বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি বহুল আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় একের পর এক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও রাষ্ট্রীয় অস্থিরতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই উত্তাল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি হয়ে ওঠেন এই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান ও কেন্দ্রীয় চরিত্র। সেদিনের ঘটনাপ্রবাহকে আধিপত্যবাদ, ষড়যন্ত্র ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই পটপরিবর্তনের পর খাদের কিনারায় থাকা দেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। ১৯৭৫ সালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর সংকটের প্রতীক। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ, দুর্ভিক্ষ, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল নানা সংকট। এর চূড়ান্ত ও মর্মান্তিক পরিণতি দেখা যায় ১৫ আগস্ট। এদিন শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই কলঙ্কজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তবে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে তৈরি হয় চেইন অব কমান্ডের চরম সংকট, মতবিরোধ ও ক্ষমতার তীব্র দ্বন্দ্ব। অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ঘটে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান। এ সময় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়। সেনাসদস্যদের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেনানিবাসের ভেতরে নতুন করে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর-এই চার দিনের রুদ্ধশ্বাস ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভোরে ঢাকা সেনানিবাসে শুরু হয় সিপাহিদের বিদ্রোহ। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের মধ্যে পুঞ্জীভূত অসন্তোষ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এই বিদ্রোহের পটভূমি তৈরি করেছিল। বিদ্রোহী সৈনিকরা গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করেন জিয়াউর রহমানকে। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের পাশাপাশি রাজপথে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ঘটনাটি রূপ নেয় ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে’। ঢাকার রাজপথে বেরিয়ে আসে সৈনিকদের ট্যাঙ্ক ও ট্রাকের বহর। সাধারণ মানুষের উল্লাস ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানী। কেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে জিয়াউর রহমান? ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহে জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি তখন দেশের সেনাপ্রধান। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর তাকে গৃহবন্দি করে রাখার বিষয়টি সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও দৃঢ়চেতা সামরিক কর্মকর্তা। তার মুক্তির মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণে পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার নতুন পথ তৈরি হয়। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে রাষ্ট্রনায়কের আসনে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না। এর শিকড় প্রোথিত ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের পর তিনি বিদ্রোহ করেন এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে আলোচনায় আসেন। মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকে। তবে তিনি সেদিনই সরাসরি রাষ্ট্রপতি হননি। তৎকালীন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানসহ তিন বাহিনীর প্রধানকে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েম পদত্যাগ করলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠা ও নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা রাষ্ট্রক্ষমতা সুসংহত করার পর জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে সামনে রেখে তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তার শাসনামলে দেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। মুক্তবাজার অর্থনীতি, বেসরকারি খাতের বিকাশ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলমগীর হোসেন সম্রাট বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তবে তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি আজও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে আছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কেবল একটি দিন নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহই জিয়াউর রহমানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। গৃহবন্দি এক সেনাপ্রধান থেকে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন রাষ্ট্রক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ও জিয়াউর রহমান তাই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই থাকবেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশকে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংকট থেকে উত্তরণের একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেনানায়ক। স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তার নেতৃত্বকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।’ তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। এই দিনটি আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের চেতনার সঙ্গে জড়িত। শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজকের প্রজন্মকে জানতে হবে, কী প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল এবং কীভাবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই আমরা তার অবদান স্মরণ করতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বর, ২০২৬। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু মিত্র চিহ্নিত করার দিন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিবৃতি দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্ম, যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদ বাক্য প্রণিধানযোগ্য। ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। সুতরাং, সারাবেলা ইতিহাস চর্চায় মশগুল থাকা সমীচীন নয়; একইভাবে ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল। তিনি বলেন, আমি মনে করি, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যারা দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল, জনগণের ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে, বীর ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২০২৪ ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-ভৌগোলিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি জনতার বিপ্লব, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪ এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, এভাবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব কিংবা অভ্যুত্থানের একটাই আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনও দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমি জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদযাপন উপলক্ষ্যে সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করি। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, আমাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে পাহাড়, সমতল, জাতি-গোষ্ঠী কিংবা ধর্ম কোনো বিভাজনের কারণ হতে পারে না, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা বাংলাদেশি। তিনি বলেন, সকলের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের কথা বলে। যার যার ধর্মীয় অনুশাসন যথাযথভাবে পালন করলে সমাজব্যবস্থা আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে। শুক্রবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এ বছরের দুর্গাপূজা ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। এত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আগে কখনো এই দেশে পালিত হয়নি। এর অন্যতম কারণ বর্তমানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা ফিরে পেয়েছি, যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা মানুষের আইনি অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কারণে সকলে পরিপূর্ণভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছি। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ ও বিকশিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সকল শ্রেণি, গোষ্ঠীকে একত্রিত করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম এই দেশে ১০টি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার মধ্যে নেত্রকোণার দুর্গাপুরেও একটি কালচারাল একাডেমি রয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা কালচারাল একাডেমির কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করতে চাই। তিনি ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এর আয়োজকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, বনানী এলাকায় একটি কালচারাল একাডেমি এবং একটি গির্জা প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ শিগগিরই গ্রহণ করা হবে। ডেপুটি স্পিকার বলেন, আসন্ন ২০২৬ সালের বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করার জন্য আবেদনের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি অর্থাৎ ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কায়সার কামাল তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বই দেখতে চায়, যিনি এভাবে সকল ধর্মের প্রতি, মানবতার প্রতি এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে প্রতিটি মানুষের অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করবেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে আমরা একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা অতীতকে ভুলে সকলের অংশগ্রহণে আগামীতে এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে প্রত্যেকের মানবিক মর্যাদা থাকবে, সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য তিনি শ্রেণি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এর নকমা জন দ্রং। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়ানগালার প্রাক্তন নকমা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দীপঙ্কর রিছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আন্দ্রিয় দ্রং, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ডা. মো. আনোয়ারুল কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউর রহমান ফাহিম, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান, ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এর যুগ্ম কর কমিশনার কর্ণেলিউস কামা, নয়ানগর ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি রিপন রিচার্ড সরদার, ঢাকার দ্য ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল গোমেজ এবং গুড নেইবারস বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজ। মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’- এর স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন। আলোচনা পর্ব শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। উৎসবে গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১১-১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-৩১) যোগ দেবেন তিনি। সফরে জলবায়ু ইস্যুতে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরার পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তুরস্কের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে কপ-৩১। ১১ ও ১২ নভেম্বর জলবায়ু সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দুই দিন উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন। তিনি আগামী ১০ নভেম্বর তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। সফর শেষে ১২ নভেম্বর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। বাংলানিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কপ-৩১ এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো যাতে নতুন ঋণের বোঝায় না পড়ে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সায়মুম পারভেজ জানান, কপ-৩১ এ জলবায়ু ঝুঁকির লস অ্যান্ড ড্যামেজের অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যাতে এ তহবিল থেকে অর্থ পায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ দাবি জোটবদ্ধভাবে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। বন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়ছে। এই ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে কপ-৩১ সম্মেলনে লস অ্যান্ড ড্যামেজ বা ক্ষয়ক্ষতি বাবদ অর্থ সহায়তার দাবি জানাবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এবার সংক্ষিপ্ত সফরে তুরস্ক যাবেন। তিনি বিশ্বনেতাদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন। বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন কেবল জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আয়োজন নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের স্বার্থ, অর্থায়নের দাবি এবং উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শামা ওবায়েদ আরো বলেন, তুরস্ক সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রতি উন্নত বিশ্বের দায়িত্ব পালনের দাবি জানানো হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব কূটনৈতিক সূত্র জানায়, জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এরদোয়ান বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরো বিস্তৃত অংশীদারিতে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি। ওই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আনতালিয়া সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কপ-৩১ এ অংশগ্রহণ, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি এবং বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে ২০২৭ সালের শুরুতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্মেলনে তুরস্ককে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান হুমায়ুন কবির। এর আগে গত ২৭ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুরস্ক সফরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। দুই পক্ষ অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। এর আগে গত ৬ জুন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই সফরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের দুজন এবং খুলনা বিভাগের একজন রয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৫ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুলেটিনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৫৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জনে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এ বিভাগে নতুন করে ৭২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭৫ জন, খুলনায় ১৬১ জন, বরিশালে ১৪৩ জন, রাজশাহীতে ১০৪ জন, ময়মনসিংহে ৮৮ জন এবং রংপুরে ৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে সিলেট বিভাগে নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি।
মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় মোটরযান চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্সধারীদের জন্যও দিয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাসে পরিবর্তন এনে সংশোধিত বিধিমালা জারি করেছে সরকার। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিআরটিএর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সধারীরা কেবল বৈধ প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রশিক্ষণের সময় মোটরযান চালাতে পারবেন। এ সময় গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘L’ চিহ্ন রাখতে হবে। মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ চালক রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলে সামনে ও পেছনে দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘L’ চিহ্ন লিখে অথবা বোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে হয়। ‘L’ হলো Learner শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এই চিহ্ন দেখে অন্য চালকরা বুঝতে পারবেন, গাড়িটি একজন নতুন চালক চালাচ্ছেন। ফলে তারা সতর্ক হয়ে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারবেন। এদিকে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ নম্বর বিধির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট-সংক্রান্ত বিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি এক লাইনে লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বিআরটিএকে। প্রয়োজনে নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা নির্ধারণ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া নম্বরপ্লেটের উল্লম্ব অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করতে পারবে। একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা ও যানবাহন শনাক্তকরণ সহজ হতে পারে। প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো এক রকম নয়। কোনো কোনো মোটরসাইকেলে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন। এ কারণে মোটরসাইকেলের গঠন অনুযায়ী নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সড়কে যানবাহন শনাক্তকরণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেও সামনের নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ায় যানবাহন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট শনাক্ত করাও সহজ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের অক্ষর, সংখ্যা ও বিন্যাস নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি। সংশোধিত বিধিমালার ফলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাস নির্ধারণে বিআরটিএর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিধিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে কোন ধরনের মোটরসাইকেলে কী আকারের নম্বরপ্লেট বসবে এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, তা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’ আগামীকাল ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল। তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। তা হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন চলতি বছরের ডিসেম্বরে। আর সেই মাসকে টার্গেট করে দেশে তার দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সুপরিকল্পিত ছক কষছে। তারই ধারাবাহিকতা দেখা গেল রাজধানীতে পোশাক শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে ‘আপাতত’ সেই ছক ভেস্তে গেছে। পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে পুরো খাতকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে পুরো পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার এক ভয়ংকর চক্রান্তের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত ৩ নভেম্বর কালশী-পূরবী মোড়ে ‘শিহা ডিজাইন বাংলাদেশ লিমিটেড’ কারখানার সামনে ডিএমপি কনস্টেবল সালমানের ওপর নৃশংস হামলা ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ১৯ আসামির তথ্যের ভিত্তিতে এই ষড়যন্ত্রের রূপরেখা বেরিয়ে আসে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাবি, এই তাণ্ডব কোনো সাধারণ শ্রমিক অসন্তোষ ছিল না; এর নেপথ্যে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচি, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা এবং সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপিসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের প্রত্যক্ষ ইন্ধন, অর্থায়ন ও অভ্যন্তরীণ আঁতাত ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ এবং আসামিদের ব্যবহৃত ১৬টি অ্যানক্রিপ্টেড হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার গ্রুপের অডিও বার্তা ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্যাডার ভাড়া এনে এবং গুজবের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ ও নাশকতা চালিয়ে গার্মেন্ট শিল্পকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করেছিল। ডিবির তদন্তে দেখা যায়, কালশীর ‘শিহা ডিজাইন বাংলাদেশ লিমিটেড’ কারখানাটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির মালিকানায় ছিল। পরে তিনি কাগজে-কলমে সরে দাঁড়ালেও কারখানাটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পাঁচ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটের হাতে। এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম ও আবু হাসান মুহম্মদ তারিক। এছাড়া রয়েছেন আতিকুল ইসলামের শ্যালক নুরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও মুশতাক আহমেদ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা কচি, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা, তার ভাগিনা আলিফ মোল্লা, সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপি, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক আক্তার রনি এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরসহ বেশ কয়েকজন এই আন্দোলনে অর্থায়ন এবং নেপথ্যে ইন্ধন জুগিয়েছেন। শ্রমিকদের ঢাল বানিয়ে পুরো তৈরি পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত ছক ছিল এটি। ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সহিংসতার নেপথ্যে থাকা শীর্ষ পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের মোবাইল ফোন জব্দ করে অন্তত ১৬টি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে। ‘চেতনা মুক্তিযুদ্ধ’, ‘শেখ হাসিনা রিজার্ভ ফোর্স’, ‘ঢাকা জেলা গেরিলা ৭১’, ‘হাসু আপার বাংলা’, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ গেরিলা’-র মতো নানা নামে খোলা এসব গ্রুপে ছদ্মবেশে নাশকতার পরিকল্পনা আদান-প্রদান করা হতো। আলামত নিশ্চিহ্ন করতে বেশকিছু বার্তা ডিলিট করা হলেও ডিবির ফরেনসিক টিম অডিও ও ছবি উদ্ধার করেছে। তদন্তে জানা যায়, মিছিলে অংশ নেওয়া ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে তা দেখে সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাগিনা আলিফ মোল্লা ও জুয়েল মোল্লা অর্থ পাঠাতেন। ১ নভেম্বর পল্লবীতে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়ে সেই ভিডিও ধারণ করে শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠান কক্সবাজারের যুবলীগ নেতা মুয়াজ্জেম শাহরিয়ার নেওয়াজ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, পোশাক খাতের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়াকে পুঁজি করতে পঞ্চগড়, কক্সবাজার ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ক্যাডার এনে ঢাকায় জড়ো করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, পঞ্চগড় কলেজ ছাত্রলীগের নেতা নাহিদ হাসানও মাঠে সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আকতার রনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন যে, গাজীপুরে দুজন পোশাক শ্রমিকের লাশ পাওয়া গেছে। এই ভুয়া খবর ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিককে উত্তেজিত করে রাস্তায় নামানো হয়। গত ৩ নভেম্বর কালশী মোড়ে ডিএমপি কনস্টেবল সালমানকে ঘিরে ধরে বেধড়ক ও নৃশংস মারধর করা হয়। বিভিন্ন স্থানের ৪-৫টি ভিন্ন অ্যাঙ্গেলের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে এই হামলায় সরাসরি জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। তারা হলেন আশিক জুলহাস, আরাফাত ইসলাম জিসান, মো. রশিদ আলী, সোহেল রানা, মিলন বাবু, আনারুল ইসলাম, মো. রানা ও মনছুর আলী। এর আগে ১ নভেম্বর গ্রেফতার হওয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জানতে চাইলে ডিবির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা আলিফ মোল্লা ও জুয়েল মোল্লার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তাদের হোয়াটসঅ্যাপ ঘেঁটে অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত নাশকতাকারীরা মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভয়েস মেসেজভিত্তিক অ্যাপস ব্যবহার করত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আসা অডিও বার্তায় দেখা যায়, নাশকতাকারীদের দূর থেকে টেলিফোনে নির্দেশ দিয়ে নির্দিষ্ট পয়েন্টে জড়ো করা হতো। একটি অডিও বার্তায় গ্রেফতার হওয়া নাহিদকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা সবাই ১২ নম্বর ইলিয়াস মোল্লার মার্কেটের সামনে আসেন... এখানে পুলিশ একদিকে চলে গেছে, আমাদের সুযোগ নিতে হবে... আজকের দিনটা করতে পারলে আমাদের নাম হবে।’
‘হাইব্রিড’ নেতাদের অত্যাচার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল ও হামলার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়েও বর্তমানে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের কৃষকদল নেতা শামীম গাজী। তবে তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ফারুক আহমেদ কবিরাজ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শামীম গাজী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ ও তাঁর ভাই মেহেদি কবিরাজের নেতৃত্বে একটি পক্ষ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি, জমি ও মাছঘাট দখল এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তিনি। শামীম গাজী রায়পুর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্যসচিব এবং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর ছেলে। লিখিত বক্তব্যে শামীম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফারুক কবিরাজকে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যায়নি। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি ‘হাইব্রিড’ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হয়েছেন। তাঁর ভাই মেহেদি কবিরাজের নেতৃত্বে একটি অস্ত্রধারী বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে বলেও অভিযোগ করেন শামীম। তাঁর দাবি, ওই পক্ষ চরের অন্তত দুই হাজার একর জমি দখল করেছে। মাছঘাট দখল, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মীকে বাড়িছাড়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরে শামীম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১৩ বছরেও তিনি রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। সরকারের পতনের পরও হামলা ও ষড়যন্ত্রের কারণে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর কর্মীদের মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। শামীম বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে তিনি আরও বেশি কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নিজের ও নেতাকর্মীদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি এবং পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শামীম। তাঁর দাবি, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ও তাঁর নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ বলেন, একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত লোকজন শামীমের ফার্মেসিতে হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় তিনি বা তাঁর কোনো লোক জড়িত নন। অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়েও তাঁর জানা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, শামীম গাজীর মাছঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশের ৫১টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)। দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতির অংশ এই তালিকা প্রকাশ করল মালয়েশিয়া। শুক্রবার এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, তাদের ‘অ্যাক্রেডিটেড মেডিকেল সেন্টার’ বিভাগে এসব মেডিকেল কেন্দ্র ও সেগুলোর ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলো হলো: মতিঝিলের এশিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, ফকিরাপুলের ওয়াদি হেলথ চেকআপ, মতিঝিলের মেডিনেট মেডিকেল সার্ভিসেস, মতিঝিলের রামিন হেলথ সেন্টার, পুরানা পল্টনের ইবনে ওমর মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, একই এলাকার ইউনিটি মেডিকেল চেকআপ সেন্টার, এ এফ মেডিকেল সেন্টার, স্টার মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, নয়াপল্টনের আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক, একই এলাকার সানলাইট ডায়াগনস্টিক, রিলায়েন্স ল্যাব, প্রাইম ডায়াগনস্টিক, বিজয়নগরের পারফেক্ট মেডিকেয়ার। বনশ্রীর ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল, রামপুরার লিডিং হেলথ চেকআপ লিমিটেড, একই এলাকার ডায়নামিক ল্যাব, পশ্চিম রামপুরার ডেল্টা হেলথ কেয়ারেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাবে। বনানীতে গ্লোবাল মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সারা মেডিকেল সেন্টার ও সারা হেলথ কেয়ার, কাকলীর পুষ্প ক্লিনিক, চেয়ারম্যান বাড়ির এলবি হেলথকেয়ার, প্রগতি সরণির ইনডেক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা যাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা। উত্তরা এলাকার মধ্যে আছে দক্ষিণখানের জান্নাহ মেডিকেল সার্ভিসেস, উত্তরা সেক্টর-৪ এর মাইল্যাব মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আব্দুল্লাহপুরের আইচি হাসপাতাল, গাজীপুরের শাহিদা খাতুন ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার। ধানমন্ডিতে গ্রিন রোডের ল্যাব সায়েন্স ডায়াগনস্টিক, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মানিকদীর ইশতিয়াক মেডিকেল সেন্টার, মাটিকাটার মেডিপ্যাথ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কাফরুলের স্মার্ট মেডিকেল সেন্টার। নিউ ইস্কাটনে আছে ইউনিকেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস, মগবাজারের গ্রিনল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, কাকরাইলের কেয়ার ওয়েভ, মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, তেজগাঁওয়ের জারা হেলথ কেয়ার, তেজগাঁও বিমানবন্দর সড়কের এভারগ্রিন মেডিকেল সেন্টার, তেজগাঁওয়ে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের ওয়ার্ল্ড হরাইজন মেডিকেল সার্ভিসেস। অন্যান্যগুলোর মধ্যে আছে নয়াপল্টনের হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সুরক্ষা মেডিকেল সেন্টার, উত্তর বাড্ডার ল্যাব কোয়েস্ট লিমিটেড, মাদানি অ্যাভিনিউয়ের স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সেন্টার, ক্যান্টনমেন্ট মানিকদীর ট্রু হেলথ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পুরানা পল্টনের আনাস মেডিকেল সেন্টার লিমিটেড, পুরানা পল্টনের আল-জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নয়াপল্টনের ওয়ান প্লাস মেডিকেল সেন্টার, ডিআইটি অ্যাভিনিউয়ের ভিটা হেলথ মেডিকেল, বিজয়নগরের কমফোর্ট মেডিকেল চেকআপ সেন্টার, ফকিরাপুলের মেডিফ্লাই হেলথ সার্ভিসেস, পশ্চিম রামপুরার পিওর হেলথ মেডিকেল সেন্টার, চেয়ারম্যান বাড়ির সানমুন মেডিকেল সেন্টার। এফডব্লিউসিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় থাকা কেন্দ্রগুলো স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নিবন্ধিত এবং মালয়েশিয়ান কোম্পানি ‘বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি’র প্রয়োজনীয় অডিট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আগ্রহী কর্মীরা ইলেকট্রনিক ভিসা উইথ রেফারেন্স (ই-ভিডিআর) আবেদনের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার আগে তাদের জন্য এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মেডিকেল অনুমোদন গতিশীল করা এবং পদ্ধতিগত বাধা দূর করার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে দাবি ওঠার মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ করা হলো। সরকার ইতোমধ্যে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মেডিকেল সেন্টারগুলোকে অতিরিক্ত ফি আদায় বা চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি না করার বিষয়ে কঠোর বার্তাও দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে এক সভায় ৬২ রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে কথা বলেন মোহাম্মদ ফজলুল ইসলাম ইয়াসিন। তিনি সরকারের কাছে মেডিকেল অনুমোদন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) জন্য যৌক্তিক প্রসেসিং ফি নির্ধারণের আহ্বান জানান।
টানা ৫ দিনের শ্রমিক আন্দোলন ও উত্তেজনার পর সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। খুলে দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বন্ধের দিন থাকলেও বেশ কিছু কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। সকাল থেকেই সাভার হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মৌর এবং আশুলিয়ার নরসিংহপুর,বাইপাইল, জিরাবো, পুকুরপাড় এলাকায় শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে কারখানায় যোগ দেয়। এ সময় সিকিউরিটি গার্ড তাদের আইডি কার্ড চেক করে। পাশাপাশি পুলিশও শ্রমিদের নজরদারিতে ছিল। দুপুর ১টা পর্যন্ত কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন কারখানার এইচআর ডিপার্টমেন্ট সূত্র জানা যায়, ৮০ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগদান করেছেন। তারা বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় এ উপস্থিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে শনিবার থেকে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। উপস্থিতিও শতভাগ হবে। সকালে ঢাকা-আরিচা ও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বেশ কিছু পোশাক কারখানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা ও বাইপাইল–আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন সদস্য। এছাড়া দায়িত্ব পালন করছেন আটজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিগত কয়কদিন যা ঘটেছে তা শ্রমিক আন্দোলন নয় বরং ফ্যাসিস্টরা তাদের ব্যর্থ শক্তি প্রদর্শন করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অতীতেও তারা পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এবং পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াসহ আশপাশের শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। টানা শ্রমিক অসন্তোষের পর শিল্পাঞ্চল এখন শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বেশ কিছু কারখানা বন্ধ থাকায় নিরব পরিবেশ বিরাজ করছে আশুলিয়া ও সাভারে। একজন গার্মেন্টস মালিক জানান, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছিল। পতিত সরকারের দোসরা আত্মগোপনে থেকে এ সব ষড়যন্ত্র করছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা তত্ত্বে উঠে এসেছে। জানুয়ারি মাসেই নতুন বেতন পাবেন শ্রমিকরা। মজুরি কমিশন বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই অনেক গামের্ন্টসের উৎপাদন শুরু হয়েছে। কয়েকদিন ধরে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ধাওয়া পালটা ধাওয়া ফলে সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। গত ৫ দিনে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় ৭টি মামলায় কয়েক হাজার দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩৬ জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতাররা কেউ শ্রমিক নন বলে জানান সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন শিল্পী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় মজুরি কমিশন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির টাকা পাবেন। শক্রবার বেশির ভাগ গামের্ন্টস শিল্প সপ্তাহিক বন্ধ থাকার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সাত দফা নির্দেশনার আলোকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা। কারাগারে কর্তব্যে পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা ও বিদ্যমান নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং সংশোধনাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হতে পারে এমন আশাঙ্কা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সারাদেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে এবং সকল কারাগারকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিতভাবে মতামত জমা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা মানা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নিয়েছে, যাদেরকে সারাদেশের কারাগারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত করা হবে। সেলিম বলেন, অধিদপ্তরটি নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই এই পদক্ষেপগুলোর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলির নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি ক্ষেত্র ব্যতীত লক-আপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। যেকোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার জন্য জেলারের লিখিত অনুমোদন, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ থাকতে হবে। এই নির্দেশিকায় প্রতিটি কারাগারে ২৪-ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি-দক্ষ কারারক্ষীদের নিযুক্ত করতে হবে। আর যেখানে নির্দিষ্ট কক্ষ নেই, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করতে হবে। কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি রোধ করতে অধিদপ্তরটি দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, কোনো প্রহরী বা অন্য কোনো পাহারাদার কর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে, অবিলম্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, রিপোর্ট করতে বিলম্ব বা এড়িয়ে যাওয়া অথবা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে জানান তিনি। এই নির্দেশিকায় অবহেলার জন্য বারবার রিপোর্ট করা পাহারাদার কর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থারও বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও প্রশাসনিক স্বার্থে এই ধরনের কর্মীদের বদলি করা হতে পারে অথবা বিদ্যমান প্রবিধান অনুসারে তারা বিভাগীয় কার্যক্রমের সম্মুখীন হতে পারেন। মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রহরী কর্মীদেরকে অবশ্যই তাদের নির্ধারিত স্থানে থাকতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। অধিদপ্তর কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন এবং যেকোনো ত্রুটি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারাগার প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং বিরূপ জনমত সৃষ্টি করতে পারে। অধিদপ্তর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারাগার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বৃহত্তর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে অবিলম্বে এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (৫ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৬ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৯৪ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে দুই লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ দুই হাজার ৩৯৪ জন।
আইন পেশায় সফল হতে হলে মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও পূর্ণ অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ বিপদে পড়ে আইনজীবীর কাছে এলে নিজের আস্থা, বিশ্বাস, ভরসা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তার হাতে তুলে দেন। তাই মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করে তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি উপস্থাপন এবং পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা আইনজীবীর প্রধান কর্তব্য। শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনবিষয়ক ১৭তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ও আইইউবি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। এ পেশায় শুধু অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগী হলে চলবে না; প্রয়োজন পূর্ণকালীন অঙ্গীকার, পেশাদারত্ব, অধ্যবসায় ও গবেষণা। আদালতে প্রতিটি শব্দ ও যুক্তির গুরুত্ব রয়েছে। তাই যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য ও শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে আইনজীবীদের। মক্কেল কত টাকা পারিশ্রমিক দিলেন, সেটি নয়; বরং তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি তুলে ধরতে পেরেছেন কি না, সেটিই একজন আইনজীবীর কাছে মুখ্য হওয়া উচিত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়াকে আইনজীবীদের পেশাগত জাকাত হিসেবে অভিহিত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আইন পেশায় মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তৃতভাবে কাজ করে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগের প্রশ্নটি সামনে আসে। তবে সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের ধরন, ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। আগে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল অস্ত্র, বোমা ও গুলি। বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক বিরোধ, বাণিজ্য বন্ধ এবং ভিসা বিধিনিষেধের মতো বিষয়ও রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়িত্ব রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও দায়িত্বের প্রতিফলন। তরুণদের মেধা, প্রজ্ঞা, যুক্তি, পরিশ্রম ও অঙ্গীকার দিয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেন, বাংলাদেশে আইসিআরসির হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি এবং আইইউবির স্কুল অব ল-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান। প্রতিযোগিতায় দেশের ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯টি দল অংশগ্রহণের জন্য লিখিত আইনি যুক্তি ও গবেষণাপত্র জমা দেয়। সেখান থেকে নির্বাচিত ১৬টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, সশস্ত্র সংঘাতের সময় মানবিক সুরক্ষা ও আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি গবেষণা, বিশ্লেষণ এবং যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।
বিএনপি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রকল্প নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় বিএনপি ও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। এ সময় দলের সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নাহিদ বলেন, যখন আওয়ামী লীগকে ট্যাকল দিতে পারছে না, তখন বিএনপি ঐক্যের কথা বলছে। তারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আজও উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা গায়ের জোরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এভাবে জোর করে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সারা দেশে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি। জামায়াতের সঙ্গে তারা এজেন্ডাভিত্তিক জোট করলেও আদর্শিক কোনো জোট করেননি বলে জানান নাহিদ। সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের বিষয়ে নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ও আদর্শিক জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর জন্য শুভকামনা।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ঘোষণায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই শোভাযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আরও দেখুন ফুটবল খবর আন্তর্জাতিক খবর বাংলাদেশ বিনিয়োগ তিনি বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জিয়া সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন তিনি। তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল অতীতের সব ইতিহাস অস্বীকার করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। ভয়ংকর এই চাপ পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। ৭ নভেম্বর দেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন হয়। গণতন্ত্র চর্চার ব্যবস্থা করেন জিয়াউর রহমান। রুহুল কবির রিজভী বলেন, যখনই বারবার আক্রান্ত হয়েছে দেশ একনায়কতন্ত্রের কুচক্রের দ্বারা, ততবারই জনগণ রাজপথে নেমে আসে। তার উদাহরণ এরশাদ পতন এবং ২৪-এর অভ্যুত্থান। বিএনপির এই নেতা বলেন, এই দেশ মাথা নিচু করে চলে না। বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক দর্শন মতপ্রকাশ করা।
আধিপত্যবাদবিরোধী বক্তব্যের পাশাপাশি মাতারবাড়ী বিষয়ে সরকারের ভূমিকা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় মেনে চলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগের সমালোচনা করেছেন তিনি। মাতারবাড়ী নিয়ে সরকারের অবস্থান কী, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারকে ভুল পথ থেকে সরে আসতে হবে। মুখে আধিপত্যবাদবিরোধী বক্তব্য দিলেও মাতারবাড়ী বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা জরুরি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আধিপত্যবাদী কোনো শক্তির সঙ্গে এমন চুক্তি করা যাবে না, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশকে কারও হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। দেশের জনগণ ও তরুণ সমাজ আর আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের প্রভাবমুক্ত স্বাধীন জাতি গঠন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে। মানবতার মুক্তি ও প্রকৃত স্বাধীন জাতি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে বলেও জানান তিনি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, গণভোটে যে রায় আসবে তা মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু এখন সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হচ্ছে না কেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশে আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছে এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে আলোচনার ২০টি বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় গ্রহণ করা হলে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে বসানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন দক্ষ, স্বচ্ছ ও সৎ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কতটা সম্ভব হবে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলেন। তাঁদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিয়োগব্যবস্থায় মেধার অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। কিন্তু পিএসসির চেয়ারম্যান ও দুজন সদস্যকে বিদায় করা হয়েছে। অন্য সদস্যদেরও ডাকা হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। শফিকুর রহমানের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁদের আন্দোলনের পথ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে, যাতে তাঁরা আর এ বিষয়ে সোচ্চার হতে না পারেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলের নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, তাঁদের কর্মীরা গত ১৭ বছর নির্যাতিত ও বঞ্চিত ছিলেন, তাই এখন তাঁদের মূল্যায়ন করতে হবে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কর্মীদের শুধু পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেছেন, বাকিটা তাঁরা দেখবেন বলে মন্তব্য করেছেন। এ ধরনের বক্তব্যকে জাতি ও তরুণ সমাজের প্রতি উপহাস বলে উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, দলটি এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে বারবার বিপ্লব ফিরে আসার নজির রয়েছে। জাতির প্রয়োজনে বিপ্লব আবারও ফিরে আসতে পারে। সংসদের ভূমিকা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, তাঁরা সংসদকে অর্থবহ, কার্যকর ও প্রাণবন্ত দেখতে চেয়েছিলেন। প্রথম দিন থেকেই সব বিষয়ে বিরোধিতা করে সংসদ অচল করার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের ছিল না। যৌক্তিক বিষয়ে সহযোগিতা ও সমর্থন এবং অন্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের নীতিতে তাঁরা চলতে চেয়েছিলেন। তবে সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, সংসদকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়ার আগ্রহ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা না করে বিভিন্ন বিষয় দ্রুত পাস করা হচ্ছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনি ইশতেহার ও সংস্কার প্রস্তাবে ক্ষমতায় গেলে র্যাব বিলুপ্ত করার কথা বলেছিল। কিন্তু বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে সংসদে বিল আনা হয়েছে এবং স্পেশাল রেসপন্সিবিলিটি বাহিনী (এসআরবি) গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, র্যাবের কাঠামো ও জনবল আগের মতো রেখেই শুধু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। পিয়ন থেকে কমান্ডার পর্যন্ত সবাইকে একই জায়গায় রাখা হয়েছে; পোশাক ও লোগোও অপরিবর্তিত রয়েছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতন ও অপরাধের অভিযোগের বিচার কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আগের সদস্যদের একই দায়িত্বে রাখলে তাঁরা প্রমাণ ও আলামত নষ্ট করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, তাঁদের প্রস্তাব ছিল র্যাব বিলুপ্ত করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা ও সময় নিয়ে নতুনভাবে বাহিনী গঠন করা। বিভিন্ন বাহিনী থেকে প্রেষণে আসা সদস্যদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তাঁরা। এই প্রস্তাব অযৌক্তিক ছিল কি না, সে প্রশ্ন রাখেন তিনি। সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন ও সংবিধান সংস্কারের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছিল। কিন্তু সরকার এখন সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে। জনগণ সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের দায়িত্ব দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এবং নানা প্রস্তাব দিচ্ছে বলেও জানান জামায়াত আমির। তবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে এসব প্রস্তাবে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য সময় প্রয়োজন—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয়নি; ভোট দিয়েছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের। ক্ষমতাসীনরা অতীতে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন। তাহলে দায়িত্ব পাওয়ার পর এত অল্প সময়ে এত পরিবর্তন কেন আনা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিরোধী দলের দায়িত্বের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের পক্ষে কথা বলা এবং অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করা তাঁদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এ কারণেই তাঁদের রাজপথে নামতে হয়েছে। সাত দফা দাবি নিয়ে তাঁদের আন্দোলন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব দাবি কোনো দলের একক দাবি নয়, বরং জনগণের দাবি। তিনি আরও বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন করতেই হবে। কেউ সমর্থন করুক বা না করুক, জনগণের মুক্তির জন্য সংস্কারের বিকল্প নেই। ২০২৪ সালের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা প্রসঙ্গে দলটির আমির বলেন, ওই আন্দোলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে দলের নেতাদের হত্যা, বাড়িঘর ভাঙচুর, কার্যালয় বন্ধ, নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক বাতিল এবং দল নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এত নির্যাতনের পরও ২০২৪ সালের আন্দোলনের কৃতিত্ব জামায়াতে ইসলামী দাবি করেনি বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা কখনো বলেননি যে এই আন্দোলনের কারিগর বা মূল পরিকল্পনাকারী তাঁরাই। ২০২৪ সালের আন্দোলনকে দেশের মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত হিসেবে দেখেন বলে জানান তিনি। এ জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি নিজেদের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কথাও বলেন। আন্দোলনে শহীদদের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে যাঁদের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তা দিয়ে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয়, বরং এটি একটি ভাইরাস—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা না হলে দেশে বারবার বিপ্লবের পরিস্থিতি তৈরি হবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুনতে শুনতেই তাঁর জীবনের ৫৫ বছর পার হয়েছে। তবে এই দিবস থেকে রাজনীতিবিদদের যে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে তা প্রতীয়মান হয় যে তাঁরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করেননি। জনগণের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের পরিণতি ৭ নভেম্বরের মতো হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ওই সময় সিপাহিদের বিদ্রোহের পেছনে বিভিন্ন কারণ ছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ মুজিবুর রহমান দেশের ইসলামী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করেছিলেন। অথচ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এসব সংগঠন সক্রিয় ছিল এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও অল্প সময়ের মধ্যে শেখ মুজিব জনগণের আস্থা হারান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, গণমাধ্যম ও আনসার বাহিনী থাকার পরও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। বাহিনীটিকে ব্যাপক ক্ষমতা ও ভারী অস্ত্র দেওয়া হয়। রক্ষীবাহিনীর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শফিকুর রহমান দাবি করেন, বাহিনীটির সদস্যদের জবাবদিহির বাইরে রেখে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিনা বিচারে ৩৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, যাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদার হত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠনের মাধ্যমে এক নেতার অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর অভিযোগ, সে সময় দেশে দুর্নীতি, সম্পদ লুটপাট, ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানুষের অধিকার হরণের ঘটনা ঘটেছিল। ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করার কারণে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। শুরুতে এতে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই সময় তিনি সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৭ নভেম্বরের পরদিন কারফিউ জারি থাকলেও জুমার নামাজের জন্য তিন ঘণ্টা তা শিথিল করা হয়েছিল। নামাজে যাওয়ার সময় মসজিদ, বাড়ির ছাদ ও রাস্তায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি এবং তাঁদের উচ্ছ্বাস দেখেছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সিপাহিরা ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে রাস্তায় নামলে সাধারণ মানুষ তাকবির দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান। ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। সিপাহিরা বিপ্লব ঘটালেও জনগণ তাতে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছিল—এ কারণেই দিবসটির নাম বিপ্লব ও সংহতি দিবস হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্যে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যাঁর যে অবদান রয়েছে, তাঁকে সেই স্বীকৃতি দিতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষণা, পতাকা উত্তোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথভাবে স্মরণ করা উচিত। বিশেষ করে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অবদান অনেক সময় আলোচনায় আসে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, নিজের বা নিজ দলের নেতৃত্বের বাইরে অন্য কারও অবদান স্বীকার না করার মানসিকতা থেকে রাজনীতিবিদদের বেরিয়ে আসতে হবে। ১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরের ঘটনাগুলোকে তিনি দুঃশাসন, একদলীয় শাসন এবং কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, বেঁচে থাকার অধিকার, চাকরির সুযোগ, ন্যায়বিচার এবং নারী-পুরুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল এবং চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া বাকিগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে ওই চারটিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তাঁর মতে, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব ও ম্যান্ডেট রক্ষা করা উচিত ছিল। এরশাদের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় বছর ক্ষমতায় থাকা এই শাসকও গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার—বাকস্বাধীনতা ও বেঁচে থাকার অধিকার—খর্ব করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের মুখে তাঁকেও ক্ষমতা ছাড়তে হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সে সময় নানা বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছিল। বিএনপি সরকারের সঙ্গে জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর দাবি, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠনের সময় জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন নিয়ে সমর্থন দিয়েছিল। তবে তারা সরকারে যোগ না দিয়ে বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সমর্থনের বিনিময়ে তাদের মূল দাবি ছিল, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি বলেন, ওই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ১৯৯৪ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন শুরু করে। সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনীতিতে সমঝোতা ও নমনীয়তা না থাকলে তা জনগণের রাজনীতি হয়ে উঠতে পারে না। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি মৌসুমে জাহাজ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার থেকে তিনটি জাহাজে সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন পর্যটকেরা। পরিবেশ সংরক্ষণে এবার ভ্রমণকারীদের জন্য বেশ কিছু শর্ত ও বিধিনিষেধও কার্যকর রয়েছে। অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে দ্বিতীয় দিনের মতো জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তিনটি জাহাজে করে দেড় হাজারের বেশি পর্যটক দেশের সর্বদক্ষিণের দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে প্রথমবারের মতো চলতি মৌসুমে যাত্রা শুরু করে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এমভি বারো আউলিয়া রাতেই কক্সবাজারে ফিরে আসে। জাহাজসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার তিনটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন। এর মধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক রয়েছেন। দুপুরের মধ্যে তাঁদের দ্বীপে পৌঁছানোর কথা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ চালু হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক অনুমোদন, নৌযান চলাচলের ছাড়পত্র এবং পরিবেশগত শর্ত পূরণ নিয়ে জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিনটি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। তবে প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি থাকায় প্রয়োজনে জাহাজের সংখ্যা বাড়তে পারে। এদিকে নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। সেন্টমার্টিন যাত্রা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পর্যটকেরা। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা মেনে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক আল মাহমুদ বলেন, সেন্টমার্টিন দেশের সম্পদ। নাগরিক হিসেবে সেখানে ভ্রমণ করতে যাওয়া প্রত্যেকেরই দ্বীপটির পরিবেশ সংরক্ষণে দায়িত্ব পালন করা উচিত। তবে জাহাজের টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, টিকিটের মূল্য কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। ভ্রমণপ্রেমীদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে ভালো হতো। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ভাড়া পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য কয়েকটি শর্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। এসব ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, ভ্রমণকারীদের পরিচয় ও যাতায়াতের তথ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা। পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও সেন্টমার্টিনের সংবেদনশীল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দ্বীপে পর্যটকদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও নিষিদ্ধ। এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের মতো ছোট ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল দ্বীপে পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানির ব্যবহার, জ্বালানি, শব্দদূষণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই পর্যটক প্রবেশের অনুমতির পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক নির্দেশনা কার্যকর করা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৮ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আগামী পাঁচ দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৮ নভেম্বর থেকে কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনে সারাদেশে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে। এ সময়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সারাদেশে আবহাওয়ার বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই। এদিনও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার (৯ নভেম্বর) ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসেও তাপমাত্রা আরও কমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়েছে ৭৮ শতাংশ। এ সময় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলেছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলন চলাকালে সহিংসতায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে কারখানার মালিকপক্ষ এবং রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র সমর্থকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, কারখানায় ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এইচআরডব্লিউর মতে, আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেবল প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় যতটুকু বলপ্রয়োগ অপরিহার্য, ততটুকুই করতে পারে। প্রতিবেদনে গত ৩ নভেম্বর তৌফিক হোসেন নামে এক পোশাকশ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। নিহতের এক সহকর্মীর বরাতে সংস্থাটি জানায়, দুপুরের খাবারের পর কারখানায় ফেরার পথে তৌফিক আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া একটি দলের সামনে পড়েন। পরে ওই সহকর্মী তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তার অভিযোগ, ভাড়া করা ব্যক্তিরা তৌফিককে মারধর করেছিলেন। বর্তমানে আন্দোলনরত শ্রমিকরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে গত ১ নভেম্বর সরকার নতুন একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এক নারী সেলাই মেশিন অপারেটর নিজের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে জানান, তার মাসিক বাসাভাড়া ৬ হাজার টাকা এবং রান্নার গ্যাসের খরচ ২ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ মাসে তার আয় মাত্র ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাভাবে চলতি বছর সন্তানদের স্কুলেও পাঠাতে পারছেন না তিনি। এইচআরডব্লিউ বলছে, শ্রমিকদের মজুরি ও জীবিকা নির্বাহের সংকট সমাধানের পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উসকানির অভিযোগ তুলছে। গত ৩ নভেম্বর ঢাকা পুলিশ নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগের ৩৩ জন সমর্থককে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। অন্যদিকে, আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর বিএনপির যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া উসকানি দেওয়ার অভিযোগে একই দিন আশুলিয়া থেকে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়। পুলিশ হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাও করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া এক শ্রমিকের ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী এইচআরডব্লিউকে জানান, তার স্বামী অল্প সময়ের জন্য আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে কোনো ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন ওই নারী। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি সরকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে শ্রম আইনের সংশোধনীতে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি পুনর্মূল্যায়নের বিধান যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের কালোতালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে তাদের চাকরিচ্যুত করা বা অন্য কারখানায় চাকরি পাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করার বিষয়টিও নিষিদ্ধ করা হয়। এইচআরডব্লিউ মনে করে, মজুরি নিয়ে আলোচনা ও শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তৈরি পোশাক ব্র্যান্ডগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কারখানার মালিকদের এমন কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি করা উচিত নয়, যার ফলে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বাড়ে কিংবা ন্যায্য মজুরি প্রদানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।