আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এক সপ্তাহে ৯% বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের হামলায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

 

এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

 

বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল বুধবার সকালের বাণিজ্যে তেলের দাম বাড়লেও দিনশেষে কিছুটা কমেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৯৩.৯৩ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম হয় ৮৯.৪৪ ডলার। এক সপ্তাহে উভয় তেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি।


 
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন সম্পদ বা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরান কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি ‘একেবারেই মাথা ঘামান না’।

 

চলতি সপ্তাহের শুরুতে শুরু হওয়া সর্বশেষ হামলাগুলো প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রথম। এসব হামলা সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টাকে আরো জটিল করে তুলেছে এবং তেল সরবরাহে আরো বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক দিনে সর্বোচ্চ পরিমাণ।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়ে তথ্য জানিয়েছে।

 

কমান্ড বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি হামলার চেষ্টা করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরো সীমিত হয়ে পড়বে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের পাঁচ ভাগের প্রায় এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে ইরান কার্যত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।

 

আইআরজিসির আরো দাবি, তারা জর্দানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইনের এক মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

 

জর্দানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়েছিল। তবে এর মধ্যে ১০টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

এদিকে গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময় ডিজেল, হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুদ কমেছে দুই লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হামাসকে সন্ত্রাসী বলতে অনীহা কেন, ব্যাখ্যা দিলেন রা’আম প্রধান

ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিতে অস্বীকৃতির কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইসরায়েলের রা’আম পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাস। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য তাঁকে, তাঁর পরিবার ও দলের সদস্যদের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে দুই পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   ইসরায়েলের অধিকাংশ ইহুদি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করলেও ব্যতিক্রম রা’আম পার্টি ও জয়েন্ট আরব লিস্ট। এই অবস্থানের কারণে গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য ‘চেঞ্জ’ জোটে দল দুটির অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইসেনকোটের শর্ত, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।   গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ইসরায়েলে সরকার গঠনের আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ নেসেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৃহস্পতিবার রা’আম পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।   বৈঠকে আব্বাস জানান, তাঁর দল গাদি আইসেনকোটকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিচ্ছে। এ সময় প্রেসিডেন্ট হেরজগ জানতে চান, তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করেন কি না।   জবাবে আব্বাস রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে তাঁর দলের দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের বারবার এমন আনুগত্যের পরীক্ষায় ফেলাটা অসম্ভব।’   আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতিও সমর্থন জানান আব্বাস। তিনি বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানে তাঁর লক্ষ্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং হামাসসহ সব সামরিক ও সশস্ত্র সংগঠনকে নিরস্ত্রীকরণ করা।   বৈঠকে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের মহাপরিচালক ইয়াল শভিকি জানতে চান, হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিতে তিনি কেন অনীহা দেখাচ্ছেন।   জবাবে আব্বাস বলেন, ‘আমার কাছে একটি স্পষ্ট উত্তর আছে, কিন্তু আমাকে একটি সেতু হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিন, যাতে আমি অন্য পক্ষকেও প্রভাবিত করতে পারি।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সেতু। সেই সেতুটি আমরা ধ্বংস না করি। আমাদের সন্ত্রাসী সমর্থক বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবেন না।’   হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বললে নিজের ও পরিবারের পাশাপাশি দলের সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন আব্বাস। তাঁর ভাষায়, ‘এ বিষয়টি আমাদের জীবন-মরণের প্রশ্ন। আমাকে নিজের, আমার পরিবারের এবং দলের সদস্যদের রক্ষা করার সুযোগ দিন।’   নির্বাচনে মনসুর আব্বাসের রা’আম পার্টি আটটি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়েন্ট আরব লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন। আরব ভোটারদের অংশগ্রহণের ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।   জয়েন্ট আরব লিস্ট ইতোমধ্যে আইসেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সুপারিশ করার কথা জানিয়েছে। দলটি সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার আগ্রহ না দেখালেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম এমন সরকারকে শর্তসাপেক্ষ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   অন্যদিকে, রা’আম পার্টি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকারে অংশ নিতে আগ্রহী। দলটির প্রার্থী তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জায়নবাদী মতাদর্শের সাবেক আইনপ্রণেতা ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ইয়োয়াভ সেগালোভিৎজ।   ঐতিহাসিকভাবে ইসলামপন্থী রা’আম পার্টি ২০২১-২০২২ সালে গঠিত ইসরায়েলের তথাকথিত ‘পরিবর্তন সরকার’-এর অংশ ছিল। ওই সরকার সে সময় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৬, ২০২৬
নাশরা নাইম। ছবি: এআই সম্পাদিত

ভিপি নির্বাচিত হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাস গড়লেন ভারতের মুসলিম তরুণী

হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি সৌদির

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ

ইরান যুদ্ধের জেরে চাপে হেগসেথ, তাকে নিশানা করছেন ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চাপে ফেলতে যাচ্ছে বিরোধী দল। ইরান যুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন আইনপ্রণেতারা। অন্যদিকে, রিপাবলিকান নেতারাও নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য এই যুদ্ধকে দায়ী করছেন।   প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত হেগসেথের পাশে রয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হেগসেথ খুব ভালো কাজ করছেন। তবে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দুজনই সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এই যুদ্ধে হেগসেথ ছিলেন অন্যতম সমর্থক ও প্রধান মুখপাত্র।   কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে। পাশাপাশি সামরিক খাতে এবং যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়ন কমানোর সুযোগও তাদের হাতে রয়েছে।   প্রতিনিধি জেসন ক্রো বলেছেন, তিনি হেগসেথকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেবেন। তার অভিযোগ, হেগসেথ অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সেনাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।   প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধের বৈধতা নিয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।   তবে শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নন, রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেও চাপের মুখে রয়েছেন হেগসেথ। রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি আগামী সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আবারও উত্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। ম্যাসি বলেছেন, হেগসেথ পদত্যাগ করলে কেবল তিনি প্রস্তাবটি আর আনবেন না।   এর আগেও হেগসেথকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ম্যাসি। তবে ভোটাভুটি হওয়ার আগেই রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের অধিবেশন মুলতবি করেন।   দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন হেগসেথ। ইয়েমেনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের একটি সিগন্যাল গ্রুপ চ্যাটে ভুল করে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন দ্য আটলান্টিক সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক। ওই চ্যাটে হামলার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন হেগসেথসহ মার্কিন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।   এ ছাড়া ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে মার্কিন হামলা এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এসব বিষয়েও কংগ্রেসে তদন্তের পরিকল্পনা করছেন।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল/এএফপি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারাল নাসডাক

কিউবায় সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ ও ২ মানবাধিকারকর্মী মুক্তি পেয়েছেন

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কাছ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে ৬০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ফিলিপাইন

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বেতন উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বেতন উল্লেখ করা নিয়োগদাতাদের জন্য বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এ ঘোষণা দেন। বেতনসংক্রান্ত স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা তরুণদের চাকরি পেতে সহায়তা করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   সরকারের মতে, চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বেতন উল্লেখ থাকলে বিশেষ করে প্রথমবার চাকরিতে আবেদন করা তরুণদের সুবিধা হবে। একই সঙ্গে নারী-পুরুষের বেতনবৈষম্য কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।   চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচজন নিয়োগদাতার মধ্যে দুজনের কিছু বেশি সব সময় চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বেতনের পরিসর উল্লেখ করেন। তবে নির্দিষ্ট বেতনের অঙ্ক উল্লেখ করেন পাঁচজনের মধ্যে একজনেরও কম।   বার্নহ্যাম বলেন, চাকরির জন্য সময় ও শ্রম ব্যয় করে আবেদন করার আগেই একজন চাকরিপ্রার্থীর জানা উচিত, ওই পদে কত বেতন দেওয়া হবে।   প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, বেতন উল্লেখ বাধ্যতামূলক করতে শিগগিরই পার্লামেন্টে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব তোলা হবে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।   যুক্তরাজ্যে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ১০ লাখ তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন, যা দেশটির মোট এই বয়সী জনগোষ্ঠীর ১৩ শতাংশ। তরুণদের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরকারের একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন চলতি নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশের কথা রয়েছে।   বেতনসংক্রান্ত স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ অবশ্য যুক্তরাজ্যেই প্রথম নয়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অধিকাংশ বেসরকারি নিয়োগদাতার জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বেতনের পরিসর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ বিষয়ে নিয়ম গ্রহণ করে।     সূত্র: রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬

গৃহবন্দি হতে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব

এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও কণ্ঠ নকল করা হারাম: মক্কার ইমাম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাত শর্ত, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব

0 Comments