ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের ভাণ্ডার রয়েছে। ২০২৩ সালের হিসাবে দেশটিতে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত আছে। এ পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি, এমনকি সৌদি আরব, ইরান ও কানাডার থেকেও এগিয়ে। কিন্তু এত বিপুল সম্পদ থাকার পরও দেশটি প্রত্যাশিত আয় করছে না।
মূল সমস্যা তেলের প্রকৃতিতে। ভেনেজুয়েলার প্রধান তেলক্ষেত্র ওরিনোকো বেল্টে অবস্থিত, যেখানে তেল অতিরিক্ত ভারী, ঘন ও সালফারসমৃদ্ধ। এই তেল উত্তোলন ব্যয়বহুল এবং উন্নত প্রযুক্তি ছাড়া সম্ভব নয়। তাছাড়া বাজারে এ ধরনের তেল হালকা ক্রুডের তুলনায় ছাড়ে বিক্রি করতে হয়।
২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি আয় দাঁড়ায় মাত্র ৪.০৫ বিলিয়ন ডলার। তুলনায় সৌদি আরব পেয়েছে ১৮১ বিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ১২৫ বিলিয়ন এবং রাশিয়া ১২২ বিলিয়ন ডলার। একসময় ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের বড় সরবরাহকারী ছিল। কিন্তু ১৯৯৮ সালে হুগো শাভেজ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয়করণ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পিডিভিএসএতে অব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদন কমতে শুরু করে।
নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ২০১৭ ও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির মার্কিন বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চীন, ভারত ও কিউবা ভেনেজুয়েলার প্রধান ক্রেতা হয়। যদিও ২০২২ সালে সীমিতভাবে মার্কিন কোম্পানি শেভরনকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়, সেই আয় সরাসরি ভেনেজুয়েলা সরকারের হাতে যায় না।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফিরে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসান। এতে ভারত সরে গেলেও চীন এখনও তেল কিনছে। এর মধ্যেই চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভেনেজুয়েলার দৈনিক রপ্তানি ৯ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়েছে, যা নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে আগের স্বাভাবিক উৎপাদনের তুলনায় এটি অনেক কম।
অর্থাৎ, বিশাল ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও জটিল উত্তোলন প্রক্রিয়া, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল অবকাঠামো ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা প্রত্যাশিত আয় করতে পারছে না। ফলে তেলসমৃদ্ধ দেশ হয়েও তারা এখনও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে।
তথ্যসূত্র : আল জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আবারও ইরানের ওপর তারা হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ হামলা ‘আত্মরক্ষার্থে’ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। মঙ্গলবার (৯ জুন) আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সেন্টকম আরও জানিয়েছে, গতকাল মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার হারানোর জবাব হিসেবে তারা এ হামলা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় জবাব দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে, এখন আমরা যা বলি তা করে দেখাচ্ছি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে তিনি আরও বলেন, আমি আরও মনে করি জবাব এটার মতো কঠোর ও শক্তিশালী হওয়া উচিত। এদিকে সেন্টকমের এ ঘোষণার পরপরই ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স দেশটির হরমোজগান প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, এ সময় প্রদেশটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সোমবার (৮ জুন) হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করলে ইসরায়েলকে হয়তো সম্পূর্ণ একা লড়াই করতে হতে পারে। গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটার পর তিনি এই মন্তব্য করলেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় কোনো প্রকার অজ্ঞতা বা বোকামির স্থান নেই বলে উল্লেখ করেন। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের সম্ভাব্য টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমি বিবিকে বলেছি, তোমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত, তা না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একা হয়ে যেতে হবে।’ রোববার (৭ জুন) ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আকস্মিক ও ভয়াবহ বোমা হামলা চালালে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান, যার জবাবে সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি পেট্রোমিক্যাল কারখানায় নিখুঁত বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা প্রয়োগ করছে। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন যে, তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার পর তারা আপাতত হামলা বন্ধ করেছে, তবে ইরান পুনরায় আক্রমণ করার ভুল করলে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার অবশ্য দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার এই উত্তেজনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই বাক্যবিনিময়কে দীর্ঘ বন্ধুত্বের মাঝে একটি সাময়িক উত্তপ্ত আলোচনা বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই জানেন যে ইসরায়েলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে তেল আবিব কোনোভাবেই চুপচাপ বসে থাকবে না। এই তীব্র আঞ্চলিক সংঘাতের জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকা এই যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারী, তাই লোহিত সাগরে জাহাজ আটক বা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের মতো যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য মার্কিন প্রশাসনই সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবে। তবে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ দাবি করেছেন, এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক নতুন উচ্চতা প্রদর্শিত হয়েছে, যা ইসরায়েলকে পুনরায় যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করতে বাধ্য করেছে। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক শান্তি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিশ্চিত করেছেন যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান নিয়মিত বার্তা বিনিময় করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও একটি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই সংঘাতের রেশ ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সোমবার সকালে লোহিত সাগরে ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েলি বাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। একই সাথে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার এবং নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিলিস বেনিস মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্পের এই মৌখিক সতর্কবার্তা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কাজে আসবে না যতক্ষণ না আমেরিকা ইসরায়েলকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের রক্ষা করা বন্ধ করছে। সূত্র: আল জাজিরা
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি আজ রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) ওই বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বরাবরই দাবি করে আসছে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে। দেশটির যোগাযোগ ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত কিম ইয়ো জংয়ের এ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, তাঁর মন্তব্যটি এসেছে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগমুহূর্তে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সি চিন পিং আগামীকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। তাঁর এ সফর মঙ্গলবার শেষ হবে। চীন উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা উত্তর কোরিয়ার জন্য বেইজিংয়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর এটিই হবে সি চিন পিংয়ের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। গত মাসে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টানা বৈঠক করেছেন।