বিশ্ব

‘বাঙালি মাছ-মাংস খাবেই’, বাঘেশ্বর বাবাকে রাজ্য বিজেপির জবাব

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

দুর্গাপূজার সময়ে বাঙালিদের আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে ধর্মীয় বক্তা বাঘেশ্বর বাবা বা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পূজার সময়ে বাঙালিরা কী খাবেন তা ঠিক করে দেওয়ার কোনও অধিকার এই ধর্মীয় বক্তার নেই।

 

তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার অনুমতি না পাওয়া বাঘেশ্বর ধাম-এর প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে সম্প্রতি বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে বেশ জাঁকজমকভাবে স্বাগত জানানো হয়। রবিবার হাওড়ায় এক ধর্মীয় আলোচনায় তিনি উৎসব চলাকালে মণ্ডপের কাছাকাছি আমিষ খাবার বিক্রি বন্ধের দাবি জানান এবং রাজ্যবাসীকে নবরাত্রি পালনের আহ্বান জানান।

 

সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল লাইট জ্বালিয়ে জনসমর্থন চেয়ে বাঘেশ্বর বাবা বলেন, কারা আমিষ বিক্রি বন্ধ দেখতে চান? মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে তা দেখান। এই বার্তাটি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার এবং সরকারকে সচেতন করা প্রয়োজন। দুর্গাপূজার সময় পশ্চিমবঙ্গে মাংস ও মদের দোকান বন্ধ থাকা উচিত। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘যারা দুর্গাপূজার সময় আমিষ খাবার খান, তারা অপবিত্র’।

 

ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্যজুড়ে চরম বিতর্কের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টিকে বাঙালির দীর্ঘদিনের খাদ্যভ্যাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেন।

 

বিতর্কের মুখে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বাঘেশ্বর বাবা ‘অন্য দুনিয়া’ থেকে এসেছেন এবং তার কথায় বাঙালিদের বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, বাঘেশ্বর বাবার কোনও অধিকার নেই যে তিনি ঠিক করবেন বাংলার মানুষ কী খাবেন আর কী খাবেন না। বাঙালি মাছ ও মাংস খাবেই। স্বামী বিবেকানন্দও বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। বাঘেশ্বর বাবার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে, তবে তার এই মন্তব্যে বাঙালিদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

 

বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায় প্রশ্ন তুলে বলেন, বাইরে থেকে এসে কেউ যদি সব ঠিক করে দিতে চায়, তবে বাংলার মানুষের স্বাধীনতা কোথায় থাকবে? দুর্গাপূজা কমিটিগুলো মান্যতানুযায়ী যেভাবে পূজা করতে চায় সেভাবেই করবে। এখানে বাঘেশ্বর বাবা কোত্থেকে আসেন?

 

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির মুখপাত্র সুমন রায় চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজার সময়ে বাঙালি কী খাবে, তা বিজেপির কোনও ‘বাবা’ ঠিক করে দিতে পারেন না। আমরা এটি হতে দেব না। 

 

সূত্র: এনডিটিভি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগেই চীনের বাণিজ্যে জোয়ার

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মুখে গত আগস্ট মাসে চীনের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার এবং এআই সম্পর্কিত অন্যান্য প্রযুক্ত পণ্যের জোরালো বৈশ্বিক চাহিদার ওপর ভর করে চীনের এই পরাক্রমশালী বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে দেশটির রফতানি বার্ষিক ভিত্তিতে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ব্লেুমবার্গের অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস দেওয়া ২৫ দশমিক ৯ শতাংশের চেয়ে রফতানি বৃদ্ধি সামান্য কম ছিল।   অন্যদিকে আগস্টে আমদানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ২ শতাংশ। জুলাইয়ে আমদানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অবশ্য ব্লুমবার্গের জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া ৩১ শতাংশের চেয়ে আমদানির পরিমাণও কিছুটা কম ছিল।   চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শক্তিশালী এই বৈদেশিক বাণিজ্যই দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। চলতি বছর ইলেকট্রিক ভেহিকল, ভোগ্যপণ্য ও শিল্প যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বৈশ্বিক এআই খাতের দ্রুত বিস্তার চীনের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির নতুন গতি এনে দিয়েছে।   কাস্টমস ডাটা বা শুল্ক তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে চীনে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশ রফতানির মূল্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।   পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিওয়েই ঝাং বলেন, চীন তার অর্থনীতিকে সচল রাখতে এখনও রফতানিকারকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।   তবে বেশ কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের সঙ্গে চীনের বড় অঙ্কের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নতুন রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি করছে। বিদেশি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাজারে চীনা পণ্যের এই প্রভাব স্থানীয় প্রতিযোগিতা ও ব্যবসাকে চেপে ধরছে।   ঝিওয়েই ঝাং আরও জানান, জি২০ সম্মেলনে মার্কিন সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা চীনের সাথে থাকা এই বাণিজ্য ভারসাম্যের ঘাটতি বা বৈষম্য নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্য রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে জুলাইয়ে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ।   চলতি মাসেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের আগেই চীনের বাণিজ্যের এই নতুন পরিসংখ্যান সামনে এলো।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও চীন ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুল্কযুদ্ধের কারণে মার্কিন বাজারে পণ্য রফতানি আশঙ্কাজনকভাবে কমলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকায় শক্তিশালী রফতানি প্রবৃদ্ধি সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে দুর্লভ খনিজ বা রেয়ার আর্থস রফতানিতে চীন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে ওয়াশিংটন ও বেইজিং একে অপরের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক সাময়িকভাবে শিথিল করতে বাধ্য হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

‘বাঙালি মাছ-মাংস খাবেই’, বাঘেশ্বর বাবাকে রাজ্য বিজেপির জবাব

ভলকার তুর্ক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ভলকার তুর্ক

আসাদ আমলের ‘গোপন’ পরমাণু স্থাপনা প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল: গ্রোসি

ইরানের বিরুদ্ধে জয়ের পর তেলের দাম ‘হু হু করে’ কমবে: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ‘দ্রুত ও বড় ধরনের’ পতন হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম নেমে আসবে ৩ ডলারে। পরে তা আরও কমে ২ ডলারের নিচে চলে যেতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।   ট্রাম্পের ভাষ্য, তেলের দামে এই পতন খুব দ্রুতই দেখা যাবে।   ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরান ‘কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র’ অর্জন করতে পারবে না।   এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।   সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৭ ডলারে ওঠে। গত পাঁচ দিনে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। আর গত এক মাসে বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।   সোমবারের বাজারদর ২৪ জুলাইয়ের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ওই দিন ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৯৩ ডলারের ওপরে উঠেছিল।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

কঠোর শর্তে ১৬ দেশের কর্মীদের সহজ কর্মসংস্থান সুবিধা দিচ্ছে ডেনমার্ক

দিল্লিতে ভবন ধসের কারণ জানাল কর্তৃপক্ষ

নেপালে জাতীয় শোক, বন্যায় উদ্ধার ১,৩৪২ মরদেহ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে এই প্রথম কট্টর ডানপন্থি দল এএফডির জয়

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের রাজ্য নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। বুথফেরত জরিপ এর ফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম জার্মানির কোনও রাজ্যে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছালো ডানপন্থি দলটি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।   রবিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের রক্ষণশীল জোটকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে এএফডি। জার্মানির মূলধারার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক জোটের জনপ্রিয়তায় ধস এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার সুযোগে কট্টরপন্থি দলটির এমন উত্থান ঘটেছে।    যদি এএফডি রাজ্য সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, তবে তারা অভিবাসন কঠোরভাবে রোধ করা, রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, ইউক্রেনকে সহায়তা বন্ধ করা এবং ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইউরো) ত্যাগ করার মতো নিজস্ব জাতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি শক্তিশালী সুযোগ পাবে।    ভোট গণনা অব্যাহত থাকায় এএফডি একা সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফ এর মতে, ৭৭ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি এই নির্বাচনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।    এএফডির প্রার্থী উলরিখ সিগমন্ড ফলাফল প্রকাশের পর বলেন, আমরা এই দেশে একটি নতুন ইতিহাস রচনা করেছি।    নির্বাচনের ফলাফলকে ঐতিহাসিক অ্যাখ্যা দিয়ে দলের সহ-নেত্রী অ্যালিস উইডেল বলেন, আমরা নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য নির্বাচনে লড়েছি, ইউক্রেন বা অন্য কোনও দেশের জন্য নয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ করলো ইরান

কেপ ভার্দেতে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫

ইয়েমেনের মানচিত্র

তাইজ-হোদেইদায় হুথিদের বিরুদ্ধে অগ্রগতির দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর

0 Comments