জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ‘পুলিশ জবাবদিহিতা কমিশন ২০২৫ (খসড়া)’ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করেছে।
সভাটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিনি কনফারেন্স রুমে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এছাড়া উপস্থিত থাকবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার।
সূত্র জানায়, সভায় কমিশনের কাঠামো, এখতিয়ার, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নাগরিক অংশগ্রহণ এবং কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এছাড়া, পুলিশি অনিয়ম ও নাগরিক হয়রানির অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র তদন্ত ইউনিট গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, কমিশনটি গঠিত হলে নাগরিক অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান,
“এই কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো পুলিশকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। এটি বাস্তবায়িত হলে পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উভয়ই উন্নত হবে।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পেশাদার, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ ফিরে এসেছে। মানুষ এখন এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি থাকবে না এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠলে দায়িত্ব পালন আরও কার্যকর ও সহজ হয়। বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দক্ষ ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তিনি বলেন, প্রতিবছরের পুলিশ সপ্তাহ জনগণের আস্থা অর্জনের নতুন অঙ্গীকার হয়ে উঠুক। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক, বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সব সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পুলিশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অবদান দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তার আগমনকে ঘিরে মসজিদের ভেতরে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এতে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে অন্তত দুই মুসল্লি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) জুমার নামাজ শেষে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কবরস্থান সিটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তবে আহত মুসল্লিদের নাম পাওয়া যায়নি। মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদে জুমার বয়ান চলাকালে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে অনেক নেতাকর্মী মসজিদে প্রবেশ করেন। তবে তার আগমনকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে কিছু নেতাকর্মী স্লোগান দিতে শুরু করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এতে মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া ধাক্কাধাক্কিতে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে যায়। সেই ভাঙা গ্লাসে কয়েকজন মুসল্লির পা সামান্য কেটে গেছে। মুসল্লি আলমাস মিয়া বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মসজিদে এলে তার সঙ্গে অনেক লোকজন এসেছে। এতে মসজিদের ভেতরে হইচই, ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগানের কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে কষ্ট হয়েছে। সবশেষে ওরা ধাক্কাধাক্কি করে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে ফেলেছে। সেই কাঁচের গ্লাস দিয়ে অনেকের হাত-পা কেটে যায়। এর আগে জুমার নামাজের খোতবার আগে মসজিদে এসে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, মুসলমানরা যদি সজাগ না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব হুমকি ও ষড়যন্ত্র আসছে, তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। তাই সবাইকে মসজিদে আসতে বলি, যাতে করে সবাই মসজিদমুখী হয়। এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এনসিপির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান বলেন, মসজিদের গেটে এসে মানুষের চাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা প্রথম থেকে মসজিদের ভেতরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তা কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা মসজিদের ভেঙে যাওয়া গ্লাস পুনঃস্থাপন করে দেবো।
বগুড়া ও আশপাশের জেলার যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং হিলি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা সরকারি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি প্রকল্পগুলোর দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে দিনাজপুরের হিলি পর্যন্ত সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। বর্তমানে আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত এই রুটকে মহাসড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। আরেকটি প্রকল্পের আওতায় বগুড়া শহরের বারপুর এলাকা থেকে নামুজা ও ক্ষেতলাল হয়ে জয়পুরহাট পর্যন্ত সড়ক চার লেনে সম্প্রসারণ করা হবে। এ ছাড়া বগুড়া শহরের চারমাথা থেকে নওগাঁ পর্যন্ত মহাসড়কও চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে প্রস্তাবিত বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির জন্য বিশেষ সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস লেন যুক্ত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চল। সড়ক অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে হিলি স্থলবন্দর ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলে একটি বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই সড়ক নেটওয়ার্ক সেই পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যাতায়াতের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।