জাতীয়

ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ সপ্তাহে পদক বিতরণ স্থগিত

এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে দেওয়া হচ্ছে না পুলিশ পদক। বাহিনীর নিয়মিত বার্ষিক এ আয়োজনে বিভিন্ন স্তরের ১০৭ জন সদস্যের পদক পাওয়ার কথা ছিল।   রোববার শুরু হতে যাওয়া পুলিশ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগের রাত শনিবার পদক স্থগিতের খবর দিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তালিকায় নাম থাকা একাধিক কর্মকর্তা।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তাও রোববার পুলিশ পদক দেওয়া হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন।   এ বিষয়ের ঘোষণা রোববার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   পদকপ্রাপ্তদের প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকা একজন অতিরিক্ত আইজিপিও শনিবার রাতে এ তথ্য দেন।   কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য এবার পুলিশ সপ্তাহে পদক পাওয়ার কথা ছিল বাহিনীর ১০৭ সদস্যের।   আগের বছরের প্রশংসাযোগ্য কাজের জন্য পদক এবং সরাসরি সরকারপ্রধানের কাছে দাবি-দাওয়া উত্থাপনের জন্য পুলিশের নীতিনির্ধারকররা মুখিয়ে থাকেন পুলিশ সপ্তাহর জন্য।   পদকের তালিকায় নাম থাকা আরও কয়েকজন কর্মকর্তা রোববার পদক দেওয়া হবে না বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন। তারা বলেন, পরে দেওয়া হবে তাদের জানানো হয়েছে।   তালিকায় নাম থাকা ১০৭ জন কর্মকর্তা শনিবারও দিনের বেলা মহড়ায় অংশ নেন। পরে রাতে তারা জানতে পারেন পদক স্থগিতের খবর।   তবে কী কারণে পদক দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে তা জানানো হয়নি তাদের।   নির্বাচিত নতুন সরকারের আমলে প্রথম পুলিশ সপ্তাহের বর্ণ্যাঢ্য উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে। পদক প্রদান স্থগিত থাকলেও উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে, যাতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পদকপ্রাপ্তদের পদক দেওয়ার কথাও ছিল তার।   নির্বাচনের ডামাডোলে শীতের পুলিশ সপ্তাহ এবছর গিয়ে ঠেকেছে গ্রীষ্মে। তার ওপর পদক প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত হওয়ায় মন খারাপের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।   প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্যদের এই পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধান।   কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত করা হয়ে থাকে।   ২ মে থেকে রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের মহড়াতে অংশ নেন পদকের তালিকায় থাকা পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা।   অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা শনিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমি খবরটা জেনে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে জানানো হয়েছে পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কাপাসিয়ায় পরিবার হত্যাকাণ্ড: ফুরকানকে প্রধান আসামি করে মামলা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শারমিন বেগমের বাবা সাহাদত মোল্লা বাদী হয়ে শনিবার (৯ মে) রাতে কাপাসিয়া থানায় মামলাটি করেন।   মামলায় পলাতক ফুরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, নিহত শারমিন খানমের বাবা সাহাদত মোল্লা মামলাটি দায়ের করেছেন এবং এতে ফুরকানকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।   এর আগে শনিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোন গ্রামের একটি আবাসিক কলোনির ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন— শারমিন বেগম (৩২), তার ভাই রসুল মিয়া (২২), এবং তিন মেয়ে মীম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।   পুলিশ জানায়, জীবিকার সন্ধানে গোপালগঞ্জ থেকে এসে পরিবারটি কাপাসিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর স্বামী ফুরকান মিয়া পালিয়ে যান।   পরে শনিবার ভোরে তিনি মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান বলে জানা গেছে। বর্তমানে পুলিশ পলাতক ফুরকানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তরুণদের সুরক্ষায় তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর আহ্বান চিকিৎসকদের

তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তরুণ চিকিৎসকরা।   শনিবার (৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান। কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল— তরুণদের তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি।   মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। গ্যাটস ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। এছাড়া ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা এ খাত থেকে সরকারের অর্জিত রাজস্ব আয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।   চিকিৎসকরা জানান, বাজারে কম দামের সিগারেট সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। তাদের মতে, তামাক ব্যবহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। কর বাড়িয়ে দাম বাড়ানো হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবেন এবং তিন লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।   তারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্য ও কর কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন। প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য কমপক্ষে ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। এছাড়া উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। একইসঙ্গে সব স্তরের সিগারেটের ওপর প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের আহ্বান জানানো হয়।   প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. রামিসা ফারিহা বলেন, দেশের বড় একটি অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী হওয়ায় তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তার মতে, তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি তরুণদের তামাক ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সন্ধানী কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. মুকাররাবিন হক নিবিড় বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যেও তামাক ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধূমপানের হার ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তাই নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।   মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. তাওহিদুল ইসলাম, ডা. মেহনাজ তামান্না, ডা. শরীফ, ডা. শামীম, ডা. প্রভাত, ডা. সাফিন, ডা. জুহা, ডা. মুন্না ও ডা. অমৃতাসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণ চিকিৎসকরা।

আক্তারুজ্জামান মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফর প্রোটোকলে পরিবর্তন

রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফর ও দেশে ফেরার সময় অনুসরণীয় রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে পরিবর্তন এনে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দরে উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।   গত ৪ মে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনার বিষয়টি জানানো হয়।   নতুন প্রোটোকল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা কিংবা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে এখন থেকে সাতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন।   তালিকায় রয়েছেন— মন্ত্রিসভার একজন সদস্য, ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশের মিশন প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সচিব ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধান।   এর আগে ২০১৭ সালের ১৬ মে রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফর সংক্রান্ত সর্বশেষ রাষ্ট্রাচার নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। সে সময়ের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে ১৩ জন কর্মকর্তার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল।   নতুন নির্দেশনার ফলে সেই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা আরও সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যসূচি, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষাপঞ্জিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে এবং ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   শনিবার রাতে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারের স্কাই রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আইআইইউএম অ্যালামনাই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের বার্ষিক সাধারণ সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষার উন্নয়ন অপরিহার্য। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, কেবল জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক কাঠামোয় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ড. মিলন বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকেও বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে চায়। এ ক্ষেত্রে চীন, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের শিক্ষা মডেল অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. কাজী শাহাদাত কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহা. শুহাদা ওসমান, মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিঙ্কন এবং ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ।   এ সময় ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য আইআইইউএম অ্যালামনাই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নতুন ১৯ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ সভাপতি এবং ড. এম. তুহিন মিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।   সহ-সভাপতি হয়েছেন প্রফেসর ড. সেলিম আহমেদ, ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ও ড. আফরোজা বুলবুল। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. একরাম উদ্দিন ও খালিদ হেলাল। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন গোলাম মর্তুজা এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন খোরশেদ আলী মন্ডল।   এছাড়া মিডিয়া ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দুল হক সাদী, একাডেমিক ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে আব্দুল কাদের জিলানি, ক্যারিয়ার ও নিয়োগ সম্পাদক হিসেবে আসিফ জামিল শাহাদ এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ফরহাদ আহমেদ দায়িত্ব পেয়েছেন।   নতুন কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী, ড. জাকির হোসেন সেলিম, ড. মহিবুল্লাহ, ড. ইব্রাহিম খলিল, ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও হাবিবুল্লাহ হাদী।   একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে অন্তর্ভুক্ত করে সাত সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। পরিষদের অন্য সদস্যরা হলেন দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, প্রফেসর আতাউল হক প্রামাণিক, প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক, প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক, প্রফেসর ড. এ বি এম মাহবুবুল ইসলাম এবং প্রফেসর ড. কাজী শাহাদাত কবির।   প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. সোলায়মান মিয়া এবং নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. কাজী শাহাদাত কবির ও প্রফেসর ড. মো. আব্দুল জলিল নতুন কমিটিকে অনুমোদন দেন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পুলিশ সপ্তাহ রোববার, শেষ মুহুর্তে স্থগিত পদক প্রদান অনুষ্ঠান

আগামীকাল রোববার (১০ মে) শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। এবারের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বড় ধাক্কা এখনো জারি হয়নি পদকের প্রজ্ঞাপন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদক প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহ শেষে কোনো একদিন পদক অনুষ্ঠান নতুন করে আয়োজন করা হবে। "আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"- প্রতিপাদ্যে চারদিনব্যাপী (১০-১৩ মে) উদযাপিত হচ্ছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ। রোববার(১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করবেন। তবে এবার শেষ মুহুর্তে পুলিশ সপ্তাহের সিডিউল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে পদক প্রদান অনুষ্ঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এবার পুলিশ সপ্তাহে থাকছে না অন্যতম আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান অনুষ্ঠান। ‘১০৯ টা পদক দেয়ার প্রস্তাব ছিল। যেটি স্থগিত করা হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহের সুবিধাজনক সময়ে দেয়া হবে। আপাতত পুলিশ সপ্তাহে পদকের অনুষ্ঠানটি বাদ যাচ্ছে।’

মারিয়া রহমান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
তরুণদের তামাক থেকে দূরে রাখতে মূল্যবৃদ্ধির দাবি চিকিৎসকদের

দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তরুণ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, বাজারে সস্তা সিগারেট সহজলভ্য থাকায় তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। শনিবার (৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি তুলে ধরা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ২৫ থেকে ২৮ শতাংশ মানুষ তরুণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। গ্যাটস ২০১৭ জরিপ অনুযায়ী, দেশে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তরুণ চিকিৎসকরা জানান, তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা থেকে সরকারের প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে তিন লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত হবে। মানববন্ধনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের ওপর কার্যকর মূল্য ও কর বৃদ্ধির প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। সব স্তরে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট (স্পেসিফিক) কর আরোপেরও দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ডা. রামিসা ফারিহা বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই জনগোষ্ঠীকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। সন্ধানী কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. মুকাররাবিন হক নিবিড় বলেন, দেশে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে তামাক ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধূমপানের হার ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক তাওহিদুল ইসলাম, মেহনাজ তামান্না, শরীফ, শামীম, প্রভাত, সাফিন, জুহা, মুন্নাসহ অন্যরা। মানববন্ধনে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের তরুণ চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

মারিয়া রহমান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কোরীয় বিনিয়োগ আনতে যৌথ উদ্যোগ

কোরীয় বিনিয়োগ আনতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (পিবিআইএল) ও কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই)। চুক্তির মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং পুঁজিবাজারে তাদের প্রবেশ সহজ করা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে কৌশলগত অংশীদারত্বে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে কেবিসিসিআই কার্যালয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেবিসিসিআই সভাপতি শাহাব উদ্দীন খান, মহাসচিব মিলিয়ন পার্ক ও পরিচালক চৈতন্য কুমার দে। প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এম ওমর তায়ুব। এ ছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অংশীদারির মাধ্যমে বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক ও বিনিয়োগ সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও আর্থিক সেবা প্রদানে একসঙ্গে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। চুক্তির আওতায় কেবিসিসিআই সদস্যদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা দেবে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে মূলধন সংগ্রহে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরামর্শ, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা এবং ডিসক্রিশনারি ইনভেস্টমেন্ট সেবা। এর ফলে কোরীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পাবেন এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিশেষায়িত আর্থিক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রবাসীদের বিনিয়োগ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের এমডি ও সিইও সৈয়দ এম ওমর তায়ুব বলেন, এই সহযোগিতা কৌশলগত বিনিয়োগ সহজ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বিনিয়োগ সংযোগ আরো শক্তিশালী হবে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। কেবিসিসিআই সভাপতি শাহাব উদ্দীন খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ এখন একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। এই অংশীদারির মাধ্যমে কোরীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রবেশ আরো সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মারিয়া রহমান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জনগণের বিশ্বাস ফেরাতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পেশাদার, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ ফিরে এসেছে। মানুষ এখন এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি থাকবে না এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।   তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠলে দায়িত্ব পালন আরও কার্যকর ও সহজ হয়।   বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দক্ষ ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তিনি বলেন, প্রতিবছরের পুলিশ সপ্তাহ জনগণের আস্থা অর্জনের নতুন অঙ্গীকার হয়ে উঠুক।   মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।   প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক, বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সব সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পুলিশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অবদান দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপিসহ দলের তিন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সহ তিন অঙ্গসংগঠনের জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দলটির চেয়ারম্যান  তারেক রহমান। আজ (শনিবার) বেলা পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়। দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মতবিনিময়ে সভাপতিত্ব করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আরও উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম মতবিনিময় সভা। রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘সভায় দলের নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের পরিকল্পনাগুলো নেতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হবে।'

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৯, ২০২৬ 0
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন, সরকার আপনাদের পাশে আছে : বিচারকদের প্রতি আইনমন্ত্রী

দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সঠিক সিদ্ধান্তের পথ বেছে নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনারা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ আজ (শনিবার) সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে আয়োজিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের ২০তম ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বিচারকদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ুক। জনগণ আমাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আপনাদের বলতে চাই, যে বিষয়গুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সেগুলো এড়িয়ে চলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন। এ কাজে সরকারকে সবসময় আপনাদের পাশে পাবেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের একটা কথা সবসময় অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত। তিনি প্রায়ই বলেন, আমাদের কাজের জায়গাটা দায়িত্ববোধের এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার; জনপ্রিয়তার নয়। তাই সব ধরনের অবস্থায় সবসময় সঠিক পথটিই বেছে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমি প্রতি মুহূর্তে আমার সীমারেখা সম্পর্কে অবগত থাকি। যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনো কারণে কখনোই সঠিক সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে পিছিয়ে আসিনি, আসবোও না। কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব, বিচারকদেরও সচেতন থাকতে হবে। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটি না পারলে এই প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নেওয়া ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিনের যে সংগ্রাম এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার-সবই ব্যর্থ হবে। আগামী প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে সেই দায়ভার আমরা নিতে চাই না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (জেএটিআই) মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য, কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থী, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল এডমিনস্ট্রেশন এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লালকুঠির সংস্কার শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই উদ্বোধন

মোগল ও ব্রিটিশ আমলের ১৫২ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যের নিদর্শন ঐতিহাসিক লালকুঠির সংস্কার কাজ প্রায় শেষ। শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ও লালকুঠি সংস্কার প্রকল্পের পরিচালক রাজীব খাদেম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, ২০২৩ সালে লাল ইটের দৃষ্টিনন্দন ভবনটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। প্রায় তিন বছর পর এর মূল কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে লালচে ইটের নির্মাণশৈলী ও পুরোনো দিনের ছাপ ধরে রাখতে কিছু সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর একসময় ভবনটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ব্রিটিশ আমলের কিছু আসবাবপত্র ও বই অবহেলায় পড়ে ছিল। পরে ডিএসসিসি ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। রাজীব খাদেম বলেন, নানা কারণে লালকুঠি ইতিহাসসমৃদ্ধ একটি স্থাপনা। সংস্কারের আগে ভবনটি ছিল জরাজীর্ণ। ভেতরের আসবাবপত্রও ছিল ভাঙাচোরা অবস্থায়। ভবনের মূল কাঠামো ও ঐতিহ্য অক্ষুণœ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কাজে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণে অভিজ্ঞ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। দেয়াল ফাঙ্গাসমুক্ত রাখতে বিশেষ উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় দেড়শ থেকে ২০০ বছর আগের রূপে ভবনটি সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, লালকুঠিতে ব্রিটিশ আমলের কিছু দুর্লভ বই সংরক্ষিত ছিল। জনসন হলের ওই বইগুলো নিয়ে আবারও লাইব্রেরি চালু ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ভবনটির ইতিহাসসমৃদ্ধ তথ্য সাইনবোর্ড ও অন্যান্য মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার কাজও চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের লালকুঠি ঘাটের বিপরীতে ফরাশগঞ্জ ও শ্যামবাজার সংযোগস্থলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক লালকুঠি। সংস্কারের মাধ্যমে ভবনটি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ভবনের সামনে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন কৃত্রিম ফোয়ারা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ বাসস’কে জানান, ভারতের গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুক ১৮৭৪ সালে ঢাকা সফরে এলে তাঁর স্মরণে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ১৮৮০ সালের ২৫ মে এটি উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন ঢাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা গভর্নর জেনারেলের সম্মানে ভবনটির নাম দেন ‘নর্থব্রুক হল’। সে সময় পদস্থ কর্মকর্তা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সভা এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এখানে অনুষ্ঠিত হতো। তিনি বলেন, মূল ভবনের পেছনে একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। ১৮৮২ সালে ভবনটি টাউন হল থেকে পাঠাগারে রূপান্তর করা হয় এবং ‘জনসন হল’ নামে একটি ক্লাবঘর সংযুক্ত করা হয়। অল্পসংখ্যক বই নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যে পাঠাগারের বইয়ের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ১৮৮৭ সালে এ পাঠাগারের জন্য বিলেত থেকে বই আনা হয়েছিল। ড. নাছির আহমাদ আরও জানান, ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি ও পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং মানপত্র পাঠ করা হয়। পাকিস্তান আমলে নর্থব্রুক হল তার ঐতিহ্য হারাতে শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঠাগারের অধিকাংশ বই নষ্ট হয়ে যায়। ঢাকার রামপুরা থেকে ঘুরতে আসা জান্নাতুল আদনিন বাসস’কে জানান, ঈদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ব্লগে লালকুঠির ছবি দেখে বান্ধবীদের নিয়ে এখানে এসেছেন। বাস্তবে জায়গাটি ছবির চেয়েও সুন্দর। তবে যানজট কম থাকলে অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান সজিব বলেন, এখানে এসে ছবি তুলতে খুব ভালো লাগে। ভবনের প্রতিটি কোণ আলাদাভাবে সাজানো মনে হয়। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা। তবে ভবনের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ থাকলে আরও ভালো হতো।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রবেশের পর মসজিদে ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলা

নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তার আগমনকে ঘিরে মসজিদের ভেতরে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এতে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে অন্তত দুই মুসল্লি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) জুমার নামাজ শেষে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কবরস্থান সিটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তবে আহত মুসল্লিদের নাম পাওয়া যায়নি। মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদে জুমার বয়ান চলাকালে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে অনেক নেতাকর্মী মসজিদে প্রবেশ করেন। তবে তার আগমনকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে কিছু নেতাকর্মী স্লোগান দিতে শুরু করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এতে মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া ধাক্কাধাক্কিতে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে যায়। সেই ভাঙা গ্লাসে কয়েকজন মুসল্লির পা সামান্য কেটে গেছে। মুসল্লি আলমাস মিয়া বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মসজিদে এলে তার সঙ্গে অনেক লোকজন এসেছে। এতে মসজিদের ভেতরে হইচই, ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগানের কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে কষ্ট হয়েছে। সবশেষে ওরা ধাক্কাধাক্কি করে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে ফেলেছে। সেই কাঁচের গ্লাস দিয়ে অনেকের হাত-পা কেটে যায়। এর আগে জুমার নামাজের খোতবার আগে মসজিদে এসে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, মুসলমানরা যদি সজাগ না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব হুমকি ও ষড়যন্ত্র আসছে, তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। তাই সবাইকে মসজিদে আসতে বলি, যাতে করে সবাই মসজিদমুখী হয়। এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এনসিপির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান বলেন, মসজিদের গেটে এসে মানুষের চাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা প্রথম থেকে মসজিদের ভেতরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তা কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা মসজিদের ভেঙে যাওয়া গ্লাস পুনঃস্থাপন করে দেবো।  

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৯, ২০২৬ 0
দেশের আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ নিয়ে যা জানা গেল

দেশের আকাশে দেখা গেছে রহস্যময় উজ্জ্বল আলোর ঝলক। বৃহস্পতিবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশ কয়েক মিনিট এ আলো দেখা যায়। তবে এই আলো কীসের- তা নিয়ে সারাদেশের মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আলোর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পেড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ফেসবুকে ছবি দিয়ে মতামত দিচ্ছে ভিন্নরকম। কেউ বলছেন ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আলো। আবার কেউ বলছেন এটা রকেটের ধোয়া। এছাড়া কেউ কেউ এআই ব্যবহার করে এই আলো সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা শেয়ার করছে মন্তব্যের ঘরে। আলোর বিষয়ে জানতে চাইলে রাত ৯টার দিকে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক এনটিভি অনলাইকে বলেন, আলোর এই ছবি ও ভিডিও আমিও দেখেছি। তবে আলোর উৎস সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আর বিষয়টি আবহাওয়া সম্পর্কিত নয়। তাই আলোর উৎস বা আলোর কারণ সম্পর্কে জানতে সময় লাগছে। এদিকে ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকার ওয়েবসাইটেও সেখান থেকে এই উজ্জ্বল আলো দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ভারতীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা বেজে ৫০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে আকাশের পূর্ব দিকে দেখা গিয়েছে ওই আলো। তারা আরও জানিয়েছেন, ওই আলো মিনিট খানেক স্থায়ী ছিল আকাশে। তা দেখতে ছিল কিছুটা সার্চলাইটের মতো। আলোটিকে একটি নির্দিষ্ট গতিপথে ছুটতেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই আলোটিকে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, ওই আলো চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো ছিল না। তবে সেই আলো ছিল বেশ স্পষ্টও। জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তীর মতে, এই আলোর তিনটি কারণ থাকতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমত এই আলো উল্কাপাতের কারণে হতে পারে। এখন উল্কাবৃ্ষ্টি হচ্ছে। তবে সেটা সন্ধ্যা নয়, রাত ১২টার দিকে হয়। কিন্তু, এটা দেখে মনে হচ্ছে আলোর আকার কিছুটা বড়। এটা যে জেমিনিড শাওয়ার নয় সে ব্যাপারে নিশ্চিত। জ্যেতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ বলেন, ‘এটা রকেটের কোনও অংশ হতে পারে।’ তিনি জানিয়েছেন, আলোটি বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, কোনো রকেটের জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছে। তারই একটি ছোট অংশ পৃথিবীর দিকে আসছে। সেই অংশটি আকারে ছোট বলেই তার আলো তত উজ্জ্বল।’ তৃতীয় সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, ‘কোনো জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়ে থাকতে পারে। তারও আলো হতে পারে এটা। ক্ষেপণাস্ত্র হলে সে ক্ষেত্রে আলো দিকচক্রবালে মিলিয়ে যাওয়ার আগে অনেক বেশিক্ষণ ধরে দেখা যাওয়ার কথা।’ ফলে আলোর উৎস ঘিরে রহস্য থাকছে বলেই সন্দীপের মত। তিনি আরও জানান, এই আলো মিলিয়ে যাওয়া তখনই সম্ভব যখন ক্ষেপণাস্ত্র ধীরে ধীরে আমাদের দৃষ্টিপথের বাইরে চলে যায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ ফোরামে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় জোর দিল বাংলাদেশ

অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা, অনিয়মিত অভিবাসন কমানো এবং নিরাপদ শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।   শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরামের সাধারণ আলোচনায় এ আহ্বান জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ ও ‘হোল-অফ-সোসাইটি’ পদ্ধতির মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসীদের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।   তিনি জানান, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন (জিসিএম) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ‘মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে। পাশাপাশি ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।   আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রথম আইএমআরএফে বাংলাদেশের দেওয়া ১০টি অঙ্গীকারের মধ্যে সাতটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া নতুন ছয়টি অঙ্গীকার জমা দেওয়ার পাশাপাশি দুটি আঞ্চলিক উদ্যোগেও যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।   জলবায়ু পরিবর্তনকে অভিবাসনের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।   নিরাপদ অভিবাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিআইডব্লিউটিএ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সিকাণ্ড, আটক ৩

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে তিনজন আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে।   শুক্রবার রাজধানীর পাঁচটি কেন্দ্রে বিআইডব্লিউটিএর সাধারণ পুলভুক্ত কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সংস্থাটির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুল্ক আদায়কারী এবং নিম্নমান সহকারী/মুদ্রাক্ষরিক পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা চলাকালে মগবাজারের সিদ্ধেশ্বরী কলেজ কেন্দ্রে তিন ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়ে অন্য পরীক্ষার্থীর হয়ে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।   এ ছাড়া সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বুয়েট ক্যাম্পাসের ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল কেন্দ্রেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অন্য কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও সিদ্ধেশ্বরী কলেজ কেন্দ্রে প্রক্সি দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে।   বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
উত্তরাঞ্চলে সড়ক উন্নয়নে তিন মহাসড়ক হবে চার লেন

বগুড়া ও আশপাশের জেলার যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং হিলি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা সরকারি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি প্রকল্পগুলোর দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।   প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে দিনাজপুরের হিলি পর্যন্ত সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। বর্তমানে আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত এই রুটকে মহাসড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।   আরেকটি প্রকল্পের আওতায় বগুড়া শহরের বারপুর এলাকা থেকে নামুজা ও ক্ষেতলাল হয়ে জয়পুরহাট পর্যন্ত সড়ক চার লেনে সম্প্রসারণ করা হবে।   এ ছাড়া বগুড়া শহরের চারমাথা থেকে নওগাঁ পর্যন্ত মহাসড়কও চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে প্রস্তাবিত বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির জন্য বিশেষ সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস লেন যুক্ত থাকবে।   প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চল। সড়ক অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে হিলি স্থলবন্দর ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলে একটি বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই সড়ক নেটওয়ার্ক সেই পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যাতায়াতের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এনসিপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক মেয়র মনজুর আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের আলোচনা চললেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম।   বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, এনসিপিতে যোগ দেওয়া কিংবা না দেওয়ার বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চান না।   গত ৭ মে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এনসিপির উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দলটিতে যোগদান উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দলটির দাবি, ওই অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার মানুষ এনসিপিতে যোগ দেন।   তবে যাদের নিয়ে যোগদানের গুঞ্জন ছিল, তাদের মধ্যে মনজুর আলমসহ আলোচিত কাউকেই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।   এর আগে গত ১৪ এপ্রিল এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীতে মনজুর আলমের বাসভবনে যান। পরে সেখান থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তারা মনজুর আলমকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার বাসায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনজুর আলম বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন।

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বদলাতে হবে পোশাক খাতের কৌশল

আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য সহজ সময় নয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে পারলে এই সময়টিই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। শুধু কম দামের ক্রয়াদেশের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়বে।   বিপরীতে যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, অনুসরণযোগ্যতা, জ্বালানি সাশ্রয়, স্থানীয় মূল্য সংযোজন, দ্রুত সেবা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চায় গুরুত্ব দেবে, তারা বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।   বিশ্ব পোশাকবাজারে প্রতিযোগিতার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন আর শুধু কম খরচে পণ্য উৎপাদন করাই বড় বিষয় নয়। ক্রেতারা গুরুত্ব দিচ্ছেন নির্ভরযোগ্য সরবরাহ, প্রমাণযোগ্য মান, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিমুক্ত ব্যবসায়িক সক্ষমতাকে।   তাই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভবিষ্যৎমুখী সক্ষমতা তৈরি করা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি, স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরের বেশি বিরতির পর লন্ডনে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় পর বিদেশ সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে শনিবার সকালে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।   রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিব এস এম রাহাত হাসনাত জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটিই রাষ্ট্রপতির প্রথম বিদেশ সফর।   অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার বিদেশযাত্রা দুবার স্থগিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি নিজেই। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে নিজের জন্য ‘কঠিন সময়’ বলেও মন্তব্য করেন।   সবশেষ ২০২৪ সালের ৩ মার্চ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। পরে সেখান থেকে লন্ডনে যান এবং ১৪ মার্চ দেশে ফেরেন। এরপর প্রায় ২ বছর ১ মাস ২৫ দিন বিদেশ সফরে যাননি তিনি।   এবার লন্ডনে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের ফলোআপ পরীক্ষা করাবেন রাষ্ট্রপতি। কেমব্রিজের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।   সূচি অনুযায়ী, ১৭ মে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরার উদ্দেশে লন্ডন ছাড়বেন রাষ্ট্রপতি। পরদিন ১৮ মে সকালে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   এই সফরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে থাকবেন তার সহধর্মিণী রেবেকা সুলতানা, পরিবারের সদস্যরা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক ডা. কফিদিস থিওডোরোসের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল।

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
হজযাত্রীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা ১১ ভাষায় সেবা দেবে সৌদি

হজ ও ওমরাহযাত্রীদের সেবা আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ১১টি ভাষায় ২৪ ঘণ্টার সমন্বিত হটলাইন চালু করেছে, যেখানে যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা নিতে পারবেন হজযাত্রীরা।   বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতেই এই আধুনিক কল সেন্টার চালু করা হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে ১৯৬৬ নম্বরে কল করে হজ ও ওমরাহ সংক্রান্ত তথ্য, জরুরি সহায়তা কিংবা অভিযোগ জানানো যাবে।   মন্ত্রণালয় বলছে, হটলাইনের মাধ্যমে হজযাত্রীরা সরাসরি নিজেদের সমস্যা জানাতে পারবেন। পাশাপাশি সেবার মান নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই কল সেন্টারে প্রশিক্ষিত কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ হওয়ায় হজযাত্রীরা নিজ ভাষাতেই সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া উন্নত কল ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা অনুযায়ী কল বণ্টন করা হবে, যাতে প্রত্যেক হজযাত্রী দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পান।   সৌদি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই নতুন উদ্যোগের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।   সূত্র : গালফ নিউজ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৯, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের দুই মাস : লাভ হলো কার?

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0