বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলবেনিয়া। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাজরাম বেগাই এ প্রস্তাব দেন।
প্রেসিডেন্ট বেগাই জানান, আলবেনিয়ায় শ্রমবাজারে কর্মীর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশটির বেশ কিছু কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আবেদন করেছে। দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি পর্যটন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আশা ব্যক্ত করেন এবং আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলকে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও গতিশীল শ্রমশক্তি আলবেনিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন, কারণ বর্তমানে ভিসার জন্য আবেদন করতে নয়া দিল্লি যেতে হয়।
জবাবে প্রেসিডেন্ট বেগাই জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি তিনি উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ চিকিৎসক, নার্স, কারখানার কর্মী থেকে শুরু করে কৃষিশ্রমিক পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের শ্রমশক্তি সরবরাহে সক্ষম। এ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া প্রেসিডেন্ট বেগাই জানান, আলবেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ভর্তি স্কিমের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি এলে তার জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দাবি করেছেন, মার্কিন হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ইরান কোনো ইচ্ছাকৃত হামলা চালায়নি। এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মঙ্গলবার প্রায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। নতুন সামরিক অভিযানের আগে ইসরায়েল কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ১৬ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে গাজা ছাড়তে বাধা দেওয়ায় অনেক রোগীর মৃত্যু ঘটছে। তাদের দাবি, চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তথ্যসূত্র : আলজাজিরা।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উগ্র ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় মদদ দেওয়া এবং অর্থায়নে জড়িত ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলোর ওপর সমন্বিতভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ছয় দেশ- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা পরিচালনাকারী ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। তাদের সঙ্গে একই পথে হেঁটে মঙ্গলবার বাকি চারটি দেশও যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াল। পশ্চিম তীরে সম্প্রতি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ এল। কূটনীতিকরা বলছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করাই এই সহিংসতার উদ্দেশ্য। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের দখলে নেওয়া লাখো ফিলিস্তিনির এই ভূমিতে শত-সহস্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করেছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি ইহুদি নাগরিকদের এই বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই ভূমির সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংযোগের দাবি তুলে তা অস্বীকার করে আসছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের নীতি নেওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলোর ওপর ৬ দেশের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ওই পদক্ষেপে। মঙ্গলবার চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ সহিংসতা চালানো উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের (সেটেলার) জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ। পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধের ব্যবস্থা নিয়ে অর্থবহ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য তারা ইসরায়েল সরকারকে আহ্বান জানান বিবৃতিতে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের দেশে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা ইহুদিবিদ্বেষ আরও বাড়িয়ে তুলছে। মঙ্গলবারের এই নিষেধাজ্ঞায় একেক দেশ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো জানান, তারা ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বসতি স্থাপনকারী সংগঠনের চার নেতা এবং ২১ জন সহিংস ইসরায়েলি নাগরিকের ফ্রান্সে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তাদের নিষেধাজ্ঞা পশ্চিম তীরে উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর অর্থপ্রবাহ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি নির্মাণ সংস্থাও রয়েছে, যার সম্পদ ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কানাডাও অন্য একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। ওদিকে, ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের রোডম্যাপ বা রূপরেখা তৈরি নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ১২ জুন প্যারিসে একটি বৈঠক আয়োজন করেছে ফ্রান্স। সেখানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রায় এক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজছেন। আপাতদৃষ্টিতে দুই পক্ষ বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বাস্তবে, ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাকে দেখছে ক্ষমতার চোখ দিয়ে, আর ইরান দেখছে নিয়ন্ত্রণে রাখার মানসিকতা থেকে। ওয়াশিংটন চায় অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে নতিস্বীকার করাতে। অপরদিকে, ইরানের লক্ষ্য হলো মূল্যবান কিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার মাধ্যমে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে। বাস্তবতা হলো–জিম্মি সংকট ক্ষমতার ভারসাম্যকে ভেঙে দেয়। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের কূটনীতিক হিসেবেও টেবিলে ইরানের এই কৌশলের কাছে মার্কিন কর্মকর্তাদের অসহায় থাকতে হয়েছে। কারণ, তেহরান এমন কিছু নিজেদের দখলে রেখেছে, যা ওয়াশিংটন ফেরত চায়। নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে জিম্মি উদ্ধার ছাড়া ওয়াশিংটনের আর কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সময় সর্বদা ইরানের পক্ষে কাজ করে, কারণ তারা তাড়াহুড়ো না করে চাপ বাড়ার জন্য অপেক্ষা করে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এভিন কারাগার থেকে পাঁচ মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার কাতারে স্থানান্তর করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর ওয়াশিংটন আবারও সেই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়, যা আজও বহাল। একই কৌশলের বড় প্রয়োগ, জিম্মি বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে ইরান একই কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেছে। এবার তাদের জিম্মি কোনো মার্কিন নাগরিক নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’। বিশ্ব খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তেহরানের চোখে, হরমুজ প্রণালি এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান জিম্মি। সম্প্রতি ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটন যতক্ষণ না তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ফেরত দেবে, ততক্ষণ এই প্রণালি বন্ধই থাকবে। এই অর্থের মধ্যে ২০২৩ সালের সেই ৬০০ কোটি ডলারও রয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের কাছে বর্তমান আলোচনাটি আরেকটি জিম্মি চুক্তি, যেখানে এবার জিম্মি খোদ বিশ্ব অর্থনীতি এবং দাবির অঙ্ক চার গুণ বড়। মার্কিন চাপের সীমাবদ্ধতা ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে তেল রপ্তানি বন্ধের মাধ্যমে তেহরানের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফলে ইরান তীব্র মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতিতে পড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। কিন্তু তেহরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব জনগণের এই অর্থনৈতিক কষ্টকে পরোয়া করে না। সামরিকভাবে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার মার্কিন চেষ্টাও মুখ থুবড়ে পড়েছে। ট্রাম্প যদি আবারও সামরিক পথ বেছে নেন, তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মহসেন রেজাইয়ের মতে, অবরোধ না তুললে তারা যুদ্ধকে ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরে টেনে নিয়ে যাবে। অর্থাৎ, তারা আরও নতুন জিম্মি তৈরি করবে। ওয়াশিংটনের সামনে তিনটি পথ এই কারণে আলোচনা এখন পুরোপুরি স্থবির। ওয়াশিংটনের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথম পথ হলো ধৈর্য ধরা। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সহ্য করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করা। দ্বিতীয় পথ নতিস্বীকার করা। অর্থাৎ ট্রাম্পের জন্য প্রচণ্ড অবমাননাকর হলেও, ইরানকে কোটি কোটি ডলার দিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া। আর তৃতীয় উপায় হলো আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও সোজা, মূল্যবান সম্পদটি দখলে রাখো এবং অপেক্ষা করো। যতক্ষণ না এই সমীকরণের পরিবর্তন ঘটবে, ততক্ষণ ইরান সহজে হাল ছাড়বে না। দুই পক্ষ ছাড় না দিলে আলোচনাও এ অচলাবস্থায় আটকে থাকবে।