বিশ্ব

ট্রাম্পের গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের পদত্যাগ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত এক নিয়োগের অবসান হলো। ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতপার্থক্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ৪৫ বছর বয়সী গ্যাবার্ড জানান, তার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস সম্প্রতি ‘অত্যন্ত বিরল ধরনের অস্থির ক্যানসারে’ আক্রান্ত হওয়ায় তার সেবাযতেœর জন্য তিনি জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ট্রাম্পকে লেখা চিঠিতে গ্যাবার্ড বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এ সময়ে তার পাশে থাকা এবং এই লড়াইয়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার জন্য আমাকে সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।’

সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য গ্যাবার্ড হাওয়াইভিত্তিক চিত্রগ্রাহক আব্রাহাম উইলিয়ামসকে হিন্দু রীতিতে বিয়ে করেন। নির্বাচনী প্রচারণার বিজ্ঞাপন ধারণের সময় তাদের পরিচয় হয় এবং সূর্যাস্তের সময় সার্ফিং করতে গিয়ে উইলিয়ামস তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে গ্যাবার্ডের প্রশংসা করে বলেন, ‘তুলসি অসাধারণ কাজ করেছেন এবং আমরা তাকে মিস করব।’ তিনি আরও বলেন, স্বামীর ক্যানসারের লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তিনি ‘যথার্থভাবেই’ নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট জানান, গ্যাবার্ডের ডেপুটি আরন লুকাস ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া প্রভাবশালী নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে গ্যাবার্ড চতুর্থ।

মার্চে ট্রাম্প স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করেন এবং এপ্রিলে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে অপসারণ করেন। একই মাসে একাধিক কেলেঙ্কারির মধ্যে শ্রমমন্ত্রী লোরি শাভেজ-দে-রেমের পদত্যাগ করেন।

তবে গ্যাবার্ডকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এমন প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেছে হোয়াইট হাউস।

তার চিফ অব স্টাফ অঅলেক্সা হেনিং এক্সে বলেন, ‘এটি মিথ্যা। তার স্বামী, যিনি অসাধারণ একজন মানুষ, বিরল ধরনের অস্থির ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ড্যাভিস ইঙ্গল বলেন, ‘তার স্বামীর অসুস্থতার কারণে হোয়াইট হাউস তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে এমন কোনো ইঙ্গিতই অপবাদ।’

সাবেক ডেমোক্র্যাট গ্যাবার্ডকে রিপাবলিকান ট্রাম্পের গোয়েন্দাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল। কারণ তিনি অতীতে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সমর্থন করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন।

কংগ্রেস সদস্য থাকাকালে গ্যাবার্ড বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন।

২০১৭ সালে ক্ষমতাচ্যুত সিরীয় নেতা বাশার আল-আসাদের সঙ্গে তার বৈঠক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ প্রচারণা ও ভুয়া ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগে তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

মার্কিন সরকারের নজরদারি কার্যক্রম নিয়ে তার অবস্থান এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) তথ্যফাঁসকারী অ্যাডোয়ার্ড স্লোডেনের প্রতি সমর্থনের কারণেও অনেকের সন্দেহের নজরে ছিলেন তিনি।

এসব বিতর্ক সত্ত্বেও ট্রাম্প তার নিয়োগ বহাল রাখেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তাকে ক্রমেই দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরুর ঠিক আগে ট্রাম্প যখন শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, তখন সেখানে গ্যাবার্ড উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও তিনি বারবার ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া যুদ্ধের যৌক্তিকতার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন বা পুরোপুরি সমর্থন দেননি।

গ্যাবার্ড ট্রাম্পের এই দাবি সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানান যে ইরান তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল, যে যুক্তিকে হামলার প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল প্রশাসন।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে দেখা গেছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ধ্বংস হওয়া পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ইরান পুনর্গঠন করছিল না। অথচ এটিও যুদ্ধের একটি বড় যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা গ্যাবার্ড আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য হিসেবে ইরাকে দায়িত্ব পালন করেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ বিদেশি যুদ্ধগুলোর বিরোধিতায় প্রভাবিত করে। একইভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পেন্টাগন প্রধান পিট হিগসেখও একই অবস্থান নিয়েছেন।

গ্যাবার্ডের মা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করলেও হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন এবং সন্তানদের সেই ধর্মীয় ঐতিহ্যে বড় করে তোলেন। ‘তুলসি’ নামটি হিন্দুধর্মে পবিত্র একটি উদ্ভিদের নাম এবং তিনি আজীবন নিরামিষভোজী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের নিজ দেশ থেকেই আবেদন করতে হবে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড প্রশাসন শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদানকারী গ্রিন কার্ড পেতে আগ্রহী অধিকাংশ বিদেশি নাগরিককে এখন থেকে নিজ নিজ দেশ থেকেই আবেদন করতে হবে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কেইলার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে অবস্থানরত কোনো বিদেশি নাগরিক যদি গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া তাকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে।’ কাহলার বলেন, ‘শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী বা পর্যটক ভিসাধারীদের মতো অ-অভিবাসীরা স্বল্প সময় ও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে তাদের সফর শেষ হলে তারা ফিরে যান। তাদের এই সফর গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করার কথা নয়।’ দ্য ওয়াশিংটনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি গ্রিন কার্ড প্রদান করে এবং এতদিন পর্যন্ত আবেদনকারীদের অর্ধেকেরও বেশি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতেন। কেইলার বলেন, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের নিজ দেশ থেকে আবেদন করানোর ফলে ‘যারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পেয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের খুঁজে বের করে বহিষ্কারের প্রয়োজন কমবে।’ তিনি জানান, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলার অফিসগুলোর মাধ্যমে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এসব গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় লাখ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বহিষ্কারের অঙ্গীকার করেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের কয়েকটি পথও বন্ধ করে দিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৩, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ছায়ায় চীন সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো জাতিসংঘের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন

ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্পের গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের পদত্যাগ

ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান শুক্রবার তেহরান পৌঁছেছেন।  যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব ইরান বিবেচনা করছে।  তবে তারা সতর্ক করে জানায় যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, এ সফরকে কোনো ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বা চূড়ান্ত অগ্রগতি হিসেবে দেখা উচিত নয়।  তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো ‘গভীর ও বিস্তৃত’ পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে যুদ্ধ শেষ করার পথে অগ্রগতি হতে পারে।  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালালে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর আগে, এপ্রিল মাসে পাকিস্তান এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একমাত্র সরাসরি আলোচনার আয়োজন করে। তবে সেই আলোচনা কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই থেমে থেমে চলা আলোচনাকে এমন এক ‘সীমান্তে বা সীমারেখায় দোদুল্যমান’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে একদিকে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে আবার নতুন করে হামলা শুরু হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে পৌঁছেছেন। তাকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। নাকভি বুধবার এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইরান সফর করেন এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করেন। বাকায়ি জানান, শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দলও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আঞ্চলিক ও অনাঞ্চলিক অনেক দেশ যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। তবে পাকিস্তানই এখনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত দাবি’র অভিযোগ ইরানের

ছবি : সংগৃহীত

মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর

ডিআর কঙ্গোয় ইবোলার ঝুঁকি ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঘোষণা দিয়েছে ডব্লিউএইচও

ডিআর কঙ্গোয় ইবোলার ঝুঁকি ‘অত্যন্ত উচ্চ’

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের দিকে আসছে বিশাল ‌‘মেঘমালা’

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়তে থাকা ভারতের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। শুক্রবার (২২ মে) প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের ওপর দ্রুত বিশাল মৌসুমি মেঘমালা তৈরি হচ্ছে এবং তা ভারতীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং তা নির্ধারিত সময়ের আগেই কেরালায় পৌঁছে যেতে পারে। আইএমডির ইনস্যাট-থ্রিডিএস থার্মাল ইনফ্রারেড উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, দক্ষিণ আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের পূর্বাংশের বিশাল এলাকাজুড়ে ঘন মেঘের স্তর তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের ওপর মেঘের তীব্র ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে, যা কেরালায় মৌসুমি বায়ু প্রবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থলভাগের চরম উত্তাপের কারণে ভারত মহাসাগর থেকে আর্দ্রতাযুক্ত বাতাস মহাদেশের দিকে আর্দ্র মেঘকে টেনে আনছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলে বজ্রঝড়ের মেঘ যেভাবে দ্রুত ওপরে উঠছে, তা ব্যাপক মৌসুমি বৃষ্টির আগাম আভাস। এই ধারা বজায় থাকলে এবার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বৃষ্টি নামবে। বর্তমানে ভারতের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল তীব্র তাপ্রবাহের কবলে রয়েছে, যেখানে রাতের তাপমাত্রাও কমছে না। রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, ওড়িশা এবং বিদর্ভ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। রাজধানী দিল্লিসহ অন্যান্য অঞ্চলেও তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে। উত্তর-পশ্চিমী শুষ্ক বাতাস এবং মেঘমুক্ত আকাশের কারণে এই তাপপ্রবাহ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেই সঙ্গে বড় শহরগুলোতে পিচ ও কংক্রিটের দালানকোঠার মাঝে গরম বাতাস আটকে পরিস্থিতিকে আরও শ্বাসরুদ্ধকর করে তুলেছে। সূত্র: উইয়ন নিউজ

মারিয়া রহমান মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের খরচের ২৫ গুণ আয় ভেনেজুয়েলার তেল থেকে: ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

আরও কঠোর হলো যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ডের নিয়ম

ছবি : সংগৃহীত

আলোচনা থমকে যাওয়ায় ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

0 Comments