আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে আবারও বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। অসাধারণ গবেষণা, একাডেমিক উৎকর্ষ ও বৈশ্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় মালয়েশিয়ায় প্রথম, এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং বিশ্বে সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি / মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বিশ্বের ৩৩,৩৭১ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এর আগের বছর ২০২৫ সালেও একই র্যাঙ্কিংয়ে তিনি বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে ছিলেন, যা তার গবেষণায় ধারাবাহিক উৎকর্ষ ও স্থিতিশীল সাফল্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ। এছাড়া, স্কলারজিপিএস ২০২৫ অনুযায়ী টেকসই জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায় তিনি বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বছরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার-এর যৌথ বিশ্লেষণে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায়, মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে এনার্জি গবেষণায়ও তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষতা পুরস্কার এবং শিক্ষার্থীদের কৃতজ্ঞতা স্বীকৃতি (শিক্ষাদান) পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ওবাদা পুরস্কার-এ “বিশিষ্ট বিজ্ঞানী” ক্যাটাগরিতে তিনি সম্মানিত হন। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই পুরস্কার বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ২০২৫ সালে সারা বিশ্ব থেকে মাত্র ৮ জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এই সম্মানে ভূষিত হন—যাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান অন্যতম। গুগল স্কলার-এর তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানের এইচ-ইনডেক্স ১৪৫ এবং তার গবেষণায় ৮৬ হাজারেরও বেশি সাইটেশন রয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ জেলার কৃতি সন্তান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজ গবেষণা ক্ষেত্রে শীর্ষ ১ শতাংশ গবেষক হিসেবে অবস্থান করার জন্য তিনি ক্ল্যারিভেট অ্যানালিটিক্স কর্তৃক বিশ্বসেরা গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তার গবেষণা কার্যক্রম মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃকও স্বীকৃত। এমএক্সিন-ভিত্তিক ন্যানোম্যাটেরিয়াল গবেষণায় স্কোপাস ডেটা বিশ্লেষণে মালয়েশিয়ায় প্রথম স্থান এবং ন্যানোফ্লুইড গবেষণায় ওয়েব অব সায়েন্স অনুযায়ী বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তরুণ গবেষকদের অনুপ্রাণিত করতে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান তার ২৮ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা অনলাইন সেমিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে শেয়ার করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায়ও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। নিজ উদ্যোগে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ে তিনি সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করেছেন। এই গবেষণাগারে জ্বালানি প্রযুক্তি, উন্নত উপাদান, এনার্জি স্টোরেজ, সৌর শক্তি এবং বিশুদ্ধ পানি উন্নয়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সরকার তাকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) সম্মাননা প্রদান করে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন, ‘এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। শিক্ষার্থী, গবেষণা দল, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়নকারী সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্জন শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন নতুন মাইলফলক অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান।
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, তারা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, হতাশা ও নীরবতা যেমন শুনতে চান, তেমনি নিজেদের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ভুল, বাস্তব সংকট এবং দুর্বলতাগুলো নিয়েও স্বচ্ছ আলোচনা করতে চান। গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে নতুনভাবে শুরু করার সম্ভাবনা খুঁজে দেখতে চান তারা। রোববার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, নতুন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলার পর গত দুই সপ্তাহে কয়েকশ’ ছাত্র ও নাগরিকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এদের অনেকেই একসময় নতুন রাজনৈতিক কাঠামো ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন। আলোচনার শেষে দেখা গেছে, হতাশা ও আস্থাহীনতা থাকলেও সবাই আবার চেষ্টা করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। মাহফুজ আলম আরও বলেন, যারা বৈষম্যহীন ব্যবস্থা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং নতুন আর্থ-রাজনৈতিক কাঠামোয় বিশ্বাস করেন, যারা দ্বি-দলীয় কাঠামোর প্রতি অনাগ্রহী এবং নীতিভিত্তিক, আদর্শিকভাবে আপোসহীন রাজনীতি চান, তারা যোগাযোগ করতে পারেন। মন্তব্য বা প্রশ্ন ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো যাবে।
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, আমরা আপনাদের ক্ষোভ, হতাশা, অপ্রাপ্তি যেমন শুনতে চাই, তেমনি আমাদের দিক থেকে হওয়া ব্যক্তিগত ও সামষ্ঠিক ভুল, বাস্তব সংকট ও কমতিগুলো নিয়েও কথা বলতে চাই। গত দেড় বছরের পর্যালোচনা শেষে আমরা কিভাবে নতুন করে শুরু করতে পারি, সে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। রোববার (১১ জানুয়ারি) ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফুজ লিখেছেন, নতুনভাবে কিছু করার কথা বলার পর গত দুই সপ্তাহে কয়েকশ' ছাত্র ও নাগরিকদের সাথে কথা হয়েছে, যারা নূতন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির ব্যপারে একসময় আশাবাদী ছিলেন। যাদের সাথেই কথা হয়েছে তাদের মধ্যে একধরনের হতাশা ও আস্থাহীনতা দেখেছি। কিন্তু, কথা শেষে আমরা এ সিদ্ধান্তে এসেছি যে, আমরা সবাই আরেকবার চেষ্টা করে দেখতে চাই। আপনারা যারা বৈষম্যহীন ব্যবস্থা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও নূতন আর্থ-রাজনৈতিক বন্দোবস্তে বিশ্বাসী, দ্বি-দলীয় (এবারের জোট) কাঠামো নিয়ে অনাগ্রহী, তদুপরি আদর্শিকভাবে আপোসহীন এবং পলিসি-বেইজড রাজনীতি প্রত্যাশা করেন, তারা আশা করি যোগাযোগ করবেন।
ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মাওলানা শাহ্ সুফী খাজাবাবা ফরিদপুরী নকশবন্দি মুজাদ্দেদীর ওরস শনিবার (১০ জানুয়ারি) ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফে শুরু হয়েছে। চলবে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ফরিদপুর অঞ্চলের কর্মী গ্রুপের প্রধান কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, প্রতিবছরের ন্যায় আগত আশেকান জাকেরান ওরশের দিনগুলোতে দরবার শরিফে ফরজ, সুন্নত ও নফল এবাদত বন্দেগিতে রত থেকে জাতির কল্যাণ কামনা করা হবে। বিশেষ করে সব প্রকার বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহ দরবারে মোনাজাত করা হবে।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়া বরিশাল বিএনপির দুই নেতাকে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বহিষ্কারের প্রায় আড়াই বছর পর তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হোন তারা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে সিটি নির্বাচনের সময় বহিষ্কার ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলো। নতুন করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া দু’জন হলেন— বরিশাল মহানগর বিএনপির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব জিয়াউল হক মাসুম ও বরিশাল জেলা তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি কাজী মো. সাহিন। তাদের মধ্যে মাসুম মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদের অনুসারী। তিনি সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বরিশালে বিএনপির অফিস পোড়ানোসহ গণ-অভ্যুত্থানে হামলার একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও ছিলেন মাসুম। ওই মামলায় কারাভোগও করেছেন তিনি। বর্তমানে জামিনে আছেন। তাকে পুনরায় দলে নেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন ওই ২ জনসহ বিএনপির ১৯ নেতা। এ কারণে ‘বেইমান এবং ‘মীর জাফর’ আখ্যা দিয়ে একই বছরের ৪ জুন ১৯ নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সেই বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা খুন-গুমের শিকার পরিবারসহ গণতন্ত্রকামী জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। গণতন্ত্র উদ্ধারের ইতিহাসে তাদের নাম ‘বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও মীর জাফর’ হিসেবে উচ্চারিত হবে। এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ জানুয়ারি তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি কামরুল আহসান রুপন, মো. ফিরোজ আহমেদ, মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক, হুমায়ুন কবির, সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু, মহিলা দল নেত্রী জাহানারা বেগম ও সেলিনা বেগম, রাশিদা পারভীন, জেসমিন সামাদ শিল্পী, যুবদলের সিদ্দিকুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জাবের আব্দুল্লাহ সাদী এবং তার আগে গত ৭ জানুয়ারি মহানগর বিএনপির সাবেক তিন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ্ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানির প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৫১ জন। আর একজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে তিনজনের বিষয়টি অপেক্ষমাণ রয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন অডিটোরিয়ামে প্রথম দিনের শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে চার নির্বাচন কমিশনাররাও অংশ নেন। প্রথম দিন নির্ধারিত ৭০টি আপিল আবেদনের শুনানি করা হয়। আপিল আবেদন শুনানিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ ৫১ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তাদের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেছিলেন। পরে ইসিতে এ বিষয়ে আপিল করেন তারা। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপির এম এ হান্নানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস কে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে কমিশন। তার নামে মামলা ও পলাতক থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা আপিল মঞ্জুর হওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন রংপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম বাসার, শরীয়তপুর-১ আসনের মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা (স্বতন্ত্র), শরীয়তপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল হান্নান, নরসিংদী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মো. ছালাউদ্দিন খোকা, ফরিদপুর-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান, গাজীপুর-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. রুহুল আমীন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুরউদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম, রাজশাহী-৫ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা, কুমিল্লা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বড়ুয়া মনোজিত ধীমন, লালমনিরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সামা মো. রেদওয়ানুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারা, চাঁদপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানসুর, মাদারীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহা. কামরুল ইসলাম সাইদ, বগুড়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শাহজাহান আলী তালুকদার, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে মো. শাহীন রেজা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, চাঁদপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির হাবিব খান, কুমিল্লা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আবদুল হক আমিন, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার, ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আল রাশেদ প্রধান, নরসিংদী-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, মাগুরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির মশিয়ার রহমান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, গাইবান্ধা-১ আসনে মো. মোস্তফা মহসিন, গোপালগঞ্জ-২ আসনে কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ঝালকাঠী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান খান, কক্সবাজার-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, শরীয়তপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনে ইসলামী ঐক্য জোটের মুফতি শামীম আহমেদ, টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, শরীয়তপুর-১ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নুর মোহাম্মদ মিয়াআসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সালাহউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়াতুল্লাহ হাদী, গাজীপুর-৫ আসনে জাতীয় পার্টির ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার, ফেনী-১ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, বগুড়া-৬ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের দিলরুবা, নরসিংদী-২ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহীম, নড়াইল-২ আসনে জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান, দিনাজপুর-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ, খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির শামিম আরা পারভীন (ইয়াসমীন), ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ হারুন-অর- রশীদ এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ। যাদের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে নরসিংদী-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরিফুল ইসলাম, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবর রহমান শামীম, রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মো. মঞ্জুম আলী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রনী মোল্লা, ঢাকা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন, খুলনা-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আছাদুল বিশ্বাস, ঢাকা-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মো. ফারুক, নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আজাবুল হক, নড়াইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজ্জল মোল্যা, পাবনা-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. হাসানুল ইসলাম, খুলনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ মোল্যা (অনুপস্থিত), কুমিল্লা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার, কক্সবাজার-৩ আসনে মো. ইলিয়াছ মিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুছা সিরাজী। সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রয়েছে যাদের মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন, যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান ও পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবরি প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রয়েছে।
রাজধানীতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, মিরপুর রোডে গণভবনের সম্মুখে চার ইঞ্চি ব্যাসের ভালভটি নতুন ভালভ দিয়ে প্রতিস্থাপন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে নেটওয়ার্কে গ্যাসের চাপ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এর আগে সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছিল, রাজধানীর মিরপুর রোডে গণভবনের সম্মুখে চার ইঞ্চি গ্যাসের পাইপলাইনের ব্যাসের ভালভ ফেটে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। এই লিকেজ মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের বেশ কয়েকটি ভালভ বন্ধ রেখে চাপ সীমিত করা হয়েছে। ফলে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫২টি আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ১৫টি আপিল নামঞ্জুর বা বাতিল করা হয়েছে এবং অন্য তিনটি আপিলের শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে। আজ শনিবার আপিল শুনানি শেষে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। আখতার আহমেদ বলেন, ‘আজ ৭০টি আপিলের মধ্যে অনুমোদিত বা মঞ্জুর করা হয়েছে ৫২টি আপিল। নামঞ্জুর করা হয়েছে ১৫টি আপিল। এছাড়া তিনটি আপিল মুলতবি রাখা হয়েছে। এরমধ্যে একটি আপিল আগামীকাল রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত এবং বাকী দুটি আপিল ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি থাকবে। তথ্যগত কিছু অসংগতি আছে। যেটা রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নেওয়া হবে।’ এ দিকে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে জানান, মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫২টি আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। এ মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫১টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসির রায়ে ৫১ জন প্রার্থী প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা একজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। এছাড়া নামঞ্জুর করা হয়েছে ১৫টি আপিল বলে তিনি জানান। এর আগে শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) সকাল ১০টা থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল শুনানি গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশন। শুনানিতে আপিলকারী বা তাদের আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরছেন। অপরদিকে রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণে কারণ উল্লেখ করে যুক্তি তুলে ধরছেন। শুনানি গ্রহণ শেষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের রায় তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। শুনানিতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখাতে পারায়, অনেক প্রার্থী প্রার্থিতা ফেরত পান। অপর দিকে যারা প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত দেখাতে পারছেন না, তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে। ইসি’র পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসস’কে জানান, শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল রোববার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী আপিল শুনানির তারিখ শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে। ইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনগুলো শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন, রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রেরণ এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, আপিলের রায়ের অনুলিপি শিডিউল মোতাবেক নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১২ জানুয়ারির দেওয়া হবে। ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১৫ জানুয়ারি দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১৮ জানুয়ারি দেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সব সরকারি যোগাযোগে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে, ৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সব সরকারি যোগাযোগ পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্রসহ গণভোটের লোগো ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের স্ব-উদ্যোগে দুটি করে খাড়া (ভার্টিক্যাল) ব্যানার প্রিন্ট করে অফিসের সামনে দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা নিশ্চিত হয়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় আজ একটি পাটের গুদামে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুদামে রাখা অনেক পাট পুড়ে গেছে। আজ শনিবার ভোররাতে মুকসুদপুর সরকারি টিএন্ডটি অফিসের সামনের পাটের গুদামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে শনিবার সকাল ১০ টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মুকসুদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মেহেদী হাসান বলেন, শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে বড় আগুনটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে নির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। তিনি জানান, পাশের একটি ঘর থেকে বিড়ির আগুনের মাধ্যমে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দ্বন্দ্ব–সংঘাতপূর্ণ ও বিভক্ত এই বিশ্বে সংস্কৃতিই মানুষে–মানুষে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয় এবং মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার ঢাকায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে চতুর্বিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি ৯ দিনব্যাপী ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়েও আয়োজন করা যেতে পারে। এবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শনকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষায় সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অতিরিক্ত আলোকসজ্জা ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। চলচ্চিত্র তালিকায় পরিবেশবিষয়ক চলচ্চিত্র রয়েছে কি না জানতে চেয়ে তিনি আয়োজকদের অন্তত কয়েকটি পরিবেশভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুরোধ করেন এবং উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি কমিশনের চেয়ারম্যান ও উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ক্রোয়েশিয়ান–যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিওপেং। উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় চীনা পরিচালক চেন শিয়াং পরিচালিত ‘উ জিন ঝি লু’ (দি জার্নি টু নো এন্ড)। এবছর এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম সেশন, ওমেন ফিল্ম মেকার, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ বিভাগে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি থাকছে ওয়েস্ট মিটস ইস্ট, স্ক্রিনপ্লে ল্যাব, মাস্টারক্লাস ও আর্ট এক্সিবিশন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। আজ শনিবার সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এক বিবৃতিতে একথা বলেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত দক্ষতা ও দূরদর্শিতার সাথে দলকে সুসংগঠিত রাখতে তারেক রহমান যে নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরেই দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার হবে এবং বিএনপি আরও গতিশীল হবে ইনশাআল্লাহ। তারা বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করায় দলীয় চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়। এরপর গত শুক্রবার রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গঠনতন্ত্র মোতাবেক সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে পূর্ণ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার এই নতুন পথচলা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে আরও বেগবান করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ঢাবি সাদা দলের নেতারা শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আমরা প্রত্যাশা করি, তার হাত ধরেই দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং সুশাসন আবারও প্রতিষ্ঠিত হবে। সাদা দল মনে করে, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনার এই মূলধারার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। আমরা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং রাজনৈতিক জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। একইসঙ্গে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি তিনি যেন তারেক রহমানকে সফলতা দান করেন।
কক্সবাজার জেলায় আজ সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ‘বিচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান। প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিবেশবান্ধব নগর ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে আমাদের গর্ব। এই সৈকতকে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন রাখা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। ‘বিচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচীতে ১২টি যুব সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় যুব প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘দশটি কাজের মধ্যে সরকার যদি চারটি ভালো কাজ করে তবে তার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। বাকি ছয়টি কাজের সমালোচনা করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু একেবারে কিছুই হয়নি বলে প্রচার করা সৎ সমালোচনার পর্যায়ে পড়ে না।’ আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি, বাজেট বরাদ্দ ও বাজেট ব্যবস্থাপনার সব ক্ষমতা উচ্চ আদালতের হাতে ন্যস্ত করেছি। এটি কি সংস্কার নয়? আমরা গুম কমিশন গঠন করেছি, সেটি অসাধারণ কাজ করেছে এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো আইনের চেয়ে উন্নত। অচিরেই এই আইনের আওতায় কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া সিআরপিসি ও সিপিসিতেও যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আগের চেয়ে দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে মানুষ বিনা খরচে ও ভোগান্তিতে আইনি সহায়তা পাচ্ছে। এই কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে ব্র্যাক সাড়ে ৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এই কার্যক্রম ২০ গুণ বৃদ্ধি করা।’ তিনি বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ভারতের আধিপত্যবাদী অবস্থান থেকে দেশকে মুক্ত করে স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক খাতেও স্বস্তি ফিরেছে। রিজার্ভ বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভগ্নপ্রায় ও বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিরোধী দল ও ভিন্ন মতের মানুষের প্রায় ৫ লাখ আসামি ছিলেন এমন ২০ হাজারেরও বেশি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এগুলো কি কোনো সাফল্য নয়? অথচ সমালোচনার সময় এসব বিষয় কারও চোখে পড়ে না।’ আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ১৬ মাসে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি হয়েছি, এটা আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। গত ১৫ বছর আমাকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছে, আর এখন রাতারাতি আমাকে ভারতের দালাল বানানো হয়েছে। অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে, আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে এবং পরিবার সেখানে চলে গেছে। আমি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম যে আমেরিকায় বাড়ি থাকলে তার ঠিকানা খুঁজে বের করুন। কিন্তু কোনো সাংবাদিক বা ইউটিউবার তা বের করতে পারেনি। যারা এসব মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি। সততাই যার জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার, তার বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অপপ্রচার চালানোই সবচেয়ে বড় সাইবার বুলিং।’ হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের ঘটনায় আটক ব্যক্তি বা আওয়ামী লীগের যেসব জামিন হচ্ছে, তার ৯০ শতাংশই দিচ্ছে হাইকোর্ট। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ বিচারকের। কোনো বিচারক যদি ভুল বা অন্যায়ভাবে জামিন দেন, তবে তার দায় সেই বিচারকের, আমাদের না। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো হাত নেই। অথচ জামিন হলেই আইন উপদেষ্টাকে দোষারোপ করা হয়। এর পেছনে বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। কেননা আমাকে দুর্বল করলে সেই এজেন্ডা বাস্তবায়ন সহজ হবে বলেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই দোষারোপ করা হচ্ছে।’ আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা কি নিজের চিন্তা-ভাবনা ও সততার সংস্কার করেছি? রাজনৈতিক দল, এনজিও, সংবাদমাধ্যম বা অ্যাক্টিভিস্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কি নিজেদের সংস্কার করেছে? সবাই একে অপরকে দোষারোপ করছে, কিন্তু নিজেরা পরিবর্তন হচ্ছে না। শুধু আইন দিয়ে, সংস্কার করলে ম্যাজিকের মতো মানুষ ভালো হয়ে যায় না। ইংল্যান্ডে লিখিত সংবিধান নেই, তবু সেখানে সুশাসন আছে। অথচ আফ্রিকার অনেক দেশে হাজারও ভালো আইন থাকার পরও সুশাসন নেই। কাগজ বা আইন দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় না। ইসলাম ধর্মেও আত্মসমালোচনাকে বড় গুণ বলা হয়েছে। তাই আমাদের সবার উচিত অন্যের দোষ না খুঁজে নিজেদের আত্মসমালোচনা করা।’ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা ও ভুল থাকতে পারে। ১০টি কাজের মধ্যে ৬টি না পারলে সেগুলোর সমালোচনা করুন, কিন্তু যে ৪টি ভালো কাজ হয়েছে তার স্বীকৃতি দিন। আমাদের নিয়ত সৎ না হলে কিংবা আমরা পরমত সহিষ্ণু না হলে জাতি হিসেবে এগোতে পারব না। সবাই যদি একে অপরের সীমাবদ্ধতা ও সক্ষমতা বোঝার চেষ্টা করি এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাই, তবে ধীরে ধীরে সংস্কারের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। এভাবে চললে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশকে ইনশাল্লাহ অনেক ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যাবে।’ সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় পলিসি ডায়ালগে আরও বক্তব্য রাখেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া।
তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধনকালে উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান। প্রথমবারের মতো এবার কক্সবাজারেও উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এটা অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সবাইকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। তিনি বলেন, দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ, বিভক্ত এই পৃথিবীতে সংস্কৃতিই মানুষে-মানুষে সেতুবন্ধ রচনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বন্ধনগুলো দৃঢ় হয়। মানুষের সাধারণ আশা-আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ, জ্ঞান-বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরকে জানার সুযোগ তৈরি হয়। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’-স্লোগান সামনে রেখে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি ৯ দিনব্যাপী ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে উদযাপিত হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলো আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়েও আয়োজন করা যেতে পারে। চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হতে যাওয়া দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক কোনো চলচ্চিত্র আছে কিনা, জানতে চেয়ে উপদেষ্টা আয়োজকদের দু’একটি পরিবেশ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। তিনি চলচ্চিত্র উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি যুক্তরাজ্য নিবাসী ক্রোয়েশিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ এবং বাংলাদেশে চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিওপেং। উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। উৎসবে উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় চীনা পরিচালক চেন শিয়াং পরিচালিত ছবি ‘উ জিন ঝি লু’ (দি জার্নি টু নো এন্ড)। বরাবরের মতো এবারও এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিল্ড্রেন ফিল্ম সেশন, ওমেন ফিল্ম মেকার বিভাগ, শর্ট এন্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ বিভাগে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবে আরও থাকছে ওয়েস্ট মিটস ইস্ট, স্ক্রিনপ্লে ল্যাব, মাস্টারক্লাস, আর্ট এক্সিবিশন ইত্যাদি।
আগামী ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সিলেট সফরে যাবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন তিনি। আজ শনিবার বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বাসস’কে এ কথা নিশ্চিত করেছেন। ভোটের প্রচার শুরুর বিষয়ে আজ শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।’ ভোটের প্রচারের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি বিএনপি চেয়ারম্যান। জানা যায়, আগামী ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে। এর অংশ হিসেবে তারেক রহমান সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণার সূচনা করবেন। পরে সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনসভায় অংশ নেবেন। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারে একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার পর তিনি শ্রীমঙ্গলে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। ঐতিহ্যগতভাবেই হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে বিএনপি। এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিতের কথা জানানো হয়। সেই সঙ্গে এদিন দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার নেন তারেক রহমান। গতকাল বৈঠক শেষে এ বিষয়ে জানানোর পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সফরের নতুন সময়সূচি জানানো হবে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু সারা জাতিকে নাড়া দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম। শনিবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী এবং রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আইজিপি বলেন, গ্রেপ্তার করলে যদি থানা ঘেরাও করে বসে থাকা হয়, তাহলে পুলিশের কর্তৃত্ব কোথায় থাকে। যদি আমি অন্যায় করি, আমাকে ধরেন। কিন্তু ন্যায় কাজটা করতে দেন। বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অনেক মামলায় এমন অনেকের নাম রয়েছে, যারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তাদের ক্ষেত্রে পুলিশ রিলিফ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি পুলিশ বাহিনীর মনোবল ধরে রাখতে দেশবাসীর সমর্থন কামনা করেন। পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আইজিপি জানান, পুলিশের পাঁচ হাজার ৫০০টির বেশি অস্ত্র খোয়া গেছে। এর মধ্যে এখনো এক হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সব অস্ত্র একসঙ্গে উদ্ধার করা কঠিন হলেও ধাপে ধাপে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারও অব্যাহত আছে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫১টি দেশি ও বিদেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অপারেশন ডেভিল হান্টের ফেজ টু নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৩ ডিসেম্বর থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে যেসব ব্যক্তি সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকলে এবং তিনি অপরাধী হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এক লাখ ৩৩ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ২০ জানুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিগত দিনের পুলিশি ভূমিকা প্রসঙ্গে আইজিপি স্বীকার করেন, অতীতে পুলিশের কিছু বিচ্যুতি ও দলীয়করণের কারণে বাহিনীর ওপর নেতিবাচক দায়ভার এসেছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ এখন পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ আনসার, র্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। শেষে তিনি বলেন, অপরাধ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব না হলেও পুলিশের লক্ষ্য থাকবে যেন একজন মানুষও প্রাণ হারায় না। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এখন পুলিশের বড় দায়ভার। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সমন্বয়, প্রচার কার্যক্রম ও সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করতে গুলশানে ইলেকশন স্টিয়ারিং অফিস ও কল সেন্টার চালু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— বিএনপি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশান ২- এর ৯০ নং সড়কে এই অফিস উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অফিস উদ্বোধন শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নির্বাচনী কার্যক্রম প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে যেকোনো সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখবে এই নির্বাচনী অফিস। কল সেন্টারের ১৬৫৪৩ নম্বরে যেকোনো সময় সহয়তা দেয়ার কথাও জানান তিনি।
গভর্নর হিসেবে ব্যর্থ হননি, উপদেষ্টা হিসেবেও ব্যর্থ হবেন না— এমন আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনিই বলেছেন, দ্রুত বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবো, এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণ প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি করেন। অর্থ উপদেষ্টার মতে, ব্যবসায়ী সমাজের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। সালেহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ব্যাংক ঋণের সুদহার এখনই কমানো সহজ নয়। এই অনুষ্ঠানে ব্যাংকাররা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বেহাল দশার জন্য বিগত সময়ে বাছ-বিচার ছাড়াই লাইসেন্স দেয়াকে দুষলেন। এদিকে, ভঙ্গুর অবস্থা থেকে অর্থনীতির উন্নতি হলেও সন্তোষজনক পরিস্থিতিতে আসেনি বলে এতে মন্তব্য করেন সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
ভোটের দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। শনিবার দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘মানুষের ভোট’। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আদিলুর রহমান খান জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ ভোট’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘এই সনদ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে লেখা হয়েছে। তাই এর প্রতি সবার দায়িত্ব আছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে মাঠে কোনো বৈষম্য থাকবে না বলে তিনি মনে করেন। তার কথা, ‘নির্বাচনের সময় সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এটি কার্যকর থাকবে। এর আগে উপদেষ্টা সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় সিলেট বিভাগের কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি তার নতুন দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। শপথ গ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে তিনি কাজ করবেন। কূটনীতি, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা ও নিরাপত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের পারস্পরিক অংশীদারত্ব জোরদার করাই তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে বলে জানান তিনি। এর আগে তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে তার সরাসরি অভিজ্ঞতা রয়েছে। সিনেটের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন শিগগিরই ঢাকায় তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। তার এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।