জাতীয়

জুলাই অন্ততপক্ষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে: রিজভী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

ভয়ঙ্কর দানবের কাছে থেকে জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “এখন কমপক্ষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ সরকারের জোরালো সমালোচনা করলে তাকে গুম হতে হবে কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হবে— সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। জুলাই অন্ততপক্ষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।”  

 

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর উত্তরা আইইউবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতি এবং তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। 

 

রিজভী বলেন, “জুলাই সনদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটা নিয়ে সরকার বা সরকারি দল এবং বিরোধী দলগুলো আলোচনা করতে পারে। সেখানে যদি আরও কিছু কথা বলার বা সংযোজন করার থাকে, তবে তা করতে অসুবিধা কোথায়? সেগুলো আলোচনা করে যেসব বিষয় আইনিকরণ করা দরকার তা পার্লামেন্টে করে এবং যেগুলো সংবিধান সংশোধন করা দরকার তা সম্পন্ন করে আমাদের জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেটার জন্য তো একটি টেবিলে বসতে হবে, কথা বলে ঠিক করতে হবে এবং আইনিকরণ সম্পন্ন করতে হবে। এই কাজগুলো দ্রুতই করা দরকার। কারণ নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ঘটতে পারে; বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং দেশের বাইরে থেকে মদদ পেয়ে তারা নানাভাবে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।”  

 

তিনি বলেন, “জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও তীক্ষ্ণ। এই তাৎপর্যকে আমাদের আরও উপলব্ধি করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য আমাদের যেসব কাজ বাকি আছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তবে আমি আবারও বলি— রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কমপক্ষে কতগুলো ন্যূনতম প্রধান ইস্যুতে একটি ন্যূনতম সমঝোতা থাকতে হবে। সেই আন্ডারস্ট্যান্ডিং না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে; আর এই বিপন্ন হওয়ার পথে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাও বিঘ্নিত হতে পারে।” 

 

রিজভী জুলাইয়ের স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, “পানি লাগবে, পানি?— একটি বাক্য ছিল, কিন্তু তা যেন ছিল একটি মহাকাব্যিক বাক্য। সেই মুগ্ধ, এখানে শহীদ হয়েছে, আমরা তাকে এবং তাদের এই আত্মত্যাগকে ভুলে যেতে পারি না।” 

 

রিজভী বলেন, “স্বৈরাচার সরকার নির্বাচন কমিশনসহ সব ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউশন বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। তিনি যা বলতেন, মিডিয়ায় তাই প্রচার করতে হতো; সমস্ত মিডিয়া ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। ফ্যাসিস্টরা প্রত্যেকটি দেশেই এমনটা করে, আমাদের এখানেও তাই হয়েছে। বিচার বিভাগের কোনও স্বাধীনতা ছিল না। সরকারের দফতর থেকে যে রায় লিখে দেওয়া হতো, আদালত সেটাই পাঠ করে শোনাতো। নির্বাচন কমিশন একের পর এক তামাশার নির্বাচন করতে করতে নিজে একটি তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছিল।”  

 

তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে এবং চিরদিন ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্যে, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে। বেগম খালেদা জিয়াকে একটি জরাজীর্ণ কারাগারের মধ্যে রেখে দিয়েছিলো, যেন অসুস্থতা ও জরা-ব্যাধিতে তাকে পর্যুদস্ত ও বিপন্ন করা যায়। হিটলারও ঠিক একই কাজ করেছিলেন। যেসব দেশে ওয়ান-পার্টি সিস্টেম বা একদলীয় ব্যবস্থা থাকে, সেখানে ঠিক এই একই কায়দা ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়; এখানেও তাই করা হয়েছিল।”  

 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), ইঞ্জি. আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া সিম ও এমএফএস হিসাব বন্ধে আসছে কঠোর পদক্ষেপ

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠালেই নজরদারির আওতায় আসতে পারে কে টাকা পাঠালেন, কাকে পাঠালেন, কোথা থেকে পাঠালেন এবং লেনদেনের ধরন স্বাভাবিক কি না? ভুয়া সিম, প্রতারণামূলক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, অর্থ পাচার ও ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে এবার লেনদেনে নজরদারির নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে যাচ্ছে সরকার। এতে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং ও রিয়েল-টাইম লোকেশন তথ্য।     পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে তৈরি হবে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা।     ভুয়া সিম ও ভুয়া এমএফএস হিসাব শনাক্ত এবং বাতিলে গড়ে তোলা হবে পৃথক কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এমএফএস হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এনআইডি ও বায়োমেট্রিক যাচাই। এজেন্টদের কার্যক্রম নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে রাখতে চালু হবে ভার্চুয়াল ডিজিটাল সীমানা।   এমনকি কোনো গ্রাহকের মৃত্যুর ছয় মাস পর তার নামে নিবন্ধিত সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।     সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অগ্রগতি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) গড়ে তুলবে রিয়েল-টাইম লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।   এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে প্রতারণার ধরন, অস্বাভাবিক লেনদেন এবং অর্থ পাচারের সম্ভাব্য প্রবণতা।       বাংলাদেশ ব্যাংক, এনটিএমসি ও এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কোনো লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং লেনদেনের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।     ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রিয়েল-টাইম লোকেশন তথ্য সরবরাহের সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।     বিকল্প হিসেবে লেনদেনের সময় সংশ্লিষ্ট অ্যাপ চালু হলে জিওলোকেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।     এমএফএস এজেন্টদেরও ভার্চুয়াল ডিজিটাল সীমানার আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত এলাকার বাইরে এজেন্টের কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে এক এলাকার এজেন্ট আইডি ব্যবহার করে অন্য এলাকায় অবৈধ বা অননুমোদিত লেনদেন ঠেকানোর সুযোগ তৈরি হবে। এমএফএস হিসাব খোলার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্যের বাধ্যতামূলক যাচাই করা হবে। বিটিআরসির সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই যাচাই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুধু নতুন হিসাব নয়, পুরোনো এমএফএস হিসাবও যাচাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। গ্রাহকের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর মিলিয়ে দেখা হবে। ভুয়া বা অবৈধ ব্যবহারকারী শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক, এজেন্ট ও রিটেইলারদের শতভাগ ই-কেওয়াইসি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সিম নিবন্ধনে আনা হচ্ছে আরো কঠোরতা। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ছয় মাস পর তার নামে নিবন্ধিত সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থাকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্যভান্ডারসহ অন্যান্য সরকারি ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।     একটি এনআইডির বিপরীতে সব অপারেটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দুটির বেশি সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে করা হবে অতিরিক্ত যাচাই। সিম নিবন্ধনের সময় আঙুলের ছাপ ও মুখমণ্ডলের ছবিও কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাইয়ের আওতায় আসবে।     বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এমএফএস ব্যবহার করে অপরাধ, অর্থ পাচার ও মাদক ঠেকাতে সরকার একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এমএফএস সেবার অপব্যবহার বন্ধ হবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের মূল কর্মসূচি শুরু১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের মূল কর্মসূচি শুরু

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পূরণে নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
জনগণের আয় না বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে : জামায়াত আমির

গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের আয় না বাড়লেও তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।   সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের আয়-ইনকাম বাড়ছে না। আয় বৃদ্ধি না করে তার ওপর ব্যয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না।”   গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগস্ট মাসের জন্য মূল্য সমন্বয়ের কথা বলা হলেও এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সেপ্টেম্বরেও আবার দাম বাড়তে পারে। তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই সিলিন্ডার গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছিল।   জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, গ্যাস ও তেল খাত বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। তার মতে, সঠিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণকে আরও বেশি ভোগান্তিতে ফেলতে পারে।   দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এবং বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখা যাচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে এবং শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে স্থবির অবস্থায় আছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছবি আঁকা নিয়ে ঢাবির হলে শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ফেনী-বিলোনিয়া সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বিএনপিতে নতুন আলোচনা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জে এমপির সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক বাড়ি ও জমির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার আদালতে মামলা করেছেন।   সোমবার (১০ আগস্ট) দায়ের করা মামলায় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন— দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপন গ্রামের তাজুল ইসলাম, এবং মমতাজ বেগম।   মামলায় কী অভিযোগ:  মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগ নিয়ে তাকে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে এমপির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি রাজি হননি। মামলায় আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে আসামিরা তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং স্বাক্ষর না করলে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় এমপির অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিতে গেলে তাকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া, ওই সময় এমপির সমর্থক ওয়াকিব হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি দেখতে পান। পরে তাকে ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে পারভিন আক্তার মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন।   আদালতের নির্দেশ:  মামলাটি আমলে নিয়ে দিরাই আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাওছার আলম মামলাটি দায়ের করেন।   বাদীর বক্তব্য: পারভিন আক্তার বলেন, “নাছির স্ট্রোক করার পর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িটি লিখে নেওয়া হয়েছিল। এই বাড়ি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার পর আমি আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি।” তিনি জানান, আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মামলাটি গ্রহণ করেছেন।   আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া: অভিযোগের বিষয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, “আগে দেখি অভিযোগটা কী। মামলা হয়েছে, সেটাও জানি না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেব।” জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগগুলো সত্য নয়।” মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল রূপান্তরে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় এস্তোনিয়া

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরা থেকে ব্যাংকে নেওয়ার পথে ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই

ছবি: সংগৃহীত

পল্লবী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় এমপি গাজী নজরুলের আগাম জামিন

0 Comments