জাতীয়

দৈনিক ৫ কোটি টাকার লেনদেন, সাড়ে ৬ হাজার সিমসহ গ্রেপ্তার ৬ জন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে পরিচালিত জুয়ার ওয়েবসাইট সমূহে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দৈনিক ৭০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার উপরে লেনদেন সংঘটিত হয়ে থাকে। যা দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। গাজীপুর ও কুমিল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল সরঞ্জামসহ অনলাইন জুয়া পরিচালনার চক্রের মূল হোতা আরিফুল ইসলাম রিফাতসহ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

 

ডিবি বলছে, এই চক্রের মূলহোতা অবৈধ এই জুয়া পরিচালনার মাধ্যমে দেশে চক্রের মূল হোতা আরিফুল দৈনিক ৫ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করতেন। আর দেশের বাইরে থেকে এই চক্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করতেন চাইনিজ নাগরিক নাতান। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন— মো. আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।

 

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিবি কর্তৃক গাজীপুর ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টি এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট সম্বলিত সিমকার্ড, ৬৭টি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, ৭০ এর অধিক মোবাইল ডিভাইস ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশন কর্তৃক সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়ার বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শনাক্ত করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েবসাইটগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাইটগুলোতে মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্টের ব্যবহার করা হয়। জুয়ার সাইট ও মোবাইল অ্যাপস থেকে প্রাপ্ত এমএফএস অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা আরিফুল ইসলাম রিফাত সহ ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা ডিবির সহায়তায় কুমিল্লা সদরের এলিট প্যালেস হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট সংরক্ষণের জন্য তারা বড় রেজিস্টার বই ব্যবহার করে অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে কাজটি পরিচালনা করত।

 

অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস পরিচালনার কাজে অনেকগুলো পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য কিছু পেমেন্ট কোম্পানি হলো পে কাশমা, গো পে, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্সই পে ও কুল পে। বাংলাদেশ কেন্দ্রিক জুয়ার সাইটে যেসব পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করে তার অধিকাংশই চাইনিজ নাগরিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এসব পেমেন্ট কোম্পানির বাংলাদেশে ব্যবসা চালানোর জন্য স্থানীয় প্রচলিত লেনদেনের মাধ্যম প্রয়োজন হয়। এই কারণে তারা অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের তুলনায় সহজলভ্য এবং দুর্বল মনিটরিংয়ের সুযোগের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব পেমেন্ট কোম্পানি এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকে। জুয়ার সাইট এবং অ্যাপস পরিচালনার জন্য সাধারণত এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্ট, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ও মার্চেন্ট এপিআই ব্যবহার করা হয়। এসব এজেন্ট অ্যাকাউন্টে হওয়া লেনদেন দিনশেষে হিসাব করে লভ্যাংশ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে এমএফএস পারসোনাল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এই অর্থ ব্যবহার করে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম (বাইন্যান্স, বাইবিট, বিটগেট প্রভৃতি) থেকে ক্রিপ্টো ডলার (ইউএসডিটি) ক্রয় করা হয়। পরবর্তী সময়ে পেমেন্ট কোম্পানির দেওয়া ওয়ালেট অ্যাড্রেসে ক্রিপ্টো ডলার পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, আরিফসহ যে চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ জানা গেছে, এখানে প্রায় দৈনিক ৫ কোটি টাকার লেনদেন করা হতো। আরিফ আগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। আরিফ অবৈধ উপার্জনের টাকায় বিলাশী জীবনযাপন করেন। কিছুদিন আগে পূর্বাচলে তার একটি বিএমডব্লিউ উল্টে গেছে। এরপর তিনি আবার একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন।

পুলিশে হাত থেকে বাঁচতে ভিন্ন কৌশলের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেখান থেকে তাকে ধরেছি, সেখানেও তিনি তিনটা রুম বুকিং করেছিলেন। তিনি যে রুমে ছিলেন, সেই রুমের ভাড়াই প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা। তিনি এখানে হয়ত চার-পাঁচ দিন থাকতেন। এরপর পুলিশ যখন তাকে লোকেট করবে, ঠিক তখন তিনি জায়গা পরিবর্তন করে অন্য কোনো হোটেলে বা কক্সবাজারে নামি-দামি হোটেলে রুম ভাড়া করতেন। দীর্ঘদিন তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই কৌশল অবলম্বন করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি এই চক্রের বস নাথানের ছদ্মনাম এলিয়েন। তিনি একজন চাইনিজ নাগরিক।

দেশে জুয়ার সাইট থেকে প্রতিদিন কী পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের দেশে ৭০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকা ট্রানজেকশন হচ্ছে।

এই সিমগুলো যেসব মার্চেন্ট বা দোকানদারের নামে রেজিস্ট্রেশন করা আছে, তাদেরকে আপনারা আইনের আওতায় আনবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এই সিমের মালিকদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করছি এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে। এর আগে যারা বিকাশ ও নগদ কোম্পানির সঙ্গে জড়িত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে অপহরণের ১০ দিন পর উদ্ধার সাড়ে ৪ মাসের শিশু, দম্পতি গ্রেপ্তার

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত সাড়ে চার মাস বয়সী শিশু মারুফা জান্নাত মাহিকে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর বন্দর থানার কমিশনার গলি কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। র‍্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) ও র‍্যাব-১৫ (কক্সবাজার) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ভোলা সদর উপজেলার ভদ্রপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আলম ওরফে নুরুল আলম (৩০) এবং তার স্ত্রী ত্রিশা ওরফে মারিয়া ওরফে সানজিদা আক্তার তিশা (২৫)।   র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া শিশু মারুফা জান্নাত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণ হালামীপাড়া গ্রামের মো. রশিদ উল্লাহ ও ইয়াসমিন আক্তার দম্পতির মেয়ে।   গত ২১ আগস্ট শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা-মা নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে তাদের সঙ্গে নুরুল আলম ও তার স্ত্রী ত্রিশার পরিচয় হয়।   পরদিন ২২ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ত্রিশা মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কোলে নিয়ে পাশের একটি ঘরে যান। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি শিশুটিকে নিয়ে ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাননি।   এর চার দিন পর, ২৬ আগস্ট দুটি মোবাইল নম্বর থেকে শিশুটির মায়ের কাছে ফোন করা হয়। ফোনে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।   এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।   র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অপহৃত শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   উদ্ধার হওয়া শিশু ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

মক্কা প্যাক্টে অংশ নিতে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন: কমবে ৮০ কিমি দূরত্ব, চট্টগ্রাম যেতে লাগতে পারে সাড়ে ৩ ঘণ্টা

ছবি: সংগৃহীত
১৬ মিনিটে লোকেশন, ১৭ মিনিটে এনআইডি—অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নাগরিকের তথ্য

বাংলাদেশে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইল ফোনের অবস্থান, কল রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, টিআইএন এবং মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য টাকার বিনিময়ে অনলাইনে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।   তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এসব তথ্য সরবরাহের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অর্ডার দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।   কয়েক মিনিটেই মিলছে এনআইডি ও অবস্থান: অনুসন্ধানে একটি পরীক্ষায় ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে তার মোবাইল নম্বর এবং ৫০০ টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর প্রায় ১৭ মিনিটের মধ্যে এনআইডির কপি পাওয়া যায়। অন্য একটি ক্ষেত্রে ভোটার নম্বর ও জন্মতারিখ দেওয়ার পর ১৫০ টাকার বিনিময়ে এনআইডির ‘সার্ভার কপি’ সরবরাহ করা হয়। তিন মাসের কল রেকর্ড পেতে ১ হাজার ৫০ টাকা দেওয়ার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টার মধ্যে একটি ফাইল সরবরাহ করা হয়। পরে ফাইলের সর্বশেষ ২০টি নম্বর, কলের সময় এবং কলের ধরন প্রকৃত কল তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে সেগুলো সঠিক পাওয়া যায়। অন্য একটি বিক্রেতার কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে মোবাইলের সর্বশেষ অবস্থান, সংশ্লিষ্ট টাওয়ার, ঠিকানা ও মানচিত্রে অবস্থান দেওয়ার দাবি করা হয়। অর্থ পরিশোধের মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে সেই তথ্য সরবরাহ করা হয়।   মূল্যতালিকায় নানা ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য: অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি ওয়েবসাইটের তথাকথিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে এনআইডির ‘সার্ভার কপি’, ২৫০ টাকায় মোবাইল নম্বর থেকে এনআইডি এবং ৯০০ টাকায় তিন মাসের কল তালিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ছয় মাসের কল তালিকার জন্য চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা। মোবাইলের ‘লাইভ লোকেশন’-এর দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। একই তালিকায় নগদের হিসাবের জন্য ৭ হাজার এবং বিকাশের তথ্যের জন্য ৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল্য উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠা, টিআইএন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, এসএমএসের তালিকা এবং মোবাইল ফোনের পরিচিতি নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্যও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে নেটওয়ার্ক: ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির এই কার্যক্রম শুধু বিচ্ছিন্ন কয়েকটি পোস্টে সীমাবদ্ধ নয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। এরপর মধ্যস্বত্বভোগীরা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে অর্থ জমা দিয়ে তথ্যের অর্ডার করেন। লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্ডার করা তথ্য পরে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুকের মাধ্যমে আরও বেশি দামে বিক্রি করা হয়। ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুসন্ধানে একটি নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে ৬৭৫টি পোস্ট শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৬০৫টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল। এসব পোস্টের সূত্র ধরে অন্তত ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়। এক মাসের অনুসন্ধানে তথ্য বিক্রির প্রচারণায় অন্তত ১১২টি মোবাইল নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি গ্রামীণফোন নম্বরই ৭৫টি পোস্টে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপেও বারবার ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।   সরকারি তথ্যভান্ডারে অননুমোদিত প্রবেশের আশঙ্কা: অনুসন্ধানে একজন ওয়েবসাইট মালিকের পরিচয়ও পাওয়া যায়। তিনি মুঠোফোন মেরামতের সঙ্গে যুক্ত। তার দাবি, তিনি অন্য একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে সরকারি কোনো সার্ভারে প্রবেশের নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা তার দাবির কারিগরি সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, কোনো ব্যক্তির একেবারে হালনাগাদ তথ্য দ্রুত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততা কিংবা তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতার আশঙ্কা থাকে।   দীর্ঘদিন ধরেই চলছে তথ্য কেনাবেচা: নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে এনআইডি ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের সরকারি পর্যায়ের একটি অনুসন্ধানেও এনআইডি ও কল রেকর্ড বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ২১টি হোয়াটসঅ্যাপ, ৪৮টি টেলিগ্রাম এবং ৭২০টি ফেসবুক গ্রুপ ও পেজের তথ্য পাওয়া যায়। কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লগইন তথ্য অপব্যবহারের বিষয়ও উঠে আসে। তবে এরপরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং ২০২৬ সালে নতুন করে শত শত বিজ্ঞাপন এবং একাধিক সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়ায় নাগরিক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।   সরকারি-বেসরকারি ডেটাবেজও ঝুঁকিতে: ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি শুধু অনলাইনে বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছরে সরকারি ডেটাবেজ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৩ সালে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের একটি সরকারি ওয়েবসাইটের কারিগরি দুর্বলতার কারণে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি ও ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়েও সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিভিন্ন সাইবার হামলা এবং তথ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংক, বীমা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার নিয়েও অননুমোদিত প্রবেশ ও তথ্য চুরির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অনলাইনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেখা গেছে। এসব সিভিতে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের তথ্য থাকার দাবি করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   তথ্য একত্র হলে বাড়ে অপরাধের ঝুঁকি: সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, একজন ব্যক্তির তথ্য আলাদাভাবে ফাঁস হওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি বিভিন্ন উৎসের তথ্য এক জায়গায় চলে এলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। নাম, এনআইডি, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, অবস্থান ও পেশাগত তথ্য একত্র করা গেলে একজন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি, প্রতারণা, লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিংসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করা সহজ হতে পারে।   দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের দাবি: অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, ব্যক্তিগত তথ্যের অবৈধ বাজার এখন একটি সংগঠিত কাঠামোর রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মধ্যস্বত্বভোগী এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—নাগরিকের তথ্য কোথা থেকে বের হচ্ছে, কারা তা সংগ্রহ করছে, কারা বিক্রি করছে এবং তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা দুর্বল হলে এর দায় কে নেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তথ্য ফাঁসের পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না। কোন উৎস থেকে তথ্য বের হচ্ছে, কীভাবে তা সংগ্রহ ও স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যভান্ডারে কোথায় নিরাপত্তার দুর্বলতা রয়েছে—এসব বিষয় শনাক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় কার্যকর নজরদারি, শক্তিশালী তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট এবং তথ্য ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এই অনলাইন তথ্যের বাজার আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

ঢাকার বাতাস আজ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস : প্রধানমন্ত্রী

স্পেনে অগ্নি দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসায় নতুন যুগ, দেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে ‘মেডবট তুমাই এন্ডোস্কোপিক সার্জিক্যাল রোবট’-এর মাধ্যমে সোমবার দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এর মধ্যে ৫৭ বছর বয়সী এক পুরুষের পিত্তথলির পাথর অপসারণে রোবোটিক কোলেসিস্টেকটমি এবং ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর জরায়ুতে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের চিকিৎসায় রোবোটিক হিস্টেরেকটমি করা হয়। ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ও প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন প্রথম অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারটি করেন হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ও প্রধান অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান শেলি। অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন বলেন, এটি একটি মাইলফলক। আমরা এই পরিবর্তনের অংশ হতে পেরেছি। তিনি জানান, রোবোটিক সার্জারিতে ব্যবহৃত রোবটের বাহু ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে। মানুষের হাতের তুলনায় এর নড়াচড়া বেশি হওয়ায় শরীরের সংকীর্ণ ও জটিল জায়গায়ও তুলনামূলক নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এতে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও আশপাশের অঙ্গ নিরাপদ রাখা, কম কাটাছেঁড়া, কম রক্তক্ষরণ এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম অস্ত্রোপচার করা রোগীকে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রচলিত অস্ত্রোপচারের চেয়ে খরচ দুই-তিন গুণ রোবোটিক সার্জারি প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় ব্যয়বহুল। অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন জানান, এ পদ্ধতিতে চিকিৎসার খরচ প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে। তবে দেশে রোবোটিক সার্জারির ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে খরচ কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, রোবোটিক সার্জারির নির্ভুলতা ও অন্যান্য সুবিধার কারণে বর্তমানে অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। দেশে এ সেবা চালু হওয়ায় তাদের একটি অংশ এখন দেশেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে রোবটটি আগে থেকেই আনা হয়েছিল। কয়েকজন চিকিৎসক বিদেশে গিয়ে এর ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তবে রোবোটিক সার্জারির জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন জানান, বৃহস্পতিবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনের কপি তাঁদের হাতে পৌঁছায়। এরপর সোমবার দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অধ্যাপক সামছাদ জাহান শেলি বলেন, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে রোবোটিক সার্জারি চালু হলেও বাংলাদেশ এতদিন এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। এখন দেশে এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি জানান, শিগগির হৃদরোগ, নিউরো, ইউরোলজি, জেনারেল, গাইনি ও থোরাসিক বিভাগেও রোবোটিক সার্জারি সম্প্রসারণ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশমুখিতা কমানো তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রিমোট রোবোটিক পদ্ধতিতে স্টেন্ট স্থাপনের একটি প্রক্রিয়া করা হয়েছিল। তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মোফাসসেল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে করা প্রক্রিয়া এবং ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে সম্পন্ন হওয়া দুটি অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, হৃদরোগ হাসপাতালে স্টেন্ট স্থাপনের প্রক্রিয়ার একটি অংশে রোবটের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে থাকা বিশেষায়িত রোবট সরাসরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে। তিনি আরও বলেন, হৃদরোগ হাসপাতালে রোবটটি প্রদর্শনের জন্য আনা হয়েছিল এবং সেটি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় কোনো অস্ত্রোপচার করা হয়নি। এ কারণে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে সম্পন্ন হওয়া অস্ত্রোপচারকে দেশে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রথম পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি বলা হচ্ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আকতার হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের পর ইউনাইটেড হেলথকেয়ারসহ দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে রোবোটিক সার্জারি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
থার্ড টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফ্লাইওভারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

থার্ড টার্মিনালে পিকআপ ভ্যান নিচে পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন চিফ হুইফ নূরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে ‘মাইনাস’ করা হয়েছে: আইপিইউর কাছে আওয়ামী লীগের নালিশ

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। ছবি: সংগৃহীত

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন চলতি সপ্তাহেই: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

0 Comments