জাতীয়

উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় আলোচনা

একই দিনে গণভোট জাতীয় নির্বাচন

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে। এই গণভোটে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর ওপর বিভিন্ন দলের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) উল্লেখ থাকবে না। তবে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নে ২৭০ দিনের বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেটিও তুলে দেওয়া হবে। এছাড়া পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে গঠিত হবে সংসদের উচ্চকক্ষ। অর্থাৎ জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উভয় পক্ষের যে দাবি রয়েছে, সেসব দাবি মানার ক্ষেত্রে সরকার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ভিত্তিতে সরকার এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় উল্লিখিত সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে এখনই এসব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি বিরোধে যেতে চায় না সরকার। এজন্যই দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাতে কমপক্ষে এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব বিষয় নিশ্চিত করেছে।

 

এদিকে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ চূড়ান্তকরণ এবং এ ব্যাপারে গণভোট নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ ধরনের মতবিরোধ উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় গণভোটের সময়, বিষয়বস্তু এবং সনদে উল্লিখিত ভিন্নমতের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে সরকারকে প্রস্তাব দিতে হবে। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে সিদ্ধান্ত। তা না হলে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

 

বৈঠকের একাধিক সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেখানেই গণভোটের ব্যাপারে বার্তা রয়েছে। এর ব্যাখ্যা করে বলা হয়, সরকার ৩ নভেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোকে সময়সীমা দিয়েছে। এক্ষেত্রে অনুরোধ করা হয়েছে এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে। কিন্তু সরকার ধারণা করছে, এ সময়ের মধ্যে হয়তো পারবে না। এতে আরও দুই-তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তারা এ ধরনের বার্তা পেয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় নভেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপরও তারা একমতে আসতে না পারলে সরকার আদেশ জারি করবে। এছাড়াও গণভোটসহ সনদ সংক্রান্ত অন্য সিদ্ধান্তগুলো জানাবে সরকার। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাবি-নভেম্বরের মধ্যে গণভোট করতে হবে। ফলে এ সময়ের মধ্যে গণভোট করা অসম্ভব। আবার ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। আর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট সম্ভব নয়। এ কারণে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে করতে হবে গণভোট। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ, বিএনপির অন্যতম দাবি ছিল জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট। আবার জামায়াতে ইসলামীর দাবি পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন। এটিও মানা হচ্ছে। এছাড়া সনদ বাস্তবায়ন সুপারিশে কিছু বিষয়ের সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেছেন। যেমন নির্বাচিত সংসদ (সংবিধান সংস্কার পরিষদ) ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে জুলাই আদেশের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে তা প্রতিস্থাপিত হবে। সরকার এই বাধ্যবাধকতা রাখতে চাচ্ছে না। এটি বিএনপিরও দাবি। অন্যদিকে সনদের যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট আছে, গণভোটে সেগুলো বাদ দেওয়া হবে। এটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দাবি। নির্বাচনের পর যে দল ক্ষমতায় যাবে, তারা গণভোটে পাশ হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে, না করলে জনগণ তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র আরও জানায়, সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকার সরাসরি বিরোধে জড়াতে চাচ্ছে না। কারণ, কোনো দল গণভোটের বিপক্ষে ক্যাম্পেইন করুক, সেটি কাম্য নয়। দ্বিতীয়ত, গণভোট যেহেতু সাধারণ মানুষ দেবে, তাই মানুষকে বোঝানো জরুরি-সরকার ঐকমত্যের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। 

 

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ চূড়ান্তকরণ এবং এতে উল্লিখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়। ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এছাড়া গণভোটের সময় ও বিষয়বস্তু কী হবে-এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এটি উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় গণভোটের সময়, বিষয়বস্তু এবং সনদে উল্লিখিত ভিন্নমতের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে-তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো স্বীয় উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এই পরামর্শ দিতে হবে। এতে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়াও সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্তে আসতে না পারলে সরকার সিদ্ধান্ত দেবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ইতোমধ্যে একটি দল আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। ফলে আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে তারা সমস্যার সমাধান করুক। 

 

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদে ৮৪টি প্রস্তাব করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এর মধ্যে বেশকিছু প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সংবিধান সংশোধনে রয়েছে ৪৮টি প্রস্তাব। এ পর্যন্ত বিএনপি, জামায়াতসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। এরপর ২৮ অক্টোবর সনদ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশ করেছে ঐকমত্য কমিশন। সুপারিশ অনুসারে প্রস্তাবগুলো তিন ভাগে বাস্তবায়ন হবে। ৯টি নির্বাহী আদেশে, ২৭টি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। এছাড়াও পরবর্তী সংসদ দুটি দায়িত্ব পালন করবে। প্রথমত, সংবিধান সংস্কার পরিষদ। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত আইনসভা। সুপারিশে আরও বলা হয়, আগামী সংসদে নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম অধিবেশন শুরুর ২৭০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংশোধন করবেন। এই সময়ের মধ্যে তারা সংবিধান সংশোধনে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হবে। এরপর ৪৫ দিনের মধ্যে পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। এক্ষেত্রে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট আমলে নেওয়া হয়নি। সুপারিশে আরও বলা হয়, সনদ বাস্তবায়নে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি ধরে সরকার একটি আদেশ জারি করবে। আদেশের নাম হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’। এই আদেশের ওপর হবে গণভোট। এই সুপারিশ জমা দেওয়ার পরপরই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি শুরু হয়। জামায়াত ও এনসিপি অধিকাংশ সুপারিশের পক্ষে। কিন্তু বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বিএনপি।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
সব প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে : ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীকে সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে (পরিপত্র-১৮) এই নির্দেশনা জারি করা হয়। ইসি জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনে বিজয়ী এবং পরাজিত উভয় ধরনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। এমনকি যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন অথবা নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের ব্যয় করেননি, তাদেরও নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। সংস্থাটি আরো জানায়, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট ফরম-২২ এ এফিডেভিটসহ এই হিসাব জমা দিতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের পাশাপাশি এই রিটার্ন ও এফিডেভিটের অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে। বিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের ফরম-২২ক, ২২খ বা ২২গ এর নমুনায় হলফনামা দাখিল করতে হবে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি নির্ধারিত সময়ে ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হন বা আদেশ লঙ্ঘন করেন, তবে তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন। এ ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তিকে ন্যূনতম ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। জনসাধারণের তথ্যের জন্য জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত এই ব্যয়ের রিটার্ন ও দলিলপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। যে কেউ ফি প্রদান সাপেক্ষে এই নথিগুলো পরিদর্শন বা অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিটি দলিল পরিদর্শনের জন্য ১০০ টাকা এবং অনুলিপি বা উদ্ধৃতাংশের জন্য প্রতি পৃষ্ঠা ১০০ টাকা হারে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসি আরো জানিয়েছে, কোনো প্রার্থী বিধান লঙ্ঘন করলে রিটার্নিং অফিসারকে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন নেই, তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী

বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য হটলাইন চালু

ভারতের কাছে বাংলাদেশের নির্বাচন যেসব কারণে গুরুত্বপূর্ণ

ছবি : সংগৃহীত
বিটিসিএল এমভিএনও সিম ও ট্রিপল প্লে সেবার উদ্বোধন

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও)-এর মাধ্যমে আনলিমিটেড ট্রিপল প্লে সেবা চালু করা হয়েছে। বিটিসিএল-এর রমনা অফিসে গতকাল এ সেবার পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল জীবনকে সহজ, সাশ্রয়ী ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে আজ আমরা বিটিসিএল এমভিএনও সিম ও ট্রিপল প্লে সেবার পাইলট উদ্বোধন করা হলো। এটি একটি কনভার্জড ডিজিটাল উদ্যোগ, যেখানে ভয়েস, ডেটা ও এন্টারটেইনমেন্ট এক প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিটিসিএল দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান, যার রয়েছে প্রায় সব ধরনের টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স ও দেশব্যাপী ফাইবার নেটওয়ার্ক। এই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিটিসিএলকে নতুনভাবে রিব্র্যান্ড করে একটি আধুনিক ডিজিটাল সার্ভিস প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, এই ট্রিপল প্লে ধারণার মূল লক্ষ্য হলো-একটি সিম ও একটি সংযোগের মাধ্যমে ঘরে ও বাইরে নির্বিঘ্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। ব্যবহারকারী ঘরে থাকলে ওয়াইফাই এবং বাইরে থাকলে মোবাইল ডেটার মাধ্যমে একই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। আমরা ইতোমধ্যে এমভিএনও সিম, ‘আলাপ’ অ্যাপ, ‘জীপন’ ব্রডব্যান্ড এবং ওটিটি কনটেন্টের সমন্বিত পাইলট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। এই পুরো সিস্টেমটি বিটিসিএলের নিজস্ব প্রকৌশলীরা উন্নয়ন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে গ্রাহক জরিপের কথা উল্লেখ করে বিশেষ সহকারী বলেন, জরিপে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ও ব্রডব্যান্ডের যৌথ প্যাকেজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এটি বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করবে, সেবার মান বাড়াবে এবং পাইরেসি কমাতে সহায়ক হবে। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নির্বাচনের পরপরই রমনা ও গুলশান থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করা হবে। ভবিষ্যতে ডিভাইস সংযুক্ত কোয়াড প্লে ও দেশব্যাপী ফাইবার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মানুষের ডিজিটাল জীবনকে আরো সহজ ও সিমলেস করতে চাই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিটিসিএলের লক্ষ্য একটি আধুনিক, সমন্বিত ও গ্রাহকবান্ধব টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যা হবে সাশ্রয়ী, স্মার্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই এমভিএনও উদ্যোগ ওটিটি কনটেন্ট পাইরেসি হ্রাসে সহায়ক হবে, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বিটিসিএলের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিটিসিএলের এমভিএনও সেবা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে, যা একটি স্মার্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ডিজিটালি সংযুক্ত ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চেীধুরীসহ বিটিসিএল এবং টেলিটকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে এলডিপির ভূমিধস জয় : প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

ছবি : সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই : ইসি সচিব

ছবি : সংগৃহীত
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে দেশ পাল্টে যাবে, আর অপশাসন ফিরবে না: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে এবং দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না। সামনে যে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আজ সোমবার সকালে সচিবদের সঙ্গে গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব জানান, গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সীমিত পরিসরে বক্তব্য রাখেন এবং পরে সচিবদের সঙ্গে ছবি তোলেন। শফিকুল আলম জানান, আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, অতীতে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না; সেগুলো ছিল এক ধরনের ভুয়া নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অতীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রবাসীদের যে ভূমিকা ছিল, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ভূমিকা আরো মর্যাদাপূর্ণ ও সুসংহত হয়েছে। এখন থেকে তারা দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভোটদান প্রক্রিয়াকে সবার জন্য আরো সহজ করেছে। ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সে জন্যও আলাদা নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি জানান, ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন-৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নানা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রতিফলন করে যে, তারা বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত আগের তিনটি নির্বাচনের কোনো বৈধতা ছিল না এবং সে সময় উল্লেখযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকও আসেননি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে তেমন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। নেতারা যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে মানুষের উপস্থিতি বেশি হলেও প্রচারণা শান্তিপূর্ণ থাকছে। অধ্যাপক ইউনূস সচিবদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত ১৮ মাসে তারা যে কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সচিবরা সহযোগিতামূলক ভূমিকা রেখেছেন এবং এসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সামনে উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে কারখানা স্থাপন করবেন। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বিশাল সম্পদ, যা ভবিষ্যতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। এই বাস্তবতার কারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে নির্মিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার ও হটলাইন সেবা চালু

ছবি : সংগৃহীত

কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারে বাধা না থাকলেও গোপন কক্ষে নিষিদ্ধ : ইসি সচিব

ছবি : সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিতে বাধা নেই

0 Comments