দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রফতানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রফতানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রফতানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রফতানি করতে পারবেন না।
রফতানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত
কোটা কমানোর পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— রফতানি নীতি ২০২৪–২৭ এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে; অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং প্রতিটি চালান রফতানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।
এছাড়া প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে; ভবিষ্যতে নতুন রফতানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রফতানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে; কোনও অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রফতানি করা যাবে না; আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন এফওবি রফতানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রফতানি করা যাবে না; জনস্বার্থে সরকার যেকোনও সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে এবং রফতানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানি করতে সক্ষম হয়।
সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রফতানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় রফতানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রফতানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রফতানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রফতানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রফতানি পরিচালনা করা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মাসে মাসে দাম সমন্বয়ের পরও গত পাঁচ বছরে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৩২ দফায় দাম বাড়িয়েছে। তবে একই সময়ে বিভিন্ন দফায় দাম কমানোও হয়েছে। সব মিলিয়ে ৯৭৫ টাকা থেকে সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার বেসরকারি পর্যায়ের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৯৭৫ টাকা। এরপর বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দাম পরিবর্তন করা হয়। প্রথম বছরেই দাম কয়েক দফা ওঠানামা করে। ২০২১ সালের এপ্রিলের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে মে ও জুনে দাম কমে ৯০৬ ও ৮৪২ টাকায় নেমেছিল। এরপর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দফা দাম বাড়ে। ওই বছরের নভেম্বরের শেষে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৩ টাকা। পরে ডিসেম্বরে এক দফায় ৮৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২২৮ টাকা করা হয়। ২০২২ সালে দাম বাড়ে সাত দফা, আর দাম কমে ৫ বার। তবে বছর শেষে ডিসেম্বরে গিয়ে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯৭ টাকা, আর পরের জানুয়ারিতে যা ছিল ১ হাজার ১৭৪ টাকা। ২০২৩ সালেও সাত দফা বাড়ানোর বিপরীতে ৫ দফা দাম কমানো হয়। ওই বছরের শুরুতে থাকা ১ হাজার ২৩২ টাকা থেকে ডিসেম্বরের শেষে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০৪ টাকা। যদিও ওই বছর সবচেয়ে কম দাম ছিল জুন মাসে, ৯৯৯ টাকা। ২০২৪ সালে সাত দফায় সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়। বছরের শুরুতে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৪৭৪ এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ টাকায় ওঠে। এরপর কয়েক দফা কমা-বাড়ার পর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দাম ছিল ১ হাজার ৪৫৫ টাকা। ২০২৫ সালে দাম বাড়ানোর প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল। বছরজুড়ে দুই দফা বাড়ানোর বিপরীতে একাধিক দফায় দাম কমানো হয়। নভেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমে ১ হাজার ২১৫ টাকায় নেমেছিল। আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৪৭৮ টাকা। চলতি বছরের (২০২৬) প্রথম চার মাসে আবারও এলপিজির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা করা হয়। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল। এরপর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, ২০২১ সালের এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ৯৭৫ টাকা; যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। দেখা যাচ্ছে, ৫ বছরে দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা, যা প্রায় ৯৯ শতাংশ। চলতি বছরের এপ্রিলের পর আগস্টে এক দফায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে এর আগে জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে আরও ১৩ টাকা কমিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোগান্তি বনাম সরকার ও মালিকদের উদ্যোগ বিইআরসি দফায় দফায় এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে বাজারে এই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। বরং নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার কিনে থাকেন গ্রাহকরা। সবশেষ সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির যে সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি, বাজারে সেই সিলিন্ডার ২ হাজার ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একদিকে সংকটের দোহাই দিচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। যদিও এলপিজি মালিকরা ২৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে দেখা করে ‘দেশে এলপিজির কোনও সংকট নেই’ বলে নিশ্চিত করেছেন। ওই সভায় দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক চিত্র উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। এনবিআরের সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, গত আগস্ট ২০২৬ মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং চলতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে (২২ তারিখ পর্যন্ত) ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। প্রদর্শিত উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে এলপিজির জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো। সুতরাং, বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনও ধরনের সংকট নেই বলে সভায় জানান এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা। এরপর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের কোথাও এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী। সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।মন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই। তবে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক রয়েছে বলে জানিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধ মজুত করা হলে সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে সংগঠনটি। পর পর এতগুলোর উদ্যোগের পর এলপিজির দাম সাধারণ মানুষ সরকার নির্ধারিত দামে পাবে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যে হারে দাম বাড়ানো হচ্ছে, তাতে ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে তা সামাল দেওয়া খুব কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, বিইআরসির নির্ধারিত দামে কোথাও বাজারে এলপিজি বিক্রি হয় না। ফলে ভোক্তাদের আরও বেশি দামে কিনতে হয়।’’ তিনি বলেন, ‘‘এলপিজি খাতে অনিয়ম প্রতিরোধের দায়িত্ব বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। দরকার হলে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন করে লাইসেন্স দিতে হবে। এলপিজি ব্যবসা কারও ব্যক্তিগত বা পৈতৃক সম্পত্তি নয় যে, ইচ্ছামতো দাম বাড়াবে এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে না।’’
গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০২৬ এ দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ১৩৯টি অর্থনীতির তালিকায় ২১ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। গতবারের তুলনায় নেপাল এক ধাপ এগিয়ে ১০৪তম অবস্থানে থাকায় আঞ্চলিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও নিচে নেমেছে। জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘পাওয়ারিং এন্টারপ্রেনারস অ্যাট দ্য ফ্রন্টিয়ার অব সায়েন্স’ শিরোনামে গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সের ১৯তম সংস্করণ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ৪০ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ৩৮তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। এরপর ভুটান ৭৪তম, শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, পাকিস্তান ৯৫তম এবং নেপাল ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স এর সূচক অনুযায়ী, ইনোভেশন ইনপুটের তুলনায় আউটপুটে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা ভালো। ইনোভেশন আউটপুটে বাংলাদেশের অবস্থান ৯২তম হলেও ইনপুটে ১১৫তম। ইনপুটের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অবকাঠামোয় বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম এবং বাজার সক্ষমতায় ৯৮তম। তবে মানবসম্পদ ও গবেষণায় ১২৭তম, ব্যবসায়িক সক্ষমতায় ১২৫তম এবং প্রতিষ্ঠানে ১১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আউটপুটের দুটি স্তম্ভের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি উৎপাদনে বাংলাদেশ ৯৫তম এবং সৃজনশীল উৎপাদনে ৮৭তম অবস্থানে রয়েছে। জ্ঞান হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, উদ্ভাবনে এগোতে হলে বাংলাদেশকে আগে জ্ঞান, মানবসম্পদ, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রতিষ্ঠান ও প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে হবে। তার মতে, শুরুতেই নতুন উদ্ভাবন তৈরির বদলে অন্য দেশের উদ্ভাবন স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার দিকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০২৬ এ ৬৬ দশমিক ৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এরপর রয়েছে সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর। ৫৭ স্কোর নিয়ে দশম অবস্থানে রয়েছে চীন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ (স্পেশালটি ড্রাগস) এবং এর প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর ‘এড ভ্যালোরেম’ বা মূল্যানুপাতিক শুল্ক আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাওয়া দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে গত ২ এপ্রিল পেটেন্টকৃত ওষুধ, বায়োলজিকস এবং এর কাঁচামাল বা উপাদানের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে একটি ঘোষণা জারি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া সব ধরনের ওষুধের ওপর এই শূন্য-শুল্ক সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির বিশেষায়িত ওষুধ ও এগুলোর উপাদানের ক্ষেত্রেই এই ছাড় পাওয়া যাবে। শুল্ক ছাড়যোগ্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে দুর্লভ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ (অরফান ড্রাগস), পারমাণবিক ওষুধ (নিউক্লিয়ার মেডিসিন), প্লাজমা থেকে উৎপাদিত থেরাপি, প্রজনন বা ফার্টিলিটি-সংক্রান্ত ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস, রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকির মুখে ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রাণিস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত পণ্য। বাংলাদেশ ছাড়া এ সুবিধার আওতাভুক্ত অন্য ১৯টি দেশ ও অঞ্চল হলো আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোনো বাণিজ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে—এমন দেশ থেকে পণ্য সরবরাহ করা হলে, অথবা পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলে এই শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে। যেসব পণ্য ‘জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা’ পূরণের অধীনে যোগ্যতা অর্জন করবে, সেসব পণ্যের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবে। বিশ্ব শুল্ক সংস্থার (ডব্লিউসিও) তথ্য অনুযায়ী, ‘এড ভ্যালোরেম’ শুল্ক হলো আমদানিকৃত পণ্যের মোট মূল্যের নির্দিষ্ট শতাংশের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা এক ধরনের শুল্ক বা কর। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাধারণ বা জেনেরিক ওষুধ ও এর উপাদান যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ২৩২’-এর ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্কের আওতায় পড়বে না। এ ছাড়া মূল ঘোষণাপত্রের বেশ কিছু কারিগরি দিক সংশোধন করা হয়েছে। এতে জেনেরিক ওষুধের পরিধি বাড়িয়ে পেটেন্টহীন প্রাণিস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত পণ্যকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিক্যালস’ বা ওষুধসামগ্রীর সংজ্ঞায় চূড়ান্ত প্রস্তুতকৃত ওষুধ, এগুলোর সক্রিয় উপাদান (এপিআই) এবং ওই উপাদানের মূল প্রারম্ভিক কাঁচামালকেও (কি স্টার্টিং ম্যাটেরিয়ালস) অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।