জাতীয়

উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় আলোচনা

একই দিনে গণভোট জাতীয় নির্বাচন

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৫

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে। এই গণভোটে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর ওপর বিভিন্ন দলের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) উল্লেখ থাকবে না। তবে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নে ২৭০ দিনের বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেটিও তুলে দেওয়া হবে। এছাড়া পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে গঠিত হবে সংসদের উচ্চকক্ষ। অর্থাৎ জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উভয় পক্ষের যে দাবি রয়েছে, সেসব দাবি মানার ক্ষেত্রে সরকার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ভিত্তিতে সরকার এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় উল্লিখিত সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে এখনই এসব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি বিরোধে যেতে চায় না সরকার। এজন্যই দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাতে কমপক্ষে এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব বিষয় নিশ্চিত করেছে।

 

এদিকে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ চূড়ান্তকরণ এবং এ ব্যাপারে গণভোট নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ ধরনের মতবিরোধ উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় গণভোটের সময়, বিষয়বস্তু এবং সনদে উল্লিখিত ভিন্নমতের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে সরকারকে প্রস্তাব দিতে হবে। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে সিদ্ধান্ত। তা না হলে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

 

বৈঠকের একাধিক সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেখানেই গণভোটের ব্যাপারে বার্তা রয়েছে। এর ব্যাখ্যা করে বলা হয়, সরকার ৩ নভেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোকে সময়সীমা দিয়েছে। এক্ষেত্রে অনুরোধ করা হয়েছে এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে। কিন্তু সরকার ধারণা করছে, এ সময়ের মধ্যে হয়তো পারবে না। এতে আরও দুই-তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তারা এ ধরনের বার্তা পেয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় নভেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপরও তারা একমতে আসতে না পারলে সরকার আদেশ জারি করবে। এছাড়াও গণভোটসহ সনদ সংক্রান্ত অন্য সিদ্ধান্তগুলো জানাবে সরকার। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাবি-নভেম্বরের মধ্যে গণভোট করতে হবে। ফলে এ সময়ের মধ্যে গণভোট করা অসম্ভব। আবার ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। আর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট সম্ভব নয়। এ কারণে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে করতে হবে গণভোট। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ, বিএনপির অন্যতম দাবি ছিল জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট। আবার জামায়াতে ইসলামীর দাবি পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন। এটিও মানা হচ্ছে। এছাড়া সনদ বাস্তবায়ন সুপারিশে কিছু বিষয়ের সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেছেন। যেমন নির্বাচিত সংসদ (সংবিধান সংস্কার পরিষদ) ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে জুলাই আদেশের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে তা প্রতিস্থাপিত হবে। সরকার এই বাধ্যবাধকতা রাখতে চাচ্ছে না। এটি বিএনপিরও দাবি। অন্যদিকে সনদের যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট আছে, গণভোটে সেগুলো বাদ দেওয়া হবে। এটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দাবি। নির্বাচনের পর যে দল ক্ষমতায় যাবে, তারা গণভোটে পাশ হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে, না করলে জনগণ তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র আরও জানায়, সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকার সরাসরি বিরোধে জড়াতে চাচ্ছে না। কারণ, কোনো দল গণভোটের বিপক্ষে ক্যাম্পেইন করুক, সেটি কাম্য নয়। দ্বিতীয়ত, গণভোট যেহেতু সাধারণ মানুষ দেবে, তাই মানুষকে বোঝানো জরুরি-সরকার ঐকমত্যের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। 

 

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ চূড়ান্তকরণ এবং এতে উল্লিখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়। ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এছাড়া গণভোটের সময় ও বিষয়বস্তু কী হবে-এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এটি উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় গণভোটের সময়, বিষয়বস্তু এবং সনদে উল্লিখিত ভিন্নমতের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে-তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো স্বীয় উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এই পরামর্শ দিতে হবে। এতে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়াও সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্তে আসতে না পারলে সরকার সিদ্ধান্ত দেবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ইতোমধ্যে একটি দল আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। ফলে আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে তারা সমস্যার সমাধান করুক। 

 

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদে ৮৪টি প্রস্তাব করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এর মধ্যে বেশকিছু প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সংবিধান সংশোধনে রয়েছে ৪৮টি প্রস্তাব। এ পর্যন্ত বিএনপি, জামায়াতসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। এরপর ২৮ অক্টোবর সনদ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশ করেছে ঐকমত্য কমিশন। সুপারিশ অনুসারে প্রস্তাবগুলো তিন ভাগে বাস্তবায়ন হবে। ৯টি নির্বাহী আদেশে, ২৭টি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। এছাড়াও পরবর্তী সংসদ দুটি দায়িত্ব পালন করবে। প্রথমত, সংবিধান সংস্কার পরিষদ। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত আইনসভা। সুপারিশে আরও বলা হয়, আগামী সংসদে নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম অধিবেশন শুরুর ২৭০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংশোধন করবেন। এই সময়ের মধ্যে তারা সংবিধান সংশোধনে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হবে। এরপর ৪৫ দিনের মধ্যে পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। এক্ষেত্রে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট আমলে নেওয়া হয়নি। সুপারিশে আরও বলা হয়, সনদ বাস্তবায়নে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি ধরে সরকার একটি আদেশ জারি করবে। আদেশের নাম হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’। এই আদেশের ওপর হবে গণভোট। এই সুপারিশ জমা দেওয়ার পরপরই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি শুরু হয়। জামায়াত ও এনসিপি অধিকাংশ সুপারিশের পক্ষে। কিন্তু বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বিএনপি।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা

 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি।   রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।   ব্রিফিংয়ে নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে লংমার্চ সফল করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দেশবাসীও এতে অংশ নেবেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা পর্বে রাজধানীতে জনসমাবেশ হবে। পথে বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে সারাদেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।   নেতারা বলেন, ১১ দলের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।   সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে, কৃষক সার পাচ্ছেন না এবং জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।      তাদের অভিযোগ, বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। সরকার বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার না করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও দাবি করেন তারা।   পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ১১ দলের নেতারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান বলে জানান তারা।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।   নেতারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার কিংবা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যেন ‘এদিক-সেদিক উঁকিঝুঁকি’ না করে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে সরকার ধাবিত হলে এর পরিণতি ভালো হবে না—এটি তাদের স্পষ্ট বার্তা।   দেশবাসীকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এতে রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়া হবে।   বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   ব্রিফিংয়ে নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যার সমাধান করাই তাদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬

ধর্ষণ মামলার রায় শুনে আদালতে জ্ঞান হারালেন আ.লীগ নেতা

যে ফার্স্টলেডির মরদেহ চুরির ১৬ বছর পর উদ্ধার হয়েছিল

সার্ককে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বন্টন, কে দেখবেন কোন বিষয়

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।   রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।   পরিপত্র অনুযায়ী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।   অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), সমুদ্র আইন ও সমুদ্রসম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতির বিষয়গুলো দেখবেন।   পরিপত্রে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত দায়িত্ব বণ্টনে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদন রয়েছে।দায়িত্ব বণ্টনের ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত বিষয়ে দুই প্রতিমন্ত্রীর কাজের ক্ষেত্রও নির্দিষ্ট হলো।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৩, ২০২৬

বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-তুর্কি-পাকিস্তানের জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে যোগদানপত্র নিচ্ছেন জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রী পদ থেকে সরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন

সদ্য তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর আগে শনিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।   বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় প্রথম দফা রদবদল ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। এতদিন তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।   মন্ত্রীর পদ থেকে স্বপনের পদত্যাগ এবং তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার বিষয়টি শুক্রবারই জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এর পরদিন শনিবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   এদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। শুক্রবার তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।   জহির উদ্দিন স্বপন ছাড়াও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: সংগৃহীত

এক মাসের মধ্যে প্রাথমিকে আসছে নতুন নীতিমালা: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রত্যাহার ওসি

ছবি: সংগৃহীত

দূতাবাসে চাঁদার দাবিতে ইমেইল, আতঙ্ক ছড়ানোই উদ্দেশ্য: ডিবি

0 Comments