অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে অবৈধ বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এসব ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ জনগণ চান না, অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য আমাদের দোকানে বিক্রির মাধ্যমে আমরা দখলদারিকে সমর্থন করি। অবৈধ বসতি স্থাপন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় একটি ‘সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা হবে। এতে ধর্মীয় প্রয়োজনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত ছাড়ও থাকবে।
অবৈধ বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণে সহায়তাকারীদের সতর্ক করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নিধন’ বা উচ্ছেদ চলছে—এমন বক্তব্যের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার একমত। তার অভিযোগ, ‘উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা’ ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রয়েছে।
মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিকে ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান অনুযায়ী ‘অবৈধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘস্থায়ী করার প্রচেষ্টা, স্থায়ী সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের নীতির কারণেই এমন অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর বিজ্ঞাপন প্রচারও নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি। তবে মিলিব্যান্ড স্পষ্ট করেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েল নয়; লক্ষ্য হলো অবৈধ বসতি ও এর সম্প্রসারণ।
এদিকে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি বা সহিংসতাকে সমর্থনের অভিযোগে আরো কয়েকজন ‘উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীর’ বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে বিদ্যমান বৈশ্বিক মানবাধিকার নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতা বাড়ানো হচ্ছে।
এর মাধ্যমে জেরুজালেমের পূর্বে প্রস্তাবিত ই১ বসতি প্রকল্পের উন্নয়ন ঠেকাতেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে উত্তর সাগরের জ্যাকডো গ্যাসক্ষেত্রের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। বুধবার দেওয়া এ অনুমোদনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে থাকা প্রকল্পটির উৎপাদন শিগগিরই শুরু হতে পারে। যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিক থেকেই এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেশের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রকল্পটি পূর্ণ উৎপাদনে গেলে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৬ শতাংশ বাড়বে। গ্যাসক্ষেত্রটির উৎপাদনকাল হতে পারে সর্বোচ্চ ১১ বছর। সরকারের দাবি, জ্যাকডো গ্যাসক্ষেত্র চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বেশির ভাগই আগে থেকে প্রস্তুত থাকায় দ্রুত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রকল্পটি নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগও রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারের সঙ্গে নতুন গ্যাসক্ষেত্র চালুর সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। গ্রিন পার্টির নেতা এই সিদ্ধান্তকে ‘জলবায়ুর জন্য ধ্বংসাত্মক’ বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ইউনাইট ইউনিয়ন সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। এই বিতর্ক সামাল দিতে সরকার নতুন এনার্জি ওয়েলথ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে ২০০ কোটি পাউন্ড দেওয়া হবে। উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস থেকে পাওয়া রাজস্বের অর্থ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তরের কাজে বিনিয়োগ করা হবে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানো, ব্রিটিশ কর্মীদের কাজের সুযোগ রক্ষা এবং জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের তেল-গ্যাস উৎপাদন ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে কমেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জ্বালানির দাম কমাতে উত্তর সাগরে খনন বাড়ানোর জন্য যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন। জ্যাকডো গ্যাসক্ষেত্রটি পরিচালনা করছে আদুরা নামের একটি যৌথ উদ্যোগ। এতে রয়েছে জ্বালানি খাতের দুই প্রতিষ্ঠান শেল ও নরওয়ের ইকুইনর। একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা রোজব্যাংক তেলক্ষেত্রের বিষয়ে এখনো অনুমোদন দেয়নি যুক্তরাজ্য সরকার। সূত্র: রয়টার্স
মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিবৃতি প্রকাশ করেছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আব্দুল বাসির এবং সিতি আক্তার। গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেফতারের পর তদন্ত করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে। পরে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে মসজিদের পবিত্রতা এবং সময় ও স্থানের মর্যাদা লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ডের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সৌদি আইনে ‘তাজির’ শাস্তির আওতায় বিচারক নির্দিষ্ট অপরাধের পরিস্থিতি বিবেচনায় শাস্তি নির্ধারণ করতে পারেন। এ মামলায় সেই বিধানের আওতায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়াও বিবৃতিতে দেশটির আইন ও ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর আগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া ওই নথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন। জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনকে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। এর পরেরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটি আক্তারকে। চিঠি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে ওই বন্দি তালিকায় তাদের কারো মৃত্যুদণ্ডের সাজার কথা উল্লেখ ছিল না। নথিতে বলা হয়, বন্দি তালিকায় ৯৭ জন বন্দির অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকলেও, এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলামে কোনো তথ্য দেওয়া ছিল না। সৌদি আরবে সাইবার আইন এবং ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যমতে, এর আগে সৌদি আরবে সাইবার অপরাধে বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, এমন কোনো নজির নেই। নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। এতে সাইবার অপরাধের তিনটি আলাদা মামলার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ছিল। এতে আরও বলা হয়েছে যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড বা তা কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনোভাবেই বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছে, যেখানে রায়ের অনুলিপি এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এদিকে, সুইটির পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান তিনি। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। পরে ফোন করে বাড়িতে জানান তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। সুইটির বাবা ফজল মিয়া বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। মা পরিবারের কাজ করছেন। সুইটির বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন। ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’
ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ‘লভ্যাংশ’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, এ ধরণের স্থাপনা স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি আরও ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর জোর দেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নিশ্চিত করতে ডেটা সেন্টার নির্মাণের পক্ষে রয়েছেন ট্রাম্প। তবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রকল্প স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘কোম্পানিগুলো যদি তাদের ডেটা সেন্টারকে জনপ্রিয় করে তুলতে চায়, তাহলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ও সেখানকার বাসিন্দাদের ‘লভ্যাংশ’ দিক।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমি পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কোনো এলাকায় যে ডেটা সেন্টারগুলো ব্যাপক অজনপ্রিয় ছিল, আর্থিক সমঝোতা হওয়ার পর সেগুলোই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সমঝোতা করুন, আর এগুলো নির্মাণ করুন!!!’ শিল্পখাতটির বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্রতিরোধের ওপর নজর রাখা সংস্থা ডেটা সেন্টার ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে অন্তত ৭৫টি ডেটা সেন্টার প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায় অথবা বিলম্বিত হয়। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই বিরোধিতা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিষয়টি একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে।