জাতীয়

মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, কোনো দলের একার যুদ্ধ নয় : রাষ্ট্রপতি

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এবং মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ ছিল না; জনগণের গণরায় উপেক্ষা ও গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস-এর ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যথাযথভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়নি। অসংখ্য সাধারণ মানুষ, তরুণ ও সৈনিকের আত্মত্যাগ এবং বীরত্বের ঘটনা এখনও ইতিহাসে পূর্ণাঙ্গভাবে স্থান পায়নি। তিনি সেসব ঘটনা সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে কেবল কয়েকটি ভাষণের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে হাজারো তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সামরিক সদস্যরা জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন।

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ ছয় দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই গণরায়কে সম্মান জানায়নি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। পরবর্তীতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন শুরু হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বাঙালি সদস্যরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেন।

 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে বাঙালি সামরিক সদস্যরা যদি বিদ্রোহ না করতেন, তাহলে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। সীমিত সংখ্যক সৈনিকের নেতৃত্বে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং পরে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় এক লাখে পৌঁছে যায়।

 

রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, তার স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছিল এবং তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকেও সেই ঘোষণা দিয়েছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জনের জন্য যুদ্ধ করেননি; দেশের অস্তিত্ব, মানুষের জীবন ও মা-বোনের সম্মান রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

 

নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা যেন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলে।

 

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে সহজ অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তায় সরকারের গুরুত্বারোপ

সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার পাশাপাশি সহজ শর্তে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।    বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের এক সেমিনারে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এ কথা বলেন।   ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যে গতকাল শুরু হয় এই সোলার এক্সপো। দু’দিনব্যাপী প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার আন্তরিক। এ খাতের উন্নয়নে সেমিনারগুলোতে উঠে আসা সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   সোলার এক্সপোতে ব্যাপক সাড়া দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে এ শুভ সূচনাকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।   ‘বাংলাদেশের সোলার বিপ্লবের জন্য নীতি, জনশক্তি ও মূলধন’ প্রতিপাদ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে এ এক্সপোর আয়োজন করে।   এক্সপোর অংশ হিসেবে আয়োজিত চারটি বিশেষায়িত সেমিনারে সৌরবিদ্যুৎ খাতের নীতিগত পরিবেশ, সরকারি ভবনে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, আবাসিক ও শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং বিনিয়োগে অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।   সেমিনারগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর ও শুল্ক-সুবিধা অব্যাহত রাখা, স্বল্প সুদের ঋণ ও বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বেসরকারি মূলধন আকৃষ্ট করা এবং কার্বন ক্রেডিট থেকে আয় করার সুযোগ তৈরির সুপারিশ করা হয়।   এছাড়া সরকারি ভবনে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে ভবনগুলোর তালিকা তৈরি ও কাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিল্প ও আবাসিক খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে উন্নতমানের সরঞ্জাম আমদানি, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের ব্যবহার, নেট মিটারিং সহজ করা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা জোরদারের সুপারিশও উঠে আসে।   সেমিনারগুলোতে আলোচকরা বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি গ্রিডে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি এবং সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   এক্সপোতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, সোলার মডিউল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। এতে সরকারি সংস্থা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।   আয়োজকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এক্সপোতে ৮০টির বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন ও স্টল, ৫ শতাধিক প্রতিনিধি এবং ৫ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশ নেয়।   সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   সমাপনী দিনে এক্সপোর স্পনসর ও স্টলে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের পরিবেশবান্ধব গাছ সম্মাননা স্মারক হিসেবে দেওয়া হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাতাল মেট্রোরেলের চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

ছবি: সংগৃহীতছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের জন্য নির্মিত হবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল : শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
তিন উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু নির্মাণ এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ কেনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ।    ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) আওতায় এসব প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দেশটির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছে।   বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি), শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে ৩০০ কোটি ডলারের ইডিসিএফ কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিলের আওতায় ৩০টি প্রকল্পের জন্য ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।   মঙ্গলবার কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বৈঠকে ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।   এ সময় কেক্সিম জানায়, তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেট্রোরেলসহ প্রস্তাবিত তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান তিনি।   এ সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান কারিগরি সহায়তার প্রশংসা করেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে কোরীয় পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন, ভবিষ্যতে ইডিসিএফের সহযোগিতা এবং আইজিএনডিতে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে।   কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   এ ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে আলোচনায় আনা হয়। পাশাপাশি কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখে দুই পক্ষ।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের এআই কর্মসূচির সঙ্গে কোরীয় সরকারের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।   দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।   এ ছাড়া ইয়ংওনের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক একটি ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ সময় কোরীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার মূল্য সংযোজনভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে : শ্রমমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

‘এত সুন্দর ও শৃঙ্খলভাবে আগে বিমানবন্দর দেখিনি’, যাত্রীদের সন্তুষ্টির কথা জানালেন বিমানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
গণপূর্তের প্রকৌশলীদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন: গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে ওঠা অনিয়ম, গ্রেডিং শিট পরিবর্তন, পূর্বনির্ধারিত পদায়ন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এসব অভিযোগের সমর্থনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) পাঠানো এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।     বিবৃতিতে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। তদবির ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদিত নীতিমালার ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে উন্মুক্ত পরিবেশে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোও লটারি কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত ছিল বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।   বিবৃতিতে আরো বলা হয়, লটারির মাধ্যমে পদায়নের পর কোনো কর্মকর্তা প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে মানবিকভাবে তা বিবেচনা করা হচ্ছে।     মন্ত্রণালয়ের দাবি, বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নেওয়া এ লটারি পদ্ধতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও অনুসরণ করা হচ্ছে। অথচ এ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ১২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এ বিপুল অঙ্কের লেনদেনের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।     বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী হিসেবে সিনিয়র সাংবাদিক রুস্তম মল্লিকের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।     মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কে বা কারা তাঁর নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। উল্লিখিত অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততাও নেই।    মন্ত্রণালয় মনে করে, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা উত্থাপন করা প্রয়োজন। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি। অনুমাননির্ভর ও প্রমাণহীন অভিযোগ প্রকাশের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা অনাকাঙ্ক্ষিত।     বিবৃতিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পর্যটকের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, বাড়ছে পরিবেশের ওপর চাপের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত কাভার্ডভ্যান, চালক নিহত

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রচারকে ঘিরে ডিবি কার্যালয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজিব ঘোষ

0 Comments