উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অন্তত ২৪ শিক্ষক। কিন্তু পড়াশোনা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেননি, ফেরতও দেননি শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া বেতন-ভাতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের কাছে জাবির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এসব শিক্ষক মাস্টার্স, পিএইচডি বা পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন।
জাবি শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মসংস্থান বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষকদের ৩০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় নিজ নিজ পদে যোগ দিতে হয়। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানের সময়ের অতিরিক্ত অন্তত তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি এ শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া সব বেতন-ভাতা প্রচলিত ব্যাংক হারে সুদসহ এককালীন পরিশোধ করতে হয়।
জাবির টিচিং সেকশনের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল কবির গত ১৪ জুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এই শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনকে অবসরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের মধ্যে অধিকাংশকে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে আবার বরখাস্তও করা হয়েছে। তাদের শিক্ষাছুটিতে যাওয়ার তারিখ থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্র জানায়, অধিকাংশ শিক্ষককে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর প্রশাসনের একাধিক নোটিশ ও ব্যাখ্যা চাওয়ার পরও সাড়া না দেওয়ায় কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়।
রেজাউল কবির বলেন, বকেয়া অর্থ ফেরত ও ব্যাখ্যা চেয়ে শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানায় অন্তত তিনটি করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ইমেইলও করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই কোনো জবাব দেননি।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম আবদুর রব জানান, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষাছুটি-সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্যের (একাডেমিক) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমরা প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখব এবং বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
পাওনা টাকা এখনও অপরিশোধিত
২০২৬ সালের ১৯ মে পর্যন্ত জাবির পাওনা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকারও বেশি। এর অর্ধেকের বেশি বকেয়া রয়েছে মাত্র ছয়জন সাবেক শিক্ষকের কাছে।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে দর্শন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামালের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার দেনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৮০ টাকা।জাবির নথি অনুযায়ী, ফয়সাল ২০১৫ সালে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য তার শিক্ষাছুটি ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, তিনি ২০২২ সালের জুনে দেশে ফিরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করেন এবং কিছুদিন পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে না।
যোগাযোগ করা হলে ফয়সাল বলেন, পড়াশোনা শেষ করে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলাম এবং কিছুদিন কাজও করেছি। পরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করি। আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম, আমার পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সঙ্গে বকেয়া সমন্বয় করে বাকি অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু তারা আগে পুরো টাকা পরিশোধ করতে বলেছে। এককালীন এত বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক প্রবাল দত্ত। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার বকেয়া ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ১৭ টাকা।
বর্তমানে ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ভাসায় ডক্টরাল গবেষক হিসেবে কর্মরত প্রবাল ইমেলের মাধ্যমে বলেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি জাবিতে আর যোগ দেননি।তিনি বলেন, আমি জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে ফিরব এবং শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া অর্থ পরিশোধ করব।
পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক ফেরদৌস খানের কাছে জাবির পাওনা ৪৪ লাখ ৯ হাজার ৩২৬ টাকা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তিনি পদত্যাগ করেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করা তারেক ইমেলে বলেন, এখনও পুরো টাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছি।
একই বিভাগের আরেক সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমানের কাছে জাবির পাওনা ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৭১ টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট থেকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এই প্রতিবেদকের ইমেলের জবাবে আজিজ বলেন, তিনি তার পরিস্থিতি রেজিস্ট্রার অফিসকে জানিয়েছেন এবং বকেয়া পরিশোধের জন্য একটি যৌক্তিক সময়সীমা নির্ধারণের অনুরোধ করেছেন।
তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো অর্থের ব্যবস্থা করতে পারলে বাংলাদেশে এসে বকেয়া পরিশোধ করব।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক নওরীন তাবাসসুমের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।
কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার জন্য তিনি ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাছুটিতে ছিলেন। পরে ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করার জন্য ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।
এরপর তাকে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতনহীন বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়।
তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি জাবিতে ফেরেননি। কম্পট্রোলার অফিসের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে তার জামিনদার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ অবসরে গেলে তার গ্র্যাচুইটি তহবিল থেকে ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৫ টাকা আটকে রাখা হয়। এরপরও নওরীনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭২৫ টাকা।
জাবির কম্পট্রোলার মো. মোসানুল কবির বলেন, নওরীন বকেয়া পরিশোধ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার জামিনদারের গ্র্যাচুইটির একটি অংশ আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বকেয়া পরিশোধ করলে ওই অর্থ অধ্যাপক আজাদকে ফেরত দেওয়া হবে।
অধ্যাপক আজাদ বলেন, আমি একাধিকবার নওরীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি সব যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তার স্থায়ী ঠিকানা ও ইমেলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদকের পাঠানো ইমেলেরও তিনি জবাব দেননি।
জাবির আরেক সাবেক সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ফজলুর রহমানের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি অনুযায়ী বকেয়া ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২ টাকা। গণিতের এই শিক্ষককে ২০০৭ সালের ১১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামে বায়োস্ট্যাটিস্টিকসের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ফজলুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উল্লেখ করা অঙ্কটি সঠিক নয়।
ইমেইলে তিনি জানান, প্রকৃত বকেয়ার তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় তিন গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর আমি কম্পট্রোলার অফিসে একটি চিঠি দিয়েছিলাম, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকা আমার সব তহবিলের বিস্তারিত হিসাব চেয়েছিলাম। সেই তথ্য পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
এ বিষয়ে কম্পট্রোলার অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রচলিত ব্যাংক হারে সুদ যুক্ত হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বকেয়ার পরিমাণ বেড়েছে।
করণীয় কী
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেননি এবং পাওনা পরিশোধ করেননি, তারা শিক্ষক হিসেবে নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন। এটি প্রতারণার শামিল।
তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি দুর্নীতির আওতায় পড়ে।
তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। বর্তমানে কেউ বিদেশে অবস্থান করলে প্রচলিত আইনের আওতায় অনুপস্থিতিতেও তাদের বিচার করা যেতে পারে।
জাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, শিক্ষকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা অত্যন্ত অনৈতিক।
তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পারি না। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষে কেউ কেউ আর ফিরে আসতে চান না।
জাবির সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদেশে অবস্থানকালে শিক্ষাছুটির সুবিধা পাওয়া শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নে অবদান রাখা।
তিনি বলেন, কোনো কারণে যদি তারা ফিরতে না পারেন, তাহলে অন্তত জনগণের অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত। তা না করা অনৈতিক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অন্তত ২৪ শিক্ষক। কিন্তু পড়াশোনা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেননি, ফেরতও দেননি শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া বেতন-ভাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের কাছে জাবির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব শিক্ষক মাস্টার্স, পিএইচডি বা পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন। জাবি শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মসংস্থান বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষকদের ৩০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় নিজ নিজ পদে যোগ দিতে হয়। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানের সময়ের অতিরিক্ত অন্তত তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি এ শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া সব বেতন-ভাতা প্রচলিত ব্যাংক হারে সুদসহ এককালীন পরিশোধ করতে হয়। জাবির টিচিং সেকশনের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল কবির গত ১৪ জুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এই শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনকে অবসরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের মধ্যে অধিকাংশকে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে আবার বরখাস্তও করা হয়েছে। তাদের শিক্ষাছুটিতে যাওয়ার তারিখ থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্র জানায়, অধিকাংশ শিক্ষককে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর প্রশাসনের একাধিক নোটিশ ও ব্যাখ্যা চাওয়ার পরও সাড়া না দেওয়ায় কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়। রেজাউল কবির বলেন, বকেয়া অর্থ ফেরত ও ব্যাখ্যা চেয়ে শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানায় অন্তত তিনটি করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ইমেইলও করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই কোনো জবাব দেননি। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম আবদুর রব জানান, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষাছুটি-সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্যের (একাডেমিক) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমরা প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখব এবং বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। পাওনা টাকা এখনও অপরিশোধিত ২০২৬ সালের ১৯ মে পর্যন্ত জাবির পাওনা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকারও বেশি। এর অর্ধেকের বেশি বকেয়া রয়েছে মাত্র ছয়জন সাবেক শিক্ষকের কাছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে দর্শন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামালের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার দেনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৮০ টাকা।জাবির নথি অনুযায়ী, ফয়সাল ২০১৫ সালে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য তার শিক্ষাছুটি ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, তিনি ২০২২ সালের জুনে দেশে ফিরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করেন এবং কিছুদিন পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে না। যোগাযোগ করা হলে ফয়সাল বলেন, পড়াশোনা শেষ করে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলাম এবং কিছুদিন কাজও করেছি। পরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করি। আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম, আমার পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সঙ্গে বকেয়া সমন্বয় করে বাকি অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু তারা আগে পুরো টাকা পরিশোধ করতে বলেছে। এককালীন এত বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক প্রবাল দত্ত। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার বকেয়া ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ১৭ টাকা। বর্তমানে ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ভাসায় ডক্টরাল গবেষক হিসেবে কর্মরত প্রবাল ইমেলের মাধ্যমে বলেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি জাবিতে আর যোগ দেননি।তিনি বলেন, আমি জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে ফিরব এবং শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া অর্থ পরিশোধ করব। পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক ফেরদৌস খানের কাছে জাবির পাওনা ৪৪ লাখ ৯ হাজার ৩২৬ টাকা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করা তারেক ইমেলে বলেন, এখনও পুরো টাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছি। একই বিভাগের আরেক সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমানের কাছে জাবির পাওনা ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৭১ টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট থেকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদকের ইমেলের জবাবে আজিজ বলেন, তিনি তার পরিস্থিতি রেজিস্ট্রার অফিসকে জানিয়েছেন এবং বকেয়া পরিশোধের জন্য একটি যৌক্তিক সময়সীমা নির্ধারণের অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো অর্থের ব্যবস্থা করতে পারলে বাংলাদেশে এসে বকেয়া পরিশোধ করব। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক নওরীন তাবাসসুমের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার জন্য তিনি ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাছুটিতে ছিলেন। পরে ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করার জন্য ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। এরপর তাকে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতনহীন বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি জাবিতে ফেরেননি। কম্পট্রোলার অফিসের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে তার জামিনদার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ অবসরে গেলে তার গ্র্যাচুইটি তহবিল থেকে ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৫ টাকা আটকে রাখা হয়। এরপরও নওরীনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭২৫ টাকা। জাবির কম্পট্রোলার মো. মোসানুল কবির বলেন, নওরীন বকেয়া পরিশোধ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার জামিনদারের গ্র্যাচুইটির একটি অংশ আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বকেয়া পরিশোধ করলে ওই অর্থ অধ্যাপক আজাদকে ফেরত দেওয়া হবে। অধ্যাপক আজাদ বলেন, আমি একাধিকবার নওরীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি সব যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তার স্থায়ী ঠিকানা ও ইমেলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদকের পাঠানো ইমেলেরও তিনি জবাব দেননি। জাবির আরেক সাবেক সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ফজলুর রহমানের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি অনুযায়ী বকেয়া ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২ টাকা। গণিতের এই শিক্ষককে ২০০৭ সালের ১১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামে বায়োস্ট্যাটিস্টিকসের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ফজলুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উল্লেখ করা অঙ্কটি সঠিক নয়। ইমেইলে তিনি জানান, প্রকৃত বকেয়ার তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় তিন গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর আমি কম্পট্রোলার অফিসে একটি চিঠি দিয়েছিলাম, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকা আমার সব তহবিলের বিস্তারিত হিসাব চেয়েছিলাম। সেই তথ্য পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। এ বিষয়ে কম্পট্রোলার অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রচলিত ব্যাংক হারে সুদ যুক্ত হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বকেয়ার পরিমাণ বেড়েছে। করণীয় কী ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেননি এবং পাওনা পরিশোধ করেননি, তারা শিক্ষক হিসেবে নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন। এটি প্রতারণার শামিল। তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি দুর্নীতির আওতায় পড়ে। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। বর্তমানে কেউ বিদেশে অবস্থান করলে প্রচলিত আইনের আওতায় অনুপস্থিতিতেও তাদের বিচার করা যেতে পারে। জাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, শিক্ষকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা অত্যন্ত অনৈতিক। তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পারি না। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষে কেউ কেউ আর ফিরে আসতে চান না। জাবির সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদেশে অবস্থানকালে শিক্ষাছুটির সুবিধা পাওয়া শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নে অবদান রাখা। তিনি বলেন, কোনো কারণে যদি তারা ফিরতে না পারেন, তাহলে অন্তত জনগণের অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত। তা না করা অনৈতিক।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটিকে উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুক্রবার (১৯ জুন) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মূলত শিক্ষিত তরুণ সমাজের ওপর নির্ভর করছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশ তার বৃহৎ জনসংখ্যাকে উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে। সঠিক শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ বৈশ্বিক পরিসরে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম রাশিদুল আলম শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার শপথ পাঠ করান। এ সময় উপ-উপাচার্যবৃন্দ, কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানজুড়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ে স্বাগত জানানো হয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো অধিকাংশ মানুষ শুধু জিপিএ-৫ অর্জনকে গুরুত্ব দেন, কিন্তু সৃজনশীল ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কম। আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানবসম্পদ রয়েছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে। এজন্য কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও জানান, সরকার ধীরে ধীরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় হচ্ছে, যা আগামীতে ৩.৫ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে এক বছরের মধ্যে আবাসিক হল নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়েও কাজ করার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।