রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর শিয়ালবাড়ী এলাকায় গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ১১টা ৫৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে জানান, আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও প্রচণ্ড ধোঁয়া এখনো ছড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে। আগুন মূলত দুটি গোডাউনে লেগেছে—একটি কাপড়ের, অন্যটি কেমিক্যালের।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন দ্রুত বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায় আগুন ধরে যায়। এতে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুনের ভেতরে প্রবেশে বেগ পেতে হচ্ছে। তারা দূরত্ব বজায় রেখে যতটা সম্ভব কাছ থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
রূপনগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এলাকায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে কাজ করছেন।
এখন পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাতের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব পদে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহের না হলে যেকোনো সময় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। পদোন্নতি, বদলি, অবসর এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ-এই চারটি প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে একযোগে ৬ থেকে ১০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পর্যায়ে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আরও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে যেসব সচিবের চাকরির মেয়াদ বা চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে, তাঁদের স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের বর্তমান কাঠামোকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সততা, দক্ষতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে কর্মদক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, প্রশাসনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিসকে সরিয়ে একই ব্যাচের কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পরিবর্তন করে নতুন সচিব নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি শেষ কারা হয়েছে। এদিকে আগামী ২৭ জুলাই অবসরে যাচ্ছেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.নজরুল ই্সলামসহ বেশ কয়েকজন সচিব। এসব পদে এবার নতুন সচিব নিয়োগ দেয়া হবে। আজ রোববার না হলে যে কোনো সময় প্রশাসনে সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হতে পারে। একসঙ্গে ৬ থেকে ১০ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিবকে রদবদল করা হতে পারে। পদোন্নতি, বদলি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা,মরহুমা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ও তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেগুলো সেভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছে বিএনপি। মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ: বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি কথা বলা হয়েছে। দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে ব্যক্তিগত দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশাসনিক নিয়োগ ও পদোন্নতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় নেয়া কার শুরু হয়েছে। মেধাভিত্তিক সমাজ ও প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য মূলত প্রশাসনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তা ইতোমধ্যে মেধাভিত্তিক ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে ১৭৯ জন কর্মকর্তাকে গত বৃহস্পতিবার পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ম সচিব করা হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সততা ও দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রশাসন মোটামুটি সেটআপ হয়ে গেছে, দুই-একটি জায়গা আছে, সেগুলোও হয়ে যাবে। সব জায়গায় ইতিবাচকভাবে কাজ চলছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে গেছে, বর্তমানে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত মোট ৮৪ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার মধ্যে ১০ জন বর্তমানে কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নেই। তাদের মধ্যে নয়জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। বাংলাদেশেররে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বিএনপি নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এখনো পর্যন্ত সচিব নিয়োগ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অধীনে থাকা সরকারি দপ্তরগুলো মধ্যে রয়েছে ,গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ), বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (পিইপিজেড), এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে সেটি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। সেখানে সচিব পদে আগে নিয়োগ নাও হতে পারে বলে জানা গেছে। আগামীতে যাদের পরিবর্তন করা হচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব নাসিমুল গণিকে সরিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদ,মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা-পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কারুজ্জামান চৌধুরী, এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের প্রস্তার রয়েছে। এছাড়া নতুন নিয়োগ পেতে পারেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিয়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মো. শাহজাহান মিয়া, ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান অতিরিক্ত সচিব সেলিম খান এবং সাবেক সচিব জাকির হোসেন কামাল, সাবেক সচিব এ কে এম ইহসানুল হক এবং ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. শেখাবুর রহমানসহ বেশ কিছু কর্মকর্তাদের। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি গত ২০২৪ গত ১৮ আগস্ট সিনিয়র সচিব হিসেবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যোগদান করেন। পরে তিনি ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসাবে কাজ করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এ এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার চুক্তির মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো.এহছানুল হককে পরিবর্তন করে নতুন সচিব নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি শেষ। তাদের নাম প্রস্তবনায় রয়েছে,তারা হলেন, ভুমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সাহেল আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং সাবেক শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমানের নাম প্রস্তবনায় রয়েছে। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ১৯৮২ বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তার মো. এহছানুল হক। এর আগে তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার আগে তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গত ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিযুক্ত হন। আগামী আগষ্ট মাসে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ভালো ও দক্ষ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে চায় সরকার। এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.নজরুল ই্সলাম আগামী ২৭ জুলাই অবসরে যাচ্ছেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হতে পাবে। এ মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, সাবেক শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান এবং বন্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর নাম প্রস্তবনায় রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলী আসতে পারে। সে গুলো হচ্ছে, বেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড, এ কে এম শাহাবুদ্দিন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো, মাসুদ রানা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার সহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দপ্তর পরিবর্তন করা হতে পারে। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে নতুন নিয়োগ দেয়া হবে।এ সংক্রান্ত ফাইলের অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের আগে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদের দুজন কর্মকর্তা নিজে থেকে সরে গেছেন। একজন হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ, অন্যজন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। এছাড়া ফ্যাসিবাদি আমলা হিসেবে পরিচিত তাদের মধ্যে গত মাসেব অবসরে গেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, মো. আবদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভুইয়া। আগামীতে অবসরে যাচ্ছেন,তারা হলেন, অর্থ বিভাগের সচিব ড, মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়র কাদের সিদ্দিকী বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। জনপ্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সচিব পদে ইসরাত চৌধুরী, মো. সাইফুল্লাহ পান্না, মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ফারজানা মমতাজ, মো. ওবায়দুর রহমান, মো. কামাল উদ্দীন, জাহেদা পারভীন, মো. মফিদুর রহমান এবং কাজী আনোয়ার হোসেন জনপ্রশাসনে সংযুক্ত রয়েছে। তাদের অবসরে পাঠানো হতে পারে। প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, সরকারের লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে দক্ষ, সৎ ও কর্মক্ষম কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা আরও বাড়ানো। সেই লক্ষ্যেই চলমান রদবদলকে প্রশাসনের স্বাভাবিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের একাধিক সূত্রের মতে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই সচিব পর্যায়ের এই বহুল আলোচিত রদবদলের আদেশ জারি হতে পারে।
কোনও ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সালিপুর এলাকার রাতনপুরে করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের গার্মেন্টস শাখা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী শনিবার (১১ জুলাই) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের ঘোষণাও দিয়েছেন মালিকপক্ষ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কারখানার মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) আশিক ফেরদৌস স্বাক্ষরিত নোটিশে কারখানা বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কারখানাটিতে প্রায় আট হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে গার্মেন্টস শাখায় কাজ করেছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। তবে কত হাজার কাজ করছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি শ্রমিকরা। আনুমানিক তিন হাজার হবে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন। শনিবার সকালে কর্মস্থলে এসে বন্ধের নোটিশ দেখতে পান তারা। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকাল থেকে কোনও ধরনের পূর্ব অবগতকরণ ছাড়াই করণী ফ্যাশনস লিমিটেড (গার্মেন্টস) শাখার শ্রমিকরা উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে শ্রমিকরা কারখানার প্রবেশ করে ওই দিনও উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা উৎপাদন কাজ শুরু করেননি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শ্রমিকদের দ্বারা বে-আইনি ধর্মঘটের কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী পরবর্তী কর্মদিবস শনিবার (১১ জুলাই) থেকে কারখানার সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। কারখানা খোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ নোটিশের মাধ্যমে খোলার তারিখ সবাইকে জানিয়ে দেবে। তবে, করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের নিটিং সেকশন এবং একই মালিকানাধীন অন্যান্য কারখানার জন্য এই বন্ধের নোটিশ প্রযোজ্য হবে না। তবে শ্রমিকদের দাবি, মালিকপক্ষ প্রতি মাসের বেতন একসঙ্গে পরিশোধ না করে ধাপে ধাপে দেওয়ায় বাসা ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। প্রতিবাদে উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন তারা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, ‘করণী ফ্যাশনস লিমিটেড শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকরা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ।’ এ ব্যাপারে জানতে করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাউর রহমান খানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই কারখানাটিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ।’ এর আগে গাজীপুর নগরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের অভিযোগে ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১ জুলাই সকালে শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে বন্ধের নোটিশ দেখতে পান।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও ছেলে সাফওয়ান সোবহান বিদেশযাত্রায় তিন মাসের অনুমতি পেয়েছেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির আবেদনটি মঞ্জুর করেন। সোমবার (৬ জুলাই) দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে রোববার (৫ জুলাই) বিদেশযাত্রায় অনুমতি চেয়ে তাদের পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী এনামুল হক সর্দার। পরে তাদের পক্ষে আইনজীবী মামুন চৌধুরী শুনানি করেন। অন্যদিকে বিরোধিতা করে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম, আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি ও আইনজীবী তরিকুল ইসলাম। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনায় আদেশের জন্য অপেক্ষায় রাখেন বিচারক। শুনানিতে দেলোয়ার জাহান রুমি বলেছেন, বিদেশযাত্রার অনুমতির আবেদনের বিরুদ্ধে আমরা ঘোর বিরোধিতা করে সকল তথ্য উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ অক্টোবর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। ওই সময় তৎকালীন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে আবেদনটি নামঞ্জুর করেন। একই আদালতে গত ১৯ মে সাফওয়ান সোবহান, আফরোজা বেগম ও সাবরিনা সোবহানের বিদেশাগমনের শুনানি হয়। তবে সাফওয়ান ও আফরোজের বিরুদ্ধে দুদকের দাখিল করা প্রতিবেদনে মানিলন্ডারিংয়ের সুস্পষ্ট তথ্য থাকায় তাদের বিদেশ গমের অনুমতি নামঞ্জুর করা হয়। ওইদিন সাবরিনা সোবহানের এক মাসের বিদেশযাত্রায় অনুমতি দেন। এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে আফরোজা ও সাফওয়ান হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ২২ জুন ওই আবেদন নটপ্রেস রিজেক্ট হয়। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানসহ তার পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন৷ শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবরদখল, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর, রূপান্তরসহ মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনের অপরাধের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জন্য দুদক অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। তারা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন। এ জন্য তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন।