ওমরাহ পালনে নতুন ভিসা চালু করেছে সৌদি আরব। নতুন এই ভিসার আওতায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে একাধিকবার দেশটিতে প্রবেশ করা যাবে। তবে এই ভিসায় একজন ভ্রমণকারী সব মিলিয়ে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করতে পারবে।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সোমবার (২০ জুলাই) এক বছরের মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা চালুর ঘোষণা দেয়। ভিসাটি ইস্যুর তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন জানা যায়, সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০ ও পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় ওমরাহযাত্রীদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ করতেই নতুন এই ভিসা চালু করা হয়েছে। নতুন ভিসার আওতায় একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও প্রতিবার প্রবেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও শর্ত পূরণ করতে হবে। দেশ ছাড়ার পর ভিসাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হবে এবং পরবর্তী সফরের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে পুনরায় সক্রিয় হবে।
তবে হজ মৌসুমে এই ভিসা কার্যকর থাকবে না। জিলকদ মাসের প্রথম দিন থেকে জিলহজ মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ভিসাটি নিষ্ক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অনলাইন আসক্তি কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে আইন কার্যকর করেছে, আবার অনেক দেশে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে, আইন প্রস্তাব করেছে বা নতুন বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দেশে ইতোমধ্যে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। কোথাও বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, আবার কোথাও অভিভাবকের অনুমতি ও বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তুরস্ক আইন পাস করেছে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে কার্যকর হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে ইউরোপের অনেক দেশও একই পথে হাঁটছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিয়ম আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রিস, অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া, জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও কানাডাও বয়সসীমা নির্ধারণ বা নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি বিল মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটে ওঠার কথা রয়েছে। বিলটি পাস হলে সেপ্টেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করার আশা করছে সরকার। এ ছাড়া পর্তুগাল, স্পেন ও ইতালিতেও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে নতুন আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম, পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের দিকে ঝুঁকছে।
ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) জানিয়েছে, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তবে ভবিষ্যতে আর সংসদ অভিমুখে মিছিল করবে না। পুলিশের বাধার মুখে সোমবারের কর্মসূচিতে বহু মানুষ আহত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংগঠনটি। খবর রয়টার্সের। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল ঠেকাতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১৮ জন নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, আমরা গতকালের কর্মসূচি বাতিল করেছি, কারণ আমরা আর কোনো তরুণকে আহত হতে দিতে চাই না। তিনি আরও বলেন, পুলিশ আবারও তরুণদের আঘাত করবে, তাই আমরা আর মিছিল করব না। তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দীপকের দাবি, বর্তমানে ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। সোমবার দিল্লি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন প্রথমে অনলাইন ব্যঙ্গ প্রচারণা হিসেবে শুরু হলেও পরে বড় আকারের যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদিকে, সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। হালকা বৃষ্টির মধ্যেও তারা স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘নৌ অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। হুতিদের এই পদক্ষেপে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়া এবং পারস্য উপসাগরের বাইরেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। এক বিবৃতিতে হুতিদের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা চোখের বদলে চোখ নীতি অনুসরণ করে “অপরাধী সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করছে, যা তাৎক্ষণিকভাবেই কার্যকর হবে।” তাদের অভিযোগ, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব যে “অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধ চাপিয়ে রেখেছে” তার জবাবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হুতিদের এই ঘোষণার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। ইরান সংকটের কারণে এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ১০ শতাংশ কমেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাশা রিপোর্ট’- এর প্রতিষ্ঠাতা ও ইয়েমেনি বিশ্লেষক মুহাম্মদ আল বাশা বলেন, “এখন প্রশ্ন হল, হুতিরা সৌদি আরবের বন্দরের দিকে যাওয়া জাহাজগুলোকে নিশানা করা শুরু করবে কিনা সেটি। এই পর্যায়ে এর কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই।” তিনি আরও বলেন, “হুতিরা যদি কোনও জাহাজে হামলা নাও চালায়, তারপরও তাদের এই নৌ অবরোধের ঘোষণাই জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে এবং সৌদি আরবের বন্দরগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। হুতিরা হুমকিকে ছাড়িয়ে সরাসরি কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে যায় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।” গত সপ্তাহে হুতি নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে- এমন অভিযোগ করে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মাধ্যমে সৌদি আরব এবং ইরান-পন্থি হুতিদের মধ্যকার চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হয়।