ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী এ সফরে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। আজ রোববার সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তারেক রহমান। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন তারেক রহমান। রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকায় আসার পথে ইতালির রোমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিকল হয়ে যাওয়া উড়োজাহাজটি ত্রুটি সারানো সম্ভব হয়েছে। শনিবার ঢাকা থেকে বিমানের প্রকৌশল টিম রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে গিয়ে উড়োজাহাজটি ত্রুটি মুক্ত করে উড্ডয়ন উপযোগী করে। শনিবার রাত সোয়া একটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটি সমাধানের পর সেটি উড্ডয়ন উপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত অপারেশনাল প্রস্তুতি চলছিল। বিজি ৩০৫ ফ্লাইটটি ঢাকার স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৩ টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের কথা রয়েছে এবং বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার টরন্টো থেকে বিমানের বিজি ৩০৫ ফ্লাইটটি ২৫৯ যাত্রী নিয়ো ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। শুক্রবার রোম এয়ারপোর্টে জ্বালানি নিতে যাত্রাবিরতি করলে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার চেষ্টায় সেই ত্রুটির সমাধান করতে না পারায় ফ্লাইটটি বাতিল করে যাত্রীদের প্লেন থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের হোটেল ও এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে অবস্থানের ব্যবস্থা নেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম নিয়ে প্রকৌশল টিম শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১ টার দিকে একটি ফ্লাইটে রোমে পৌঁছে। এরপরই উড়োজাহাজটি মেরামত করে উড্ডয়ন উপযোগী করেন তারা।
দেশের মানুষের কণ্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবিকতার সঙ্গে কাজ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান বলে প্রধানমন্ত্রী উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানিয়েছেন। তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে, মানবিকতার সঙ্গে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি, যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে’।” মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়ত আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে। আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। ছোট একটা দেশ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।” সুজাউদ্দৌলা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার কথাও সভায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ইউএনওদের উদ্দেশ করে সরকারপ্রধান বলেন, "উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপন করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে আপনারা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন।" খেলাধুলার প্রসার, সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ, খাল খনন কর্মসূচি প্রভৃতি কাজে ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন। আপনারা নিজেদের যোগ্যতায় এ পর্যায়ে এসেছেন। আল্লাহ আপানাদের মানুষের জন্য এবং রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষের কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে “ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শনিবার (৮ আগস্ট) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আইএসপিআর জানায়, সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদান ও আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনরত বাংলাদেশি কন্টিনজেন্ট পরিদর্শন করবেন। এছাড়া উভয় স্থানের রাষ্ট্রীয় এবং মিশনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন সেনাপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি চক্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে। শনিবার সকালে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পনা করছে। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখন একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছি। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতর থেকে দেশকে সফলভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। বিগত দিনের অপরিকল্পিত প্ল্যান ও প্রজেক্টগুলো আমাদের জ্বালানি খাতকে বিপদের মুখে ফেলেছে। সরকার এগুলো ঠিক করে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতি হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)। রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে সরকার দেশে ১ লাখ ‘হেলথ ওয়ার্কার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এই স্বাস্থ্যকর্মীরা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন। চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেহেতু সবকিছুকে প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা পেশাজীবীদের রাজনীতি সচেতন থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সু-সংগঠিত থাকা অযৌক্তিক কিছু নয়। তবে এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে। সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সরকার বিবেচনা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরতদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে দাবিগুলো এসেছে, তা অযৌক্তিক নয়। এগুলো সরকারের বিবেচনার মধ্যে থাকা উচিত। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যখাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এর বাইরেও যত দ্রুত সম্ভব ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সকল চিকিৎসকের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আর কাউকে বিদেশমুখী হতে হবে না। চিকিৎসক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, জুলাইযোদ্ধারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে আরেকবার স্বাধীন করেছে। এই কথাটি শুধু মুখেই না বলে আমাদের সবাইকে কর্মে ও অন্তরে ধারণ করতে হবে। শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকারীরা সুন্দর বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। আমরা চাই এমন বাংলাদেশ গড়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে। আজকে সকল শহীদদের প্রতি বিশেষ করে ৭১, ৯০ ও ২৪ এ যারা এ দেশকে ভালোবেসে এ দেশের মানুষের মুক্তি কামনায় স্বাধীনতা কামনায় জীবন দিয়ে গেছেন তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। তিনি আরো বলেন, কুমিল্লার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারদের আশ্বস্ত করতে চাই আমার মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা অন্যান্য শহীদ পরিবাররা পাবে ইনশাল্লাহ আপনারাও সেটা অবশ্যই পাবেন। সরকার ঘোষিত যেকোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা যদি শহীদ পরিবার না পেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই যোগাযোগ করবেন আমরা সঠিক প্রাপ্য বুঝিয়ে দেব। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে এদেশের ছাত্র জনতা দীর্ঘদিনের চেপে থাকা স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। তাদের আত্মত্যাগকে আমরা ভুলে যেতে দেবো না। আমরা জুলাইকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ধারণ করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের নেতৃত্বের এ দেশ পথ হারাবে না। মহানগর বিএনপির সভাপতি কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কুমিল্লা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইউম, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসাইন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লার আহ্বায়ক সাকিব হুসাইনসহ জুলাইযোদ্ধা, শহীদ পরিবার, বিএনপির জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
দেশের প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল, মেটা ও টিকটক। এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শনিবার (৮ আগস্ট) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেশের প্রথম হাই-টেক পার্ক পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী সেখানে যান। এ সময় তিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এখন বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। পার্কে এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এসেছে। পাশাপাশি আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এখন পর্যন্ত ৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বা স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪০টি ইতোমধ্যে ব্যবসা বা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। ২৮টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ চলছে এবং আরও ১৭টি প্রতিষ্ঠান শিগগির নির্মাণ শুরু করবে। পার্কটিতে মোট বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ প্রায় ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৮৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, পার্কের মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার এখন পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পার্কটির ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৬২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ফলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক ভবিষ্যতে শুধু দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন, সংযোজন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ হাব হয়ে উঠতে পারে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পার্কে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, এটিএম ও ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন, ফাইবার অপটিক্যাল কেবল এবং গাড়ি উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাশাপাশি আইওটি ডিভাইস, রাউটার, সুইচ, সিসিটিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, কিয়স্কসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার স্থাপনের কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পেও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে গুগল, মেটা, টিকটকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান বলে জানান মন্ত্রী। কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ককে আরও বিনিয়োগবান্ধব করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে অসম্পূর্ণ অবকাঠামোর কাজ দ্রুত শেষ করা, নিরাপত্তা ও সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ডাবল লাইন সংযোগ, গ্যাসলাইন স্থাপন, প্রশাসনিক ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য কাস্টমস হাউস সেবা চালু, নিয়মিত রেল যোগাযোগ, অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ এবং বিদ্যমান এসআরও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিনিয়োগে প্রণোদনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সেবায় ভ্যাট সুবিধা, হাই-টেক পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের পাশাপাশি অ্যাসেম্বলিং প্রতিষ্ঠানকে সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিপণনে কাঁচামালের শুল্ক-কর রেয়াত, স্থিতিশীল আয়কর সুবিধা এবং ইভি ব্যাটারি, সোলার ব্যাটারি, ইউপিএস ব্যাটারি ও ই-বাইকের মতো নতুন প্রযুক্তি খাতের জন্য পৃথক প্রণোদনা কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগত সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে, রপ্তানি সম্প্রসারিত হবে এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পরিদর্শনকালে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, সরকারের এ উদ্যোগ কোনো সংস্কার নয়, বরং ‘হস্তান্তর’। এর ফলে জ্বালানি খাতে বেসরকারি একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ’ নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ঢালাওভাবে বেসরকারিকরণের বিরোধিতা করছি না। তবে কোনো খাত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে যদি দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ে লুটপাট, ভাগাভাগি বা কোনো সিন্ডিকেটের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়, তাহলে এর প্রতিবাদ না করে আমাদের উপায় নেই।’ লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের কাজ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রত্যেক মানুষকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।’ লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘হঠাৎ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়ার পর জ্বালানি খাতকে বেসরকারি কোনো শিল্প গ্রুপের হাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ আরও একধাপ এগিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার চার দিনের মাথায় বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য চার দিনের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এটি সংস্কার নয়, এটি হস্তান্তর। এটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স।’ জামায়াতের দাবি, বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল বিপণনের সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়ার পরিবর্তে কয়েকটি নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ জ্বালানি তেল আমদানির জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন ও শত শত কোটি ডলারের ব্যাংক লাইনের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে এই সক্ষমতা আছে হাতেগোনা মাত্র ৩-৪টি শিল্পগোষ্ঠীর। জ্বালানি খাত প্রাইভেট সেক্টরের হাতে গেলে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে যাবে এবং বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হবে। এর ফলে এই খাতের ওপর সংসদের কোনো জবাবদিহি থাকবে না। দলটি আরও দাবি করে, বিপিসিকে ‘অদক্ষ’ ও ‘লোকসানি’ দেখিয়ে বেসরকারিকরণের যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো— পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সব উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ্যে উন্মুক্ত করতে হবে এবং জনসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য কমপক্ষে ৬০ দিনের সুযোগ দিতে হবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করতে হবে, যেখানে বিরোধী দল, ক্যাব, সিপিডি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক ফেডারেশন ও ভোক্তা প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন। বেসরকারিকরণের বদলে বিপিসির সংস্কার করতে হবে—যার মধ্যে রয়েছে স্বাধীন নিরীক্ষা, বোর্ডে পেশাদার নিয়োগ, ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি বাধ্যতামূলককরণ এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে আমদানি মূল্য ও পরিমাণের তথ্য উন্মুক্ত করা। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) ও কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনি সুরক্ষা খর্ব করার সব সুপারিশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম প্রমুখ।
মাত্র ১১ দিনে (কার্যদিবসে) হাইকোর্টের ৫০ হাজার ৩২৫টি পুরনো (ক্রিমিনাল মিস) মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মাত্র ১১ কার্যদিবসে মোট পঞ্চাশ হাজার তিনশত পঁচিশটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আর পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট নিষ্পত্তি করা হয়েছে সাতান্ন হাজার দুইশত বত্রিশটি মামলা। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চসমূহে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিশ্বমিডিয়ায় তথ্য সরবরাহ করতেন আরিফুল ইসলাম আদীব। একটি জাতীয় দৈনিকে তখন সাংবাদিকতা করতেন তিনি। ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সদ্য কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ওই সময় শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানো মাঠপর্যায়ের গোপন প্রতিবেদনে আদীবকে বিশ্ব গণমাধ্যমে ‘তথ্য সমন্বয়ের মূল ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা নথিতে আরিফুল ইসলাম আদীব সম্পর্কে এমনটাই উল্লেখ পাওয়া গেছে। ওই বাসভবনে বসেই জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব ও কোটা আন্দোলন দমনের কৌশল নির্ধারণ করা হতো। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গণভবন দখল করে বিক্ষুব্ধ জনতা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এক নথির অনুলিপিতে বলা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা এবং বিতর্কিত সংবাদমাধ্যম নেত্রনিউজে ছাত্র আন্দোলনের তথ্য প্রচার করেন।’ নামের পরে বন্ধনীর মধ্যে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করা হয়। এর মাধ্যমে মূলত বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে তথ্য সমন্বয়ের মূল ব্যক্তি হিসেবে আদীবকে চিহ্নিত করা হয়। এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদীব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় আমি যেহেতু সাংবাদিকতা পেশায় ছিলাম এবং একই সঙ্গে ছাত্রনেতা ছিলাম। ফলে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইনে প্রায় নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, তথ্যের আদান-প্রদান হতো। আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে ১৮ জুলাই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় হাসিনা সরকার। এরপর মোবাইলের মাধ্যমে বিশ্বমিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে তথ্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’ আরিফুল ইসলাম আদীব আরও বলেন, ‘বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরা ও নেত্রনিউজের সাংবাদিকদের আন্দোলনের তথ্য পৌঁছে দিতাম। এ ছাড়াও আরও কিছু মাধ্যমে আমরা নিউজ পাঠাতাম। আকবর ভাই, তানভীর ভাই, এহসান ভাই, হারুন ভাই, শফিক ভাই—এদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। সে কারণেই আমাকে শনাক্ত করে টার্গেট করেছিল শেখ হাসিনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘বিপ্লব’ নয়, বরং মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণত সমাজ ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আসে। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়া। শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে কী সেটা বিপ্লব ছিল? বিপ্লব তো ছিল না। মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যখন মানুষ সংগ্রাম করলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন দিল তারা।’ তিনি যোগ করেন, ‘বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসে। কিন্তু ২০২৪ সালে মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়া।’ ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক ফল। জুলাইয়ের আন্দোলনকে এককভাবে কারও কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভেতরে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে এটাও রাজনৈতিক অপরিপক্বতা।’ গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা না করে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে। ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন; দুটো বিপরীতমুখী।’ অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এটি গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলার পাশাপাশি একজন সাবেক সরকারপ্রধানকে ভারতের মাটিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে তা পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে।’ রিজভী আরও বলেন, ‘একজন ফ্যাসিস্টকে, যে বাংলাদেশের এত শিশু, শ্রমিক, ছাত্রকে হত্যা করে পালালো, তাকে আপনি কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন।’
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরের তিন দিন বাংলাদেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না, যার জের ধরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল চরম বিশৃঙ্খলা। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির মধ্যে তখন দেশের বিভিন্ন কারাগারে সংঘাত ও বন্দিদের পলায়নের ঘটনাও ঘটেছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আটই আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের শপথ পড়ান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব গ্রহণের মাঝের এই তিন দিনেও রাষ্ট্রপতির আদেশে সংসদ বিলুপ্তি, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে নানা বদলি-পদত্যাগের নানা ঘটেছে। কিন্তু এসব সিদ্ধান্তগুলো কারা কীভাবে নিয়েছে সেটি এখনো অনেকের কাছে বড় প্রশ্ন। তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘অনতিবিলম্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করবে।’ তিনি তার ভাষণে জানান যে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী অনতিবিলম্বে বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত করা হবে এবং ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সমস্ত রাজনৈতিক দল কাজ করবে, ছাত্র নেতারা কাজ করবে। ডেটলাইন ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘিরে গণআন্দোলনের মুখে পাঁচ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার যাওয়ার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং এরপর হাজার হাজার মানুষ গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে। সেখানে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঢাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরসহ অনেক থানায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও জানা যায়। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, স্থাপনা ও গাড়িতে হামলা; রাজধানী ঢাকা এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ ও নানা স্থাপনায় আক্রমণ; পিটুনি কিংবা হামলায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৩৭ জন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ১৭ দিন ধরে কারফিউ থাকার পর তা পরদিন থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছিল আইএসপিআর। ৬ আগস্ট মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা খুলে দেওয়ার কথাও জানানো হয়। রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের পর ৫ আগস্ট বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এখন একটি ইন্টেরিম গভর্মেন্ট গঠন করে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করবো।’ সেদিন বিকালে তিন বাহিনী প্রধান, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা আর কয়েকজন ছাত্র প্রতিনিধি বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, তাদের আলোচনায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত দেওয়া, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া। বঙ্গভবনের বৈঠকটি রাত আটটা নাগাদ শেষ হয়ে যায়। অনেকটা একই সময় সার্ক ফোয়ারা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব করবেন এবং তাদের সমর্থিত বা প্রস্তাবিত ছাড়া কোনো সরকার তারা সমর্থন করবেন না। ডেটলাইন ৬ আগস্ট এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান ও ছাত্র প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি, যার ফলে গঠিত হওয়ার সাত মাসের মাথায় এই সংসদ বাতিল হয়ে যায়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করে তাকে মুক্ত বলে ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমে কারাগারে ও পরে শর্তসাপেক্ষে বাসায় থাকার অনুমতি থাকলেও পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। পহেলা জুলাই থেকে পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার আন্দোলনকারী, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর আগে আটক নেতাকর্মী মিলিয়ে ২২০০র বেশি ব্যক্তিকে এদিন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় শেখ হাসিনা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। আগের দিন পুলিশ সদর দপ্তর এবং দেশের বহু জায়গায় থানায় হামলার ঘটনার পর এদিন ডিবি অফিসসহ পুলিশের অনেক কার্যালয় ও থানা, সড়কে কোনো পুলিশ সদস্য দেখা যায়নি। পুলিশের অনুপস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব পালনের স্থানগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে। ঢাকার অধিকাংশ রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায়নি সেদিন। সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের সংগঠন পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন ‘পুলিশ সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত’ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয়। পুলিশ দায়িত্বে না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনোরকম কার্যক্রম ছিল না। ফলে অনেক এলাকায় ডাকাতি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষজনকে বিভিন্ন এলাকায় দল বেঁধে, রাত জেগে পাহারা দিতে দেখা যায়। রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পথে পথে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে দেখা যায়। পরের কয়েকদিন ধরে একই চিত্র দেখা গেছে। ওইদিনই পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের চুক্তি বাতিল করে নতুন আইজিপি হিসেবে মো. ময়নুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওইদিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ কয়েকটি পদে রদবদল করা হয়। আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জাতিসংঘের জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। এদিন কারারক্ষীদের জিম্মি করে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে ২০৯ জন বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন, এমন বেশ কয়েকজনের ফিরে আসার তথ্য জানা যায়। তাদের গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল বলে তারা জানান। ডেটলাইন ৭ আগস্ট এদিন সেনাপ্রধান জানান যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণ বৃহস্পতিবার (৮ই আগস্ট) বিকালে অথবা সন্ধ্যায় হতে পারে। ওদিকে ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে ঘোষিত ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনাল। আওয়ামী লীগ আমলে ওই দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে দুপুরে গেট ভেঙে ৯৯ জন বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে বেশ কিছু বন্দি আবার ভেতরে চলে যায়। এদিন ঢাকার নয়াপল্টনে বিশাল সমাবেশ করে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানায় বিএনপি। এই সভায় বহু বছর পর ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন তখনকার দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে নবনিযুক্ত আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। ওদিকে ঢাকার রাস্তার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো পুলিশ না থাকায় বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। র্যাব মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনারসহ চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তবে দেশজুড়ে নৈরাজ্য ও সহিংসতা ওইদিনও চলছিল। ডেটলাইন ৮ আগস্ট এদিন ফ্রান্স থেকে ঢাকা ফেরার পর ড. ইউনূসকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন তিন বাহিনী প্রধান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। দেশে ফিরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই হবে প্রথম কাজ। বিভিন্ন জায়গায় হামলা বা আক্রমণ ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ সবাইকে রক্ষা করা। প্রতিটি মানুষ আমাদের ভাই, আমাদের বোন। তাদেরকে রক্ষা করা এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা আমাদের প্রথম কাজ।’ এর আগেই ঢাকায় সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান, নবনিযুক্ত পুলিশের আইজিপি, র্যাবের মহাপরিচালক এবং ডিএমপি কমিশনারের বৈঠকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দেশের সকল থানার কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সারাদেশে অরাজকতা, অগ্নি সংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান তখনকার বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান। বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা সেন্টার এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানান সেখানকার কর্মকর্তারা। দেশের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকাসহ বেশকিছু এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও গণডাকাতির খবরও পাওয়া যায়। অবশেষে তিনদিন সরকার শূন্য অবস্থায় থাকার পর শপথ নেয় দেশের নতুন সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ৮ আগস্ট বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান তখনকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে ১৩ জন উপদেষ্টাও শপথ নেন। এতে ঠাঁই পান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। উপদেষ্টা হিসেবে মোট ১৬ জনের নাম ঘোষণা হলেও তিন জন ঢাকার বাইরে থাকায় সেদিন শপথ নিতে পারেননি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি আসছেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। জানা গেছে, হেফাজত আমিরের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত দাবি-দাওয়া পেশ করা হবে। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন আমাদের জন্য আনন্দের। হুজুরের (হেফাজত আমির) পক্ষ থেকে লিখিত দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করার কথা রয়েছে। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর দৌহিত্র মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর হুজুর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরদিন থেকে রমজান মাস শুরু হওয়ায় এবং বাবুনগর মাদরাসায় খতমে তারাবির দায়িত্বে থাকায় ঢাকায় অবস্থান করা সম্ভব নয় বলে হুজুর প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফটিকছড়িতে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল শাখা থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টায় তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ মহেশখালীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। কক্সবাজারের কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে পেলাগাজী দিঘির মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের কথা রয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ফটিকছড়ির সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমন উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হেলিপ্যাড নির্মাণ, অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত, সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। সাক্ষাৎ শেষে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হাটহাজারীর উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা পরিদর্শন ও মোনাজাতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের একটি হোটেলে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সাথে সর্বপ্রথম বেইমানি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজ গ্রাম ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মুরারীদহ এলাকার ‘মিয়ার দালান’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাশেদ খান বলেন, ডা. শফিকুর রহমানকে এতদিন মজলুম নেতা হিসেবে জানতাম। তবে তিনি যে মুখোশধারী ছিলেন, তা গণঅভ্যুত্থানের পরই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন- অর্থাৎ গণঅভ্যুত্থানের সাথে প্রথম বেইমানিটি তিনিই করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার জন্য এমন কোনো অন্যায়, অপরাধ, মিথ্যাচার ও মুনাফেকি নেই যা তারা করেনি। নির্বাচনের আগে আমরা দেখেছি জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। রাশেদ খান বলেন, জনগণ এখন বুঝতে পেরেছে, এ দেশের যা কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন, তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে হয়েছে। ঠিক একইভাবে আগামীর বাংলাদেশের পরিবর্তন হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত একদম সঠিক পথেই ছিলেন। কিন্তু যে মুহূর্তে তিনি জামায়াতে ইসলামীর ফাঁদে পা দিয়েছেন, ঠিক তখন থেকেই তিনি বিপথগামী হয়েছেন। এ সময় তার সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিকম্পে ঝুঁকি কমাতে রাজধানীর ভবনগুলোর ত্রুটি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার প্রধান কারণ শুধু ভবনের উচ্চতা নয়; ত্রুটিপূর্ণ নকশা, মাটির অবস্থা এবং নির্মাণে অনিয়মও বড় কারণ। তাই ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা, মাটি পরীক্ষা ও প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী হাসান আনসারী। রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক ভবন থাকায় একসঙ্গে সব ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে ধাপে ধাপে র্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্ট, প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট এবং ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজউকের সক্ষমতা বাড়াতে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে ভূমিকম্পের আগে ঝুঁকি নিরূপণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা করা হবে। রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে শুধু রাজউককে দায়ী করলে হবে না। সিটি করপোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কার্যকর সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা থাকলে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজ আরও সহজ ও সমন্বিতভাবে করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ নয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, অনুমোদিত ছয়তলা ভবন নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০ তলা করার মতো কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না। নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণ করা ভবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়ারও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। শুধু নকশায় স্বাক্ষর করলেই হবে না, নির্মাণকাজের বাস্তবায়ন ও তদারকিতেও তাদের দায়িত্ব রয়েছে। অনিয়ম হলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা নিয়মের মধ্যে আসুন। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করুন এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিন। গণমাধ্যমকে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া অভিযোগ যাচাই করে রাজউক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজউকের দুর্বল উপস্থিতিকে শক্তিশালী উপস্থিতিতে পরিণত করাই তার লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এই কাজ একদিনে সম্ভব নয়। শুরু করেছি, কতটুকু করতে পারব জানি না; তবে আমরা চেষ্টা করছি। ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ভবন মালিক, প্রকৌশলী ও সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দুর্বল মাটিতে নির্মাণেও ঝুঁকি রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভবন নির্মাণের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকৌশলী ও তদারকি সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ডেভেলপারদের সহযোগিতা করতে হবে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের নকশা ও নির্মাণ নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ ও টেকসই ভবন নির্মাণ সম্ভব। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি শুধু ভবনের নকশা বা নির্মাণমানের ওপর নির্ভর করে না; ভবনটি কোথায় এবং কী ধরনের মাটির ওপর নির্মিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল ও জলাভূমি এলাকায় অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, দুর্বল মাটির ওপর ভবন নির্মাণ বন্ধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ঢাকায় অনুমোদিত ভবনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঢাকার প্রায় ছয় লাখ ভবনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। শুধু ভূমিকম্পের সময় নয়, সারা বছরই এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। উদ্ধার প্রস্তুতিতে জোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কোনো একক সংস্থার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া ও প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিসের কিছু প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকার আশপাশের ৪১টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে এবং বিশেষ রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্পে মানুষ সরাসরি মারা যায় না, বরং ভবন ও স্থাপনা ধসে পড়েই প্রাণহানি ঘটে। তাই ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার পাশাপাশি ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ডুরার সভাপতি শাহজাহান মোল্লা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরে সরকার ও রাজউকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সম্ভব। ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও করণীয় নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ ধরনের আলোচনা আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি জিলানী মিলটন, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক হাসান শুভ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়শ্রী ভাদুড়ী, অর্থ সম্পাদক জাহিদ ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিরাজ মাহবুব ইফতি এবং সিনিয়র সাংবাদিক রিপন তালুকদারসহ অন্যরা।
জ্বালানি খাতে অরাজকতা ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল বন্ধে জাতীয় অডিটের দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি খাতে অরাজকতা ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল বন্ধের দাবিতে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই দাবি জানান। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশের পরিবর্তে সবার আগে লুটপাটতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা এবং জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণের উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে পাকাপোক্তভাবে লুটপাটের আয়োজন চলছে।’ তিনি বলেন, ‘কয়লা ময়লা নয়; বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটের মূল সমস্যা কয়লা নয়, বরং আমদানিনির্ভরতা ও বেসরকারিকরণের রাজনৈতিক অর্থনীতি। দেশে আগামী ৫০-৬০ বছর ব্যবহারের মতো কয়লা মজুদ থাকার পরও পরিবেশের অজুহাতে তা ব্যবহার না করে উচ্চমূল্যের এলএনজি, আমদানিকৃত কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং জনগণের বিদ্যুৎ বিল, সবই বেড়েছে। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘পৃথিবীর বহু শিল্পোন্নত দেশ দীর্ঘদিন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে; তবে বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনাকে একেবারে পরিত্যাগ করে আমদানিনির্ভর হওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার অতীতেও জ্বালানি খাতে কার্যকর ও টেকসই সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। যারা অতীতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের পুনরায় একই দায়িত্ব দিয়ে এবার সফলতা আশা করা কতটা বাস্তবসম্মত, জনগণ তা জানতে চায়।’ ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতের যে বেসরকারিকরণ ও উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, তার বোঝা এখনও জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রকে নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে এলএনজি বাজার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে সরকার যদি মূল্য ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করবে। জ্বালানিকে পণ্য হিসেবে নয়, জাতীয় নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করে এমন কোনও সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে না। এবি পার্টি বেসরকারিকরণের বিপক্ষে নয়, তবে সেটি হতে হবে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, গ্যাস সরবরাহে নিয়োজিত ছয়টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলেই ৬৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিলের সমস্যার সমাধান হবে, এর নিশ্চয়তা কোথায়? ‘ তিনি আরও বলেন, ‘একটি বেসরকারি কোম্পানিকে দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সরকার সেই বাজার কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্বালানি খাতে একক বা অতিরিক্ত বাজার নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো, ১. দেশীয় কয়লা ও গ্যাসের পরিবেশসম্মত ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ২. এলএনজি, কয়লা ও তেল আমদানির ওপর অতিনির্ভরতা কমাতে হবে। ৩. উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। ৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সব বড় চুক্তি ও ব্যয়ের স্বাধীন জাতীয় অডিট করতে হবে। ৫. সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ৬. গ্যাসকে সার, শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ করতে হবে। ৭. ভুতুড়ে ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বন্ধে স্বাধীন অডিট ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ৮. বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি, বিতরণ ও মিটার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ৯.বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কৌশলগত সম্পদ বেসরকারিকরণের আগে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের মালিকানার প্রশ্নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘ভুতুড়ে বিল থেকে জনগণকে মুক্ত করতে হলে শুধু মিটার বদলালেই হবে না; বিদ্যুতের মালিকানা, কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন ও বিতরণ,পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। ভারতীয় মিটার আমদানির মাধ্যমে জনগণ কী পরিমাণ সেবা পাচ্ছে এবং এসব মিটারের সঙ্গে ভুতুড়ে বিলের কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তাও স্বাধীনভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।’
ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলে দেশটির মাটিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ভারত সরকারকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে ভারতের মাটিতে বসে দণ্ডিত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য বা রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাওয়া হবে—এ দুটি অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।’ বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও এসময় মন্তব্য করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, ভারত সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করবে এবং হাসিনা কার্ড খেলা বন্ধ করবে।’ ‘কোনও একক গোষ্ঠী জুলাইয়ের চেতনার মালিক নয়’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনও দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তন এসেছে। তার ভাষায়, ‘শত-সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় কোনও একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অসমাপ্ত কাজও সম্পন্ন করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, তা দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার ফল। দীর্ঘ সময়ের ‘জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন এবং ভোটাধিকার হরণের’ বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই দফায় সীমিত করার কথা রাষ্ট্রকাঠামোর ভবিষ্যৎ সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কোনও নির্বাচিত সরকার যাতে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচ নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার বিধান সংবিধানে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে কার্যকর ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নিশ্চিত করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংবিধানও সময় ও সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণদের উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ‘ফাঁদে ফেলার অপচেষ্টা’ চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রেখে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম, আবু সাঈদের ভাই মো. আবু হোসেন এবং একরামুল হক সাজিদের মা নাজমা খাতুন লিপি। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
চলনবিলের পর্যটন সম্ভাবনা যাচাইয়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে চলনবিলের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত তাড়াশ উপজেলার মান্নাননগড় ও দোবিলা এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর তাড়াশ উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি তথ্যচিত্রও দেখেন তিনি। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, এই এলাকার মানুষের সঙ্গে বসে তাদের দাবি শুনলাম, বিভিন্ন স্পট দেখলাম। এই এলাকায় ইকো ট্যুরিজমের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখানে যেটাই করি, সেটা ভায়োবল থাকতে হবে। পাশাপাশি রেভিনিউ ইনকাম হচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। কারন এখানে যেটাই করবো স্থাপনা সেটি যেন এই এলাকার মানুষের উন্নয়নের সোর্স হয়। এ সময় স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান ও তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, আপনারা দেখেছেন তাসনিম জারাসহ গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চেতনার অনেক নেতা-নেত্রী এনসিপি ছেড়েছেন। এর কারণ, এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে মিলে মিশে গিয়েছে, তখন এসব তরুণ নেতারা এনসিপি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে এই সময়ে এসে মূলত এনসিপি বলতে কিছু নাই, যা আছে তা জামায়াতের শিশু সংগঠন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ সদরের মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্রেডিটবাজি শুরু করেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেদেরকে গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান যে মুখোশধারী ছিলেন, তা অভ্যুত্থানের পরে আমরা দেখলাম। তিনি সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তিনিই সর্বপ্রথম বেইমানি করেছেন। রাশেদ খাঁন আরও বলেন, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছিল জামায়াত স্বাধীনতা বিরোধী, জামায়াত দেশের সার্বভৌমত্ব চায় না। এসব কথাবার্তা বলার পর তারাই আবার জামায়াতের পকেট বন্দি হয়েছে। এনসিপির যেসব প্রার্থী নির্বাচন করেছে তার সব খরচ দিয়েছে জামায়াত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এক দফার ঘোষককে তা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। আমরা সেটা স্বীকার করি। কিন্তু এই এক দফা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল এ দেশের জনগণ। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সুযোগ সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলের অনেক এমপি এখন সরকারি দলের এমপিদের সমান সুযোগ সুবিধা চাচ্ছেন। তারা তো সরকারি দলের এমপিদের মতোই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। অসুবিধা তো নেই। তারপরও তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। দেখুন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কিন্তু বিরোধীদল কোনো সুযোগ সুবিধায় পেতো না। সেই হিসেবে বিএনপি সরকার কিন্তু বিরোধীদলকে অনেক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, মূল্যায়ন করছে। তারপরও জামায়াত ও এনসিপির এমপিদের অবস্থা এমন যেন, সুখে থাকতে ভূতে কিলাচ্ছে। এর আগে সকালে ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে রাশেদ খাঁনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান, গণঅধিকার পরিষদের নেতা সুলাইমান হোসেন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ১৯ হাজার ১৯৭ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ কর্মী প্রেরণ এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ হাজার ১৩১ জন বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। বোয়েসেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ১৬ হাজার ৬৬ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান লাভ করেন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ১৯৭ জনে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৫৪৩ জন কর্মী জর্দানে গেছেন। এ ছাড়া ব্রুনাইয়ে ১ হাজার ৮১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০৪ জন, মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন, রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন, হংকংয়ে ৪ জন, কুয়েতে ৫ জন এবং ফিজিতে ৫ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাক, হংকং, কুয়েত, ব্রুনাই, রাশিয়া, ফিজি, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, ‘গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি প্রেরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে বোয়েসেলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়া।’ তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় জনশক্তি রপ্তানির বাজার একটি মাত্র সিন্ডিকেট ও মাফিয়া চক্রের দখলে ছিল। ফলে স্বল্প খরচে বিদেশে যেতে আগ্রহী সাধারণ মানুষের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতনের পর সেই সুযোগ আবার ফিরে এসেছে। শুধু ফিরে আসেনি, যেসব বাজারে সিন্ডিকেট ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে বোয়েসেল সফল হয়েছে। বিশেষ করে সিন্ডিকেটের তৎপরতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি শ্রমবাজার বোয়েসেলের উদ্যোগে আবার উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, ‘বোয়েসেল সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তিতে জনশক্তি রপ্তানি করে। বিশ্বাস ও আস্থার এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশে জনশক্তি প্রেরণের ক্ষেত্রে বোয়েসেল একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারবে।’ সরকারের ১০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বোয়েসেলের মাধ্যমে ঠিক কতজন কর্মী বিদেশে যেতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে অতীতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বোয়েসেলের মাধ্যমে গেছেন।’ বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘সরকার যদি স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে বৈদেশিক শ্রমবাজারকে মুক্ত করে স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরো বাড়াতে চায়, তাহলে বোয়েসেলকে কার্যকর করার কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা যত ভালোভাবে মানুষকে সেবা দিতে পারব, ততই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলোকে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় নতুন শ্রমবাজারও চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান, বন্ধ এবং সম্ভাবনাময়— এই তিনটি শ্রেণিতে বাজারগুলোকে ভাগ করে কোথায় কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরির ওপর।’ জানতে চাইলে বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. শওকত আলী বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪০ হাজার জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বোয়েসেল। বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্য পূরণ হলে বোয়েসেল গত অর্থবছরের রেকর্ড ভেঙে দ্বিগণের বেশি জনশক্তি রপ্তানি করে অনন্য রেকর্ড করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) নূর আহমেদ বলেন, গত জুলাই মাসে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। আমরা বর্তমানে আমাদের বিদ্যমান বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন করে বাজার বর্ধিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে মঙ্গোলিয়ায় বাজার বর্ধিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্থিরতা করার চেষ্টা করছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলেডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি চক্র কৌশলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে। তবে সরকার এই সংকট থেকে দেশ ও মানুষকে বের করে আনতে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখন একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছি। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতর থেকে দেশকে সফলভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। বিগত দিনের অপরিকল্পিত প্ল্যান ও প্রজেক্টগুলো আমাদের জ্বালানি খাতকে বিপদের মুখে ফেলেছে। সরকার এগুলো ঠিক করে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার কাজ করছে। চিকিৎসকদের এই সমাবেশে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতি হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)। রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে সরকার দেশে ১ লাখ ‘হেলথ ওয়ার্কার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এই স্বাস্থ্যকর্মীরা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন। চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেহেতু সবকিছুকে প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা পেশাজীবীদের রাজনীতি সচেতন থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা অযৌক্তিক কিছু নয়। তবে এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে। সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সরকার বিবেচনা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরতদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে দাবিগুলো এসেছে, তা অযৌক্তিক নয়। এগুলো সরকারের বিবেচনার মধ্যে থাকা উচিত। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এর বাইরেও যত দ্রুত সম্ভব ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সকল চিকিৎসকের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আর কাউকে বিদেশমুখী হতে হবে না। চিকিৎসক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।