপসংস্কৃতি চলতে থাকলে দেশের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করবে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি এখন সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের।
বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা বা অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কিনা এবং পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা তদন্ত করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) বুধবার (১১ মার্চ) অতিরিক্ত উৎপাদন বা সক্ষমতার বিষয়ে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের ওপর তদন্ত শুরুর কথা জানায়। পরে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তারা বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের ঘোষণা দেয়। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিয়েসন গ্রির বলেছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে যেসব দেশের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর আমদানি কর আরোপ করা হতে পারে। জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের কর্মকর্তারা পরীক্ষা করে দেখবেন যে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে তৈরি পণ্য বিক্রি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে এসব দেশ মার্কিন ব্যবসার ক্ষতি করছে কিনা। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, জুলাই মাসে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এসব তদন্ত শেষ করতে চায় তারা। এসব তদন্তের আওতায় বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের নামও রয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি বাতিল হওয়ার পরই এই তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইউএসটিআর জানিয়েছে, তদন্ত শুরুর পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত দেশগুলোর সরকারের কাছে আলোচনার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি দেশকে এ বিষয়ে ১৭ মার্চের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তদন্তে কী দেখবে যুক্তরাষ্ট্র পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দিয়ে ইউএসটিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কেমন—তা এই তদন্তে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে দেশগুলোর কার্যকারিতা দেখা হবে। একই সঙ্গে দেখা হবে, এসব বিষয়ে দেশগুলোর নীতি বা চর্চা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কিনা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো বিদেশি সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সরকারের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত শুরু করলেও এতে বাংলাদেশের জন্য বড় কোনো ঝুঁকি দেখছেন না তারা। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রশ্ন বা তথ্য চাইলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশের নাম কেন তদন্তে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপ নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ায় বিকল্প উপায় হিসেবে শুল্ক বা কর আরোপের পথ তৈরি করতে এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পালটা শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তখন বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে সুপ্রিম কোর্ট পালটা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করায় সেই চুক্তিও কার্যকর হয়নি। এ কারণে বিকল্প উপায় হিসেবে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে অতি উৎপাদন সক্ষমতা ও জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তদন্তে এসব বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে দেশটির বাণিজ্য আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর কর বা শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের বলেন, যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেশি হয়, মূলত সেসব দেশকেই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতের বড় রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই তালিকায় এসেছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত দেখবে ভর্তুকি, বিশেষ সুবিধা বা সস্তা শ্রমের অপব্যবহার করে কোনো পণ্যের উৎপাদন খরচ কমিয়ে রাখা হচ্ছে কিনা, যার ফলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা আছে বলেই তারা এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে অতি উৎপাদন সক্ষমতার সংজ্ঞা কী হবে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তার মতে, বাজার অর্থনীতিতে উৎপাদকরা চাহিদা বিবেচনা করেই উৎপাদন বাড়ান বা কমান। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় অনেক সময় উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়িয়ে রাখা হয়, যা স্বাভাবিক একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, আর আমদানি করে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে সেই নীতি বাতিল হওয়ায় বিকল্প কৌশল হিসেবে এখন তদন্তের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, মূলত তৈরি পোশাক খাতকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করার চিন্তা থেকেই বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছু সমঝোতায় যেতে হয়েছে। তবে সেই চুক্তি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
বর্তমানে দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তিনটি উপাদান বিরাজ করছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় পুরোপুরি বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সীমানাকে রক্ষা করতে পারলে, বাংলাদেশকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি আর থাকবে না।’ আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তথ্য মন্ত্রী বলেন, ‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন সেই দূরদর্শী নেতা, যিনি মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষ প্রতীককে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই ধানের শীষের নেতৃত্ব আজ তারেক রহমানের হাতে।’ তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক প্রতীকী রূপান্তরের পেছনে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৃতিত্ব মিশে আছে। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেও আজকের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিভূমি তিনিই তৈরি করে দিয়েছিলেন। জহির উদ্দিন স্বপন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে মূর্তমান করার কাজ করছে। আমাদের স্পষ্ট কথা—সবার আগে বাংলাদেশ। এ সময় তিনি আরও বলেন, দিল্লির প্রতি যাদের মোহ রয়েছে কিংবা পিন্ডির প্রতি যাদের টান রয়েছে, আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সেই মোহগ্রস্তদের ঘুম ভাঙাতে চাই। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘একটি মহল অবাধ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও প্রলম্বিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অনিবার্য অনুষঙ্গ নির্বাচনকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি।’ তিনি আরও বলেন, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় রাজনীতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদ ছিনতাই করেছিল, শেখ হাসনার শাসনামলে ভুলন্ঠিত হয়েছিল, আমি-ডামি নির্বাচন, নিশি রাতের নির্বাচন ও এক তরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়েছে।’ আলোচনা সভায় মন্ত্রী তার বক্তব্যে ৭৫-এর পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনের কারণেই সেই ভয়াল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক থেকে শুরু করে বিচারপতি সায়েম সাহেব পর্যন্ত যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, সিপাহী-জনতা শহীদ জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মাধ্যমেই সেই নৈরাজ্য থেকে জাতিকে উদ্ধার করেছিল।’ এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার মতো নেতারা সেদিন শহীদ জিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো জন্ম নিয়ে সংসদে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল। বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে এতে বক্তব্য রাখেন— গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার বকত ও রাজনীতিবিদ রিটা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।