ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত সড়ক দুর্ঘটনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সেপ্টেম্বর মাসের দুর্ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইককে বৈধতা দিলে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সেপ্টেম্বরে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৫৬৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫৬৫ জন নিহত ও ৯৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই ছিল ৫০৪টি, যেখানে ৫০২ জন নিহত ও ৯৬৪ জন আহত হন।
রেলপথে ৫০টি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে নৌপথে ১৩টি দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু, ১৫ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ১৯১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৯ জন নিহত ও ১৮৮ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৯ শতাংশ এবং নিহতের ৩৯.৬৪ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে—১২৬টি দুর্ঘটনায় ১২২ জন নিহত ও ২১৬ জন আহত। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৭২টি যানবাহনের মধ্যে ২৯.০১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২.০২ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান, ১৬.৫৮ শতাংশ বাস এবং ১২.১৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক।
দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী দেখা যায়—৪৮.৮০ শতাংশ গাড়ি চাপায়, ২৮.৫৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৭.৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৩.৭৬ শতাংশ বিভিন্ন কারণে, ০.৩৯ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৫৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষে ঘটেছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—বর্ষায় সড়কের গর্ত, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও নসিমন-করিমনের অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও আলোর অভাব, মিডিয়ান না থাকা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যান, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে চলাচল এবং চাঁদাবাজি।
সংগঠনটি দুর্ঘটনা রোধে কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে—
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত মেরামত
রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত
দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ
যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস ব্যবস্থা
সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ
সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ
রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন
আধুনিক প্রযুক্তিতে আইন প্রয়োগ
নিয়মিত রোড সেফটি অডিট
ফিটনেসবিহীন যান স্ক্র্যাপ করা
মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানোর আগে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের এখনও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে অনেকেই সকাল থেকেই স্টেশনে আসছেন। স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কেউ পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের আগে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেক যাত্রীই জানিয়েছেন, হাতে সময় থাকায় ঈদের ঠিক আগের ভিড় ও সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতেই তারা আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ও শিক্ষার্থী মিরাজ উর রহমান বলেন, “আমি কাউনিয়া স্টেশনে নামবো। ঈদ সামনে এলেই বাড়ির টানটা যেন আরও বেশি অনুভূত হয়। তাই ভোগান্তি এড়াতে একটু আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গের পথে ট্রেনই সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ বাহন। দীর্ঘ পথের যাত্রায় ট্রেনে গেলে ক্লান্তিও কম লাগে।” জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী হুমায়ূন আহমেদ হিমু বলেন, “ঈদের সময় ভিড় অনেক বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই মাকে ও ছোট বোনকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। এরমধ্যে ঈদের কেনাকাটাও শেষ করেছি।” তিনি জানান, এখন স্টেশনে তেমন ভিড় নেই। ছুটি শুরু হলে তার বাবা আগামী ১৭ মার্চ গ্রামের বাড়িতে যাবেন। আজ তিনি নিজেই স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে গেছেন। হিমুর ভাষায়, “ঈদের আনন্দ যেন এখান থেকেই শুরু হয়ে গেছে।” জানা গেছে, গতকাল ১৩ মার্চ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদ উপলক্ষে ট্রেনযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ ট্রেনযাত্রার দ্বিতীয় দিন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের প্রবেশপথে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশমুখে দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করে যাত্রীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। টিকিটধারী যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি নেই, তবে বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দায়িত্বরত ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনাররা (টিটিই) জানিয়েছেন, কেউ যদি টিকিট ছাড়া প্রবেশ করতে চান, তাদের কোনোভাবেই স্টেশনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেউ যদি তিনটি টিকিট কাটেন কিন্তু পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন হয়, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ায় একটি স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারা জানান, ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোরভাবে টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই বিনা টিকিটে কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এসব ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা ২৮ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ২৩টি ট্রেনের ১৬ হাজার ১৯৪টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি ট্রেনের ১২ হাজার ৭৩২টি আসন গত ৪ মার্চ অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি কারিগরি কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার সব নথি ও খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতার নাম জামাল উদ্দীন। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ভেতরে এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এদিন হরিপুর মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ‘আয়া’ ও ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মী’ পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় মোট আট প্রার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে ফলাফল যাচাই ও মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কলেজের অধ্যক্ষ ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা ইউএনও রায়হানুল ইসলামের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পর কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনওর রুমে বসে নথিপত্র দেখছিলাম। হঠাৎ বিএনপি নেতা জামাল ও তার লোকজন রুমে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় এবং আমাদের হাত থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও খাতা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমরা এখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অবস্থান করছি।’ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও রায়হানুল বলেন, ‘যথাযথ নিয়ম মেনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। নিরীক্ষক দল আমার কক্ষে বসে মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার অনুসারীরা রুমে ঢুকে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং জোরপূর্বক সবার কাছ থেকে পরীক্ষার খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল বলেন, ‘আমরা কোনো কাগজপত্র ছিনিয়ে আনিনি। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের লোকজনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের কর্মীদেরই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল। আমাদের ছেলেরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে ইউএনও তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। মূলত ইউএনও জামায়াতের লোক হওয়ার কারণেই আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।’ এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হরিপুর থানার ওসি আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজে থাকা ছয় সেনাসদস্যের মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বাকি দুইজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। সেন্টকোম জানায়, ইরাকের আকাশসীমায় উড্ডয়নরত অবস্থায় দুটি বিমানের মধ্যে একটি কেসি-১৩৫ মডেলের রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়, অন্যটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। তবে কী কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের হামলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে সেন্টকোমের এই ঘোষণার কিছু সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট “দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক” বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করে। তাদের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে জোটের যোদ্ধারা উড়োজাহাজটি ধ্বংস করেছে। তবে ওয়াশিংটন এ দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য, রি-ফুয়েলিং বিমান আকাশে উড্ডয়নরত যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকেই নিয়মিত এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসছে। ভূপাতিত হওয়া উড়োজাহাজটি মার্কিন কোম্পানি বোয়িং নির্মিত। এটি সেই মডেলের, যা গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।