খেলাধুলা

বিগ ব্যাশে নাহিদ রানাকে নিতে আগ্রহী দুই দল, এনওসি নিয়ে অনিশ্চয়তা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বাংলাদেশের গতিদানব নাহিদ রানার অংশগ্রহণের জন্য ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। সংস্থাটির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ।

 

আসন্ন ডিসেম্বর ১২ থেকে জানুয়ারি ২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিবিএলের নতুন মৌসুমে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স এবং মেলবোর্নভিত্তিক একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ বেশ কয়েকটি দল রানাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

 

তবে বোর্ডের এক কর্মকর্তা বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমরা দেখছি কিছু বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রানাকে পেতে বেশ আগ্রহী। কিন্তু তার পক্ষ থেকে এনওসির জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন আমরা পাইনি। যদি সে আবেদন করে, তবে বোর্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে জাতীয় দলের ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচির কারণে তাকে এনওসি দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

 

বোর্ডের ওই কর্মকর্তা আরও জানান যে, সম্প্রতি গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ইনজুরি থেকে সেরে উঠেছেন এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও তিনি খেলতে পারেননি।

 

কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, সে (রানা) মাত্রই ইনজুরি থেকে ফিরেছে এবং আমাদের এই বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে। কারণ তাঁর ফিটনেস এবং ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

 

২৩ বছর বয়সী এই গতিদানব চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বোলিং অনুশীলনে ফিরেছেন। সেপ্টেম্বরের এশিয়ান গেমসে তার খেলা হচ্ছে না। তবে অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন বলে আশা করছে বিসিবি।

 

আফগানিস্তান সিরিজের পরপরই আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অক্টোবর-নভেম্বরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে জাতীয় দল, যেখানে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে।

 

এছাড়া, সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ভারতের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। নতুন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী। একই সাথে আগামী বছরের শুরুর দিকে ইংল্যান্ড দলকেও দুটি টেস্ট ম্যাচের সিরিজের জন্য আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশ।

 

সূত্র: ক্রিকবাজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিগ ব্যাশে নাহিদ রানাকে নিতে আগ্রহী দুই দল, এনওসি নিয়ে অনিশ্চয়তা

অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বাংলাদেশের গতিদানব নাহিদ রানার অংশগ্রহণের জন্য ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। সংস্থাটির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ।   আসন্ন ডিসেম্বর ১২ থেকে জানুয়ারি ২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিবিএলের নতুন মৌসুমে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স এবং মেলবোর্নভিত্তিক একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ বেশ কয়েকটি দল রানাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।   তবে বোর্ডের এক কর্মকর্তা বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমরা দেখছি কিছু বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রানাকে পেতে বেশ আগ্রহী। কিন্তু তার পক্ষ থেকে এনওসির জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন আমরা পাইনি। যদি সে আবেদন করে, তবে বোর্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে জাতীয় দলের ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচির কারণে তাকে এনওসি দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।   বোর্ডের ওই কর্মকর্তা আরও জানান যে, সম্প্রতি গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ইনজুরি থেকে সেরে উঠেছেন এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও তিনি খেলতে পারেননি।   কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, সে (রানা) মাত্রই ইনজুরি থেকে ফিরেছে এবং আমাদের এই বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে। কারণ তাঁর ফিটনেস এবং ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।   ২৩ বছর বয়সী এই গতিদানব চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বোলিং অনুশীলনে ফিরেছেন। সেপ্টেম্বরের এশিয়ান গেমসে তার খেলা হচ্ছে না। তবে অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন বলে আশা করছে বিসিবি।   আফগানিস্তান সিরিজের পরপরই আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অক্টোবর-নভেম্বরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে জাতীয় দল, যেখানে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে।   এছাড়া, সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ভারতের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। নতুন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী। একই সাথে আগামী বছরের শুরুর দিকে ইংল্যান্ড দলকেও দুটি টেস্ট ম্যাচের সিরিজের জন্য আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশ।   সূত্র: ক্রিকবাজ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২৩ বছর পর পাকিস্তানে ফিরছে সাফ গেমস, অংশ নেবে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

২৪ মাসে দ্বিতীয় অপরাধ, আইসিসির শাস্তি পেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের রেকর্ডের পর এবার ব্যালন ডি’অর চান এমবাপে

ছবি: সংগৃহীত
১৭ বছরেই মেসি-ওয়েনের চেয়েও এগিয়ে ইয়ামাল!

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই লামিন ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত হয়েছেন। বয়সের তুলনায় তার পারফরম্যান্স ও পরিপক্বতা এতটাই নজরকাড়া যে সাবেক ইংলিশ ফুটবলার স্টিভ ম্যাকম্যানামান তাকে এই বয়সের লিওনেল মেসি ও মাইকেল ওয়েনের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। এমনকি নিজের দেখা সেরা তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে ইয়ামালকে তাদের চেয়েও এগিয়ে রেখেছেন তিনি।   বার্সেলোনার তরুণ উইঙ্গার ইতোমধ্যে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাকম্যানামানের মতে, এত অল্প বয়সেই ইয়ামাল নিজেকে একজন বিশ্বমানের তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সামনে তার আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।   সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকম্যানামান ইয়ামালের প্রশংসা করে বলেন, তারকা হওয়ার বিষয়ে ইয়ামালকে নিয়ে কোনো সংশয় নেই। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পারফরম্যান্স আরও পরিণত হবে বলে মনে করেন তিনি।   ইয়ামালের প্রশংসা করতে গিয়ে সাবেক এই ইংলিশ উইঙ্গার নিজের দেখা অন্য দুই প্রতিভাবান ফুটবলার মেসি ও ওয়েনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তার মতে, ১৬-১৭ বছর বয়সে মেসি কিংবা ওয়েন যতটা ভালো ছিলেন, ইয়ামাল এই বয়সে তাদের চেয়েও এগিয়ে।   ম্যাকম্যানামানের এই মন্তব্যের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ মাইকেল ওয়েন কিশোর বয়সেই ইংল্যান্ডের ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিলেন। অন্যদিকে লিওনেল মেসিও অল্প বয়সেই বার্সেলোনার মূল দলে নিজের জায়গা করে নিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন।   তবে ইয়ামালের অসাধারণ প্রতিভার প্রশংসার পাশাপাশি সতর্কতাও জানিয়েছেন ম্যাকম্যানামান। তার মতে, এত কম বয়সে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠার ফলে অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার চাপ তরুণ এই ফুটবলারের জন্য ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।   এ ক্ষেত্রে গাবি ও পেদ্রির উদাহরণ দিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার কারণে তরুণ বয়সেই দুজনকে বড় ধরনের চোটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাই ইয়ামালকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে তার ম্যাচের সংখ্যা ও শারীরিক চাপ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মনে করেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা।   ম্যাকম্যানামানের আশা, চোটমুক্ত থেকে ইয়ামাল তার বর্তমান উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন। প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে ইয়ামালের প্রভাব দেখা যাবে বলেও মনে করছেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে নতুন ভূমিকায় কেভিন পিটারসেন

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিপক্ষে জিতে পাকিস্তানের সর্বনাশের শুরু

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান ক্রিকেটকে কটাক্ষ করে যা বললেন ডি ভিলিয়ার্স

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একের পর এক পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা নতুন নয়। তবে দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় থেকে ক্রিকেটাররাও যে পুরোপুরি মুক্ত নন, সেটিই স্পষ্ট করে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। ইংল্যান্ড সফরে টানা দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তানের ব্যাটিং নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, এই দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতি এখন সাহস ও লড়াইয়ের মানসিকতায়।   ইংল্যান্ড সফরের শুরুটাই হয়েছে পাকিস্তানের জন্য হতাশাজনকভাবে। হেডিংলি ও লর্ডসে প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। চার ইনিংসের একটিতেও ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি পাকিস্তান। প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র তিন দিনে। দ্বিতীয় টেস্ট চতুর্থ দিন পর্যন্ত গড়ালেও সেটির বড় কারণ ছিল বৃষ্টি।   এমন পারফরম্যান্সের পর বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটে পিসিবি। সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, দলে সুযোগ দেওয়া হয় বেশ কয়েকজন তরুণকে। একই সঙ্গে টেস্ট কোচের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়। সরফরাজ আহমেদের জায়গায় দায়িত্ব পান সাদা বলের কোচ মাইক হেসন।   তবে ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, পাকিস্তানের সমস্যা কেবল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়; মাঠে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যেও ঘাটতি রয়েছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন,   ‘বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটে পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে সেই বাড়তি পরিশ্রম করার মানসিকতা আমি দেখি না। তাদের যথেষ্ট সাহস নেই, সেই লড়াইও নেই।’   ডি ভিলিয়ার্সের চোখে টেস্ট ক্রিকেট কেবল দক্ষতার পরীক্ষা নয়, এটি একজন ক্রিকেটারের চরিত্রেরও পরীক্ষা। সেই জায়গাতেই বর্তমানে পাকিস্তান পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।   তার ভাষায়, ‘সব সময় সুন্দর ক্রিকেট খেলতে হবে এমন নয়। কখনও কখনও ব্যাপারটা কদাকার হতে পারে, দেখতে খুব খারাপও লাগতে পারে। কিন্তু আপনাকে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।’   নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণও টেনেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই অধিনায়ক। তার কাছে ক্রিকেট ব্যক্তিগত রেকর্ড অর্জনের চেয়ে মাঠে নিজের চরিত্র ও মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশের বিষয় ছিল।   ‘আমি যদি নিজের অহংকারের জন্য খেলতাম, তাহলে হয়ত অন্য রকম ক্রিকেটার হতাম। আমার কাছে বরং গুরুত্বপূর্ণ ছিল- আজ মাঠে আমি কতটা ক্যারেক্টার দেখাতে পারি।’   ডি ভিলিয়ার্সের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো ব্যক্তিগত নেতৃত্ব পাকিস্তান দলে এখন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, ‘আমি সব সময় মনে করতাম, টেস্ট ক্রিকেট আপনার ক্যারেক্টারের পরীক্ষা। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের হয়ত সেটাই নেই- একটু চরিত্র, একটু লড়াই।’   এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দলের চার-পাঁচজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সামনে থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু অধিনায়কের ওপর নেতৃত্বের ভার ছেড়ে না দিয়ে সিনিয়রদেরই তরুণদের সামনে উদাহরণ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন ডি ভিলিয়ার্স, ‘চার-পাঁচজন খেলোয়াড় একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিক- আমরাই নেতা হব, আমরাই উদাহরণ তৈরি করব। তরুণদের দেখাব, টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি জিততে কী করতে হয়।’   তবে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক দুর্দশার জন্য শুধু ক্রিকেটারদের দায়ী করেননি ডি ভিলিয়ার্স। পিসিবির দীর্ঘদিনের ‘চপিং অ্যান্ড চেঞ্জিং’ সংস্কৃতিকেও তিনি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন।   গত কয়েক বছরে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক, কোচ ও নেতৃত্ব কাঠামোয় একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। জেসন গিলেস্পি ও গ্যারি কারস্টেনের মতো কোচও নানা টানাপোড়েনের পর দায়িত্ব ছেড়েছেন।   এরই মধ্যে আবার নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরেছেন বাবর আজম। ডি ভিলিয়ার্সের প্রত্যাশা, এবার অন্তত বাবরকে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।   তিনি বলেন, ‘বাবর আবার ফিরেছে। আশা করি, এবার সে দীর্ঘ সময় সুযোগ পাবে, ফিট থাকবে ও আমরা যে বাবরকে চিনি, সেভাবেই রান করবে। তার সতীর্থদেরও সেই নেতৃত্ব অনুসরণ করতে হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইন্টার মিলানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সুখবর পেল রিয়াল

ছবি : রয়টার্স

পিছিয়ে পড়েও চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিল আর্সেনাল

সংগৃহীত ছবি

শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে কঠিন সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ নারী দল

0 Comments