জাতীয়

ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ডিএমপি কমিশনার বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। রাজধানীতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভালো রয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পুলিশ সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি, কেন্দ্রের অবস্থান ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন বলে জানান তিনি। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে। সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, নানা কারণে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই কালিমামুক্ত হয়ে একটি অর্থবহ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ধারপ্রান্তে এসেছে, তা এগিয়ে নিতে ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবাই সম্মিলিতভাবে অবদান রাখুন। ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ আসন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আসনভিত্তিক কোনো বিশ্লেষণ করা হয়নি। ডিএমপি ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছে। মহানগরে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই দুই ধরনের কেন্দ্র থাকবে। পাশাপাশি ৩৭টি কেন্দ্রকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সোয়াট প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের থ্রেট নেই। পরিবেশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও ভালো। অপরাধ নেই, আইনশৃঙ্খলার কোনো সমস্যা নেই, রাস্তাঘাটে অবরোধ নেই। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরাজিত পক্ষ কারচুপির অভিযোগ তুলতে পারে—এটি আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিএমপির সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় সাংবাদিকসহ নগরবাসীর সবাই রয়েছে। কারও নিরাপত্তাহানি ঘটবে না এ বিষয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিত করেন। অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেনি। নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লাঠি হাতে থাকা ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই ঘটনাস্থলে যান। সরকারপ্রধানের বাসভবনের সামনে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে বসে থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সেনাবাহিনীতে খুনের সংস্কৃতি আগে থেকেই ছিল, গুমের সংস্কৃতি পরে গড়ে ওঠে - ইকবাল করিম ভূঁইয়া

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ ইকবাল করিম এই জবানবন্দি দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১–এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো.মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।   সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি অসমাপ্ত রয়েছে। আগামীকাল সোমবার তাঁর আবার জবানবন্দি দেওয়ার কথা। ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া প্রথম দিনের জবানবন্দির পূর্ণ বিবরণ এখানে দেওয়া হলো—   ‘আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান। আমি ২০১২ সালের ১৫ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলাম। আমি সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি কীভাবে বেড়ে উঠেছে, সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে এসেছি। পাশাপাশি আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে র‍্যাব সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে এসেছি।’   সেনাবাহিনীতে খুনের সংস্কৃতি আগে থেকেই ছিল। গুমের সংস্কৃতি পরে গড়ে উঠেছে। আমরা যদি ধরে নিই যে ২০০৮ সাল থেকে খুন শুরু হয়েছে, তবে সেটা ভুল বলা হবে। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার পর থেকেই খুনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনানিবাসের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে। সে সময় কথিত অপরাধীদের ধরে সেনা ক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে তার সংখ্যা ছিল সীমিত। পরে তদন্ত আদালতের মাধ্যমে এবং আইন প্রয়োগ করে সেগুলোকে নিয়মিত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অপারেশন চলাকালে বেশ কিছু মৃত্যু হয়েছে। যেগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, সেগুলোকে ধর্তব্যে নিয়ে দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।   সামরিক বাহিনীর প্রধান কাজ হচ্ছে বহিঃশত্রু থেকে দেশকে রক্ষা করা। তবে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সামরিক বাহিনীকে তাদের সাহায্যে সময়–সময় মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া দুর্যোগকালেও সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। এমনকি নির্বাচনকালেও সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। সবার ধারণা সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তাই এটি একটি অলিখিত নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   সেনাবাহিনীকে যখনই বাইরে মোতায়েন করা হয়, অধিনায়কদের মনে একটি সার্বক্ষণিক চাপ থাকে তাদের কত তাড়াতাড়ি সেনানিবাসে ফেরত আনা হবে। কারণ, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ ‘এক গুলি, এক শত্রু’ নীতির ওপর পরিচালিত হয়ে থাকে। বস্তুত এটি না হলে সেনাবাহিনী কখনো যুদ্ধ করতে পারবে না। এ জন্য প্রশিক্ষণকালে সেনাসদস্যদের ডিহিউম্যানাইজ করা হয়। তারা ধীরে ধীরে মানুষকে মানুষ মনে করা ভুলে যায়, মানুষকে টার্গেট বলতে শুরু করে। ফায়ারিং রেঞ্জে মানুষ আকৃতির টার্গেটের ওপর গুলি করে তাদের মানুষ হত্যার মনস্তাত্বিক বাধা দূর করা হয়। এ কথা মনে রেখে সেনাবাহিনীকে কখনো বেসামরিক পুলিশের সঙ্গে মেশানো ঠিক হয়নি। অথচ সেটাই ঘটেছে ২০০৩ সালে, যখন র‍্যাব গঠন করা হয়। এটি ছিল একটি মারাত্মক ও ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনাসদস্যদের যে প্রশিক্ষণ তা র‍্যাবে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে কিছু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। র‍্যাব গঠনের পূর্বে অপারেশন ক্লিনহার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেনাসূত্র অনুযায়ী ১২ জন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এই সংখ্যাটি ছিল ৬০ জন। পরে ক্লিন হার্টের সব সদস্যকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়। বস্তুত এই ইনডেমনিটি ছিল হত্যার লাইসেন্স প্রদান।   ২০০৭ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়ানোর জন্য যে সংঘাত শুরু হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্টেট অব ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়। ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সময়ে ডিজিএফআই হয়ে ওঠে দেশের মুখ্য নিয়ন্ত্রক। বিভিন্ন সময়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে তাদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করত। এর মধ্যে অনেক মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ছিলেন। তাঁরা বিএনপির জনাব তারেক রহমানকেও উঠিয়ে এনে নির্যাতন করে। এ সময় থেকে বস্তুত বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে আটক রাখার সেলের মধ্যে রাখা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। বস্তুত যেকোনো ব্যক্তিকে উঠিয়ে এনে যা ইচ্ছা তাই করা যায় মর্মে তারা ভাবতে শুরু করে। তারা ভাবতে শুরু করে যা কিছুই তারা করুক না কেন শেষ পর্যন্ত তারা পার পেয়ে যাবে। জরুরি অবস্থায় সেনাসদস্যদের সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। তারা রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করে, তাদের মধ্যে আধিপত্যবোধের জন্ম হয়, সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যে একটি বিভাজন সৃষ্টি হয়, নগদ সংস্কৃতির উত্থান হয় এবং উপরস্থদের আদেশ অন্ধভাবে পালন করার প্রবণতা জন্ম হয়।   ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। পরে বিদ্রোহ দমন করার পর বিডিআর সদস্যদের অন্তরিণ করা হয় এবং সেখানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে পিলখানায় (বিডিআর সদর দপ্তর) র‍্যাব ও সামরিক সদস্য দ্বারা নির্যাতনের কারণে আনুমানিক ৫০ জন বিডিআর সদস্য মৃত্যুবরণ করেন বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়। পরে দায়রা আদালত কর্তৃক ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ অনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিডিআর বিদ্রোহের পর সেনা অফিসারদের মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্রতর হয়, সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে বিভাজন ব্যাপক রূপ ধারণ করে, পেশাদার অফিসারদের এক পাশে সরিয়ে অনুগত অফিসারদের ওপরে নিয়ে আসা হয় এবং বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করে বাহিনীটিকে দুর্নীতিগ্রস্ত করা হয়। এর বড় কারণ হলো শেখ হাসিনা ভাবতেন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনী তার জন্য নিরাপদ।   পরে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসন আমলের দুর্বল দিকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও প্রশাসনের ওপর তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। এ জন্য তিনি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনেক রাজনৈতিক নেতার বিচার করে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেন এবং সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংবিধানে সংযোজন করেন।   এ সময় তিনি তাঁর আত্মীয় মেজর জেনারেল তারিক আহম্মেদ সিদ্দীকিকে তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তাঁর মাধ্যমে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সচেষ্ট হন। মেজর জেনারেল সিদ্দীকি অচিরেই প্রধানমন্ত্রী ও বাহিনী প্রধানদের মধ্যে সুপার চিফ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ডিজিএফআই, এনএসআই, র‍্যাব, এনটিএমসি, আনসার, বিজিবি ইত্যাদি সংস্থাগুলোকে তাঁর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এর মাধ্যমে চারটি চক্রের উদ্ভব ঘটে। প্রথম চক্রটি হচ্ছে অপরাধ চক্র, যেটি ডিজিএফআই, এনএসআই, র‍্যাব ও এনটিএমসিকে নিয়ে তিনি পরিচালনা করতেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন, হত্যা ও গুমের মতো ঘটনা সংঘটিত হতে থাকে। দ্বিতীয় চক্রটি ছিল ডিপ স্টেট। এটি তিনি পরিচালনা করতেন এমএসপিএম (প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব), ডিজিএফআই, এনএসআই ইত্যাদির মাধ্যমে। এর মাধ্যমে তিনি তিন বাহিনী সম্পর্কে সব নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতেন। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো বাহিনী প্রধানদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তৃতীয় চক্রটি ছিল কেনাকাটা চক্র। এটিতে সংযুক্ত ছিল পিএসও, এএফডি, ডিজিডিপি, বাহিনী প্রধান ইত্যাদি। এই চক্রের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তার করতেন। চতুর্থ চক্রটি ছিল সামরিক প্রকৌশলী চক্র। মেজর জেনারেল সিদ্দীকি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের অফিসার হওয়ায় তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে আলাদা চক্র গড়ে তোলেন। এদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে তাঁর প্রভাব বিস্তার করা শুরু করেন। এটি ছিল অবৈধ অর্থের প্রধান উৎস।   এবার র‍্যাবের কথা বলছি। সেনাপ্রধান হওয়ার পূর্ব থেকেই অন্য সামরিক সদস্যদের মতোই র‍্যাব সদস্যদের অবৈধ ও বিচারবহির্ভূত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত ছিলাম। সেনাপ্রধান হওয়ার পরপরই আমি র‍্যাবের এডিজি তৎকালীন কর্নেল (পরবর্তী সময় লে. জেনারেল) মুজিবকে আমার অফিসে ডেকে পাঠাই এবং এসব ক্রসফায়ার বন্ধ করতে বলি। আমি তাকে র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলি। তিনি আমাকে কথা দেন আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। পরবর্তী কিছুদিন আমি পত্রিকাতে ক্রসফায়ারের ঘটনা দেখিনি। কিন্তু অচিরেই উপলব্ধি করতে পারি ঘটনা ঘটছে, কিন্তু তা চাপা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও বদলে যায় যখন বেনজীর আহম্মেদ র‍্যাবের ডিজি হয়ে আসেন এবং জিয়াউল আহসান এডিজি হন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার ডাইরেক্টর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল আহসান ও কমান্ডিং অফিসার আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলকে (যিনি বর্তমানে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আছেন) জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কথা বলতে বলি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল আহসান এসে আমাকে জানান তিনি কথা বলেছেন কিন্তু কোনো ভালো প্রতিশ্রুতি তাঁর কাছ থেকে পাননি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল এসে আমাকে জানান কথা বলে কোনো লাভ হয়নি, ওর মাথা ইট ও পাথরের টুকরা দিয়ে ঠাসা। পরে আমাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল জানায় জিয়াউল আহসান তার বাসায় অস্ত্র রাখে, গার্ড মোতায়েন রাখে ও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছে। তাকে সামরিক কোয়ার্টারে থাকার নিয়মকানুন মেনে এগুলো পরিত্যাগ করতে বলা হয়। পরে জিয়াউল আহসান, মেজর জেনারেল সিদ্দীকি ও তার কোর্সমেট এএমএসপিএম কর্নেল মাহবুবের (বর্তমানে মেজর জেনারেল) ছত্রচ্ছায়ায় আমার আদেশ অমান্য করতে শুরু করে। দুজন অফিসারকে বিভিন্ন নেতিবাচক রিপোর্টের কারণে শান্তি দেওয়ার জন্য র‍্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফেরত আনার জন্য পোস্টিং আদেশ জারি করার পরও সে তাদের ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে। আমি জিয়াউল আহসানকে সেনানিবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করি। এটি কার্যকরী করার জন্য লজিস্টিক এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানকে দায়িত্ব দেই। পরে তিনি বিষয়টি মেজর জেনারেল তারেক আহম্মেদ সিদ্দীকিকে না জানানোর জন্য তার বিরাগভাজন হন। অচিরেই আমি এমএসপিএম মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদিনের কাছ থেকে ফোন পাই। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জিয়াউল আহসানের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার জন্য। আমি না বলেছি। আমাকে তখন মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদিন জিজ্ঞাসা করেন কোনো চাকরিরত অফিসারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা কি বিশেষ পদক্ষেপ? আমি বলি হ্যাঁ, এটি বিশেষ পদক্ষেপ এবং তুমি যদি সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করো, তাহলে তোমারও একই অবস্থা হবে। দুদিন পর সংঘাত এড়ানোর জন্য আমি নিজে থেকেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেই।   আমাকে যে জিনিসটা সবচেয়ে ব্যথিত করত তা হলো আমরা সেনাবাহিনী থেকে র‍্যাবে পেশাদার অফিসার পাঠাচ্ছি আর তারা পেশাদার খুনি হয়ে ফেরত আসছে। এরপর আমি সিদ্ধান্ত দেই র‍্যাব, ডিজিএফআই এবং বিজিবিতে কোনো অফিসার পোস্টিংয়ে যাওয়ার পূর্বে ও পরে আমার ইন্টারভিউতে আসবে। যারা র‍্যাবে যেত তাদের আমি এই বলে মোটিভেট করতাম যে নরহত্যা মহাপাপ এবং কাউকে হত্যা করলে তার পরিবারের অভিশাপ তোমার পরিবারের ওপর পড়বে। একজনকে হাত–পা বেঁধে হত্যা করা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত কাজ। সত্যিকারের সাহস হচ্ছে হাত–পা খুলে তার হাতে একটি অস্ত্র দিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া। যারা ফেরত আসত, তাদের কাছে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা শুনে আমি সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনীর র‍্যাব সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফেরত আনার জন্য আবেদন জানাই। তিনি স্বীকার করলেন র‍্যাব রক্ষীবাহিনীর চেয়েও খারাপ। তিনি কোনো কথা দেননি এবং পরে এ নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেননি।   পরে আমি ইন্টারভিউতে আসা অফিসারদের এই বলে সাহস জোগালাম যদি কাউকে কোনো কিলিং মিশনের জন্য বলা হয়, সে যেন আমাকে সরাসরি ফোন করে। আমি তাদের সেনাবাহিনীতে সম্মানের সঙ্গে ফেরত নিয়ে আসব এবং পুনর্বাসিত করব। আমার পাশাপাশি যারা র‍্যাবে নতুন যাচ্ছেন, তাঁদের মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল আনোয়ার, ডিএমআই এবং আমার পিএস কর্নেল সাজ্জাদও (বর্তমানে মেজর জেনারেল) মোটিভেট করতে থাকেন। কিছুদিন পর ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জগলুল আমাকে এসে জানান, আমাদের মোটিভেশনে কোনো কাজ হচ্ছে না। র‍্যাবে যোগদানের পরে অফিসারদের ডিমোটিভেট করা হচ্ছে। তবুও দুজন অফিসারকে যখন প্রথম রাত্রেই কিলিং মিশনে যেতে বলা হয়, তাঁরা ওখান থেকে চলে এসে ঢাকা সেনানিবাসের এমপি চেকপোস্টে রিপোর্ট করেন। আমি তাঁদের সসম্মানে সেনাবাহিনীতে পুনর্বাসিত করি।   এর মধ্যে ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জগলুল কর্নেল জিয়াউল আহসানের বিরাগভাজন হন। তাঁকে মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দীকি ডিএমআই পদ থেকে সরিয়ে দেন। সাধারণত ডিএমআই সেনাপ্রধানের পছন্দের ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং তাঁকে সেনাপ্রধানই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাঁকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বদলি করে দেওয়া হয়, যা ছিল আমার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। কমান্ডিং অফিসার আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট ব্রিগেডিয়ার ফজলকেও বদলি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আমার প্রবল বিরোধিতার কারণে তা ব্যর্থ হয়।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনের ফল প্রকাশ কবে, জানালেন ইসি আনোয়ারুল

অতীতে অনুষ্ঠিত হওয়া সব নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অনেক বেশি চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।   রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি ও কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইসি আনোয়ারুল বলেন, নির্বাচন নিয়ে যত শঙ্কা ছিল, সেগুলো আমরা সবার সহযোগিতায় এরই মধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। ইনশাআল্লাহ, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব। একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের আশঙ্কা করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনোভাবেই তিন দিন নয়, বরং শুক্রবারের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই ফলাফল দেওয়া যাবে। আধুনিক অটোমেশন সিস্টেম ও একাধিক ডিভাইস ব্যবহারের কারণে ফলাফল দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব। যদিও দুর্গম এলাকার কারণে কিছু কেন্দ্রে সামান্য দেরি হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। অতীতের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালিত হবে। নির্বাচনের দিন মনিটরিং ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম থাকবে। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তথ্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে। এ ছাড়া যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ঠেকাতে একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল’ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভোটের দিন মেট্রোরেলের চলাচলে নতুন নির্দেশনা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোরেল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। রোববার রাতে ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ.কে.এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচনের দিন মেট্রোরেল চলাচল কেবল স্বাভাবিকই থাকবে না, বরং ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। ডিএমটিসিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের জন্য ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতোই মেট্রো ট্রেন চলাচল করবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে যেসব স্টেশনের গেট ভোটকেন্দ্রের একেবারে পাশে অবস্থিত, সেসব গেট বন্ধ রাখা হবে। অন্য গেটগুলো খোলা থাকবে। নির্বাচনের সময় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিএমটিসিএল ও সংশ্লিষ্ট সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে ২ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজে এই বিধিনিষেধে কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক চার দেশীয় ফোরাম করার আগ্রহ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ এক নতুন বার্তা বহন করছে। বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি চার দেশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ। এই প্রস্তাবটি পাকিস্তান এমন এক সময়ে দিয়েছে, যখন নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। গত বছর চীনও পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় জোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন ঢাকার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।   অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বাচনের আর কয়েকদিন বাকি। এ অবস্থায় চার দেশীয় জোট নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। যেহেতু আলোচনায় এসেছে; তাই নির্বাচিত সরকার চাইলে বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের একদম কাছাকাছি সময়ে এমন জোট হওয়ার সম্ভাবনা যে নেই, তা পাকিস্তানও বোঝে। তার পরও তাদের পক্ষে এটা একটা স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটা আসলে ভারতকেই দিতে চাইছে পাকিস্তান। এখন সরকার যদি পাকিস্তানের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়, সেটা চলমান বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে। সূত্র জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোন করেন। ফোনে তিনি বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তান নির্বাচনের আগেই এ নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করতে চায়। জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত রাখতে বলেন। চীনের ত্রিদেশীয় উদ্যোগ থেকে চার দেশীয় প্রস্তাব: এই চার দেশীয় ফোরামের ধারণাটি নতুন নয়। গত বছরের জুন থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে চীন একটি ত্রিদেশীয় ফোরাম গঠনে সক্রিয় ছিল। চীনের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে এমন প্রস্তাব উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরে একাধিক আলোচনাও হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সম্মতি না দেওয়ায় উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। বাংলাদেশের যুক্তি ছিল, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো দেশকে যুক্ত করা না হলে দক্ষিণ এশিয়ায় এমন একটি জোট ফলপ্রসূ হবে না। পাকিস্তানের সঙ্গে নেপাল বা শ্রীলঙ্কার একই জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তখন সে জোটের আলোচনা আর এগোয়নি। এখন মিয়ানমারকে যুক্ত করে চার দেশীয় ফোরামের প্রস্তাব সামনে আনল পাকিস্তান। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় বৈরিতা এড়িয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর ভিত্তি করে চলে। ফলে যেই জোট আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে, তাতে যুক্ত হবে না বাংলাদেশ।’ চীন-পাকিস্তানের জোটে বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তারপর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নতির দিকে যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনাও চলছে। এটিও ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। এখন এলো চার দেশীয় ফোরাম গঠনের প্রস্তাব। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে চার দেশীয় ফোরাম গঠনের প্রস্তাবের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে সার্কের শীর্ষ সম্মেলনগুলো বাতিল হয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে পাকিস্তান ছাড়া ভারতের সঙ্গে বিমসটেকে যুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান চায় একটি নতুন জোট করতে, যেখানে ভারত থাকবে না এবং পাকিস্তানের সহযোগী বন্ধু চীনের উপস্থিতি থাকবে। চীনের উদ্দেশ্য হলো বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব বিস্তার করা। বাংলাদেশে চীনের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে। যেমন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কক্সবাজারে সাবমেরিন বেস। মিয়ানমারে চীনের কিয়াউকপিউ বন্দর প্রকল্প রয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে চীনের কৌশলগত উপস্থিতি বাড়াবে। পাকিস্তান চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশের তিন দিক থেকে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে, তাই বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ভাবছে চীন ও পাকিস্তান। এই ফোরামের মাধ্যমে চীন ও পাকিস্তান ভারতকে মূলত চাপে ফেলতে চাইছে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন আঞ্চলিক জোটে কখনোই যাবে না। উদ্ভট একটা জোটের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এখানে দেখছি মিয়ানমারও রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুসহ মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের নানা সমস্যা চলমান। এমন অবস্থায় তাদের নিয়ে জোট কীভাবে সম্ভব।’ নির্বাচনের আগে ভারতকে বার্তা!: ২৪-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বারবার স্বীকার করেছেন, ভারতের সঙ্গে এ সরকারের সম্পর্ক ভালো অবস্থানে নেই। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের বিদায়ী আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। এ সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক থমকে রয়েছে, যা নির্বাচিত সরকার এলে সমাধান হতে পারে।’ সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘হাসিনা বা আওয়ামী লীগ মুখ্য নয়। অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মধুর করতে আগ্রহী ছিল, বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে এমনও নয়। যেহেতু এ সরকারের ভারতবিরোধী একটা অবস্থান রয়েছে, ফলে সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় চাইলেও ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে চেষ্টা করেনি ইউনূস সরকার।’ এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কে আগ্রহী বারবার বলা হলেও এমনটি হয়নি। এ সরকার চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে এতই ব্যস্ত ছিল যে, ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কও রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।   এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতে বাংলাদেশের আমদানি কমলেও রপ্তানি বেড়েছে। এগুলো মুনাফার বিষয়। চাইলেও পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা অনেক বাণিজ্যিক সম্পর্ক করতে পারব না। পাকিস্তান অনেক দূরের দেশ। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবেই। এ সরকারের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতেই পারে, এসব গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।’

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নয়, নিষেধাজ্ঞা ইসির

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠান। নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণভাবে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন সামনে রেখে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে বিশেষভাবে সক্রিয় থাকবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন এবারের নির্বাচনকে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে। এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগে থেকেই সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে এবং এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। গতকাল বিকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজারের বেশি, কোস্টগার্ডের সাড়ে ৩ হাজারের বেশি, পুলিশের প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার এবং আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। র‍্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্র বা এর আশপাশে কোনো অভিযোগ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বার্তা পৌঁছাবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রে থাকবে সেনাবাহিনী এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এবার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে সেনাসদস্যরা প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্টে অবস্থান করে টহল ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে স্ট্যাটিক ও মোবাইল টহল মোতায়েন থাকবে। উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। রংপুরে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজারের বেশি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৩৫৯টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৬৫৬টি। মহানগরের বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬–১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭–১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। মহানগর এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ১৬ থেকে ১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে। এই সদস্যরা ভোটের দুই দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার এ ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল গত ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়, যেখানে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। একই সঙ্গে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় সর্বাধিক ২ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর কুমিল্লা থেকে ২ হাজার ৫৬৪ জন, কুড়িগ্রাম থেকে ২ হাজার ৪৬০ জন, দিনাজপুর থেকে ২ হাজার ৪২১ জন, গাইবান্ধা থেকে ২ হাজার ২৯৫ জন, সিরাজগঞ্জ থেকে ২ হাজার ১২৩ জন এবং সুনামগঞ্জ থেকে ২ হাজার ৬০ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। গত বছরের ৫ ও ১২ নভেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের ৬১টি জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষা ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে নেওয়া হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে মোট ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চার দিন বন্ধ থাকবে এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা

আর তিন দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট চার দিন এসব সেবা সীমিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস সেবায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনে প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে। দৈনিক লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ বার, যার মোট পরিমাণ ১০ হাজার টাকার বেশি হবে না। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের অপব্যবহার রোধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা এক হাজার টাকা এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও বিভিন্ন সেবা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে। লেনদেন ছাড়া এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে কোনো আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব জরুরি রেসপন্স সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ সময় সব ধরনের লেনদেন এমএফএস প্রোভাইডারদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করতে হবে। এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই; তবে নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা অপরিহার্য। তারা যেন জানে এই দেশ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে টিকে থাকতে হবে। রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতের ভুল যেন কেউ পুনরায় করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সচেতন ও শক্ত থাকতে হবে। দেশের স্থায়ী মঙ্গলের জন্য সম্পদ ও উদ্যোগকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজে লাগাতে হবে। সরকার যেমন দায়িত্ব পালন করছে, তেমনি নাগরিক হিসেবেও সবার দায়িত্ব রয়েছে। বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে বাস্তব পরিবর্তন এসেছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদ যাচাই করা হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পৌঁছে দিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ এগিয়ে যাবে, আর ‘না’ জয়ী হলে তা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে। ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা বলেন, বাকস্বাধীনতা দীর্ঘদিন সীমিত ছিল; বর্তমান সময়ে মানুষ আবার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে এবং নিজেদের উপযুক্ত নেতৃত্ব খুঁজে নিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর করতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র কাজ। এই দায়িত্ব পালন করতে পারা গর্বের বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখা এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে চীনের দেওয়া চ্যালেঞ্জে বিপাকে ভারত

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সমীকরণে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের প্রভাব কমে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর বিপরীতে, চীন দ্রুততার সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়ে ঢাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টায় চীনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে ভারত।   রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাপানভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক ‘দ্যা জাপান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং প্রত্যর্পণ না করাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শূন্যস্থান পূরণে দ্রুত এগিয়ে এসেছে চীন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল বেইজিংয়ে, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়, যার আওতায় ভারতের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উৎপাদন স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো জোশুয়া কারলান্টজিক বলেন, বাংলাদেশ এখন বঙ্গোপসাগর-কেন্দ্রিক চীনের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তার মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এদিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আশ্রয় ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রকাশ্য বক্তব্যের লড়াই চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ঢাকার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অতিরঞ্জিত বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যেও সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে। জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা সফর করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার ছেলে বর্তমান বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান। বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে ভারত আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে বাংলাদেশ। এক দশকের বেশি সময় পর জানুয়ারিতে ঢাকা-ইসলামাবাদ সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির মনে করেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে—বিশেষ করে বিএনপি ক্ষমতায় এলে—ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবারও স্থিতিশীল হতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখনো সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার সুযোগ দেয় না। বাংলাদেশ ভারতের বিদ্যুৎ ও গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল, আবার ভারতও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রাভীন দোন্থির মতে, চীন বাংলাদেশের জন্য বড় অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে পারছে, যা ভারত সহজে দিতে পারছে না। তবে ভারত এমন কিছু বাস্তব সুবিধা দেয়, যা বাংলাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজন করে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার যদি স্থিতিশীল ও বাস্তববাদী নীতি গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশ চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় চীনের দ্রুত ও সুসংগঠিত কূটনৈতিক তৎপরতায় ভারত যে চাপে পড়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।   সব মিলিয়ে, নির্বাচন শেষে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীনের উত্থান ও ভারতের প্রভাব ধরে রাখার লড়াই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে—যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ঢাকা।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে ওয়েবসাইট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো যখন তাদের ইশতেহার প্রকাশ করছে সে সময় একটি গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধান দলগুলোর ইশতেহারসমূহ একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।   এতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্যে ইতোমধ্যে প্রকাশিত ইশতেহারগুলোও যুক্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রকল্পের গবেষক হচ্ছেন আলী রীয়াজ এবং এম এম মুসা। ওয়েবসাইটটির এ্যাড্রেস https://www.votemanifesto.com/ ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কী প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন এবং কী কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন গবেষক, সাংবাদিক এবং নাগরিকদের তা বিবেচনা করতে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই ডাটাবেজে বিভিন্ন দলের প্রকাশিত ইশতেহার একত্রিত করা হয়েছে। গবেষণা প্রকল্পের বর্ণনায় বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি প্রধান অঙ্গ হচ্ছে নির্বাচন। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নাগরিকরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। অবাধ, সুষ্ঠূ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন একটি দেশের শাসনব্যবস্থায় নাগরিকের অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে। নির্বাচনে একাধারে রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় প্রত্যেকটি দল ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ প্রকাশ করে যাতে দলের আদর্শিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচী সন্নিবেশিত হয়। নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে নাগরিকদের কাছে দলের প্রতিশ্রুতি। সেই বিবেচনায় ইশতেহার হচ্ছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের পরবর্তী কার্যক্রম বিচারের মাপকাঠি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আমেরিকান ইন্সিটিটিউট অব বাংলাদেশ (এআইবিএস)-এর প্রেসিডেন্ট। ড. রীয়াজ বর্তমানে উপদেষ্টা পদ-মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে কর্মরত। এম এম মুসা লেখক ও গবেষক, পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি নিয়মিতভাবে উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন বিষয়ে লেখালেখি করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবারের (১০ ফেব্রুয়ারি) ছুটির বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য চলতি মাসে ১০ তারিখের বিশেষ ছুটি বহাল থাকবে। তবে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিশেষ ছুটি ভোগের ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ চলতি মাসে ১০ তারিখের পর সুবিধাজনক যেকোনো একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে‌ ‌‘কর্মদিবস’ ঘোষণা করতে পারবে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে যেকোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে এক দিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।’ বিজিএমইএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে ওই পোস্টে জানানো হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের ঘোষণা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার যে চুক্তি প্রক্রিয়া চলছিল, তা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরিষদের দাবির মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা, আন্দোলনরত শ্রমিক ও কর্মচারী নেতাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করে পদে পুনর্বহাল, এবং নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ কোনো ধরনের হয়রানি থেকে বিরত থাকা। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতারা জানান, ধর্মঘট চলাকালে কোনো কর্মচারী কাজ করবে না। আন্দোলনের জন্য সরকারকে সময় দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার ধর্মঘটের কথা ঘোষণা করেন। নেতারা আরও বলেন, এতদিন আন্দোলন চললেও বন্দরের বহির্নোঙরের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নতুন ঘোষিত কর্মসূচিতে বহির্নোঙরের পণ্য খালাসও বন্ধ রাখা হবে। এর আগে দাবি পূরণের আশ্বাসে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি দুই দিনের জন্য স্থগিত ছিল। কিন্তু সেই সময় অতিবাহিত হতেই নতুন ঘোষণা এসেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তথ্য জানা যাবে ৪ উপায়ে : ইসি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা যাতে সহজে তাদের ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানতে পারেন, সেজন্য চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য জানতে পারবেন। আজ শনিবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল অ্যাপ, হটলাইন, এসএমএস এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই সেবা পাওয়া যাবে। পদ্ধতিগুলো হলো— ১. স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ: ভোটাররা গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’  অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারবেন। অ্যাপের ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অপশনটি সিলেক্ট করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও জন্ম তারিখ দিলেই ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, কেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা প্রদর্শিত হবে। ২. হটলাইন নম্বর ১০৫ : সরাসরি কথা বলে তথ্য জানতে ভোটাররা ১০৫ নম্বরে কল করতে পারবেন। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এই সেবার জন্য ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ হাতের কাছে রাখতে হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে। ৩. এসএমএস সেবা : মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে পিসি এনআইডি লিখে স্পেস দিয়ে এনআইডি নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। ৪. নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট : ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইল ব্রাউজার ব্যবহার করে ইসির ওয়েবসাইট (ecs.gov.bd)--এ প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করতে হবে। এখানে দু’টি উপায়ে তথ্য জানা যাবে। প্রথমত, নির্বাচনী এলাকা বা উপজেলা/থানা নির্বাচন করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। দ্বিতীয়ত, এনআইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে সরাসরি ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যাবে। এছাড়া, ওয়েবসাইটে গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, দূরত্ব এবং যাওয়ার পথ দেখার সুবিধাও রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত এলাকা নিশ্চিত করার নির্দেশ ইসির

 আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি সকল রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়া হয়েছে।   চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা মর্মে নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। বর্ণিতাবস্থায়, উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইশারা ভাষার মাধ্যমে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব: সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং গণমাধ্যমে ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব। আজ শনিবার জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস- ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। শারমীন এস মুরশিদ বলেন, এদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা হলো ইশারা ভাষা। ইশারা ভাষার যেসব নাগরিক আছেন তাদের প্রতি রাষ্ট্রের, সমাজের, পরিবারের যে দায়িত্ব সেটা কোনো করুণা নয়, চ্যারিটিও নয়, সেটা শুধু তাদের অধিকার। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ইশারা ভাষার ব্যবহারের মাধ্যমে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলমের সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন সরকার বক্তব্য রাখেন।  এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সোনামণি চাকমা।  মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোসাইটি অব দ্য ডেপ এন্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজর্স এর গবেষক ও সদস্য মো. আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, পৃথিবী জুড়ে ইশারা ভাষার যাত্রা অনেক দূর এগিয়েছে। ইশারা ভাষা জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটির গুরুত্ব মানুষের নজরে অনেক গভীরভাবে স্থাপন হয়েছে আগের তুলনায়।  তিনি বলেন,  ইশারা ভাষা কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়; এটি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের ভাষাগত পরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং নাগরিক অধিকারের ভিত্তি। ভাষা যেখানে মানুষের ভাবনা, অনুভূতি ও সম্ভাবনাকে প্রকাশের পথ দেখায়, সেখানে ইশারা ভাষাকে অবহেলা করা মানে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। পরে তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী বাক- শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নেত্রকোণায় ৩ আসনে জনসভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান

নেত্রকোণা জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত জনসভায় জামায়াত নেৃতৃবৃন্দ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় ইনসাফপূর্ণ একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার কথাও বলেন নেতারা। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে বিকেল পর্যন্ত এই জনসভাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। নেত্রকোণা-৫, নেত্রকোণা-৪ ও নেত্রকোণা-৩ এ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জনসভাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। জনসভাগুলোতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, রাকসু ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ, নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা এনামুল হক, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ ও নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান। নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুম মোস্তফা, নেত্রকোণা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আল-হেলাল তালুকদার এবং নেত্রকোণা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. খায়রুল কবির নিয়োগী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান প্রধান তথ্য কর্মকর্তার

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণস্বরূপ। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাষ্ট্রকে সঠিক পথ দেখায়। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আজ সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসে তথ্য অধিদফতর আয়োজিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। নিজামূল কবীর বলেন, তথ্য অধিদফতর গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতকৃত সচেতনতামূলক বিভিন্ন কনটেন্ট, টিভিসি, থিম সং, আটটি বিভাগের আটটি আঞ্চলিক ভাষায় গানসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।  এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে সেমিনার, কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে তথ্য অধিদফতর। তিনি আরো বলেন, গণভোট নিয়ে তরুণরা উচ্ছ্বসিত। তরুণদের এ উচ্ছ্বাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ জনগণ ও নারীদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। গণভোট কী, কেন এবং কীভাবে ভোট দিতে হবে- এসব বিষয়ে জনগণের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তাই গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুবিধা এবং আচরণবিধি সহজভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। উপপ্রধান তথ্য অফিসার হাছিনা আক্তারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী, উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা নাসরীন জাহান লিপি ও মোল্লা আহমদ কুতুবুদ- দ্বীন বিভিন্ন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন। কর্মশালায় ইলেকট্রনিক মিডিয়া, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকগণ তাদের মতামত ও নির্বাচন বিষয়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এবারের নির্বাচন দেশ গঠনের নির্বাচন : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ আবারো ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। কিন্তু শুধু ভোট দিলেই চলবে না। আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। এই দেশ যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।’ আজ শনিবার দুপুরে নীলফামারী শহরের বড় মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বেকার সমস্যা দূরীকরণে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।  তিনি জানান, নীলফামারীতে ইপিজেড আছে। এ ইপিজেডকে আরো বড় করা হবে। আরো কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। এলাকায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে; হয় তারা বিদেশে যাবেন অথবা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আগামী দিনে রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি, রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলকে সাথে নিয়ে দেশ গঠন করতে চাই। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মানুষকে আমরা বিবেচনা করবো তার মেধা, তার যোগ্যতা দিয়ে। তার বর্ণ দিয়ে নয়, তার ধর্ম দিয়ে নয়।’ তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বহু বছর ধরে আমরা আন্দোলন করেছি। আজ সেই অধিকার ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো দেশকে পুনর্গঠন করা। আমাদের টার্গেট দেশের কোটি তরুণদের তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা, সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। দেশের মানুষ, বিশেষ করে মা-বোনেরা যাতে নির্বিঘ্নে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারে, নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পাওে, সেই পরিবেশ আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে।’ মানুষের ভোটাধিকারের আন্দোলন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ভোটের অধিকারকে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল এক দল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করার জন্য বিএনপিসহ বহু দলের নেতাকর্মী, বহু সাধারণ মানুষ ওই স্বৈরাচারের সময় জীবন দিয়েছে। অত্যাচার নির্যাতনে শিকার হয়েছে, মামলা-মোকাদ্দমার শিকার হয়েছে। কতগুলো নিরীহ মানুষকে রাতের অন্ধকারে মেরে ফেলা হয়েছে, এই নীলফামারী হচ্ছে তার সাক্ষী।’ এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে গুরত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান দরকার। এই এলাকার ইপিজেডটাকে (উত্তরা ইপিজেড) আরো বড় করতে চাই। এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আরো কলকারখানা তৈরি করতে চাই। ছেলেমেয়েদের  ট্রেনিংয়ের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে চাই। যেখানে এলাকার ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং গ্রহণ করবে এবং দক্ষ শ্রমিকে তারা পরিণত হবে। এতে করে তারা নিজেরা কিছু করতে পারবে এবং বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবে’। ঘরে ঘরে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা এই দেশের মা-বোন এবং গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। আমরা প্রত্যেকটি নারীর কাছে যেই ধর্মের হোক সে যদি বাংলাদেশের একজন মা হয়ে থাকে , বাংলাদেশের একজন গৃহিণী হয়ে থাকে, আমরা তার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেকটি খেটে খাওয়া পরিবারের মা প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাবে।’ কৃষকদের জন্য পরিকল্পনার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই এলাকার বহু মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। এই কৃষকরা যদি ভালো থাকে, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষকরা যাতে ভালো থাকে, তারা যাতে সহজে কৃষিজাত দ্রব্য, বীজ, সার প্রয়োজন মতো পেতে পারে, সেজন্য আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে সহজে কৃষি ঋণ পেতে পারবে। যার মাধ্যমে সে সহজে কীটনাশক ওষুধ, বীজ, সার সহজে পাবে। শুধু তাই নয়, ১২ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা বাংলাদেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো।’ এসময় তিনি মসজিদের ইমাম এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে সরকারের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। যাতে করে এই এলাকা আবার সবুজ শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠতে পারে, খাল-বিল যাতে পানিতে ভরে যায়। এলাকার মানুষের যেন পানির কষ্ট না হয়। সেজন্য বিএনপি সরকার গঠনের সাথে সাথে দ্রুততার সাথে আমরা তিস্তা মহা পরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চাই।’ এসময় তিনি নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান। নির্বাচনে একটি দল বিভ্রান্তি ছড়াছে উল্লেখ কওে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি দলকে আমরা খেয়াল করছি সমাজের বিভিন্ন মানুষকে তারা ভয় দেখাচ্ছে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। আমি তাদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই— বাংলাদেশের কোনো ভোটারকে যারা ভয় দেখাবে, যারা তাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, কারো সাথে অন্যায় হলে আমরা সেই অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ দেশের মালিক জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনের যে পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে বললাম, সেগুলো তখনই বাস্তবায়ন সম্ভব, যখন এই মাঠ ভরা লোক, এই শহর ভরা লোক, এই সমগ্র জেলার মানুষ আমাদেরকে সমর্থন দেবে। আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। আপনারা যদি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে যে পরিকল্পনার কথা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, সেই পরিকল্পনা আমরা ইনশাল্লাহ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। প্রতিপক্ষের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথাই বলতে পারতাম। কিন্তু, ওইসব কথা বলে কি জনগণের উপকার হতো? মানুষ জানতে চায় যে, কোন রাজনৈতিক দল তাদের জন্য কী করবে। দেশ গঠনে কী কাজ করবে,  মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তনের জন্য কী কাজ করবে? আজ বিএনপি একমাত্র দল, যারা পরিষ্কারভাবে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে যে, বিএনপি মা-বোন, কৃষক, তরুণ, যুবকদের জন্য কী করবে। ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা, দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে কী করবে, সকল পরিকল্পনা বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।’ সবশেষে তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় আপনাদের সঙ্গে নিয়ে খাল খননের কাজ শুরু করতে চাই। আসুন আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি— যাতে আল্লাহ আমাদেরকে যে সকল পরিকল্পনা আমরা এলাকার জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য গ্রহণ করেছি, সে সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি যেন আমাদেরকে সুযোগ দেন।’ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল পারভেজ, মোস্তফা হক প্রধান, রিয়াজুল ইসলাম, সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, ভগিনীপতি মো. রফিকুল ইসলাম। পরে নীলফামারীর চারটি আসনে বিএনপির তিন প্রার্থী ও শরিক দলের এক প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। এর আগে তারেক রহমান দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে শহরের বড় মাঠ মিনি স্টেডিয়ামে নামেন। দুপুর ২টার দিকে তিনি জনসভাস্থলে আসেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। দুপুর ২টা ৭ মিনিটে  তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। ২১ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিট তিনি হেলিকপ্টারে করে দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। ছবি : সংগৃহীত
ভিজিট ভিসায় কাজ করার অনুমোদন নেই, জানাল দূতাবাস

ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কাজ করার অনুমোদন নেই বলে জা‌নিয়েছে ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবাস। শ‌নিবার (৭ ফেব্রুয়া‌রি) এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, বি১/বি২ ভিসা, মনে রাখুন ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কিছু ব্যবসায়িক কার্যক্রম করা যায়। যেমন, চুক্তি নিয়ে আলোচনা/দরকষাকষি করা এবং সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করা অনুমোদিত নয়। এদিকে যুক্তরাজ্যে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নতুন বার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন। শ‌নিবার এক বার্তাতে এই তথ্য জানিয়েছে কমিশন। এতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন ব্যবস্থায় চলবে ভিসা কার্যক্রম। সুতরাং যাদের ভ্রমণের জন্য ভিসা প্রয়োজন, তারা শুধু ই-ভিসা পাবে। পাসপোর্টে ভিসা স্টিকারের বদলে ই‌-‌ভিসা ব্যবহৃত হবে। বিস্তারিত জানতে www.gov.uk/eVisa— এই ওয়েবসাইট ভিজিট করতে ব‌লে‌ছে হাইকমিশন।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Top week

(বাঁ থেকে) রিদওয়ান হাসান, সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও এহসান সিরাজ। ছবি : সংগৃহীত
অন্যান্য

বাংলাদেশে গ্রীন পার্টি’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0