জাতীয়

ছবি: সংগৃহীত
গার্ল গাইডসে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত ও সংস্কারের দাবি

বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত গার্ল গাইডসের ফি এবং সরকারি অনুদান ব্যবহারে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের তদন্তে আর্থিক অসঙ্গতি, অনিয়মিত নিয়োগ, ভ্যাট না কাটা, ভুয়া ভাউচার এবং পরিকল্পনাবহির্ভূত ব্যয়ের মতো বিষয় উঠে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এতে আরও অভিযোগ করা হয়, সংগঠনের নির্বাচন, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে একই নেতৃত্ব ক্ষমতায় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও সরকারি বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাঠপর্যায়ে গার্ল গাইডিং কার্যক্রম প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত না হলেও বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। সংগঠনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সদস্যও এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর বহরের নিরাপত্তা গাড়ির সামনে ইটের টুকরা, তদন্তে পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরের সময় মাদারীপুরে তার নিরাপত্তা বহরের একটি গাড়ির সামনে ইটের টুকরা পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের সাধুরব্রিজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের সামনে ও পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক গাড়ি চলছিল। সড়কের দুই পাশে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বাসের ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। এ সময় বাসটির পেছনে থাকা একটি নিরাপত্তা গাড়ির সামনে একটি ইটের টুকরা এসে পড়ে।   ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতা নাকি চলন্ত কোনো যানবাহনের চাকা থেকে ছিটকে আসা ইটের টুকরা—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।   মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বহরের একটি গাড়ির সামনে ইটের টুকরা পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি কীভাবে সেখানে এসেছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।   উল্লেখ্য, সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তিনি একই পথে ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যান।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হওয়ায় ছাত্রশিবির ছাড়লেন সাদিক কায়েম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন।   সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ছাত্রশিবির থেকে তার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের সাংগঠনিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সহকর্মীদের জন্য দোয়া কামনা করেন।   এদিকে সংগঠন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হওয়ায় ছাত্রশিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি সংগঠন থেকে বিদায় নিয়েছেন। ছাত্রশিবিরের নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের রাজনৈতিক নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংগঠনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে হয়।   উল্লেখ্য, গত ১ মে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আবু সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।   এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যে, সংগঠনে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এ ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সেই প্রেক্ষাপটেই তার সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
টিভি টকশো থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা গোলাম মাওলা রনির

সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি টেলিভিশনের টকশোতে আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।   সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আলবিদা টকশো। অনিবার্য কারণবশত আজ থেকে কোনো টিভি টকশোতে যাবো না। শুধু আমার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।"   ফেসবুক পোস্টে সিদ্ধান্তের কারণ বিস্তারিত উল্লেখ না করলেও পরে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে নিয়মিত টেলিভিশনের বিভিন্ন টকশোতে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে বাসায় ফিরতে হওয়ায় তার স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।   রনির ভাষ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এখন পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম প্রয়োজন। বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিনি টেলিভিশনের টকশো থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   তবে টকশোতে অংশগ্রহণ বন্ধ করলেও নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে নিয়মিত সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ ও মতামত প্রকাশ অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা পেছানোর আহ্বান ছাত্রদলের

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও অতিবর্ষণের কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ সব বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।   সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় দেশের অন্তত সাতটি জেলার লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে পরীক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক চাপ এবং যাতায়াত সংকটে পড়েছেন। অনেক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।   ছাত্রদলের দাবি, বন্যার কারণে বহু শিক্ষার্থীর বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা অব্যাহত থাকলে সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যাহত হতে পারে।   সংগঠনটির নেতারা বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বন্যাপ্রবণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি স্থগিত, জরুরি চিকিৎসা সেবায় বিশেষ প্রস্তুতি

বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও জরুরি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।   মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বন্যাকবলিত জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষ সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।   তিনি জানান, কোথাও যেন রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও পাঠানো হবে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি জেলার যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সেবা কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। একটি হাসপাতালে পানি প্রবেশের পর রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।   সাপে কাটার ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্যার সময় এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে। তাই মানুষকে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে আরও ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষিত আছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে।   তিনি আরও জানান, বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ ও বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ এবং ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’-এর মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বন্যার কারণে যেন কোনো মানুষ চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নিউমার্কেট–ধানমন্ডির জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

রাজধানীর ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।   সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে যান।   মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ধানমন্ডি, নিউমার্কেটসহ এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ একসময় বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) ভেতর দিয়ে ছিল। বিডিআর ট্র্যাজেডির পর সেই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানানো হলে তিনি গুরুত্ব দিয়ে একটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেন। তবে এটি স্বল্পমেয়াদি কাজ নয়; বাস্তবায়নে অন্তত এক থেকে দুই বছর সময় লাগবে।’   তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকার খাল-বিল ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রেনগুলোতেও বিপুল পরিমাণ পলিথিন ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।   ‘গতকাল পানির মধ্যে দিয়ে আসার সময় দেখেছি, ড্রেনের ভেতরে হাজার হাজার পলিথিন, এমনকি বালিশও ফেলে রাখা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাই এখন পানি নিষ্কাশনের একমাত্র উপায়। তাই নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে,’ বলেন তিনি।   ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, সরকার খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হবে।   তিনি বলেন, ‘ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের পানি শেষ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা কিংবা শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে অতীতে কোনো কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এবার আমাদের সরকার সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।’   ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, কোথায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তা জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।   এ সময় তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ফগার মেশিন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই মেশিন দুটি সংশ্লিষ্ট হলে পৌঁছে যাবে।   তিনি আরও বলেন, ‘আবার যদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, আমাদের জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পের মাধ্যমে পানি সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিকদের সহযোগিতা দুটোই জরুরি।’   পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামিসসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে, রাঙামাটির ৬ উপজেলায় ফের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির ছয়টি উপজেলায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং গত দুই দিন ধরে সেখানে পানি কমতে শুরু করেছে।   সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকায় আবহাওয়ার উন্নতি হলেও কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ১০০ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ হাজার ৪৮৭ জন অবস্থান করছেন। এছাড়া এখনো ৭ হাজার ৬৪৬টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।   হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বরকল, লংগদু, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে বরকল উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি পেঁপে বাগান, ধানখেত ও বিভিন্ন সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলার চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।   স্থানীয়রা জানান, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে কৃষিজমি ও বসতঘর প্লাবিত হচ্ছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।   অন্যদিকে, পানি কমতে শুরু করায় বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির অনেক প্লাবিত সড়ক ও বসতবাড়ি আবার দৃশ্যমান হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে কাদামাটি পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন।   এদিকে পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের ব্রিজঘাট সেতু ধসে পড়ায় শনিবার থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের কারণে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের একটি অংশেও যান চলাচল বন্ধ আছে।   জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেলায় ১৩৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লেও সোমবার সকাল থেকে রাঙামাটি শহরের সঙ্গে ছয়টি উপজেলার নৌপথে লঞ্চ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় পানির স্রোত বেশি থাকায় নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার মামলায় ঢাকায় ধরা পড়লেন শফিক ডাকাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। রোববার (১২ জুলাই) গভীর রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীচর এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।   সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে র‍্যাব-৯-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুন্নবী।   র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার শফিক নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামের শহীদ ব্যাপারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১১ মে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চারজন র‍্যাব সদস্য বাঞ্ছারামপুরে যাওয়ার পথে খাগাতুয়া এলাকায় পৌঁছালে শফিক ডাকাত ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।   পরে অন্যান্য র‍্যাব সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহত চার সদস্যের মধ্যে তিনজন গুরুতর জখম হন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং দুজনের হাত ভেঙে যায়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শফিক আত্মগোপনে ছিলেন।   র‍্যাব জানায়, একটি বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯ ও র‍্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে কামরাঙ্গীচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনা হয়।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নকল ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ ধরনের অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ফার্মেসি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন এবং বাজার থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাই করছে। কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   মন্ত্রী বলেন, নকল ও ভেজাল ওষুধের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে অবৈধ ও অননুমোদিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নজরদারির আওতায় এসেছে।   তিনি জানান, চলমান অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ জব্দ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল এবং মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু অভিযান পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘমেয়াদে ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি বৃদ্ধি, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি জোরদার এবং আসল-নকল ওষুধ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শোভন কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করলো এডুকো ও ইএসডিও

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) স্নাতকদের জন্য শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (Educo) এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) যৌথভাবে "Leveraging Youth Employment in Bangladesh through Improving their Employability and Competitiveness to Fit with the 21st Century Job Market (LIFT)" প্রকল্পের আওতায় দেশের সাতটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে।   রাজধানীর আগারগাঁও-Gi বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (BCFCC)- ‡Z ‡ejv 12 Uv †_‡K AbyôvbwU kyiæ nq| অনুষ্ঠানwU টিভিইটি খাZ‡K শিল্পের চাহিদাভিত্তিক করে গড়ে তোলা এবং দক্ষ তরুণ-তরুণীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ChorogUsan for Children-এর অর্থায়নে পরিচালিত LIFT প্রকল্পটি Educo-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ESDO-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে। বাজারের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET), জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।   অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, টিভিইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের অংশীদার এবং টিভিইটি স্নাতকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে LIFT প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন উপস্থাপন, একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।   সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— Aziz Air Services Ltd. Dream Power Bangladesh PRAN-RFL Group METAL FAIRS Navana CNG Hotel Sarina Dhaka Amari Dhaka     এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টিভিইটি স্নাতকদের জন্য ইন্টার্নশিপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট, কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ (On-the-Job Learning), নিয়োগ এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে শ্রমবাজারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।   অনুষ্ঠানে এডুকো evsjv‡`k (Education and Development Foundation)-এর চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন ম্যানেজার আফজাল কবির খান প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET)-এর মাধ্যমে শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণে অর্জিত ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাজার-চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করছে।   জিনজিয়ান হসপিটালিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (XHTI)-এর ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার তানভীর আনোয়ার পনি বলেন, ৭২০ ঘণ্টার শিল্প-চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মক্ষেত্রের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে দক্ষ ও যোগ্য করে তোলে। এ ধরনের সমন্বিত প্রশিক্ষণ তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদা পূরণে সক্ষম করে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।   অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা দক্ষ টিভিইটি স্নাতকদের নিয়োগ এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে LIFT প্রকল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।   প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর সহকারী ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) সুদীপ্ত দেবনাথ অন্তু জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (RAC) ট্রেডের দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি এডুকোর LIFT প্রকল্পের সঙ্গে পূর্ববর্তী সফল অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার প্রশংসা করেন।   ইএসডিও (ESDO)-এর টিভেট প্রধান শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কারিকুলাম সম্পূর্ণভাবে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নতুন দক্ষতার চাহিদা জানালে তা যথাসম্ভব কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করে শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করতে পারে।   এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর LIFT প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। শিল্পখাতের সঙ্গে ধারাবাহিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং কর্মসংস্থানমুখী টিভিইটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।   LIFT প্রকল্প সম্পর্কে: Leveraging Youth Employment in Bangladesh through Improving their Employability and Competitiveness to Fit with the 21st Century Job Market (LIFT) প্রকল্পের লক্ষ্য হলো গুণগত মানসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET), জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং কর্মসংস্থান সংযোগ সেবার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পটি ChorogUsan for Children-এর অর্থায়নে, Educo-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ESDO-এর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, টিভিইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।  

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের (ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি) আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, দয়া বা অনুদাননির্ভর নয়, অধিকারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।   সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়নবিষয়ক পাইলট প্রকল্প প্রণয়নে আয়োজিত অংশীজন পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘শিশুস্বর্গ’ নামে বিশেষায়িত কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে চিকিৎসা, থেরাপি ও প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করবেন।   তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি ডেটাবেজে প্রায় ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত এক কোটি মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।   ডা. মুহিত আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি এবং বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   তিনি জানান, সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা ঘোষণা করেছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও তাদের সেবাকে আরও প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নিচ্ছে।   অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বন্যাকবলিত মানুষের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।   সোমবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া এবং ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।   প্রতিমন্ত্রী জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও বন্যায় অনেক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, বন্যার শুরু থেকেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যও ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় ও তদারকির জন্য তিনি সাতকানিয়া সফর করেন।   প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।   এদিন বিভিন্ন স্থানে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। কেওচিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সহায়তায় ৩০০ জন, ধর্মপুর বিশ্বর বাড়িতে ৩০০ জন এবং বাজালিয়া মাহালিয়া রাস্তার মাথায় জাগরণী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ৫০০ জনের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।   এ ছাড়া উপজেলা পরিষদে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৫০০ কার্টন বিস্কুট এবং ৫০০ প্যাকেট চাল বিতরণ করা হয়। ডেমশা ইউনিয়ন পরিষদে জেলা পরিষদের সহায়তায় আরও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়।   ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শন কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভিসা আবেদনে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য লুকালে মিলতে নাও পারে মার্কিন ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদনপত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন আবেদনকারী। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।   সোমবার (১৩ জুলাই) দূতাবাসের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।   বার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য ডিএস-১৬০ (DS-160) আবেদনপত্র পূরণের সময় আবেদনকারীকে গত পাঁচ বছরে ব্যবহৃত সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইউজারনেম বা হ্যান্ডেল উল্লেখ করতে হবে।   দূতাবাস জানায়, আবেদনকারীরা ফরমে দেওয়া সব তথ্য সঠিক, সম্পূর্ণ ও সত্য বলে প্রত্যয়ন করেই আবেদন জমা দেন। তাই সোশ্যাল মিডিয়া-সংক্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দূতাবাস।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাট আদালত ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে আহত ৫ বিচারপ্রার্থী

বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের বারান্দার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচজন বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জেলা জজ আদালতের কচুয়া আদালতের এজলাসের সামনের বারান্দায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হঠাৎ করেই বারান্দার ছাদের একটি অংশের পলেস্তারা ভেঙে নিচে পড়ে। এতে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন বিচারপ্রার্থী আহত হন। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   আহতরা হলেন সুমন দাস, হৃদয় হাওলাদার, মোতালেব, হাবিবুল্লাহ শেখ এবং তার বাবা মো. সিরাজ শেখ। তারা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।   হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, আহত পাঁচজনের মধ্যে দুজনের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে। অন্যদের ঘাড় ও পায়ে আঘাত লেগেছে। সবাই চিকিৎসাধীন থাকলেও তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।   আদালত সূত্র জানায়, যে অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে সেখানে রড দৃশ্যমান হয়ে গেছে। ফলে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের নাজির অমিত কুমার বলেন, ঘটনাটি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভবনটি পরিদর্শন করে এর নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবেন।   এদিকে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন জানান, আদালত ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু, ১৬ জুলাই অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত কাতার দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে সই করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   সোমবার (১৩ জুলাই) সরকারের জ্যেষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে তিনি শোকবার্তায় সই করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।   শোকবার্তায় মন্ত্রী শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে কাতার সরকার, দেশটির রাজপরিবার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আন্তরিক সহমর্মিতা জানান।   তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ, আন্তরিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।    মন্ত্রী জানান, কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে।   এছাড়া কাতারের আমির, রাজপরিবার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দোহা সফর করবে।   উল্লেখ্য, রোববার এক বিবৃতিতে কাতারের আমিরের কার্যালয় দেশটির সাবেক আমিরের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। মৃত্যুকালে আল থানির বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেছেন শেখ হামাদ। ২০১৩ সালে শেখ হামাদ ক্ষমতা ছেড়ে দেন। এরপর কাতারের আমির হন তার ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নয়াদিল্লির বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলেও বাংলাদেশ ‘বিমসটেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার্স মিটিং’ এ অংশ নেবে।   আগামী ১৬ জুলাই নয়াদিল্লিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতি। এ কারণে বৈঠকটিতে অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশের দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে।   বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলাম। তার অংশগ্রহণের বিষয়টি কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারত সরকারকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি ডা. জাহেদ উর রহমানের দিল্লী বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যাকে বাংলাদেশ সন্তোষজনক মনে করেনি এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।    তবে কর্মকর্তারা বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলামের এ সফরকালে আয়োজক দেশ ভারত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতি ও রাষ্ট্রাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করে কিনা, বাংলাদেশ তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।   তারা বলেন, ইতোমধ্যে ভারত সরকারকে সফর সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সফর উপলক্ষে ভারত সরকারকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।    তারা আরও বলেন, এ বিষয়ে ভারতের আচরণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও  অন্যান্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওয়ায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুন, আগে জেলে যেতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক তাকে আগে কারাগারে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওয়ায়েদ।   সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ভারত বা বাংলাদেশে যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক, তাকে আগে জেলে যেতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য সরকারের আমলে নেওয়ার কিছু নেই। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে- জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করতে হবে। ওনাকে জেলে যেতে হবে।   সেক্ষেত্রে আইন আইনের গতিতে চলবে। আসামি যদি আত্মসমর্পণ না করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়, তাহলে আমি মনে করি, এসব উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তার দলের পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের জাগ্রত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া তো আমি আর কোনো কারণ দেখি না।   তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যে কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের যে প্রক্রিয়া আছে কূটনীতিতে সেটা চলছে এবং যে কোনো আসামি যদি আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের আওতায় যা প্রয়োজন সেটাই হবে।   শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, উনি কী ভারতের নাগরিক? তাহলে ওখানে থানায় কী করবে না করবে এটা ওনার ব্যাপার, সেটাতো আমার ব্যাপার না। একটা আসামি কোথায় আত্মসমর্পণ করবেন এটা একেবারে ওনার ব্যাপার এবং এখানে সরকারের কোনো বিষয় না। উনি বিদেশে বাংলাদেশের মিশনে আত্মসমর্পণ করুক বা বাংলাদেশে এসে আত্মসমর্পণ করুক, প্রক্রিয়া একই ওনাকে জেলে যেতে হবে, ওনার যে সাজা তার মুখোমুখি হতে হবে।   আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন আসামি কী বক্তব্য দেয়, সেটা বাংলাদেশ সরকারের আমলে নেওয়ার কথা না এবং নেবে না। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী একজনের সাজা হয়েছে, ইতোমধ্যে তিনি সাজাপ্রাপ্ত। আমাদের যে প্রক্রিয়া সেটা আগে থেকে চলমান আছে। এটা নতুন করে আর নতুন প্রক্রিয়ায় চলার কোনো অবস্থা নেই।   অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনার ভারতে বসে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হতো। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে ভারতকে বলবে কিনা- এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, সবকিছু বিবৃতি দিয়ে আপনাদের বলার কিছু নেই। ভারতের সঙ্গে আমাদের যে চলমান কথাবার্তা হয়, আলাপ হয়, বিনিময় হয়, তখন এ বিষয় আলোচনায় থাকে। একজন আসামি যদি দেশের বাইরে থাকে সে আত্মসমর্পণ করুক বা না করুক তার জন্য বিচার একই হবে। আমাদের যে প্রক্রিয়া সরকার থেকে চলছে সেটা চলমান আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
দেশকে বিনিয়োগ বান্ধব করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। ছবি : সংগৃহীত
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে সরকার: আইসিটিমন্ত্রী

দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আস্থাশীল ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ বাস্তবায়নে কর কাঠামোকে আরও আরও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও সুবিধা দেওয়ার বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, সরকার দেশকে বিনিয়োগবান্ধব করে গড়ে তুলতে চায়। সরকারের লক্ষ্য দেশকে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত করা। প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের হাতে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন ও ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে চান। সরকারের উদ্দেশ্য প্রতিটি অঞ্চলে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা।   মন্ত্রী আরও বলেন, মোবাইল ফোন উৎপাদন ও প্রযুক্তি শিল্পকে সরকার জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলাদেশকে স্মার্ট ডিভাইস উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।   বৈঠকে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সহজতর ভিসা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। এতে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হবে বলে তিনি মত দেন।   ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার নেওয়া হবে, যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হয়।   এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, কোরিয়ান দূতাবাসের প্রথম সচিব লি নামসু এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের কান্ট্রি ম্যানেজার জাংমিন জং উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাবুগঞ্জে সেনাবাহিনীর মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী, দেখলেন অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা

বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   মহড়ায় তিনি জঙ্গলে পরিচালিত যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন, সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি এবং অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা দেখেন।   তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন।   মহড়ার সময় দুর্গম ও ঘন জঙ্গলে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুকরণে পরিচালিত বিভিন্ন কৌশলগত অনুশীলনও তিনি ঘুরে দেখেন।   অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাবাহিনীর কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।   মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত একটি অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে ব্রিফ করেন বলে জানান রুমন।   পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি তাদের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।   অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কাটান এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।   মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে রান্না করা খাবারও খেয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে রান্না করা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি তাকে পরিবেশন করা হয়।   মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবেলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”   তিনি বলেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা মানুষের মনে বাহিনীর প্রতি ‘বিশেষ মর্যাদা’ তৈরি করেছে।   সেই আস্থা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ফলে সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে।   বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশের সীমানার বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং পেশাগত উৎকর্ষ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
দেশ পুনর্গঠনে কোনো বাধা মানবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তার সরকার কোনো বাধা মেনে নেবে না। জনগণের সমর্থন থাকলে বিএনপি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। যতদিন জনগণের সমর্থন বিএনপির সঙ্গে থাকবে, ততদিন কোনো বাধা আমাদের থামাতে পারবে না।’ দল-মত, ধর্ম ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   সভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতাও শোনেন প্রধানমন্ত্রী। পারুল আখতার নামে এক নারী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তার সংসারের অভাব অনেকটাই কমেছে এবং তিনি এর সুফল পাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বোনদের কাছ থেকে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তাদের সংসার পরিচালনায় কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মা-বোনদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’   দেশের প্রতিটি নারীর হাতে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারী সমাজ যদি সরকারের পাশে থাকে, তাহলে আমরা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নারীরা যেমন শিক্ষায় এগিয়ে যাবেন, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও আরও শক্তিশালী হবেন।’   সরকারের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ। সবার জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’   ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের বিভেদ নয়, মানবিকতার ভিত্তিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ পুনর্গঠন করতে চায় সরকার।   অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গৌরনদীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে সিটি করপোরেশন এলাকার ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৩, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরের লড়াই, কবে ও কখন?

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৮, ২০২৬