সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীনের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি’ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল এবং সেটি খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরো সুদৃঢ় হয়। চীন এখন এক বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি। তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে ম্যাজিক্যাল উন্নয়ন ঘটেছে, তার সুবিধা বাংলাদেশ নিতে পারলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব। বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আমাদের যুবসমাজ যেভাবে চীনে পড়াশোনা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান বাড়াচ্ছে, তা দুই দেশের সম্পর্ক আরো ভালো হবে।
বাংলাদেশে সাপের বিষ বা ভেনম উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও বাজারব্যবস্থার অভাবে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পটুয়াখালীর এক উদ্যোক্তার গড়ে তোলা সাপের খামারে নিয়মিত ভেনম সংগ্রহ করা হলেও এখনো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বা বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়নি। পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস প্রায় ২৬ বছর ধরে বিষধর সাপ সংরক্ষণ ও ভেনম সংগ্রহের কাজ করছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্নেক ভেনম’ খামারে বর্তমানে আড়াই শতাধিক বিষধর সাপ রয়েছে। এর মধ্যে কিং কোবরা, রাসেলস ভাইপার, গোখরা, কেউটে, পাইথনসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি খামারটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধন পেয়েছে। তবে নিবন্ধন মিললেও সংগৃহীত ভেনম বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বা বাজারজাতের পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি। উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস জানান, খামারটি গড়ে তুলতে তিনি নিজের প্রবাসজীবনের সঞ্চয়, জমি বিক্রি এবং পরিবারের গয়না পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। বর্তমানে অর্থ সংকটে খামারের শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। তার দাবি, খামার থেকে প্রতি মাসে প্রায় এক পাউন্ড ভেনম সংগ্রহ করা সম্ভব, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় আট কোটি টাকা। কিন্তু দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের ব্যবস্থা না থাকায় এই মূল্যবান সম্পদ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খামারের কর্মীরাও জানান, আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত বেতন না পেলেও উদ্যোক্তার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় ভেনম ব্যবহার করে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন শুরু করা গেলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, অ্যান্টিভেনম উৎপাদনে দেশীয় ভেনম ব্যবহার করা গেলে চিকিৎসা খাতে বড় অগ্রগতি সম্ভব। তবে এজন্য গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, জৈব নিরাপত্তা এবং সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ শিল্পের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ভাষ্য, খামারটি ভেনম সংগ্রহের অনুমোদন পেলেও নির্ধারিত মান ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে প্রক্রিয়াজাত করার পরই তা ওষুধ শিল্পে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই এ খাতকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বানও জানিয়েছে সরকার। স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ অনুরোধ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ নির্ধারিত প্রস্তুতিকালের পুরো সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর উদ্দেশ্য এলডিসি থেকে উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়া নয়। বরং কাঠামোগত সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও টেকসই করা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, এলজিইএবির সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন। ইকোসকের সভাপতি লোক বাহাদুর থাপা এবং সহ-সভাপতি আমর বেনজামার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে সফল, টেকসই ও স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ব্যবহার করে নিয়মিত বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। স্থানীয় মানবপাচার চক্রের সহায়তায় তারা রাতের অন্ধকারে বন ও পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আলীকদম উপজেলার ফাত্রা পাড়া–দরিমুখ পাড়া হয়ে আলীকদম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম পথ ব্যবহার করছে এসব রোহিঙ্গা। পাহাড়ি ছড়া, বনাঞ্চল ও নদীপথ অতিক্রম করে তারা দুই দিনের যাত্রায় বাংলাদেশে পৌঁছায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে ব্যবহৃত কয়েকটি সীমান্তপথে নজরদারি বাড়ায় এখন ফাত্রা পাড়া–দরিমুখ পাড়ার রুটটি বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পথে চলাচলের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে মানবপাচারকারীরা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সীমান্ত অতিক্রমের আগে পাচারকারীরা স্থানীয়দের মাধ্যমে নিরাপত্তা টহলের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন চেকপোস্টের কাছাকাছি এনে রোহিঙ্গাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। তারা বিকল্প পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে চেকপোস্ট পার হয়ে অন্য পাশে আবার মোটরসাইকেলে ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে আলীকদমে শতাধিক রোহিঙ্গা ও কয়েকজন সন্দেহভাজন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সবাই শরণার্থী শিবিরে যায় না। অনেকেই স্থানীয় বাজার, হোটেল, চায়ের দোকান ও নির্মাণকাজে স্বল্প মজুরিতে কাজ করছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি পরিচয় নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন। ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমবাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বাড়তে থাকা ঋণ ও রাজস্ব চাপ মোকাবেলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের মতে, ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ-ভার লাঘব, ঋণ পরিশোধ স্থগিত এবং টেকসই ঋণসমাধানের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উন্নয়নশীল দেশগুলো নারী, শিশু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে পারবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের গতি ধরে রাখা সম্ভব হবে। শুক্রবার নিউইয়র্কে ইউনিসেফ সদর দপ্তরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ আহ্বান জানান। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিও উপস্থিত ছিলেন। ড. তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ বাংলাদেশের রাজস্ব সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে নারী, শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভাবস্থা, শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া হবে। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারের ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর ও এক ওয়ালেট’ কৌশলের কথা তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তি আরো সমন্বিত ও কার্যকর হবে। তিনি শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী এবং বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে ইউনিসেফের সহযোগিতাও কামনা করেন। জবাবে ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মধ্যেও নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি শিক্ষা, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী মানুষের। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতি মৌজার বাসিন্দা আব্দুল জলিল ও তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম বেগম বলেন, নদী তাদের একের পর এক জমি কেড়ে নিয়েছে। এখন শেষ সম্বল বসতভিটাটুকুও ভাঙনের মুখে। তাদের প্রশ্ন, “এই বাড়িটাও ভেঙে গেলে কোথায় যাব, কোথায় থাকব?” উম্মে কুলসুম জানান, প্রায় দুই দশক আগে নদীভাঙনে তাদের অধিকাংশ জমি হারিয়ে যায়। বর্তমানে শুধু বসতভিটাটুকুই রয়েছে। সেটিও নদীতে বিলীন হলে পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে। আব্দুল জলিল বলেন, গার্মেন্টসে কর্মরত ছেলের পাঠানো টাকায় কোনোমতে সংসার চলছে। রাতভর ভাঙনের আতঙ্কে ঘুমাতে পারেন না। তার দাবি, বাড়ির সামনে দ্রুত নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হোক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সেগুলোও নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। এতে মসজিদ, মাদরাসা, বিদ্যালয় ও কবরস্থানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের মতো জায়গা না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্তের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জয়পুরহাট জেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া তাপস ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, গত ২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে সাংগঠনিক সম্পাদকের মাধ্যমে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পদত্যাগপত্রে গোলাম কিবরিয়া তাপস উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জয়পুরহাট জেলা শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংগঠনের দায়িত্ব আগের মতো সক্রিয়ভাবে পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় দলের কার্যক্রম ব্যাহত না হোক, সে বিবেচনায় তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও সাধারণ সদস্য হিসেবে দলের কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন এবং দলের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার চেষ্টা করবেন। দায়িত্ব পালনের সময় সহযোগিতার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এ বিষয়ে গোলাম কিবরিয়া তাপস বলেন, “আমি ২ জুলাই লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই স্থানীয়ভাবে আমার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছি।” অন্যদিকে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ইমরান ইমন বলেন, তিনি বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে শুনেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র তার কাছে এখনো পৌঁছায়নি।
টানা বর্ষণ ও ভারী বৃষ্টিতে যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে মাছের ঘের, আবাদি জমি এবং নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি। এতে নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। অভয়নগর উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার ৫০৩ হেক্টর আয়তনের ২২০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে এতে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার বলেন, অনেক ঘেরের পাড় ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। পানি আরও বাড়লে ঘের থেকে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ৩৭ হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পায়রা, চলিশিয়া, শ্রীধরপুর, সিদ্ধিপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চলতি মৌসুমের চাষাবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাছের ঘেরের পাড় পানিতে ডুবে গেছে। অনেক চাষি মাছ রক্ষায় ঘেরের চারপাশে বাঁশ ও জাল বসানোর চেষ্টা করছেন। মনিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামে বাড়ির উঠানেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিল ও খাল উপচে পানি ঘেরে প্রবেশ করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। মাছচাষি রনি মণ্ডল জানান, আগেভাগে জাল কেনা হলেও হঠাৎ পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তা বসানোর সুযোগ পাননি। এর মধ্যে জালের দামও বেড়ে গেছে, যা তাদের সংকট আরও বাড়িয়েছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় আগের বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নদী খননের কাজ শেষ হলেও পর্যাপ্ত পানি অপসারণ হচ্ছে না, আর বিকল্প নিষ্কাশন পথ আমডাঙ্গা খালের সংস্কারও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ দ্রুত আমডাঙ্গা খালের সংস্কার, সব স্লুইসগেট সচল রাখা এবং কার্যকর টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালুর দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বছরের মতো এবারও ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ছাড়াও প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে শনিবার এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে স্পট মার্কেট থেকে একসঙ্গে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে এই এলএনজি কেনা হবে। সরকার টু সরকার-জি টু জি চুক্তির আওতায় জ্বালানি বিভাগ এ এলএনজি কিনছে। প্রতি ইউনিট এলএনজির দর দেওয়া হয়েছে ১৭ থেকে ১৯ ডলার। দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) এবং পেট্রোবাংলা ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাব নিয়েছে। এখন সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ওই প্রস্তাব ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে যাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলএনজির দর দিয়েছে। এ দর চূড়ান্ত নয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা করা হবে। তারপর তাদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ক্রয় জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হবে। এদিকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ বলছেন. মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এখন এলএনজির দাম চড়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা হয়ে যুদ্ধ বন্ধ হলে এলএনজির বাজার অনেক কমতে পারে। যেমনটা গত মাসে ঘটেছিল। ওই সময়ে ১৮-১৯ ডলারের এলএনজি ১৫-১৬ ডলারে নেমে আসে। দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি হচ্ছে ১০৫ কোটি ঘনফুটের বেশি। জাতীয় গ্রিডে এই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতি মাসে ১০টির বেশি এলএনজি কার্গো আমদানি করে পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ৫ মাসে ৫০টির বেশি এলএনজি কার্গো প্রয়োজন। এরমধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে ৪টি থেকে ৫টি কার্গো পেতে পারে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, স্পট মার্কেট থেকে একসঙ্গে বেশি করে কিনলে সস্তায় এলএনজি পাওয়া যেতে পারে-এমন চিন্তা থেকে জি-টু-জি নীতিমালার আওতায় বিভন্ন সরবরাহকারীকে প্রস্তাব দিতে বলা হয়। এর মধ্যে ৫ মাসের বিভিন্ন সময়ে এলএনজি সরবরাহের আগ্রহ দেখিয়ে ভিটল, ইউএসএ, টোটাল এনার্জি, ইউকে, হানবোর ইউএসএ, গানবোর সিঙ্গাপুর, এমিরাতস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, সিঙ্গাপুর প্রাইভেট কোম্পানি, অরচার এনার্জি ও সিকার ইন্টারন্যাশনাল যৌথ কোম্পানি, এডনক ট্রেডিং, আইআরএইচ গ্লোবাল ট্রেডিং ও সরকার ট্রেডিং গত মঙ্গলবার অনলাইনে দরপত্র জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের প্রস্তাবের মূল কপি কুরিয়ায় পেট্রোবাংলার কাছে পাঠানো হয়েছে। ১০ কোম্পানি দর দিয়েছে ১৭ থেকে ১৯ ডলার পর্যন্ত। যদিও স্পট মার্কেটে এখন চলছে প্রতি ইউনিট ২০ ডলারের বেশি। প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানি করতে সরকারকে ৬৫০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। এ হিসাবে ৩০ কার্গোর জন্য এলএনজি আমদানি করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জি-টু-জির আওতায় ৫ মাসের স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সরবরাহ দিতে ১৮টি কোম্পানির কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি সাড়া দিয়েছে। এখন এই ১০ কোম্পানির সঙ্গে তাদের দাম নিয়ে দরকষাকষি করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের একটি পক্ষ এভাবে একসঙ্গে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার পক্ষে নয়। কারণ যুদ্ধ থেমে গেলে এই এলএনজির দাম কমতে পারে। এখন ১০ কোম্পানির সঙ্গে ৫ মাসের জন্য এখনই চুক্তি হয়ে গেছে, পরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও বেশি দামে কিনতে হবে। তাই শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটি দেখার বিষয়। দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় সরকার প্রতি মাসে ৪-৫টি কার্গো এলএনজি কিনছে। সে এলএনজির দাম অনেক কম। সর্বশেষ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি থেকে এলএনজি কিনে মাত্র ১৩ দশমিক ৭২ ডলার প্রতি ইউনিটে। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। যুদ্ধের আগে বেশির ভাগ কাতার, ওমান এবং মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কাছ থেকে এলএনজি কেনা হতো। যুদ্ধের ফলে কাতার, ওমান এবং এক্সিলারেট এনার্জি ফোর্স শাটডাউন দিয়ে দেয়। এরমধ্যে কাতার এনার্জি কিছুটা সরবরাহ দিলেও বাকিরা এখনো দিতে পারছে না। সম্প্রতি কাতার এনার্জি জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের গ্যাসক্ষেত্র দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই যুদ্ধ বন্ধ হলে আগামী ৫ বছর তারা আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ কম দিতে পারবে। চুক্তির আওতায় বাকিরা কবে নাগাদ সরবরাহ শুরু করবে তা এখনো জানায়নি। এ কারণে বাংলাদেশকে এখন স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে করে দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গত বছর সরকার ৪৫ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করে। এ বছর এই খরচ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
’২৪ এর জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি বলেন, ১৬ জুলাই পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের শাহাদাৎ বরণের মধ্যদিয়ে ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। যখনই কোনো দল দেশের স্বাধীনতা বা অর্জনকে নিজেদের কুক্ষিগত করতে চেয়েছে, তাদের কিন্তু পালিয়ে যেতে হয়েছে। শুক্রবার বিকালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে এই সব কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মনে করি না যে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা যা বলব তাই হবে। এ দেশের মানুষ যা চায়, তাই হবে। দেশের মানুষের স্বার্থে আমরা সব দল একসাথে কাজ করব। এছাড়াও রাজনৈতিক সহকর্মীদের আশ্বস্ত ও হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির ইতিহাস পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস নয়, বিএনপির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস নয়। শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে যে দল গড়ে উঠেছে এবং বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন আপসহীন থেকে দেশের মানুষের অধিকারের লড়াই পরিচালনা করেছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থেকেও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন; সেই দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে থেকে জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করবে। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ, ঘোড়াঘাট থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ মো. শামীম হোসেন চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার মিলন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহফুজার রহমান লাবলু প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ফলদ ও বনজ গাছের চারা এবং কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বর্তমান সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির প্রয়োজন হয় না। ফলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, গ্রামে মাসে ৭৫ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না। এ কারণে যারা মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। প্রান্তিক মানুষ যাতে কষ্ট না পান, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে স্প্রে মেশিন, নলকূপ, সেলাই মেশিন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেঞ্চ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করছেন। এ লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডও দেওয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক কারবারির অভিযোগে এক যুবক ও তার মাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের আওলাতলী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একত্রিত হন। পরে আওলাতলী গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ মিয়া (২৫) এবং তার মা পারভীন আক্তারকে আটক করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানায়, পারভেজের বাবা জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে তাকে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তারা এ কার্যক্রম বন্ধ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা-ছেলেকে হেফাজতে নেয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে পুলিশের আগমনের আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনটি আধাপাকা বসতঘর, চারটি টিনশেড ঘর, একটি রান্নাঘর এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে থাকা কিছু মাদকও আগুনে পুড়ে গেছে। আওলাতলী মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থানের অংশ হিসেবে এলাকাবাসী একত্রিত হয়েছিল। তবে বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি পরে ঘটে। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-ছেলেকে আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। তিনি জানান, পুলিশের পৌঁছানোর আগেই জনতা বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং আটক দুজনের বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
টানা বর্ষণ ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামে সবজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন এলাকায় ফসলের ক্ষতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস, পাইকারি বাজারে বেচাকেনা এবং পরিবহন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শঙ্খ নদীর চরাঞ্চল, যা জেলার অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন এলাকা। দোহাজারী, সাতকানিয়ার খাগরিয়া ও ছদাহা এবং বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। অনেক জমিতে বালু জমে যাওয়ায় দ্রুত চাষাবাদ শুরু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৯০০ হেক্টর সবজি, ৭০ হেক্টর পেঁপে এবং প্রায় ৬০ হেক্টর অন্যান্য ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বাজারজাতের উপযোগী ফসলও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। বাঁশখালীর কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, করলার ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় তার প্রায় দুই লাখ টাকার সম্ভাব্য আয় হারিয়ে গেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বর্তমানে মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০–৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ টাকা, বেগুন ও দেশি গাজর ৮০ টাকা, আমদানি করা গাজর ১৩০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা এবং কচুরমুখী ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বরবটি, ঝিঙা, পটল ও করলা প্রতি কেজি ১০০–১১০ টাকা, শিম ১৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৫০–১৮০ টাকা, ধনেপাতা ১৮০–২০০ টাকা এবং শাক প্রতি আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বালুচাপায় ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরায় চাষের উপযোগী করার উদ্যোগও চলছে। চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে। চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া গেলে তারা আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবেন, যা বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সহায়ক হবে।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত নেতা-কর্মীর ভিড়ে মূল মঞ্চ ধসে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মঞ্চে থাকা কেউ আহত হননি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দোহাজারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী আসার আগেই মঞ্চে নেতা-কর্মীদের ভিড় বেড়ে যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার মাইকে মঞ্চে অতিরিক্ত লোক না ওঠার অনুরোধ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে অর্থমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকে সেখানে উঠে পড়লে অতিরিক্ত চাপের কারণে মঞ্চের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে অনুষ্ঠানস্থলে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি। চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান বলেন, পুরো মঞ্চ ধসে পড়েনি; টেবিলের কয়েকটি পায়ের অংশ বসে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরও অর্থমন্ত্রী মঞ্চেই অবস্থান করে কয়েকজন বন্যার্তের হাতে ত্রাণ তুলে দেন এবং পরে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনার সময় মঞ্চে উপস্থিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ মঞ্চে ওঠায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, মাইকে বারবার সতর্ক করা হলেও অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, ইয়াবা এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তিনজন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিজিবি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট ও ধলডাঙ্গা সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং তিনজন মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় জিরা, গবাদিপশু এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫০ টাকা। কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সদস্যরা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিএনপি সংবিধান সংশোধন করতে চায় বলে জানিয়েছে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, বিএনপি কখনও সংবিধান সংস্কারের কথা বলেনি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় এই কথা জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা পালন করব। এটা হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট।' সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'আমরা বরাবরই বলে এসেছি, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।' তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছে সেই লড়াইয়ের ফলশ্রুতি। বিরোধীদলের অনেকে বিভিন্ন রকম মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় মাইঝ পাড়া মাহমুদুন নবী চৌধুরী স্কুলের সামনে ও হাদী পাড়ায় ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার, ডাল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০,০০০ মানুষকে রান্না করা খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের এই ধারা এখনো অব্যাহত আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তা চলমান থাকবে। তিনি আরও বলেন, ত্রাণ বিতরণের পরপরই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার, বীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে, বন্যার পরে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেন যে কোনো সংক্রমণ বা রোগ দেখা দিলে দ্রুততার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মন্ত্রী বলেন, যতদিন পর্যন্ত পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষ না হয়, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পতেঙ্গায় ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্যার্তদের সহায়তায় সরাসরি চন্দনাইশ-দোহাজারী ও সাতকানিয়ায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে ও ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
বিদায় পৃথিবী, সুখে থেকো’ ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে ছাকিন হোসেন (২৭) নামে যশোরের স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে যশোর সদরের শেখহাটি তরফ নওয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ছাকিন ওই এলাকার রমজান আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন ছাকিন। রাতে নিজ ঘরে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দেন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডাক্তার বিচিত্র মল্লিক জানান, স্বজনরা মৃত অবস্থায় তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। স্বজনরা জানান, এর আগে ওইদিন দুপুরে তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে বিপুল সংখ্যক ঘুমের ট্যাবলেট খান। এ খবর পেয়ে সহকর্মীরা তার বাড়িতে যান। তার সহকর্মী রাব্বী আল আমিন জানান, তার বাড়িতে গিয়ে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। ছাকিনকে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। ছাকিন সন্ধ্যায় অফিসে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু তিনি আর আসেননি। আমরা পরে তার আত্মহত্যার খবর জানতে পারি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। যে কারণে তার স্ত্রী গত ঈদুল ফিতরের পরের দিন বাবার বাড়িতে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। এ নিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ছাকিন।
খুলনায় পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে একসঙ্গে অবস্থানরত সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এ ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানায়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলাটি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন বা সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত। তিনি বলেন, শুধু মামলা দায়ের করাই যথেষ্ট নয়; হামলার উদ্দেশ্য, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে। অন্যথায় ঘটনাটি বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার সাংবাদিকরা প্রথমদিকে মামলা করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিলেন। টিআইবির মতে, এটি সাংবাদিকদের মধ্যে বিদ্যমান নিরাপত্তাহীনতা, ভীতির পরিবেশ এবং প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কার প্রতিফলন। পাশাপাশি কার্যকর তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার ঘাটতিরও ইঙ্গিত বহন করে। টিআইবি মনে করে, আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার বর্তমান প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিবেচনায় হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিটি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।