বয়স পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছানোর পর খাদ্যাভ্যাসে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়, তা বয়সের সাথে সাথে দেখা দেওয়া সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বা নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ, সম্পৃক্ত ও ট্রান্স ফ্যাট এবং পরিষ্কৃত শর্করা এড়িয়ে চলা উচ্চ রক্তচাপ ও প্রদাহের মতো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি সরাসরি কমাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্সিল অন এজিংয়ের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পঞ্চাশোর্ধ অবস্থায় সুস্থ থাকতে নিচের খাবারগুলোর গ্রহণ সীমিত করা উচিত।
১. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার
দীর্ঘদিন ধরে নোনতা খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও বয়স ৫০ পার হওয়ার পর তা কমিয়ে ফেলা উচিত। সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা।
সোডিয়াম গ্রহণের মাত্রা দিনে ১ চা চামচে সীমাবদ্ধ রাখলে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত:
২. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
বয়স বাড়ার সাথে সাথে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এড়িয়ে চলা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা সম্পৃক্ত ফ্যাট বয়স্কদের মৃত্যুর ঝুঁকি, বিশেষ করে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। সম্পৃক্ত চর্বির উৎস কমাতে যে খাবারগুলো সীমিত করা উচিত:
৩. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার
যে কোনো বয়সেই চিনি খাওয়া সীমিত করা ভালো (নারীদের জন্য দিনে ২৫ গ্রামের বেশি এবং পুরুষদের জন্য ৩৬ গ্রামের বেশি নয়)। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠাকে কঠিন করে তোলে। এমনকি এটি স্মৃতিশক্তি হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে। এড়িয়ে চলার মতো খাবারগুলো হলো:
৪. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো বর্তমান খাদ্যভাণ্ডারে অত্যন্ত পরিচিত হলেও এগুলোতে অতিরিক্ত লবণ, ফ্যাট ও চিনি মেশানো থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে তোলে এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি যেসব মানুষ কম অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়েছেন, তাদের প্রদাহ কম ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত ছিল। যে খাবারগুলো ডায়েট থেকে বাদ দেওয়া উচিত:
৫. অ্যালকোহল
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান দ্রুত স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সঙ্গে জড়িত এবং এটি বয়স দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। বিপাকক্রিয়া ও শারীরিক গঠনের পরিবর্তনের কারণে বয়স বাড়ার সাথে সাথে অ্যালকোহলের প্রভাব আরও দ্রুত পড়তে পারে, যার ফলে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া এটি বয়সজনিত বিভিন্ন ওষুধের সঙ্গেও বিরূপ বিক্রিয়া ঘটাতে পারে।
৬. পুষ্টিহীন বা খালি ক্যালোরির খাবার
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীর যে পরিমাণ ক্যালোরি পোড়ায় (বেসাল মেটাবলিক রেট), তা প্রায় ৪৬.৫ বছর বয়স থেকে কমতে শুরু করে। শরীর যত ক্যালোরি প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি ও জটিলতা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিগুণহীন অথচ উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ‘খালি ক্যালোরি’র খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত:
বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেসব স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া উচিত
জীবনের দ্বিতীয় অর্ধে এসে পূর্ণাঙ্গ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের ওপর জোর দিন। পেশি ক্ষয় রোধ করতে পর্যাপ্ত প্রোটিন খান এবং অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই খাবারের স্বাদ বাড়াতে ভেষজ উপাদান ও মসলা ব্যবহার করুন।
এক্ষেত্রে আপনার খাবারের তালিকা যে খাবারগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করতে পারেন:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১৩-র জনপ্রিয় ছবি ‘ওয়ার্ল্ড ওয়র জ়েড’-এর সিক্যুয়েলে আবার গেরি লেনের চরিত্রে ফিরছেন হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিট। ছবিটি তৈরি করবে ‘প্যারামাউন্ট পিকচার্স’। পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন ‘কনক্লেভ’ এবং ‘অল কোয়ায়েট অন দি ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’-এর পরিচালক এডওয়ার্ড বার্গার। চিত্রনাট্য লিখবেন ব্রিটিশ লেখক ডেনিস কেলি। শুধু অভিনয় নয়, ছবির প্রযোজনার দায়িত্বও সামলাবেন ব্র্যাড। ডিডি গার্ডনার এবং জেরেমি ক্লিনারের সঙ্গে নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘প্ল্যান বি এন্টারটেনমেন্ট’-এর ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করবেন তিনি। তবে নতুন ছবির গল্প নিয়ে এখনও মুখে কুলুপ নির্মাতাদের। ২০১৩-এ মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার্ল্ড ওয়র জেড’-এ রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাক্তন তদন্তকারী আধিকারিক গেরি লেনের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল ব্র্যাডকে। আচমকাই ছড়িয়ে পড়া এক ভয়াবহ জম্বি মহামারির উৎস খুঁজতে গোটা বিশ্ব জুড়ে ছুটেছিলেন তিনি। ম্যাক্স ব্রুকসের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি সেই ছবি বিশ্ব জুড়ে বিপুল অঙ্কের ব্যবসা করেছিল। কিন্তু সিক্যুয়েলের পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না। এক সময় ডেভিড ফিঞ্চারের পরিচালনায় ছবিটি তৈরির পরিকল্পনা হয়েছিল। ব্র্যাডেরও ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। চলতি বছরের এপ্রিলেই প্যারামাউন্ট নতুন করে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়র জ়েড’ তৈরির কথা ঘোষণা করে। তখন অবশ্য পরিচালক বা অভিনেতার নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এ বার সেই ছবিতেই ব্র্যাডের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। বার্গারের সঙ্গে এটিই তার দ্বিতীয় কাজ। এর আগে দু’জনে আসন্ন মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘দ্য রাইডার্স’-এ একসঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে জম্বি-দুনিয়ায় গেরি লেনের প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি ব্র্যাড-বার্গার জুটির দ্বিতীয় অধ্যায় নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
হলিউড অভিনেত্রী মিলি ববি ব্রাউনের পরিবারে এসেছে নতুন অতিথি। ২২ বছর বয়সে দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ খ্যাত এই তারকা। স্বামী জেক বনজোভির সঙ্গে এবার একটি পুত্রসন্তানকে পরিবারে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবজাতকের ছোট্ট হাতের ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের সঙ্গে সুখবরটি ভাগ করে নেন মিলি। ছবিতে তার আঙুলে ‘মম’ লেখা একটি বিশেষ আংটিও দেখা যায়। পোস্টের সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘হাই, ছোট্ট বন্ধু!’ মিলি ও জেক ২০২৫ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো বাবা-মা হন। সে সময় তারা একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন। এবার পুত্রসন্তানকে পরিবারে যুক্ত করার মাধ্যমে চার সদস্যের পরিবার পূর্ণ হলো। ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত প্রচারের আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন মিলি ও জেক। তাই পরিবারের নতুন সদস্যের আগমনের খবরটি হঠাৎ প্রকাশ করায় ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আনন্দ ও বিস্ময়। ২০২১ সাল থেকে মিলি ও জেকের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৪ সালে তারা বিয়ে করেন। এরপর ২০২৬ সালের জুনে কাইলি কেলসির পডকাস্ট ‘নট গনা লাই’-এ ভবিষ্যতে আরও সন্তান দত্তক নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন মিলি। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, সমাজকর্মী হওয়ার লক্ষ্যে পড়াশোনার সময় থেকেই দত্তক নেওয়ার আইনি ও সামাজিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। ভবিষ্যৎ জীবনের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়টি দেখেন তিনি। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ ইলেভেন চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ব্রিটিশ অভিনেত্রী মিলি ববি ব্রাউন। এরপর ‘এনোলা হোমস’ ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন তিনি। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে ‘এনোলা হোমস ৩’ সিনেমায়।
পরিচালনার ২৫ বছর উপলক্ষে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী নির্মাণ করলেন বিশেষ নাটক ‘জোছনায় ফেরা’। বৈশাখী টিভিতে আগামীকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় প্রচার হবে নাটকটি। লেজার ভিশনের প্রযোজনায় নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, আইশা খান, দীপা খন্দকারসহ অনেকে। স্বামী-স্ত্রীর মান-অভিমান, আত্মদহন আর সন্দেহকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে নাটকের কাহিনি। খুবই সুখী দম্পতি আয়ান ও আয়রা। মোবাইল ফোনে একটা এসএমএসের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় দুজনের। ক্রমেই অশান্তির আগুনে পুড়তে থাকে দুজন, বাড়তে থাকে দূরত্ব। এরই মধ্যে বিদেশ থেকে এসে হাজির হয় আয়ানের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ক্রাশ অবন্তি। অশান্তির আগুনে পোড়া সংসারে হঠাৎ করে অবন্তির উপস্থিতি আগুনে ঘি ঢালার মতোই। নাটকের কাহিনি এগিয়ে চলে এভাবেই। নাটকের পরিণতি দেখার জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতে বলেছেন পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, যারা বৈশাখী টিভিতে মিস করবেন তারা দেখে নিতে পারেন লেজার ভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে। কারণ, ১৯ সেপ্টেম্বর এই চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি।